তারিখের আগে মানুষটির জীবন, পরিবার ও স্বপ্নকে দেখা হয়েছে।
হাসিনা আমল ও তার দীর্ঘ ছায়া · ২০১১—২০২৫
দেশের পক্ষে দাঁড়ানোই
যখন অপরাধ ছিল।
কাঁটাতারে একটি কিশোরীর দেহ ঝুলেছে, অথচ দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের ভাষা বদলায়নি। টিপাইমুখের বিরুদ্ধে জনমত গড়া নেতা ঢাকার বুক থেকে গুম হয়েছেন। ভারতের সঙ্গে অসম লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছাত্রকে নিজের হলেই পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। শাসন পতনের পরও আধিপত্যবিরোধী আরেক তরুণের হত্যার সন্দেহভাজনরা আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। চারটি ঘটনা আলাদা; প্রতিবার বাংলাদেশের মানুষটি একা—আর ক্ষমতা নীরব।
এই আর্কাইভে হত্যাকাণ্ড ও মরদেহের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র আছে।
↓ চারটি ঘটনা · মানুষের জীবন, ঘটনার নথি, রাষ্ট্রের দায়
একটি শাসনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
মানুষ বদলেছে। জায়গা বদলেছে।
নতজানু ক্ষমতার ভাষা বদলায়নি।
২০১১-এর অনন্তপুরে হত্যাকারী ছিল বিএসএফ। ২০১২-এর বনানীতে কাজ করেছে হাসিনা আমলের সংগঠিত গুমযন্ত্র। ২০১৯-এর বুয়েটে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ একটি হলকক্ষকে নির্যাতনকক্ষ বানিয়েছে। ২০২৫-এর বিজয়নগরে হামলার পর প্রধান সন্দেহভাজনরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গেছে। প্রতিটি ঘটনায় দেখা দরকার—বাংলাদেশের নাগরিককে রক্ষা করা, সত্য বলা এবং দিল্লির কাছে জবাব চাওয়ার মুহূর্তে রাষ্ট্র কোথায় ছিল।
দেশের পক্ষে কথা বলা তাঁদের একমাত্র পরিচয় নয়। কিন্তু সেই কথাই তাঁদের বিপদের মুখে ফেলেছিল—আর ক্ষমতা তাঁদের একা ছেড়ে দিয়েছিল।
হাসিনা আমলসীমান্তে গুলি, ভেতরে ভয়, প্রতিবাদে নীরবতা
→তার দীর্ঘ ছায়াশাসন পড়ে যায়; আধিপত্যের নেটওয়ার্ক ও দায়হীনতার সংস্কৃতি থেকে যায়
স্মৃতি-মানচিত্র২০১১ → ২০১২ → ২০১৯ → ২০২৫
- 01অনন্তপুর · যে ভোর ঘরে ফেরেনি
- 02বনানী · যে রাত শেষ হয়নি
- 03বুয়েট · যে দরজা সময়মতো খোলেনি
- 04বিজয়নগর · যে কণ্ঠ জনসমুদ্র হলো
প্রথম দৃশ্য · কুড়িগ্রাম
একটি কিশোরী, একটি কাঁটাতার—এবং নীরব বাংলাদেশ
৭ জানুয়ারি ২০১১। পরদিন বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ফেলানীর। বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার শেষ কয়েক গজ পথেই সে হয়ে গেল সীমান্তে বাংলাদেশি জীবনের সবচেয়ে নির্মম প্রতীক।
চারটি গল্পের বাইরে
সীমান্তে আরও কত নাম হারিয়েছি
ফেলানীর ছবিটি পৃথিবী দেখেছে। কিন্তু সীমান্তে নিহত অনেক বাংলাদেশির মুখ আমরা কোনোদিন দেখিনি। তাই এখানে সংখ্যা নয়—যতগুলো নাম নথি থেকে উদ্ধার করা গেছে, তাদের মানুষ হিসেবেই পাশাপাশি রাখা হয়েছে।
0 নথিভুক্ত নাম
সীমান্ত-তালিকার উৎস দেখুন+
এটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা নয়। যে নামগুলো প্রকাশ্য মানবাধিকার নথি ও সংবাদ রেকর্ডে পাওয়া গেছে, কেবল সেগুলোই এখানে রাখা হয়েছে। নিচের লিংক থেকে মূল নথি পড়া যাবে।
সব গল্পের শেষে উৎসগুলো এখানে একসঙ্গে রাখা আছে উৎস ও যাচাই-পদ্ধতি দেখুন+
ঘটনার আগে সুরক্ষা এবং পরে তদন্ত ও বিচারের ব্যর্থতা পাশাপাশি রাখা হয়েছে।
প্রতিটি ঘটনার শেষে সংবাদ, আদালতের কাগজ ও স্মৃতি-আর্কাইভের লিংক আছে।
কোনো নাম, তারিখ বা তথ্য সংশোধনের প্রমাণ থাকলে আমাদের জানান: ncpdiasporade@gmail.com
স্মৃতি মানে শুধু শোক নয়
নামগুলো মনে রাখা মানে
রাষ্ট্রের কাছে জবাব চাওয়া।
ফেলানীর বাবা বিচার চান। ইলিয়াস আলীর পরিবার জানতে চায়—মানুষ দুজন কোথায়। আবরারের বন্ধুরা প্রমাণ করেছে, স্মৃতি পাহারা দিলে ক্ষমতা সব সত্য চাপা দিতে পারে না। হাদির জানাজার জনসমুদ্র বলেছে, একটি কণ্ঠকে গুলি করলে প্রশ্ন থামে না। এই ইতিহাস বাংলাদেশের; এর জবাবও বাংলাদেশকেই আদায় করতে হবে।



