NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

বাণিজ্য ও জবাবদিহি

সুতার বন্ড-সুবিধা গেল, এবার সিদ্ধান্তের ফলের খোলা হিসাব চাই

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনবিআর ১০–৩০ কাউন্ট কটন সুতার বন্ড-সুবিধা তুলে ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত দিয়েছে। অপব্যবহার রোধের যুক্তি আছে, তবে রপ্তানি ও স্থানীয় শিল্পে ফল কী হলো তা ৯০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা জরুরি।

বাংলাদেশের সুতার আমদানি নীতি, ব্যাংক গ্যারান্টি ও বাণিজ্য জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

সংক্ষেপে

১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড-সুবিধা তুলে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত আদেশ নং ৫১/২০২৬/কাস্টমস/৫১৯ অনুযায়ী, প্রকৃত রপ্তানিকারক ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারীরা এখন ওই সুতা আমদানি করতে পারবেন, তবে প্রযোজ্য শুল্ক-কর সমপরিমাণ অবিরত ও নিঃশর্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। পণ্য দিয়ে তৈরি রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আসা এবং লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নের পর গ্যারান্টি অবমুক্ত হওয়ার কথা।

এটি বড় একটি বাণিজ্যনীতি পরিবর্তন। সরকার বলছে না যে রপ্তানি বন্ধ হবে; বরং শর্ত দিয়ে আমদানির পথ রেখেছে। তাই মূল প্রশ্ন ‘সুবিধা থাকল কি থাকল না’ নয়। প্রশ্ন হলো, নতুন শর্তটি অপব্যবহার ও অপরিশোধিত রপ্তানি আয় কমাল কি না, একই সঙ্গে বৈধ রপ্তানিকারকের পণ্য খালাস, নগদ প্রবাহ ও প্রতিযোগিতায় অযথা বাধা দিল কি না। সেই ফল মাপা ও প্রকাশ করা ছাড়া এই সিদ্ধান্তকে সফল বা ব্যর্থ বলা যাবে না।

সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

এনবিআরের মূল আদেশটি খুব নির্দিষ্ট। বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাভুক্ত ১০–৩০ কাউন্ট কটন সুতায় বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত রপ্তানিকারক, যাঁদের ওয়্যারহাউস লাইসেন্স আছে, তাঁরা শর্ত মেনে আমদানি করতে পারবেন। আমদানি ও খালাসের সময় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা বিটিএমএর যেকোনো একটির প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

দ্বিতীয় শর্তটি অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাস্টমস স্টেশনে প্রযোজ্য শুল্ক, কর ও সম্পূরক শুল্কের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। পরে ওই সুতায় তৈরি পণ্য রপ্তানির বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনা এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে গ্যারান্টি অবমুক্ত হবে। আদেশটি জারির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর এবং জারির আগেই জাহাজীকরণ করা পণ্যে প্রযোজ্য নয়।

সরকারের যুক্তি কী?

আদেশের ভূমিকা বলছে, বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধানের জন্য গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির ২০ আগস্টের প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্ত থেকে এই পদক্ষেপ এসেছে। সেখানে স্থানীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকের কাঁচামাল-আমদানি সহজ করার উদ্দেশ্যের কথা আছে। অর্থাৎ নথির ভাষায় এটি কেবল রাজস্ব আদায়ের সিদ্ধান্ত নয়; স্থানীয় উৎপাদন, রপ্তানি-উপকরণের ব্যবহার এবং বৈদেশিক মুদ্রা ফেরত আসার মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণ-সংযোগ তৈরির চেষ্টা।

ব্যাংক গ্যারান্টিকে এখানেই ঠিকভাবে বুঝতে হবে। গ্যারান্টি শুল্কের চূড়ান্ত পরিশোধ নয়। শর্ত পূরণ হলে তা অবমুক্ত হওয়ার কথা। সরকারের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তিটি তাই হলো: রপ্তানির জন্য সত্যিই ব্যবহৃত সুতা আনার পথ খোলা থাকবে, কিন্তু শুল্ক-সুবিধা পাওয়া কাঁচামাল কোথায় গেল এবং সেই পণ্য থেকে আয় দেশে ফিরল কি না, তার একটি যাচাইযোগ্য আর্থিক বন্ধনী তৈরি হবে। এই যুক্তি নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য।

সমস্যাটা কোথায়?

সমস্যা সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নয়; ফল মাপার প্রকাশ্য কাঠামো। দুই পৃষ্ঠার আদেশে কোন ভিত্তি-তথ্য থেকে এই নির্দিষ্ট ১০–৩০ কাউন্ট বেছে নেওয়া হলো, কত দিনের জন্য পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা, কোন সূচকে সাফল্য নির্ধারিত হবে, অথবা কবে পুনর্বিবেচনা হবে—এসব নেই। আদেশে এমন তথ্য থাকা আইনগতভাবে আবশ্যক কি না, সে প্রশ্ন আলাদা। কিন্তু এত বড় খাতভিত্তিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব ছাড়া নাগরিক, রপ্তানিকারক, শ্রমিক, ব্যাংক ও স্থানীয় মিল কেউই ফল যাচাই করতে পারবেন না।

নীতির সমর্থকেরা অপব্যবহার, স্থানীয় মিলের কম ব্যবহার ও রপ্তানি আয় ফেরত না আসার ঝুঁকির কথা বলেন। সমালোচকেরা বলেন, গ্যারান্টির প্রয়োজনীয়তা কার্যকর মূলধনের চাপ বাড়াতে পারে এবং দ্রুত সরবরাহের ব্যবসায় অনিশ্চয়তা আনতে পারে। দুই বক্তব্যই সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলে; কোনোটি নিজে থেকেই চূড়ান্ত ফলের প্রমাণ নয়। তাই কেবল অভিযোগ, ভয় বা আশ্বাস দিয়ে নীতি চালানো ঠিক হবে না। একই সময়সীমার আগে-পরে তথ্য প্রকাশই হবে পরীক্ষা।

প্রক্রিয়ার প্রশ্নও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আদেশে বলা হয়েছে, ২০ আগস্টের কমিটি বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই বৈঠকে কী তথ্য উপস্থাপিত হয়েছিল, কোন বিকল্প বিবেচনা করা হয়েছিল, অংশীজনদের মতামত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং কেন পুরো ব্যবস্থার বদলে শুধু এই কাউন্ট-পরিসর বেছে নেওয়া হলো—এসবের প্রকাশ্য সারসংক্ষেপ পাওয়া যায় না। পূর্ণ নথি প্রকাশে বাণিজ্যিক গোপনীয়তার প্রশ্ন থাকলে অন্তত সমস্যা-সংজ্ঞা, তথ্যের সময়সীমা, বিকল্প ও মূল্যায়ন-পদ্ধতি প্রকাশ করা যায়। এতে সিদ্ধান্তের পক্ষে সরকারের যুক্তিই বেশি যাচাইযোগ্য হবে।

আদেশটি তিনটি শিল্প-সংগঠনের যেকোনো একটির প্রত্যয়ন চেয়েছে। এই ব্যবস্থা বাস্তবে কাজে লাগতে পারে, কারণ সংগঠনগুলো তাদের সদস্য ও রপ্তানি-কার্যক্রম সম্পর্কে জানে। আবার একই সংগঠন নীতির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থানও নিতে পারে। তাই প্রত্যয়ন দেওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজ, সিদ্ধান্তের সময়সীমা, প্রত্যাখ্যানের কারণ ও আপিলের পথ এক পাতার প্রকাশ্য নিয়মে থাকা উচিত। তা না হলে একই শর্ত ভিন্ন কারখানার জন্য ভিন্নভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা বাইরে থেকে বোঝা কঠিন হবে।

এখানে জবাবদিহির অর্থ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক চুক্তি প্রকাশ করা নয়। সরকার সমষ্টিগত তথ্য প্রকাশ করতে পারে: কয়টি আবেদন, কত টাকার গ্যারান্টি, গড়ে কত দিনে খালাস, কতটি গ্যারান্টি অবমুক্ত, কতটি অপেক্ষমাণ এবং অপেক্ষার কারণ কী। এই তথ্য পরিচয় গোপন রেখেও দেওয়া সম্ভব। তাহলে ব্যবসা-গোপনীয়তা রক্ষা হবে, আবার নীতির বাস্তব ঘর্ষণ কোথায় হচ্ছে সেটিও দেখা যাবে।

তথ্য কী বলছে?

স্বাধীন প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিষয়টি বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পের দুই অংশকে মুখোমুখি করেছে। bdnews24.com জানিয়েছে, ১০–৩০ কাউন্ট সুতা দেশের মোট সুতার আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশের অংশ এবং আগের বছরে আমদানির মূল্য ছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই অঙ্কটি সরকারি কাস্টমস পরিসংখ্যানের প্রকাশিত সারণি নয়; প্রতিবেদনের শিল্প-প্রেক্ষিত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। ফলে এর ভিত্তিতে একা কোনো রাজস্ব-ক্ষতি বা কর্মসংস্থান-লাভের হিসাব করা যাবে না।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা এক এনবিআর কর্মকর্তা বলেছেন, উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং অনিয়ম কমানো। একই প্রতিবেদনে বিটিএমএ বলেছে, স্থানীয় স্পিনিং মিলের চাহিদা বাড়বে এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরার শর্ত শক্ত হবে। অন্যদিকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, নতুন শর্ত ব্যয় বাড়াতে এবং প্রতিযোগিতায় চাপ তৈরি করতে পারে। দ্য ডেইলি স্টারও দুই পক্ষের এই বিপরীত অবস্থান নথিবদ্ধ করেছে।

এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। কোনো সংগঠন ‘অপব্যবহার’ বললেই তা প্রমাণিত অপরাধ নয়। আবার কোনো সংগঠন ‘খরচ বাড়বে’ বললেই সেটি সব কারখানার জন্য সমান ফল হবে না। কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণ-সুবিধা আছে, গ্যারান্টির ফি কত, পণ্য খালাসে কত দিন লাগছে, রপ্তানি আয় কবে ফিরছে এবং স্থানীয় সুতা মান ও দামে পাওয়া যাচ্ছে কি না—এসব আলাদা তথ্য ছাড়া সাধারণ সিদ্ধান্ত টানা যাবে না।

আগের নিয়মের সঙ্গে তুলনা

আগের ব্যবস্থায় এই পণ্যের জন্য বন্ড-সুবিধা ছিল। নতুন আদেশ সেটি তুলে একই আমদানিকে গ্যারান্টি ও পরবর্তী প্রমাণের অধীনে নিয়েছে। অর্থাৎ পার্থক্যটি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা নয়; আগে ছাড়ের পর্যায়ে যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তার বদলে এখন আর্থিক নিরাপত্তা এবং রপ্তানি-আয় ফেরত আসার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। এই পার্থক্যটি না বুঝলে ‘শুল্ক বসানো হলো’ বা ‘রপ্তানি বন্ধ’—দুই ধরনের অতিরঞ্জনই হতে পারে।

তবে গ্যারান্টির খরচ ও সময়-ঝুঁকি বাস্তব হতে পারে। কারখানাকে ব্যাংকের সঙ্গে সীমা, নথি ও গ্যারান্টির ব্যবস্থা করতে হয়। গ্যারান্টি অবমুক্তি যদি দেরি হয়, ব্যবসার অর্থ আটকে থাকতে পারে। আবার যদি কাস্টমস ও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ স্বচ্ছ সময়ে কাজ করে, রপ্তানি আয় দেশে ফেরার প্রমাণও শক্ত হতে পারে। কোনটি ঘটছে, তা দেখার জন্য মাসভিত্তিক তথ্য ছাড়া নীতির পুরোনো ও নতুন ফল তুলনা সম্ভব নয়।

কার লাভ, কার ক্ষতি?

স্থানীয় স্পিনিং মিল উপকৃত হতে পারে, যদি আমদানির বদলে তাদের প্রতিযোগিতামূলক মান ও দামের সুতা বেশি বিক্রি হয়। রাষ্ট্র উপকৃত হতে পারে, যদি বন্ড-সুবিধার কাঁচামাল সত্যিই রপ্তানিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং রপ্তানি আয় দেশে ফিরছে—দুইটির যাচাই ভালো হয়। ব্যাংকও স্পষ্ট নথি পেলে গ্যারান্টির ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারবে। কিন্তু এসব সম্ভাব্য লাভের সঙ্গে ফলের শর্ত জুড়ে দেওয়া দরকার; কোনোটি স্বয়ংক্রিয় নয়।

রপ্তানিকারকের জন্য ঝুঁকি মূলত কার্যকর মূলধন, কাগজপত্র ও সময়। ছোট বা সীমিত ব্যাংক-সীমার প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বড় হতে পারে। শ্রমিকের জন্যও ফল পরোক্ষ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ: যদি খরচ বা সরবরাহের চাপ অর্ডার কমায়, তার প্রভাব কর্মসংস্থান ও মজুরিতে পড়তে পারে; আবার স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে ভিন্ন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এই দুই সম্ভাবনাকে রাজনৈতিক স্লোগান নয়, কারখানা-ভিত্তিক নয় বরং সমষ্টিগত যাচাইযোগ্য তথ্য দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত।

সরকারের যুক্তি কতটা টেকে?

সরকারের যুক্তির শক্ত জায়গা হলো শর্তের নকশা। কেবল স্থানীয় শিল্প রক্ষার কথা বলে আমদানি বন্ধ করা হয়নি। প্রকৃত রপ্তানিকারকের জন্য পথ রাখা হয়েছে এবং গ্যারান্টি অবমুক্তিকে রপ্তানি আয় দেশে ফেরার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বন্ড-সুবিধা ব্যবহারের হিসাব শক্ত করতে এটি একটি যুক্তিসঙ্গত পথ হতে পারে।

দুর্বল জায়গা হলো প্রকাশ্য পরীক্ষার অভাব। সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিত্তি-তথ্য, প্রভাব মূল্যায়ন, প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও পর্যালোচনার তারিখ প্রকাশিত হয়নি। আদেশে কমিটির বৈঠকের উল্লেখ আছে, কিন্তু তার কার্যবিবরণী বা বিকল্পগুলোর তুলনা সংযুক্ত নেই। তাই সরকারকে তার নিজের যুক্তির প্রমাণ দেখাতে হবে: শর্তের পর রপ্তানি আয় ফেরার হার, শুল্ক-সুবিধা যাচাই, পণ্য খালাসের সময় এবং স্থানীয় সরবরাহে কী বদল হলো।

বড় ছবিটা কী?

বাংলাদেশের রপ্তানি নীতিতে সুবিধা দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি সেই সুবিধার পথ অনুসরণ করা যায় কি না সেটিও জরুরি। একটি নীতি একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পকে সহায়তা, বৈদেশিক মুদ্রা ফেরত আনা এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু এক লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে অন্য লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না বোঝার দায়িত্ব সরকারের। সেটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রচারপত্রে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

উপসংহার: ৯০ দিনের মধ্যে যে পাঁচটি হিসাব প্রকাশ করা দরকার

এনবিআরের নতুন শর্তকে আগেভাগে বিজয় বা বিপর্যয় বলার সুযোগ নেই। মূল আদেশ বাস্তব একটি জবাবদিহির কাঠামো তৈরি করেছে: শুল্ক-সুবিধা, পণ্য ব্যবহার ও রপ্তানি আয়কে এক সূত্রে বাঁধার চেষ্টা। এখন সেই কাঠামোর ফল খোলা না হলে জনস্বার্থের প্রশ্ন থেকেই যাবে। ৭ সেপ্টেম্বরের এই সিদ্ধান্তের ৯০ দিনের মধ্যে সরকার যদি নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করে, তবে স্থানীয় মিল, রপ্তানিকারক, শ্রমিক ও নাগরিক সবাই একই প্রমাণ দেখে বিচার করতে পারবেন। সেটিই হবে ন্যায্য নীতির সবচেয়ে ভালো পরীক্ষা।

প্রথম ৯০ দিনের প্রতিবেদনটি কোনো পক্ষকে জেতানো বা হারানোর দলিল হওয়া উচিত নয়। সেটি হবে ভুল ধরা ও সংশোধনের সুযোগ। যদি দেখা যায় খালাসে অস্বাভাবিক বিলম্ব বা ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকের জন্য অসম চাপ হচ্ছে, সরকার শর্ত বা প্রক্রিয়া সংশোধন করতে পারে। আর যদি দেখা যায় রপ্তানি আয় ফেরত আসা ও বন্ড-ব্যবহারের যাচাই বাস্তবেই শক্ত হয়েছে, সেই প্রমাণও সমানভাবে প্রকাশ করা উচিত। নীতি বদলানোর ক্ষমতার সঙ্গে নীতি শেখার দায়ও রাষ্ট্রের আছে।

তথ্যসূত্র

  1. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আদেশ নং ৫১/২০২৬/কাস্টমস/৫১৯, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ১০–৩০ কাউন্ট কটন সুতার বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহার, ব্যাংক গ্যারান্টি, প্রত্যয়ন ও রপ্তানি আয় দেশে ফেরার শর্তের মূল নথি
  2. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস সাধারণ আদেশের সরকারি তালিকা; আদেশ নং ৫১/২০২৬/কাস্টমস/৫১৯ তালিকাভুক্ত হওয়ার তারিখ ও বিষয়
  3. bdnews24.com, ‘Bonded factories lose duty-free facility for 10–30 count cotton yarn’, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; শর্ত, শিল্প-সংগঠনগুলোর বিপরীত অবস্থান ও আগের প্রেক্ষিতের স্বাধীন প্রতিবেদন
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ‘Govt withdraws bond facility for yarn import’, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ; এনবিআর কর্মকর্তার ব্যাখ্যা, বিটিএমএ ও পোশাক রপ্তানিকারক সংগঠনগুলোর অবস্থান
  5. দ্য ডেইলি স্টার, ‘Millers hail withdrawal of zero duty on yarn’, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; স্থানীয় স্পিনিং মিল ও পোশাক রপ্তানিকারকদের পরস্পরবিরোধী যুক্তির স্বাধীন প্রতিবেদন