টিসিবির জন্য এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিইন কিনতে ১৮৪.৩৮ কোটি টাকার সরকারি অনুমোদনের পর ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি—বিপিপিএ—পুরস্কার-নোটিশ প্রকাশ করেছে। নোটিশে সরবরাহকারী হিসেবে সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেডের নাম আছে। এটি কাগজে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে কাগজে পুরস্কার আর মানুষের হাতে পণ্য এক জিনিস নয়। এই দুইয়ের মাঝখানে চালান, গুদাম, মান-পরীক্ষা, বণ্টন ও অর্থপরিশোধের ধাপ আছে। জনস্বার্থের প্রশ্ন এখন সেখানেই।
দুই দিন আগে এই সাইটে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজার-সরবরাহ নিয়ে যে হিসাব চাওয়া হয়েছিল, এটি তার একটি স্পষ্ট পরবর্তী উন্নয়ন। তবে দুই পণ্যকে এক করে দেখার কারণ নেই: এবারের সরকারি নথি পাম অলিইনের, আর আগের বাজার-প্রতিবেদন ছিল বোতলজাত সয়াবিন তেল নিয়ে। নতুন পুরস্কার-নোটিশ থেকে কেবল এতটুকুই নিশ্চিত হয় যে টিসিবির ওই নির্দিষ্ট ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক পুরস্কার প্রকাশিত হয়েছে। এটি দোকানে তেল পৌঁছে গেছে, কোনো সংকট কেটেছে, কিংবা কোনো ব্যক্তি অনিয়ম করেছেন—এসবের কোনো প্রমাণ নয়।
নথিতে কী নিশ্চিত, আর কী নিশ্চিত নয়
বিপিপিএর প্রকাশ্য পুরস্কার-তালিকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের—টিসিবির—রেফারেন্স নম্বর 26.05.0000.016.08.213.26.3363 দেখা যায়। একই তালিকায় পণ্যের নাম ‘এক কোটি লিটার রিফাইন্ড পাম অলিইন’ এবং সরবরাহকারীর নাম দেওয়া আছে। ওই এন্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ৭ সেপ্টেম্বরের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক উৎস। ফলে পুরস্কার দেওয়ার ঘটনাটি অনুমান নয়।
এর আগে বিপিপিএর দরপত্র পৃষ্ঠায় পণ্যের ধরনও নির্দিষ্ট ছিল: দুই লিটারের ফুড-গ্রেড পিইটি বোতলে এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিইন। সেখানে আহ্বানকারী দপ্তর হিসেবে টিসিবির বাণিজ্যিক বিভাগের ঠিকানা ও কর্মকর্তা উল্লেখ আছে। আর ২ সেপ্টেম্বরের বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সরকারি ক্রয়-প্রতিবেদনে বলা হয়, এক কোটি লিটারের প্রস্তাবিত ব্যয় ১৮৪.৩৮ কোটি টাকা এবং সরবরাহকারী হিসেবে একই প্রতিষ্ঠানের নাম অনুমোদিত হয়েছে। তিনটি প্রকাশ্য রেকর্ড মিলিয়ে পরিমাণ, ক্রয়কারী দপ্তর, নির্বাচিত সরবরাহকারী এবং অনুমোদিত ব্যয়ের তথ্য মিলছে।
হিসাবটি সহজ করে বলা দরকার। ১৮৪.৩৮ কোটি টাকা মানে ১,৮৪৩,৮০০,০০০ টাকা। সেটি এক কোটি লিটার দিয়ে ভাগ করলে গড়ে ১৮৪.৩৮ টাকা প্রতি লিটার দাঁড়ায়। এই অঙ্কটি চুক্তির মোট অনুমোদিত ব্যয় থেকে করা গড়; এটি বাজারে বিক্রির মূল্য, সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ, পরিবহন ব্যয়, শুল্ক বা প্যাকেটজাতকরণের আলাদা খরচের প্রমাণ নয়। কারণ ওই প্রতিটি উপাদানের আলাদা পূর্ণ হিসাব এই চারটি প্রকাশ্য নথিতে নেই।
সরকারের যুক্তি: আগে পণ্য নিশ্চিত করা
সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হলো, আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেলের বাজারে আগাম বড় পরিমাণ পণ্য নিশ্চিত করা নিজেই জনস্বার্থের কাজ। দরপত্র আহ্বান, সরকারি ক্রয়-অনুমোদন এবং পুরস্কার-নোটিশ—এই ধারাবাহিকতা থাকলে টিসিবি সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে পারে। সরকার আরও বলতে পারে, বাণিজ্যিক দরকষাকষি, জাহাজভাড়া, বন্দর, গুদাম ও বিতরণসংক্রান্ত কিছু তথ্য সময়ের আগে প্রকাশ করলে সরবরাহকারীর সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন জটিল হতে পারে। এই যুক্তিকে উড়িয়ে দেওয়ার কারণ নেই।
কিন্তু সীমিত বাণিজ্যিক গোপনীয়তা আর সম্পূর্ণ অদৃশ্যতা এক নয়। নাগরিকের করের টাকা বা ভর্তুকির সঙ্গে যুক্ত ক্রয়ে অন্তত এমন তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব, যা প্রতিযোগিতামূলক দর বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে না: কবে কত লিটার চালান আসার কথা, কোন বন্দরে নামবে, কোন টিসিবি গুদামে যাবে, কত নমুনার মান পরীক্ষা হবে, কার্ডধারী পর্যায়ে কবে বণ্টন শুরু হবে এবং কোন দপ্তর অগ্রগতি যাচাই করবে। পুরস্কার-নোটিশের পর এই তথ্যগুলো গোপন রাখার যুক্তি ক্রমে দুর্বল হয়।
ক্রয়কে ফলাফলে বদলানোর পাঁচটি খোলা তথ্য
- চুক্তিতে নির্ধারিত সরবরাহসূচি: প্রথম ও শেষ চালানের তারিখ, এবং প্রতি চালানের পরিমাণ।
- বন্দর, গুদাম ও জেলাভিত্তিক গ্রহণের তারিখসহ কত লিটার বাস্তবে বুঝে পাওয়া গেল।
- মান-পরীক্ষার সংস্থা, পরীক্ষার নমুনা সংখ্যা, ফল এবং কোনো চালান প্রত্যাখ্যাত হলে তার কারণ।
- টিসিবি কার্ড বা নির্ধারিত বণ্টনচ্যানেলে কত পরিবার বা কত বিক্রয়কেন্দ্রে কত লিটার পৌঁছাল।
- সরবরাহকারীকে অর্থপরিশোধের পর্যায়, বিলের বিপরীতে পাওয়া পণ্য এবং বিলম্ব বা জরিমানা থাকলে তার নথি।
এই তালিকার একটি অংশও নতুন কোনো অপরাধের অভিযোগ নয়। বরং এগুলো এমন ব্যবস্থাপনা-তথ্য, যা ভালো ক্রয় হলে সরকারের পক্ষেই প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। সময়মতো পণ্য এলে, মান ঠিক থাকলে এবং বণ্টন দৃশ্যমান হলে টিসিবি দেখাতে পারবে যে অনুমোদন কেবল ফাইলে আটকে নেই। আবার দেরি, কম সরবরাহ বা মানের সমস্যা হলে দ্রুত প্রকাশিত তথ্য সংশোধনের সুযোগও দেবে। নথি লুকিয়ে রাখলে সরকার নিজেই নিজের সফলতা যাচাইয়ের উপায় কমিয়ে ফেলে।
দরপত্র থেকে গুদাম পর্যন্ত পথটি ছোট নয়। দরপত্রে নির্ধারিত প্যাকেটের আকার, সরবরাহের শর্ত ও নিরাপত্তা জামানত থাকে; পুরস্কার-নোটিশে নির্বাচিত সরবরাহকারীর নাম আসে; তারপর চুক্তির শর্ত পূরণ, পণ্যের উৎপত্তি বা সংগ্রহ, জাহাজ বা স্থলপথের চালান, বন্দরে খালাস, নমুনা পরীক্ষা, টিসিবির গুদামে গ্রহণ এবং জেলাভিত্তিক ছাড়ের কাজ হয়। প্রতিটি ধাপেই প্রশাসনিক নথি তৈরি হয়। সেগুলোর গোপন বাণিজ্যিক অংশ বাদ দিয়ে অগ্রগতির সারাংশ প্রকাশ করা প্রশাসনের জন্য অসম্ভব নয়।
বিশেষ করে প্যাকেটজাত ভোজ্যতেলে মান-পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বোতলের লেবেল, পরিমাণ, উৎপাদন বা প্যাকেটজাতকরণের তথ্য, খাদ্য-নিরাপত্তা মান এবং নির্ধারিত গুদামে পৌঁছানো—এসব যাচাই না করে কেবল অর্ডারের সংখ্যা জানলে নাগরিকের জানার অধিকার অসম্পূর্ণ থাকে। এখানে কোনো নির্দিষ্ট মানগত ত্রুটির অভিযোগ করা হচ্ছে না; এমন অভিযোগের জন্য পরীক্ষার ফল বা তদন্ত দরকার। বরং আগেভাগে পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফল প্রকাশ করলে ভবিষ্যতের সন্দেহ কমে এবং দায়বদ্ধ কর্মচারী ও সরবরাহকারী—দুই পক্ষই সুরক্ষা পায়।
বণ্টনের প্রশ্নেও একই সতর্কতা দরকার। টিসিবির পণ্য কোথায়, কখন ও কী শর্তে দেওয়া হবে—তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি এবং সরকারের বিতরণ পরিকল্পনার ওপর। এই পুরস্কার-নোটিশ থেকে কত পরিবার পণ্য পাবে বা খোলা বাজারে কী প্রভাব পড়বে, তা বলা যায় না। তাই সংখ্যাকে রাজনৈতিক আশ্বাসে রূপ না দিয়ে প্রথম চালান আসার আগেই লক্ষ্য, ভৌগোলিক অগ্রাধিকার ও প্রকাশযোগ্য ফলের সূচক ঠিক করা ভালো প্রশাসন। পরে সেই সূচক দিয়েই সরকার নিজের সাফল্য দেখাতে পারবে।
মূল্য যাচাইও একদিনের কাজ নয়। সরকারি ক্রয়-প্রতিবেদনের মোট ব্যয় থেকে গড় মূল্য বের করা যায়, কিন্তু সেটি আন্তর্জাতিক বাজারদর, ডলার বিনিময়হার, বীমা, জাহাজভাড়া, বন্দর খরচ, শুল্ক বা স্থানীয় পরিবহনকে আলাদা করে বলে না। আবার পরবর্তী সময়ে বাজারদর কম বা বেশি হলেই সেই পার্থক্য দিয়ে এই নির্দিষ্ট ক্রয়কে ভালো বা খারাপ বলা যাবে না; তুলনার জন্য একই শর্ত, একই সময় ও একই পণ্যের নির্ভরযোগ্য তথ্য লাগবে। এ কারণেই সম্পূর্ণ চুক্তির অ-বাণিজ্যিক সারাংশ এবং বাস্তব ডেলিভারির তথ্য প্রকাশ ভবিষ্যৎ মূল্যায়নকে সৎ রাখে।
প্রকাশ্য তথ্যের আরেকটি লাভ হলো, কোনো বিলম্ব হলে দায় কোন স্তরে তা চিহ্নিত করা যায়। সরবরাহকারী সময়মতো চালান দিলেন কি না, বন্দর খালাসে জট হলো কি না, গুদাম প্রস্তুত ছিল কি না, নাকি স্থানীয় বণ্টনের পরিকল্পনা পিছিয়েছে—এসব আলাদা প্রশ্ন। সব ব্যর্থতাকে এক শব্দে ‘সরকারের ব্যর্থতা’ বা সব সমস্যাকে সরবরাহকারীর দোষ বলা প্রমাণ ছাড়া অন্যায্য। তার বদলে ধাপভিত্তিক সময়সূচি প্রকাশ থাকলে কোন কর্তৃপক্ষকে কোন ব্যাখ্যা দিতে হবে, তা পরিষ্কার হয়।
এখানে আগের নজিরও তৈরি করা যায়। বিপিপিএ যেভাবে দরপত্র ও পুরস্কার-তথ্য উন্মুক্ত করেছে, টিসিবি সেই রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে একটি ‘ক্রয় থেকে বণ্টন’ পাতায় অগ্রগতি দেখাতে পারে। নাগরিক, সাংবাদিক, সংসদীয় কমিটি এবং নিরীক্ষক তখন একই ক্রয়কে ভিন্ন ভিন্ন কাগজে খুঁজবেন না। তথ্য এক জায়গায় থাকলে ভুল বা অমিলও দ্রুত ধরা পড়বে; সঠিক হলে সেটিও দ্রুত প্রমাণিত হবে। স্বচ্ছতা তাই শুধু সমালোচকের সুবিধা নয়, সুশাসনের কার্যকর যন্ত্র।
এই প্রকাশনায় একটি সীমাও খেয়াল রাখা দরকার। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম সরকারি নথিতে থাকলেও তার মানে এই নয় যে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে পুরো পণ্য সরবরাহ করেছে বা পণ্যের সব দায় একা তার। চুক্তিতে টিসিবির গ্রহণ-পদ্ধতি, পরীক্ষাগার, গুদাম ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরেরও ভূমিকা থাকতে পারে। ফলে ফল প্রকাশের কাঠামোটি এমন হওয়া উচিত, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও সম্পন্ন কাজ আলাদা দেখা যায়। তাহলেই জবাবদিহি ন্যায্য হবে।
সংসদীয় তদারকিরও এখানে একটি ব্যবহারিক কাজ আছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি বা সরকারি হিসাব দেখার উপযুক্ত কমিটি চাইলে রেফারেন্স নম্বর ধরে মাসিক অগ্রগতির সারাংশ চাইতে পারে। এতে নতুন তদন্ত শুরু করার আগেই নিয়মিত তথ্য-পরীক্ষার অভ্যাস তৈরি হয়। সরকার সময়মতো তথ্য দিলে সেই কমিটি জনসম্মুখে বলতে পারবে পরিকল্পনা এগোচ্ছে; সমস্যা থাকলে সংশোধনের সুপারিশও নথিভুক্ত হবে। নিত্যপণ্যের ক্রয়কে এই ধরনের নিয়মিত নজরদারির বাইরে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়।
দাম, সরবরাহ ও দায়—তিনটি আলাদা প্রশ্ন
নিত্যপণ্য নিয়ে আলোচনায় একটি ভুল প্রায়ই হয়: বড় ক্রয় দেখলেই ধরে নেওয়া হয় বাজারদর কমবে। তা সঠিক নয়। টিসিবির ক্রয় কোন ভোক্তা-চ্যানেলে, কী শর্তে ও কখন যাবে, সেটি না জানলে খোলা বাজারের দামের ওপর এর প্রভাব মাপা যায় না। একইভাবে, অনুমোদিত ব্যয়কে খুচরা মূল্য বলাও ভুল হবে। ১৮৪.৩৮ টাকা প্রতি লিটারের যে গড় বের হয়, তা এই নির্দিষ্ট চুক্তির মোট ব্যয় ও পরিমাণের অনুপাত মাত্র।
আরও একটি সীমা পরিষ্কার থাকা জরুরি। পুরস্কার-নোটিশে একই প্রতিষ্ঠানের নাম থাকা থেকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব, অতিমূল্য বা পক্ষপাতের সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না। এমন সিদ্ধান্তের জন্য দরপত্রে কয়জন অংশ নিয়েছেন, মূল্যায়নের ভিত্তি কী, চুক্তির পূর্ণ মূল্য-তালিকা কী এবং কোনো তদন্ত বা নিরীক্ষা আছে কি না—এসব প্রমাণ লাগবে। এই চক্রে তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তাই এমন অভিযোগ এখানে করা হচ্ছে না। প্রশ্নটি কেবল এতটুকু: অনুমোদিত এক কোটি লিটার বাস্তবে যে উদ্দেশ্যে কেনা হচ্ছে, তার ফল নাগরিক কীভাবে যাচাই করবেন?
এইবার মাপার সময়সীমা নির্দিষ্ট হোক
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবি ১৫ দিনের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত অনলাইন অগ্রগতি-পাতা চালু করতে পারে। সেখানে ক্রয়-রেফারেন্স, চুক্তির পরিমাণ, প্রত্যাশিত চালান-তারিখ, পাওয়া পরিমাণ, মান-পরীক্ষা, গুদামভিত্তিক মজুদ ও বণ্টনের মোট সংখ্যা মাসে অন্তত দুবার হালনাগাদ হবে। বিপিপিএর পুরস্কার পৃষ্ঠার সঙ্গে সেই পাতার সংযোগ থাকলে একই ক্রয়ের দরপত্র থেকে বাস্তব বিতরণ পর্যন্ত নাগরিকের দেখা সহজ হবে।
প্রয়োজনে কিছু তথ্য চালান আসার আগে সারসংক্ষেপ আকারে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু চালান গ্রহণের পরে পূর্ণ অগ্রগতি না জানানোর কোনো জনস্বার্থভিত্তিক কারণ নেই। ক্রয়ের পরিমাণ বড়, পণ্যটি দৈনন্দিন প্রয়োজনের, আর বণ্টনের উদ্দেশ্য সরাসরি জনস্বার্থের। ফলে যাচাইযোগ্য ড্যাশবোর্ড কোনো অতিরিক্ত রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক সতর্কতা, যা এখনই করা সম্ভব।
শেষ কথা
৭ সেপ্টেম্বরের পুরস্কার-নোটিশ একটি প্রয়োজনীয় ধাপ এবং সরকারের সরবরাহ-প্রস্তুতির পক্ষে নথিভুক্ত প্রমাণ। সেটিকে অস্বীকার করার কারণ নেই। আবার এই ধাপকে বাজারে তেল পৌঁছানোর সনদ বলারও সুযোগ নেই। দুই অবস্থানের মাঝখানে যে তথ্যের সেতু দরকার—চালান, গ্রহণ, মান, গুদাম, বণ্টন ও বিল—সেটিই এখন অনুপস্থিত। তাই টিসিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ শুধু চুক্তি ঘোষণা নয়; এক কোটি লিটার পণ্য কবে, কোথায়, কী মানে এবং কতজনের কাছে পৌঁছাল, তার সময়মাফিক খোলা হিসাব দেওয়া। সেখানেই এই ক্রয়ের আসল জবাবদিহি।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), টিসিবির এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিইনের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড; রেফারেন্স 26.05.0000.016.08.213.26.3363, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), টিসিবির এক কোটি লিটার ২-লিটারের পিইটি বোতলজাত পরিশোধিত পাম অলিইন দরপত্রের বিবরণ ও ক্রয়কারী দপ্তর
- বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), পুরস্কার তালিকায় টিসিবি, পণ্য, সরবরাহকারী ও ৭ সেপ্টেম্বরের প্রকাশ্য রেকর্ড
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস), সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এক কোটি লিটার পাম অলিইনের ১৮৪.৩৮ কোটি টাকার অনুমোদন ও নির্বাচিত সরবরাহকারী, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
