সংক্ষেপে
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আবার অভিযান চালিয়েছে। বাসস ও দুটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমে দুদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মূল একটি কাজের প্যাকেজ থেকে আটটি প্যাকেজ তৈরির অভিযোগ, ই-জিপি দরপত্র এবং কাজের অস্তিত্ব ছাড়া বিল পরিশোধের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। আট প্যাকেজের বিপরীতে পরিশোধিত বিলের অঙ্ক ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বলে দুদক জানিয়েছে।
এটি কোনো ব্যক্তি, ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়। দুদক নিজেই বলেছে, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি, অন্যদের দায় এবং অভিযোগের নির্দিষ্ট চিত্র জানতে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হবে। তাই আজকের মূল প্রশ্ন শুধু পুরোনো অভিযোগটি আবার সামনে এল কেন নয়। প্রশ্ন হলো, তদন্ত এবার কোন নথির ভিত্তিতে শেষ হবে, কার ব্যাখ্যা নেওয়া হবে, আর জনগণের টাকা ফেরত পাওয়ার পথ ও ফল কবে প্রকাশ করা হবে।
ঘটনাটি কী?
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মূলধন অংশে অনুমোদিত একটি ডব্লিউ-১ প্যাকেজ ছিল। সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট টিমের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি), সংশোধিত ডিপিপি বা ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ওই অংশে আরও আটটি প্যাকেজ করা হয়। পরে ই-জিপির মাধ্যমে কাজের আদেশ দিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে তাদের নথি-পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।
৯ সেপ্টেম্বরের অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ, নথি সংগ্রহ এবং সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। দুদকের ভাষ্য হলো, চারটি প্যাকেজে কোনো ভৌত কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কাজের চুক্তিপত্র বা পরিমাপ বইও মেলেনি। অন্য চারটি প্যাকেজে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেগুলো মূল ঠিকাদারের করা কাজ হতে পারে—এমন তথ্য ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর একটি প্রতিবেদনে আছে বলে দুদক জানিয়েছে। এই বক্তব্যগুলোর চূড়ান্ত নিরপেক্ষ পরীক্ষা এখনও বাকি।
আগের পদক্ষেপ এবং নতুন অভিযানের পার্থক্য
এটি একেবারে নতুন অভিযোগ নয়। ৪ ফেব্রুয়ারির bdnews24.com প্রতিবেদনে আবাসন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য ছিল, একই প্রকল্প-সংক্রান্ত অভিযোগে তৎকালীন প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনেও আট ভাগে প্যাকেজ করা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা এবং কাজের সঙ্গে বিলের অমিলের অভিযোগের কথা ছিল। সাময়িক বরখাস্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ; এটি ফৌজদারি দায় বা অর্থ আত্মসাতের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি তাই একটি নতুন প্রমাণ-পর্ব, অথবা অন্তত নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ। দুদক নথি সংগ্রহ ও সাইট-পরিদর্শনের পর বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশের কথা বলেছে। ফেব্রুয়ারির প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর সাত মাসে কী বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে, কার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, কোন টাকা স্থগিত বা উদ্ধার হয়েছে, কোন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসবের সমন্বিত সরকারি ফল এই গবেষণা-সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়নি। এই অনুপস্থিত তথ্যই বর্তমান জবাবদিহির ফাঁক।
তথ্য কী বলছে?
৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বড় অঙ্ক, তবে জনস্বার্থে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো তার কাঠামো: আটটি প্যাকেজ, অনুমোদনের প্রশ্ন, দরপত্র, কাজের মাপজোক এবং বিল। সরকারি নির্মাণে ‘কাজ হয়েছে’ প্রমাণ করতে চুক্তি, কার্যাদেশ, নকশা বা স্পেসিফিকেশন, পরিমাপ বই, সাইট-রেকর্ড, বিল, গ্রহণ-সনদ এবং অর্থ পরিশোধের রেকর্ড পরস্পরের সঙ্গে মিলতে হয়। একটি নথি থাকলেই অন্যটি সত্য প্রমাণিত হয় না।
ই-জিপির প্রকাশ্য রেকর্ডে এই রেকর্ড ভবন প্রকল্পের অধীনে সরকারি অর্থায়ন ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে পুরস্কৃত চুক্তির তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু একটি প্রকাশ্য চুক্তির রেকর্ড নিজে থেকে বলে না যে প্রতিটি উপকাজ অনুমোদিত ছিল, কাজ হয়েছে, বা বিল সঠিক ছিল। একইভাবে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান গুরুতর সতর্কসংকেত, কিন্তু শেষ দায়িত্ব, ক্ষতির পরিমাণ ও অর্থের গন্তব্য নির্ধারণের জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দরকার। দুই স্তরের এই পার্থক্য না রাখলে হয় অভিযোগকে আগেভাগে রায় বলা হবে, নয়তো প্রকাশ্য নথির গুরুত্ব অস্বীকার করা হবে।
প্যাকেজ ভাগের প্রশ্নটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
একটি বড় কাজকে ছোট প্যাকেজে ভাগ করা সব সময় বেআইনি বা ক্ষতিকর নয়। কাজের ধরন ভিন্ন হলে, আলাদা দক্ষতা লাগলে, বা অনুমোদিত পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে ক্রয় থাকলে প্যাকেজ করা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু একই কাজের পরিধি বদলানো হলে অনুমোদন, প্রতিযোগিতা, বাজেট-সীমা ও দায়িত্বের শৃঙ্খলও স্পষ্ট থাকতে হয়। দুদকের অভিযোগের ওজন তাই ‘আট’ সংখ্যাটিতে নয়; প্রশ্ন হলো, প্যাকেজগুলো কী অনুমোদিত কাজের যুক্তিসঙ্গত বিভাজন ছিল, নাকি এমন বিভাজন যা অনুমোদন ও তদারকির বাইরে চলে গিয়েছিল।
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পুরো ডিপিপি বা সংবেদনশীল প্রকৌশল নকশা প্রকাশের প্রয়োজন নেই। কর্তৃপক্ষ একটি মিল-সারণি দিতে পারে: মূল প্যাকেজে কী থাকার কথা, আট প্যাকেজে কী করা হয়েছে, কোন অনুমোদনে কখন বদল হয়েছে, প্রতিটি কাজের পরিমাপ কত, এবং কোন বিলের বিপরীতে কী গ্রহণ-সনদ আছে। এমন সারণি থাকলে সাংবাদিক, সংসদীয় কমিটি, নিরীক্ষক ও নাগরিক একই নথি দেখে একই প্রশ্ন করতে পারবেন। না থাকলে প্যাকেজ-ভাগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বাইরে যাওয়া কঠিন।
ই-জিপি থাকলেই তদারকি শেষ হয় না
ই-জিপি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, সময়সীমা ও কিছু ক্রয়-তথ্য নথিবদ্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। সরকারি রেকর্ডে প্রকল্পটির সঙ্গে ই-জিপির সম্পর্ক দেখা যায়। কিন্তু অনলাইনে দরপত্র হওয়া কাজের বাস্তব উপস্থিতি, পরিমাপ, মান, বিল অনুমোদন বা প্রকল্প-অনুমোদনের বিকল্প নয়। ডিজিটাল ক্রয়-পদ্ধতি স্বচ্ছতার শুরু; সাইটে কাজ, প্রকৌশলীর পরিমাপ এবং অর্থছাড়ের আগে স্বাধীন পরীক্ষা তার পরের ধাপ।
এ কারণেই দুদকের ৯ সেপ্টেম্বরের সরেজমিন পরিদর্শন নথিভিত্তিক ব্যবস্থার দরকারি সম্পূরক। তবে পরিদর্শনের ফলও যাচাইযোগ্য হতে হবে। যে প্যাকেজে কাজ পাওয়া যায়নি বলা হচ্ছে, তার অবস্থান, নির্ধারিত কাজ, পরিদর্শনের তারিখ, দেখা নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হলে পরে তদন্তের ফল বদলালেও নাগরিকরা কারণটি বুঝতে পারবেন। স্বচ্ছতা মানে গোপন তদন্ত ফাঁস করা নয়; সিদ্ধান্তের পেছনের যাচাইয়ের সীমা ও ভিত্তি জানানো।
আগের বছরের সঙ্গে তুলনায় কী দেখা দরকার
এখানে অর্থের অঙ্ককে অন্য বছরের প্রকল্পব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে বড় বা ছোট বলা বিভ্রান্তিকর হবে। তুলনা হওয়া উচিত প্রক্রিয়ার: অভিযোগের সময় ২০২৩–২৪, সাময়িক বরখাস্তের খবর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি, আর নতুন এনফোর্সমেন্ট অভিযান ৯ সেপ্টেম্বর। এই সময়রেখা দেখায় যে প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও অনুসন্ধান আলাদা ধাপে হয়েছে। এখন মাপার সূচক হতে পারে—তদন্ত শেষ হতে কত দিন, কতজনের জবানবন্দি, কত প্যাকেজের নথি মিলেছে, কত টাকা স্থগিত বা উদ্ধার হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পে একই ধরনের সতর্কতা বসানো হয়েছে কি না।
সরকারের অবস্থান ও তার শক্ত জায়গা
সরকারি দিক থেকে সবচেয়ে শক্ত প্রতিক্রিয়া হলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সেপ্টেম্বরে দুদকের মাঠপর্যায়ের নথি-যাচাই। দুদক শুধু সংবাদবিজ্ঞপ্তির ভাষায় থেমে না থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে কাগজপত্র নিয়েছে এবং আরও বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশের কথা বলেছে। যদি এই ধাপ থেকে স্বাধীনভাবে দায় নির্ধারণ, অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা ও প্রয়োজনীয় মামলা হয়, তবে পুরোনো প্রকল্পের অনিয়মের বিরুদ্ধে এটি বাস্তব জবাবদিহির পথ হতে পারে।
আরও একটি ন্যায্যতা জরুরি। ২০২৩–২৪ অর্থবছরের কথিত কাজ বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তের সময়ের আগের। ফলে বর্তমান সরকারকে সেই সময়ের ঘটনার স্রষ্টা বলা ঠিক হবে না। কিন্তু এখন তদন্ত, নথি প্রকাশ, অর্থ-ফেরত এবং নতুন ক্রয়-নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোর। অতীতের অনিয়ম উত্তরাধিকার হতে পারে; তার সমাধানে ধীরতা বা অস্বচ্ছতা হলে সেটি বর্তমান জবাবদিহির বিষয় হয়ে ওঠে।
সমস্যাটা কোথায়?
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের বড় সীমাবদ্ধতা হলো নথির পূর্ণতা। কোন আটটি প্যাকেজ, তাদের টেন্ডার আইডি, কোন তারিখে কোন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে বা দেয়নি, কার নামে কত বিল গেছে, চারটি প্যাকেজের সাইট-পরিদর্শনের ছবি বা মাপজোক কী, এবং অন্য চারটির সঙ্গে মূল ঠিকাদারের সম্পর্ক কী—এসবের একীভূত তালিকা জনসমক্ষে নেই। বাণিজ্যিক গোপনীয়তার প্রয়োজন থাকলেও প্রকল্পের নাম, প্যাকেজ নম্বর, অর্থের অঙ্ক, সিদ্ধান্তের তারিখ এবং তদন্তের অবস্থা গোপন রাখার কারণ দুর্বল।
প্রতিক্রিয়ার প্রশ্নও রয়ে গেছে। বাসসের প্রতিবেদনে দুদক বলেছে, যাঁকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়েছে তাঁর বক্তব্য তখন নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয় সাময়িক বরখাস্তের কথা বলেছিল। এই দুই তথ্যের পর বর্তমান অনুসন্ধানে সাবেক কর্মকর্তা, আট ঠিকাদার, প্রকল্প পরিচালক, ক্রয়-কমিটি ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের কারও লিখিত ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছে কি না প্রকাশ করা দরকার। ন্যায্য তদন্তে অভিযোগকারীর নথি যেমন লাগবে, তেমনি অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের জবাবও লাগবে।
কার লাভ, কার ক্ষতি?
কাজ ছাড়া বিল দেওয়া হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম পক্ষ রাষ্ট্রের কোষাগার, অর্থাৎ করদাতা নাগরিক। দ্বিতীয় ক্ষতি প্রকল্পের ব্যবহারকারীদের: সুপ্রিম কোর্টের নথি সংরক্ষণ ও সেবার জন্য যে ভবন, সরঞ্জাম বা কাজ দরকার ছিল তা বিলম্বিত বা নিম্নমানের হতে পারে। আবার প্রকৃতপক্ষে কাজ হয়ে থাকলেও নথি ও পরিমাপ বই না থাকা বা সহজে যাচাই না হওয়া একইভাবে ঝুঁকি তৈরি করে; তখন ভবিষ্যতের মেরামত, দায় ও অর্থমূল্য নির্ধারণ কঠিন হয়।
সৎ ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরও স্বার্থ আছে দ্রুত, প্রমাণভিত্তিক নিষ্পত্তিতে। কারণ অস্পষ্ট তদন্ত সব অংশগ্রহণকারীকে একই সন্দেহে ফেলে দিতে পারে। তাই ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা’ মানে শুধু একটি নাম ঘোষণা নয়; কাদের বিরুদ্ধে কী প্রমাণ, কোন দাবি অপ্রমাণিত, কোন কাজ বাস্তব, এবং কার বিরুদ্ধে কী প্রতিকার—সেটির স্পষ্ট বিভাজন।
এবার যে পাঁচটি তথ্য প্রকাশ করা দরকার
- মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজ ও অভিযোগে উল্লিখিত আট প্যাকেজের নম্বর, দরপত্র আইডি, কার্যাদেশের তারিখ, ঠিকাদারের নাম ও বিলের অঙ্ক।
- ডিপিপি, সংশোধিত ডিপিপি, অনুমোদন-নথি এবং যেসব অনুমোদন না থাকার কথা দুদক বলেছে তার নির্দিষ্ট তালিকা।
- প্রতিটি প্যাকেজের পরিমাপ বই, গ্রহণ-সনদ ও সাইট-পরিদর্শনের সারসংক্ষেপ; ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব।
- ফেব্রুয়ারির সাময়িক বরখাস্তের পর বিভাগীয় তদন্ত, অর্থ স্থগিত বা পুনরুদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাব নেওয়ার বর্তমান অবস্থা।
- দুদকের বিস্তারিত অনুসন্ধানের সময়সীমা, তদন্ত-ফল প্রকাশের পদ্ধতি এবং অর্থ উদ্ধার বা মামলার সিদ্ধান্ত হলে তার হালনাগাদ তথ্য।
উপসংহার
৯ সেপ্টেম্বরের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পুরোনো প্রশাসনিক অভিযোগকে নথি ও সাইট-পরিদর্শনের পরীক্ষায় ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু প্রাথমিক অনুসন্ধানকে চূড়ান্ত রায় বানালে ন্যায্যতা নষ্ট হবে, আর সেটিকে অস্পষ্ট রেখে দিলে জবাবদিহি ব্যর্থ হবে। সঠিক মাঝের পথ হলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রত্যেক পক্ষের জবাব, প্রকাশ্য প্যাকেজভিত্তিক হিসাব এবং অর্থ-উদ্ধার বা আইনগত পদক্ষেপের ফল জানানো।
এই প্রকল্পে কাজ হয়েছিল কি না, কতটা হয়েছিল এবং কার দায়—এসবের উত্তর সংবাদশিরোনামে নয়, নথিতে আছে। দুদক ও আবাসন-গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ যদি ৬০ দিনের মধ্যে একটি যাচাইযোগ্য অগ্রগতি-প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাহলে নাগরিকরা দেখতে পারবেন তদন্ত কেবল পুনরাবৃত্ত ঘোষণা, নাকি সরকারি অর্থ রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে প্যাকেজভিত্তিক অগ্রগতি, প্রাপ্ত ও অনুপস্থিত নথি, জবাব নেওয়ার অবস্থা এবং অর্থ ফেরতের সিদ্ধান্ত আলাদা করে থাকা উচিত। প্রতিবেদনটি পরে নতুন প্রমাণে সংশোধিত হলেও সংশোধনের কারণ প্রকাশ করা উচিত। সেটিই হবে এই নতুন অভিযানের সবচেয়ে অর্থবহ পরীক্ষা।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ‘ACC finds evidence of Tk 6.32cr embezzlement in SC record building project’, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; দুদকের সহকারী পরিচালকের উদ্ধৃতি, অভিযানের পর প্রাথমিক তথ্য ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশ
- জাগো নিউজ, ‘সুপ্রিম কোর্টে ভবন নির্মাণে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক’, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; দুদকের উপপরিচালকের উদ্ধৃতি ও চার প্যাকেজে ভৌত কাজ না পাওয়ার স্বাধীন প্রতিবেদন
- কালবেলা, ‘সুপ্রিমকোর্ট রেকর্ড ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেল দুদক’, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; অভিযান, নথি-পর্যালোচনা ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের স্বাধীন প্রতিবেদন
- bdnews24.com, ‘PWD engineer suspended over alleged Tk 63.2m embezzlement’, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; আবাসন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য ও ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবেদন
- বাংলাদেশ ই-জিপি, সুপ্রিম কোর্ট রেকর্ড ভবন প্রকল্পের পুরস্কৃত চুক্তির সরকারি রেকর্ড; প্রকল্প, সংস্থা, সরকারি অর্থায়ন ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির প্রাথমিক নথি
