NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

আইন ও মানবাধিকার জবাবদিহি

র‍্যাবের বদলে এসআরবি: সংশোধিত বিলের আগে নাগরিকের জানার অধিকার

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদীয় কমিটি এসআরবি বিল সংশোধন করে সংসদে তোলার সুপারিশ করেছে। কিন্তু কোন সুরক্ষা বদলেছে, কে নজরদারি করবে এবং হেফাজতের হিসাব কীভাবে প্রকাশ হবে—চূড়ান্ত পাঠ ছাড়া এসব প্রশ্নের জবাব মেলে না।

আইন, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

একটি বাহিনীর নাম বদলানো আর একটি বাহিনীর ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বসানো এক কথা নয়। ৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বিশেষ সাড়া ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি বিল, ২০২৬ সংশোধন করে সংসদে তোলার সুপারিশ করেছে। একই দিনে প্রকাশিত সংসদ সচিবালয়ের বিবরণে বলা হয়েছে, কমিটি প্রশিক্ষণ, পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর দিয়েছে। প্রশ্ন হলো, সেই চারটি শব্দ চূড়ান্ত আইনে কোন বাধ্যতামূলক নিয়মে রূপ নেবে?

এটি র‍্যাবকে বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের প্রস্তাব। জননিরাপত্তা, সংগঠিত অপরাধ দমন ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়ার প্রয়োজনকে অস্বীকার করার কারণ নেই। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানের বদলে নতুন কাঠামো আসছে, তার অতীত নিয়ে গুরুতর মানবাধিকার অভিযোগ, মামলা ও জনআস্থার সংকট ছিল। তাই এই পরিবর্তনের পরীক্ষা শুধু নতুন নাম, প্রতীক বা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে হতে পারে না। পরীক্ষা হবে ক্ষমতা প্রয়োগের আগে অনুমতি, হেফাজতের প্রতিটি ঘণ্টার নথি, অভিযোগের তদন্তকারী এবং ভুল হলে প্রতিকারের পথে।

আইনটি এখন কোন পর্যায়ে

আইনের পর্যায়টি পরিষ্কার রাখা জরুরি। বাসসের ৩ সেপ্টেম্বরের সরকারি সংসদ-প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসআরবি বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়। ৮ সেপ্টেম্বরের বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিটির চতুর্থ বৈঠক সংশোধন যুক্ত করে বিলটি সংসদে তোলার সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ এটি পাস হওয়া আইন বা গেজেটভুক্ত বিধান নয়। সামনে সংসদে পরবর্তী পদক্ষেপ, চূড়ান্ত পাঠ এবং পরে গেজেটের প্রশ্ন আছে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কমিটি বৈঠক পাতায় ৮ সেপ্টেম্বরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির চতুর্থ বৈঠক নথিভুক্ত আছে। এটি প্রাথমিক সরকারি সময়রেখাকে সমর্থন করে। কিন্তু বাসসের প্রকাশিত সারাংশে সংশোধনগুলোর ধারা-ভিত্তিক তালিকা নেই। ফলে নাগরিক এখন জানেন কমিটি একটি সংশোধিত পাঠ সুপারিশ করেছে, কিন্তু জানেন না কোন ভাষা বাদ গেল, কোন সুরক্ষা যোগ হলো, আর কোন প্রশ্ন আগের মতো রইল। আইন প্রণয়নের এ পর্যায়ে এই তথ্যের ঘাটতি সামান্য বিষয় নয়।

বিলের মূল পাঠ প্রকাশ্য না হলে সম্পাদিত পাঠ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়াও ঠিক হবে না। এই কারণে আমাদের বিচার সীমিত: কমিটির সিদ্ধান্তটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ; কিন্তু জবাবদিহির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে—এ কথা বলার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনও নেই। সরকারের দায়িত্ব হলো সেই প্রমাণ দেখার সুযোগ তৈরি করা।

সরকারের যুক্তি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য

সরকারের পক্ষে সবচেয়ে শক্ত যুক্তিটি বাসসের দুই প্রতিবেদনে আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী র‍্যাব নামে কোনো সংস্থা থাকবে না, তবে সংগঠিত ও গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজন আছে। ৮ সেপ্টেম্বরের কমিটি-সারাংশেও বলা হয়েছে, অতীতে অপব্যবহার হয়েছে বলেই প্রশিক্ষিত জনবল, অবকাঠামো ও সরঞ্জাম একেবারে পরিত্যাগ করা সমাধান নয়; বরং সেগুলো জাতীয় স্বার্থে নিয়মের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।

এ যুক্তির বাস্তব ভিত্তি আছে। একটি রাষ্ট্রকে সন্ত্রাস, মানবপাচার, অপহরণ, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সংকটে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। বিশেষ দক্ষতা ও দ্রুততা দরকার হতে পারে। নতুন বাহিনী গঠনের বিরুদ্ধে থাকা আর তার ক্ষমতাকে আইন, আদালত ও স্বাধীন পর্যালোচনার অধীনে রাখার দাবি—দুইটি একই বিষয় নয়। আমাদের বিবেচনায় সরকারকে বিশেষায়িত সক্ষমতার প্রয়োজনটি আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে ঠিক সেই দ্বিতীয় কাজটি করে।

কেবল বাহিনীর কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক তদারকি যথেষ্ট কি না, সেটিই এখানে মূল প্রশ্ন। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে একই কাঠামোর ভেতরের তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ বলে মানুষ গ্রহণ করবেন? সরকার যদি সত্যিই পুরোনো ব্যর্থতা এড়াতে চায়, তবে চূড়ান্ত আইনে বাইরের যাচাই, নথি সংরক্ষণ ও প্রতিকারকে অঙ্গীকারের ভাষা নয়, প্রয়োগযোগ্য বাধ্যবাধকতা করতে হবে।

সমালোচনা আছে, কিন্তু সেটি রায় নয়

৬ সেপ্টেম্বরের নিজস্ব প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, তাদের দেখা খসড়ায় ব্যাপক ও অস্পষ্ট ক্ষমতা, সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের সুযোগ, বাহিনীর ভেতরের অভিযোগ-নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, সদস্য যাচাই এবং প্রেষণে বাইরের বাহিনীর সদস্য নেওয়ার বিষয়ে ঝুঁকি আছে। এটি টিআইবির নীতিগত মূল্যায়ন, আদালতের রায় বা বিলের চূড়ান্ত পাঠের বিকল্প নয়। তবু এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিশদ, প্রকাশ্য আপত্তি সংসদীয় আলোচনায় সরাসরি উত্তর পাওয়ার দাবি রাখে।

৮ সেপ্টেম্বর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের লিখিত ভিন্নমতের কথা এসেছে। প্রতিবেদনটি বলছে, তাঁরা অভিযোগ তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্ব, জেলা পর্যায়ে নিয়মিত কার্যক্রম-রিপোর্ট, আটক ব্যক্তি ও হেফাজতস্থলের নথি এবং হস্তান্তরের সময়সীমার মতো প্রস্তাব দিয়েছেন। এগুলোও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নয়; এগুলো সংসদীয় পরীক্ষার জন্য উত্থাপিত প্রস্তাব। কিন্তু প্রস্তাবগুলো যে বিষয়গুলো ধরেছে—হেফাজত, নথি, স্বাধীন অভিযোগ-তদন্ত ও নজরদারি—সেগুলোই নাগরিকের মৌলিক সুরক্ষার কেন্দ্র।

এখানেই পার্থক্যটি জরুরি। ‘এসআরবি অবশ্যই পুরোনো বাহিনীর পুনরাবৃত্তি হবে’ বলা এখনই প্রমাণের অতিরিক্ত দাবি। আবার ‘সংশোধনের সুপারিশ হয়েছে, তাই সব উদ্বেগ মিটেছে’ বলাও সমান অকাল সিদ্ধান্ত। প্রথমটি ভবিষ্যৎকে নিশ্চিত সত্য বানায়, দ্বিতীয়টি অদেখা পাঠকে নিরাপদ ধরে নেয়। দায়িত্বশীল অবস্থান হলো চূড়ান্ত নথি প্রকাশ করে প্রতিটি উদ্বেগের লিখিত উত্তর চাওয়া।

যে ছয়টি উত্তর আইনে দেখা দরকার

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলে অপরাধ দমনের সক্ষমতা কমে না। বরং কোন কর্মকর্তা কোন ক্ষমতা কখন ব্যবহার করেছেন তার নথি থাকলে সৎ কর্মকর্তাও সুরক্ষা পান, আর বেআইনি কাজ আড়াল করা কঠিন হয়। জবাবদিহি কোনো বাহিনীকে দুর্বল করার নাম নয়; এটি বৈধ ক্ষমতাকে অবৈধ ক্ষমতা থেকে আলাদা করার উপায়।

সংশোধনকে যাচাইযোগ্য করার সুযোগ এখনই

কমিটি তার কাজ করেছে বলে জানিয়েছে এবং সংশোধনের পর বিলটি সংসদে তোলার সুপারিশ করেছে। ঠিক এই মধ্যবর্তী সময়টিই সবচেয়ে কার্যকর জবাবদিহির সুযোগ। সংসদ সচিবালয় সংশোধিত বিল, কমিটির প্রতিবেদন এবং সদস্যদের লিখিত ভিন্নমত একসঙ্গে প্রকাশ করতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ধারা-ভিত্তিক একটি ব্যাখ্যাও দিতে পারে: কোন উদ্বেগ গ্রহণ করা হয়েছে, কোনটি হয়নি, এবং কেন। এতে সরকারকে দুর্বল দেখাবে না; বরং আইনটি আস্থা অর্জনের জন্য পরীক্ষা সহ্য করতে পারে, সেটিই প্রমাণ হবে।

এরপর সংসদে বিতর্কের সময় শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বাস্তব সুরক্ষার ভাষা দেখা উচিত। কোনো শক্তিশালী আইন কেবল উদ্দেশ্য ঘোষণায় শক্তিশালী হয় না। নাগরিক কীভাবে অভিযোগ করবেন, অভিযোগকারী কী সুরক্ষা পাবেন, রেকর্ড কে দেখবেন, ক্ষতি হলে প্রতিকার কে দেবেন—এই পথগুলো স্পষ্ট হলেই আইনের শক্তি তৈরি হয়। প্রয়োজনে মানবাধিকার ও ফৌজদারি বিচার বিশেষজ্ঞদের লিখিত মতও সংসদীয় নথিতে যুক্ত করা যেতে পারে।

প্রকাশ্য পাঠ কেন নিরাপত্তারও শর্ত

গোপন অপারেশন, তথ্যদাতা বা চলমান তদন্তের সব বিবরণ জনসমক্ষে দেওয়ার দাবি এখানে নেই। আইনটি কী ক্ষমতা দেয় এবং সেই ক্ষমতা কোন সীমায় বাঁধে, সেটি প্রকাশ করাই আলাদা বিষয়। গ্রেপ্তারের শর্ত, আটক ব্যক্তির অধিকার, জিজ্ঞাসাবাদের নিয়ম, আদালত বা অন্য কোনো সংস্থার ভূমিকা এবং অভিযোগের প্রতিকার—এসব গোপন গোয়েন্দা তথ্য নয়। নাগরিকের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষমতা রাষ্ট্র যখন চাইছে, তখন তার আইনি শর্তগুলো নাগরিকের পড়তে পারা দরকার।

এখানে সরকারও লাভবান হবে। কোনো অপারেশনের পর যদি অভিযোগ ওঠে, প্রকাশ্য নিয়ম থাকলে সরকার বলতে পারবে কোন বিধি মানা হয়েছে, কী নথি আছে এবং কোন স্বাধীন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে। নিয়ম অদৃশ্য থাকলে দুই ধরনের ক্ষতি হয়। অভিযোগ সত্য হলে প্রতিকার বিলম্বিত হয়। অভিযোগ ভুল হলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষে বিশ্বাসযোগ্যভাবে জবাব দেওয়া কঠিন হয়। আইনের স্বচ্ছতা তাই শুধু সমালোচকের অস্ত্র নয়; পেশাদার রাষ্ট্রীয় কাজের সুরক্ষাও।

বাসসের ৮ সেপ্টেম্বরের সারাংশে কমিটির সদস্যরা অতীতের অপব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন এবং একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রয়োজন বলেছেন। এই স্বীকারোক্তি থেকে একটি সাধারণ মানদণ্ড বের হয়: নতুন প্রতিষ্ঠানের নামে পুরোনো ঝুঁকি অস্বীকার করা যাবে না। ঝুঁকির স্বীকৃতি যদি সত্যিই থাকে, তবে সদস্য বাছাই, নির্দেশের বৈধতা, অভিযান-পরবর্তী নথি এবং অভিযোগের ফল—সবখানেই তা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

নজরদারি মানে কাজ থামানো নয়

দ্রুত অপরাধ দমন আর আইনি তদারকির মধ্যে কৃত্রিম দ্বন্দ্ব তৈরি করা ঠিক নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ করা লাগতে পারে। কিন্তু দ্রুততা যত বেশি, পরে রেকর্ড ও পর্যালোচনার প্রয়োজনও তত বেশি। কোন ঘটনায় কোন ক্ষমতা ব্যবহার হলো, কতজনকে আটক করা হলো, কতজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলো, কত অভিযোগ এলো এবং তার কতটি নিষ্পত্তি হলো—এ ধরনের সমষ্টিগত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা সম্ভব। এতে চলমান তদন্তের সংবেদনশীল তথ্য না খুলেও বাহিনীর কাজের ধরন দেখা যায়।

সংসদীয় তদারকিরও এখানে বাস্তব ভূমিকা আছে। যে কমিটি বিলটি পরীক্ষা করেছে, আইন পাসের পর তার কাজ শেষ হয়ে যায় না। বছরে অন্তত একবার প্রকাশ্য সারসংক্ষেপে বাহিনীর বাজেট, জনবল, অভিযোগ, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের তথ্য চাইতে পারে। সংসদীয় প্রশ্নোত্তর, বার্ষিক প্রতিবেদন এবং প্রয়োজন হলে কমিটির শুনানি—এই তিন পথ একসঙ্গে থাকলে নির্বাহীর প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা ও জনগণের জানার অধিকার দুটিই সামলানো যায়।

এ কারণে কমিটির ৮ সেপ্টেম্বরের সুপারিশকে শেষ উত্তর না ভেবে শুরু হিসেবে দেখা দরকার। সংশোধিত পাঠে যদি শক্তিশালী বাহ্যিক রিপোর্টিং, নথি সংরক্ষণ ও নিরপেক্ষ অভিযোগ-তদন্ত আসে, সেটি প্রকাশ্যে দেখালে সন্দেহের জায়গা কমবে। আর যদি এমন সুরক্ষা না আসে, সংসদ সদস্যদের কাছে তা যোগ করার সময় এখনও আছে। এই মুহূর্তে দ্রুত আইন পাসের চেয়ে যাচাইযোগ্য সুরক্ষা যোগ করা জননিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি ব্যবহারিক সময়সীমাও নির্ধারণ করা যায়। পরবর্তী সংসদীয় ধাপে বিলটি তোলার আগে সংশোধিত পাঠ ও কমিটির প্রতিবেদন অনলাইনে দেওয়া হোক। আইন পাস হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিধি, অভিযোগ-দাখিলের সহজ পথ এবং প্রথম প্রকাশ্য পরিসংখ্যানের তারিখ জানানো হোক। প্রতিশ্রুতি কত দিনের মধ্যে কোন নথিতে বাস্তবায়িত হবে, সেই হিসাব থাকলে পরের বছর ফল যাচাই করাও সম্ভব হবে।

শেষ কথা

৮ সেপ্টেম্বরের কমিটি-সুপারিশকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। সরকার বলছে, নতুন বিশেষায়িত বাহিনী জননিরাপত্তার প্রয়োজন মেটাবে এবং পুরোনো অপব্যবহারের পুনরাবৃত্তি ঠেকাবে। সেই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করার সবচেয়ে ভালো উপায় প্রচার নয়, প্রকাশ্য আইন। সংশোধিত পাঠ ভোটের আগে প্রকাশ হোক; হেফাজত, শক্তি প্রয়োগ, অভিযোগ তদন্ত, সদস্য যাচাই ও সংসদীয় রিপোর্টিংয়ের নিয়ম সেখানে স্পষ্ট থাকুক; আর আইন পাস হলে তার বাস্তবায়নের তথ্য নিয়মিত নাগরিকের সামনে আসুক। তাহলেই বোঝা যাবে এটি কেবল প্রশাসনিক নামবদল, নাকি সত্যিই জবাবদিহিমূলক নিরাপত্তা সংস্কারের শুরু।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, কমিটি বৈঠক তালিকা; ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সরকারি হিসাব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির নির্ধারিত বৈঠকের সরকারি রেকর্ড
  2. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ‘JS committee recommends revised SRB Bill for tabling in parliament’, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; সংসদ সচিবালয়ের বিবরণে কমিটির সংশোধন-সাপেক্ষ সুপারিশ ও সরকারের যুক্তি
  3. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ‘In the name of disbanding, a more empowered and unaccountable Battalion’, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বিলের ধারা নিয়ে টিআইবির প্রকাশ্য অবস্থান ও সুপারিশ
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড/ইউএনবি, ‘Opposition MPs submit dissent notes on eight issues in SRB Bill’, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বিরোধী সদস্যদের প্রস্তাব ও সংসদ সচিবালয়ের নোটিশের স্বাধীন প্রতিবেদন
  5. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ‘Bill placed in JS to replace RAB with SRB’, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বিল উত্থাপনের ধাপ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য ব্যাখ্যা