NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

আইন ও জবাবদিহি

র‍্যাব বিলুপ্তির বিল পাস: নাম বদল নয়, স্বাধীন নজরদারির প্রমাণ চাই

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদ এসআরবি বিল পাস করেছে। কিন্তু পুরোনো জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন বাহিনীতে গেলে এবং অভিযোগ কমিটির নেতৃত্ব ভেতরেই থাকলে, জবাবদিহি প্রমাণ করতে হবে স্বাধীন ব্যবস্থায়।

Editorial illustration about Bangladesh's SRB bill, independent oversight and detention accountability

NCP Diaspora Alliance Germany editorial-analysis artwork; not a photograph of a real event.

র‍্যাব বিলুপ্তির বিল সংসদে পাস হয়েছে। কিন্তু যে কাঠামোয় পুরোনো বাহিনীর জনবল, ক্ষমতা, অর্থ, সম্পদ, চুক্তি ও নথি একসঙ্গে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নে যাবে, সেখানে কেবল সাইনবোর্ড বদলকে সংস্কার বলা যাবে না। রাষ্ট্রের গুরুতর অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা দরকার; আরও জরুরি হলো সেই ক্ষমতার ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ, যা বাহিনী নিজে চালাবে না।

১০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি বিল, ২০২৬ উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এই মুহূর্তে সবচেয়ে সতর্ক ভাষাটিই সঠিক: সংসদে পাস হওয়া বিল আর গেজেটে প্রকাশিত কার্যকর আইনের এক বিষয় নয়। আমাদের এই পর্যালোচনার সময়সীমা পর্যন্ত চূড়ান্ত গেজেট-পাঠ পাওয়া যায়নি। তাই কোন ধারা শেষ মুহূর্তে বদলেছে বা কার্যকারিতা কবে হবে, সে বিষয়ে অনুমান নয়, পূর্ণ নথি চাই।

বিল যা নিশ্চিত করে

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সংসদভিত্তিক প্রতিবেদনে বিলের যে সারাংশ এসেছে, তাতে এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে থাকবে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, অন্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সদস্য এবং নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা সশস্ত্র সদস্যকে পদায়ন বা প্রেষণে সেখানে নেওয়া যাবে। মহাপরিচালক হবেন কর্মরত পুলিশের অন্তত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা। নতুন ইউনিট তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পত্তি জব্দের ক্ষমতা পাবে; নিজের হেফাজতস্থান, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষও রাখতে পারবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি হলো হস্তান্তর। প্রতিবেদিত বিল-সারাংশে র‍্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়, চুক্তি, সম্পত্তি, রেজিস্টার এবং নথি এসআরবিতে দেওয়ার কথা আছে। নতুন বিধি না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিধির অধীনে র‍্যাব-সম্পর্কিত বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও আদালত-প্রক্রিয়াও চলবে। এগুলো কোনো অভিযোগ নয়; পাস হওয়া বিলের প্রকাশিত সারাংশের তথ্য।

এই ধারাগুলোর একটি বাস্তব যুক্তি আছে। অস্ত্র, দপ্তর, তথ্যভাণ্ডার ও প্রশিক্ষিত জনবল রাষ্ট্রীয় সম্পদ; সেগুলো ফেলে রেখে নতুন করে কেনাকাটা করলে অপচয় বাড়তে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সংসদে বলেছেন, বিলম্ব হলে র‍্যাবই বহাল থাকবে এবং সম্পদকে কোথাও না কোথাও নিতে হবে। গুরুতর অপরাধ, জঙ্গিবাদ বা অস্ত্র চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিশেষায়িত সক্ষমতার প্রয়োজনও অস্বীকার করা যায় না।

এখানেই সংস্কারের আসল পরীক্ষা

কিন্তু সক্ষমতা ধরে রাখা আর দায়মুক্তির ঝুঁকি ধরে রাখা এক জিনিস নয়। পুরোনো জনবল ও ক্ষমতা নতুন প্রতিষ্ঠানে গেলে নিয়োগ, পদায়ন ও অতীত আচরণ যাচাইয়ের নিয়ম কী হবে? কার বিরুদ্ধে নির্যাতন, বেআইনি হেফাজত বা গুমের অভিযোগ আছে, তার ফাইল কে পরীক্ষা করবে? অভিযোগ প্রমাণিত না হলে কাউকে আগাম দোষী বলা যায় না। আবার কেবল অভিযোগ আছে বলেই যাচাই বন্ধ রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়। এই পার্থক্যটাই আইনের ভাষায় স্পষ্ট হওয়া দরকার।

বিলের সারাংশে নাগরিক ও সদস্যদের অভিযোগের জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কথা আছে। কিন্তু সেই কমিটির সভাপতিই হবেন ইউনিটের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। বাহিনীর ভেতরের শৃঙ্খলা রক্ষায় এমন ব্যবস্থা কাজ করতে পারে। বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে এটি স্বাধীন তদন্তের বিকল্প নয়। অভিযোগ গ্রহণ, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও প্রশাসনিক সুপারিশের সঙ্গে অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষী-সুরক্ষা এবং আদালত-পর্যবেক্ষণ এক করে ফেললে নাগরিকের প্রতিকার দুর্বল হয়।

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি বাংলাদেশের জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড দিয়েছে: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে পুলিশ-শ্রেণিবিন্যাসের বাইরে স্বাধীন ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই পর্যবেক্ষণে স্বীকৃত সব হেফাজতস্থলের তালিকা প্রকাশ, অঘোষিত হেফাজত বন্ধ এবং অভিযোগের তদন্ত অভিযুক্ত কর্তৃপক্ষের বাইরে করার কথাও বলা হয়েছে। এটি কোনো দলের স্লোগান নয়; আন্তর্জাতিক মানবাধিকার-চুক্তির বাস্তব জবাবদিহির মাপকাঠি।

সরকারের যুক্তি শুনেছি; এখন নথিতে দেখাতে হবে

সরকার বলছে, বিলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে আলোচিত হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য ছিল। খসড়ার সময় সরকার সত্যিই একটি অভিযোগ প্রতিকার কাঠামোর কথা বলেছিল। কিন্তু জনমত আহ্বান আর কার্যকর জনপরামর্শ এক নয়। bdnews24.com আগস্টে জানিয়েছিল, খসড়া প্রকাশের প্রথম দশ দিনে মাত্র তিনটি মতামত জমা পড়েছিল। এটি জনগণ আগ্রহী ছিল না—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়; তবে এত বড় নিরাপত্তা-কাঠামোর ক্ষেত্রে নাগরিকদের কাছে খসড়া পৌঁছানো ও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দুর্বলতার স্পষ্ট সংকেত।

সংসদীয় প্রক্রিয়াও ছিল দ্রুত। বিলটি ৩ সেপ্টেম্বর উত্থাপিত, কমিটি ৮ সেপ্টেম্বর সংশোধিত আকারে তোলার সুপারিশ করে, আর ১০ সেপ্টেম্বর তা পাস হয়। বিরোধী সদস্যরা সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো ও আরও জনমত নেওয়ার দাবি করেছিলেন। সরকার সেই প্রস্তাব নেয়নি। সরকার তা করতে বাধ্য ছিল কি না, সেটি আলাদা আইনি প্রশ্ন। কিন্তু যে আইন গ্রেপ্তার, তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ ও হেফাজতের ক্ষমতা দেয়, তার চূড়ান্ত পাঠ, কমিটি-রিপোর্ট এবং ভিন্নমত জনসমক্ষে না থাকলে দ্রুততার রাজনৈতিক খরচ জনগণই বহন করে।

দ্য ডেইলি স্টারও পাসের দিনের প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের সাত দফা ভিন্নমত এবং র‍্যাবের জনবল, সম্পদ ও কাঠামো বহাল থাকার উদ্বেগ নথিবদ্ধ করেছে। সেটি বিরোধীদের মূল্যায়ন, আদালতের রায় নয়। আমাদের সম্পাদकीय সিদ্ধান্তও তাই সংযত কিন্তু দৃঢ়: উদ্বেগটি খারিজ করার আগে সরকারকে দেখাতে হবে কোন স্বাধীন সুরক্ষা নতুন আইনে বাস্তবে যুক্ত হয়েছে, কে তা চালাবে এবং তার সিদ্ধান্ত কোথায় প্রকাশ হবে।

হেফাজত অদৃশ্য থাকলে আইন দৃশ্যমান হয় না

এসআরবির নিজের হেফাজতস্থান ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানটি তাই বিশেষ নজর চায়। কোনো আইনশৃঙ্খলা সংস্থার আইনসম্মত হেফাজতক্ষমতা নিজে থেকেই বেআইনি নয়। কিন্তু কোথায় মানুষ রাখা হচ্ছে, কখন প্রবেশ করেছে, কখন আদালতে নেওয়া হয়েছে, আইনজীবী ও পরিবারকে কখন জানানো হয়েছে, চিকিৎসা পরীক্ষা হয়েছে কি না—এই তথ্য সুরক্ষিত ও নিরীক্ষাযোগ্য না হলে ক্ষমতার অপব্যবহার ধরা কঠিন। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করেও দৈনিক হেফাজত-নিবন্ধন, আদালতে উপস্থাপনের সময় এবং পরিদর্শনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা সম্ভব।

এখানে আগের বাহিনীর ইতিহাসকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, আবার সেটি দিয়ে প্রত্যেক বর্তমান সদস্যকে অপরাধীও বলা যাবে না। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি র‍্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার, অস্বীকৃত হেফাজত, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিল এবং স্বাধীন অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছিল। এই ইতিহাসের কারণেই নতুন প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড সাধারণ প্রশাসনিক কমিটির চেয়ে কঠোর হওয়া উচিত।

এখন পাঁচটি প্রকাশ্য কাজ দরকার

আইনের মর্যাদা ও নথির শৃঙ্খলা

বিল পাসের পরেও নির্ভুল শব্দ ব্যবহার জরুরি। সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদে সংসদে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর, অথবা নির্ধারিত অবস্থায় সম্মত বলে গণ্য হলে, আইনে পরিণত হওয়ার কাঠামো আছে। তাই ‘র‍্যাব আজই শেষ’ বা ‘এসআরবি আইন এখনই কার্যকর’—এ ধরনের ঘোষণা চূড়ান্ত নথি ছাড়া দায়িত্বশীল নয়। সরকারকে এই স্বাভাবিক আইনি ধাপটি আড়াল না করে কখন কোন নথি হবে, তা জানাতে হবে।

চূড়ান্ত পাঠ প্রকাশের আরও একটি কারণ আছে। আগস্টের খসড়ার কিছু বিধান সম্পর্কে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম লিখেছিল, কিন্তু সংসদীয় কমিটি পরে সংশোধনের সুপারিশ করে। পাস হওয়া সংস্করণে খসড়ার প্রতিটি শব্দ একই আছে—এমন ধরে নেওয়া ভুল হবে। সঠিক পদ্ধতি সহজ: গেজেটে প্রকাশিত পাঠের সঙ্গে ৩ সেপ্টেম্বরের উত্থাপিত পাঠ এবং কমিটির প্রতিবেদন পাশাপাশি দিন। কোন সংশোধন কার প্রস্তাবে হলো, কোনটি গ্রহণ হলো না, সাধারণ পাঠকও তখন তা পরীক্ষা করতে পারবেন।

স্বাধীনতা মানে কী—পরিষ্কার করে বলা দরকার

স্বাধীন তদন্ত মানে কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে যাচাইহীন অভিযোগ বিশ্বাস করা নয়। এর অর্থ, অভিযোগকারী বাহিনীর কাছে না গিয়ে নিরাপদে অভিযোগ দিতে পারবেন; তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত ইউনিটের অধস্তন বা ঊর্ধ্বতন হবেন না; সাক্ষীকে ভয় দেখানো বা নথি গোপনের অভিযোগ আলাদা করে দেখা হবে; এবং তদন্তের সারসংক্ষেপ ও গৃহীত ব্যবস্থা প্রকাশ হবে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্তের ফল কেবল বিভাগীয় ফাইলে আটকে থাকবে না, প্রয়োজন হলে নিয়মিত ফৌজদারি প্রক্রিয়ায় যাবে।

এই ন্যূনতম শর্তগুলো নতুন বাহিনীকে দুর্বল করে না। বরং পেশাদার সদস্যদের সুরক্ষা দেয়। কোনো অভিযান আইনসম্মত হলে দ্রুত, নিরপেক্ষ যাচাই বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। আর কোনো অপরাধ হলে একই ব্যবস্থাই ভুক্তভোগীকে প্রতিকার এবং সৎ সদস্যদের বদনাম থেকে আলাদা করে। গোপনীয়তার প্রয়োজনীয়তা গোয়েন্দা সূত্রে থাকতে পারে; কিন্তু গোপনীয়তা কখনো হেফাজতের অস্তিত্ব, অভিযোগের পরিণতি বা বাহিনীর জবাবদিহি পুরোপুরি ঢাকার লাইসেন্স নয়।

কোন তথ্য নিয়মিত দেখা দরকার

এসআরবি কাজ শুরু করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির সামনে একটি ত্রৈমাসিক প্রকাশ্য হিসাব থাকা উচিত। কত জন সদস্য কোন সংস্থা থেকে এলেন, কত জনের পটভূমি যাচাই সম্পন্ন হলো, কত অভিযোগ এসেছে, কতটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য ধরা হয়েছে, কতটি স্বাধীনভাবে তদন্তে গেছে, কতটিতে বিভাগীয় বা ফৌজদারি পদক্ষেপ হয়েছে—পরিচয় প্রকাশ না করেও এই সংখ্যা দেওয়া যায়। হেফাজতের ক্ষেত্রেও মোট আটক, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে উপস্থাপন, আইনজীবী-যোগাযোগ, চিকিৎসা পরীক্ষা ও পরিদর্শনের সমষ্টিগত হিসাব প্রকাশ করা সম্ভব।

এই সারণি না থাকলে ‘শূন্য অভিযোগ’ও ভালো খবর কি না বোঝা যাবে না। মানুষ অভিযোগ করতেই পারছে না, নাকি অভিযোগ সত্যিই নেই—দুই অবস্থার সংখ্যা এক হতে পারে। একই কারণে কমিটির বার্ষিক প্রতিবেদন কেবল কতটি বৈঠক হলো তা বললে চলবে না। অভিযোগ গ্রহণ না করার কারণ, তদন্ত শেষ করার গড় সময়, সুপারিশ বাস্তবায়নের হার এবং আদালতে পাঠানো মামলার অবস্থা জানাতে হবে। জবাবদিহির মূল্য ঠিক এখানেই: রাষ্ট্র নিজের সাফল্যের কথা শুধু বলবে না, পরীক্ষা করার উপকরণও দেবে।

সংস্কারের মাপকাঠি এখন কার্যকর সুরক্ষা

সরকার র‍্যাবের পুরোনো আইনি ভিত্তি সরিয়ে নতুন বাহিনী গঠনের পথ নিয়েছে। এটি শূন্য ঘটনা নয়। কিন্তু সত্যিকার সংস্কার তখনই হবে, যখন নতুন ইউনিটের ক্ষমতা পুরোনোটির চেয়ে বেশি পরীক্ষা করা যাবে। একজন নাগরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তার তদন্ত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নয়, স্বাধীন কর্তৃপক্ষ করবে—এই নিশ্চয়তা আইন ও বাস্তব প্রক্রিয়ায় দেখতে হবে।

র‍্যাবের নাম গেছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর সংসদ দিয়েছে। এসআরবি অতীতের একই অন্ধকার ফিরতে দেবে কি না, তার উত্তর এখনও নথি, বিধি, নিয়োগ-যাচাই, হেফাজত-রেজিস্টার এবং স্বাধীন তদন্তের মধ্যে লেখা বাকি। সরকার যদি সত্যিই জবাবদিহির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চায়, তবে এই প্রমাণ প্রকাশে তার দ্বিধা থাকার কথা নয়। সংসদ, মন্ত্রণালয় এবং নতুন ইউনিটকে এই পরীক্ষা একই সঙ্গে দিতে হবে; কারণ নাগরিকের অধিকার কোনো দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এই মানদণ্ড প্রচারের নয়, প্রতিদিনের প্রশাসনিক জবাবদিহির শর্ত।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ‘JS passes SRB Bill to abolish RAB’, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬; পাসের ধাপ, বিলের প্রকাশিত কাঠামো, ক্ষমতা, হস্তান্তর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব
  2. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, পার্লামেন্ট কর্নার; ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ১৩তম সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্তির সরকারি নোটিশ
  3. দ্য ডেইলি স্টার, ‘Old wine in a new bottle: Opposition slams bill abolishing Rab, setting up SRB’, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বিল পাস, ভিন্নমত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার স্বাধীন প্রতিবেদন
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ‘RAB to be dissolved, new Special Response Battalion planned’, ৭ আগস্ট ২০২৬; খসড়া প্রকাশ, প্রস্তাবিত অভিযোগ কমিটি ও কাঠামোর স্বাধীন প্রতিবেদন
  5. bdnews24.com, ‘Draft law to replace RAB draws little response’, ১৫ আগস্ট ২০২৬; খসড়ায় প্রথম দশ দিনে তিনটি জনমত জমার স্বাধীন প্রতিবেদন
  6. জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি, বাংলাদেশের ওপর সমাপনী পর্যবেক্ষণ; স্বাধীন তদন্ত, হেফাজতস্থল ও র‍্যাব-সম্পর্কিত সুপারিশ
  7. বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৮০; সংসদে গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বা সম্মত বলে গণ্য হলে আইনে পরিণত হওয়ার সরকারি বিধান