NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

নিত্যপণ্য ও বাজার জবাবদিহি

দাম বাড়ালেও তেল নেই: বাজার-তদারকির মজুদ ও ফলের হিসাব প্রকাশ চাই

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা করার পরও ঢাকার বহু দোকানে এক লিটারের বোতল মিলছে না বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের সরেজমিন প্রতিবেদন। সরকার বলছে সরবরাহ যথেষ্ট ও পর্যবেক্ষণ চলছে। এখন ব্র্যান্ডভিত্তিক মজুদ, সরবরাহ ও অভিযানের ফল প্রকাশই সেই দাবির পরীক্ষা।

জনস্বার্থ, নিত্যপণ্যের বাজার ও সরকারি জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

সরকার ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত খুচরা মূল্য লিটারে ১৯৯ টাকা থেকে ২০৪ টাকা করেছে। যুক্তি ছিল আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু মূল্য সমন্বয়ের দুদিনের মধ্যে ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে একাধিক সংবাদমাধ্যম দেখেছে, এক লিটারের বোতল অনেক দোকানেই নেই বা খুব অল্প আছে। দাম নির্ধারণের পরও পণ্য না মিললে নাগরিকের জন্য ঘোষণাটি কাগজে থাকে, বাজারে নয়। এখানেই সরকারি বাজার-তদারকির আসল পরীক্ষা।

আমরা কোনো কোম্পানি, ডিলার বা ব্যবসায়ীকে মজুতদার বলছি না। এই মুহূর্তে প্রকাশ্য তদন্ত বা আদালতের নথি ছাড়া এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য এবং সংবাদকর্মীদের বাজার পর্যবেক্ষণ একটি সতর্ক সংকেত, প্রমাণিত অপরাধ নয়। কিন্তু সরকার যখন একই সময়ে বলে বাজারে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে এবং এলসি খোলা ও সরবরাহ-পাইপলাইন নিয়মিত দেখা হচ্ছে, তখন সেই আশ্বাস যাচাই করার মতো ব্র্যান্ডভিত্তিক তথ্য, গুদাম-পরিদর্শন ও অভিযানের ফলও জনসমক্ষে থাকা উচিত।

দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে কী নিশ্চিত

বিএসএসের ২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের বৈঠকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা নির্ধারিত হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডও একই সিদ্ধান্ত এবং ১৯৯ টাকা থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধির তথ্য জানিয়েছে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার কথাও দুই প্রতিবেদনে আছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে কি না, এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

সরকারের ব্যাখ্যাও নথিবদ্ধ। বাণিজ্যসচিব বলেছেন, আন্তর্জাতিক মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় আমদানিকারকেরা সমন্বয় চেয়েছিলেন। ৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশটি সয়াবিন তেলে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর; ফ্রি অন বোর্ড বা উৎসমূল্যের সঙ্গে ভাড়া, খালাস, বীমা, শোধন ও পরিবহনজনিত অপচয় যোগ করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক ধাক্কা এ দেশে আসে না—এমন দাবি করা বাস্তবসম্মত হবে না।

সরকার আরও বলেছে, ৭৮ লাখ পরিবার টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে ভর্তুকি-পণ্য পায় এবং কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এলসি খোলা ও আমদানি-সরবরাহের পাইপলাইন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এটি সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান: বৈশ্বিক দামের চাপের মধ্যে সরবরাহ চালু রাখা ও দরিদ্র পরিবারের জন্য বিকল্প সহায়তা দেওয়া। আমাদের মূল্যায়নে এই যুক্তিকে উপেক্ষা করা যায় না। প্রশ্নটি অন্য জায়গায়—এই পর্যবেক্ষণের ফল কি বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে?

দোকানের তাক আর সরকারি আশ্বাসের ফাঁক

৪ সেপ্টেম্বরের দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি বাজারে দোকানগুলো চাহিদা মেটাতে পারছিল না; কোথাও আগের নির্ধারিত দামের পণ্যও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ছিল। ৫ সেপ্টেম্বরের ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনাও জানায়, এক লিটারের বোতল অনেক মুদিদোকানে মেলেনি, যদিও দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল কিছু দোকানে ছিল। একই ধরনের পর্যবেক্ষণ ভিন্ন দুই সংবাদমাধ্যমে আসা বিষয়টিকে অনুসন্ধানের যোগ্য করে।

তবে এই প্রতিবেদনগুলো জাতীয় মজুদের পূর্ণ হিসাব নয়। এগুলো ঢাকা শহরের নির্দিষ্ট বাজারে, নির্দিষ্ট দিনে দেখা খুচরা প্রাপ্যতার ছবি। তাই ‘দেশে তেল নেই’ বলা অতিরঞ্জন হবে। আবার কয়েকটি বাজারে পণ্য না থাকা সত্ত্বেও ‘কোনো ঘাটতি নেই’ বলা হলে সেটিও তথ্যের অসম্পূর্ণ ব্যবহার। সঠিক প্রশাসনিক উত্তর হলো, কোথায় ঘাটতি, কোন আকারের বোতলে, কোন ব্র্যান্ডে, কতদিন, এবং সরবরাহের কোন ধাপে সমস্যা—সেটি দ্রুত মাপা ও প্রকাশ করা।

এখানে আরও একটি বাস্তবতা আছে। এক লিটারের বোতল সাধারণত স্বল্প আয়ের পরিবারের দৈনন্দিন কেনার সঙ্গে বেশি যুক্ত। বড় বোতল কোথাও পাওয়া গেলেও তা ছোট বোতলের অনুপস্থিতির সমাধান নয়, যদি একবারে বেশি টাকা খরচ করার সামর্থ্য না থাকে। তাই ব্র্যান্ডের মোট বিক্রি বা আমদানি অঙ্ক দিয়ে খুচরা প্রাপ্যতার প্রশ্ন আড়াল করা যাবে না। ভোক্তার পরীক্ষা খুব সহজ: নির্ধারিত দামে তিনি কাছের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় আকারের বোতল কিনতে পারছেন কি না।

নিয়ন্ত্রণের অর্থ কেবল দাম লেখা নয়

নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্য তখনই কার্যকর হয়, যখন পণ্যটি নিয়মিত সরবরাহে থাকে এবং দোকানদার জানেন, বেশি দামে বিক্রি করলে কীভাবে তা ধরা পড়বে। অন্যথায় দাম বাড়ার আগের মজুদ, নতুন দামের পণ্য পৌঁছানোর সময় এবং ডিলার পর্যায়ের বণ্টন—এই তিন জায়গায় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষায় পাইপলাইন পর্যবেক্ষণ চলছে। সেই পর্যবেক্ষণে কতটি কোম্পানি, কতটি গুদাম, কতটি ডিলার ও কতটি বাজার দেখা হয়েছে—প্রকাশ্য তথ্য ছাড়া নাগরিক বুঝবেন কীভাবে ব্যবস্থা কাজ করছে?

সরকারের কাছে সব বাণিজ্যিক তথ্য অবিলম্বে প্রকাশযোগ্য নাও হতে পারে। প্রতিযোগিতাসংক্রান্ত সংবেদনশীলতা আছে। কিন্তু মোট জাতীয় মজুদ, আমদানির পথে থাকা পরিমাণ, গত সাত দিনে ব্র্যান্ডভিত্তিক বা অন্তত আকারভিত্তিক খুচরা সরবরাহের সূচক, পরিদর্শনের সংখ্যা এবং নিয়মভঙ্গ পেলে নেওয়া পদক্ষেপের সমষ্টিগত তথ্য প্রকাশে সেই অজুহাত প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক গোপনীয়তা রক্ষা করেও বাজার-জবাবদিহি সম্ভব।

দামের সঙ্গে সরবরাহের সম্পর্কও আলাদা করে দেখা দরকার। সরকার বলছে, মূল্য-সূত্র আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় খরচ বিবেচনা করে। তা হলে ২০৪ টাকা কীভাবে নির্ধারিত হলো, কোন আন্তর্জাতিক সূচক ও কোন সময়সীমা ব্যবহার হলো, এবং ব্যবসায়ীদের চাওয়া ও সরকারি সিদ্ধান্তের ব্যবধান কত—তার সহজ গণনা প্রকাশ করা উচিত। এতে ভোক্তা বুঝবেন, মূল্য বৃদ্ধি কোন খরচের প্রতিফলন; আর ব্যবসায়ীও জানবেন, অস্বচ্ছতার আড়ালে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমছে।

সরবরাহের স্বচ্ছতা মানে প্রতিদিন কোনো জটিল হিসাবের বই প্রকাশ করা নয়। একটি ছোট সারণিই যথেষ্ট হতে পারে: আগের দিনের মজুদ, নতুন আমদানি বা শোধন শেষে ছাড়, ডিলারদের কাছে পাঠানো পরিমাণ, খুচরা পর্যায়ে প্রাপ্ত অভিযোগ এবং সমাধান। এই পাঁচটি সূচক দেশব্যাপী না পারলে অন্তত ঢাকা ও প্রধান বিভাগীয় শহরের জন্য শুরু করা যায়। তথ্যটি একই সংজ্ঞা ও একই সময়সীমায় প্রকাশ হলে সাংবাদিক, ভোক্তা সংগঠন ও প্রশাসন একই বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে পারবে।

বিশেষ করে সরকারি ভাষায় ‘পর্যাপ্ত’ শব্দটি পরিমাপ ছাড়া অর্থহীন হয়ে যায়। পর্যাপ্ত কার জন্য—সারা মাসের জাতীয় চাহিদার জন্য, এক সপ্তাহের জন্য, নাকি শুধু বন্দরে থাকা চালানের জন্য? কোনটি বাজারে বিক্রিযোগ্য বোতলে রূপান্তরিত হয়েছে, কোনটি গুদামে, কোনটি ডিলারের পথে—এই স্তরগুলো আলাদা। সরকার যদি কেবল মোট আমদানির অঙ্ক দেয়, আর ভোক্তা যদি পাশের দোকানে এক লিটারের বোতল না পান, দুই তথ্যের মধ্যে বিরোধ থাকবে। বিরোধ মেটানোর উপায় হলো একই সরবরাহ-শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপ দেখা।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে: দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল কোথাও পাওয়া গেলেও এক লিটারের বোতল কম ছিল। এটি সত্যিই যদি ধারাবাহিক চিত্র হয়, তাহলে কেবল ‘মোট তেল’ নয়, প্যাকেটের আকারভিত্তিক বণ্টনও পরীক্ষা দরকার। উৎপাদন, মোড়কজাতকরণ, ডিলারের অর্ডার, অথবা খুচরা বিক্রির ধরন—কোন ধাপে এই পার্থক্য হচ্ছে, এখনো প্রকাশ্যভাবে জানা যায়নি। তাই এটিকে কোনো পক্ষের অপরাধ না বলে প্রশাসনিক অনুসন্ধানের সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন হিসেবেই রাখা উচিত।

টিসিবির সহায়তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি সাধারণ খোলা বাজারের জবাবদিহির বিকল্প নয়। ৭৮ লাখ পরিবার ভর্তুকির আওতায় থাকার সরকারি তথ্য সামাজিক সুরক্ষার চেষ্টা দেখায়। একই সঙ্গে যাঁরা সেই তালিকায় নেই, তাঁদেরও নিত্যপণ্য নির্ধারিত দামে পাওয়ার অধিকার আছে। খোলা বাজারে প্রাপ্যতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে টিসিবি-কার্ডের সংখ্যা দেখিয়ে সেটি সমাধান হয়েছে বলা যাবে না। সহায়তা কর্মসূচি ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কাজ আলাদা, যদিও দুটির তথ্য একত্রে নীতি নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

পরিদর্শন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ফল প্রকাশ জরুরি। কত দোকানে দাম-তালিকা ঝোলানো ছিল, কত দোকানে নির্ধারিত দামের পণ্য পাওয়া গেছে, কত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং কতটির সমাধান হয়েছে—এসব সংখ্যায় কোনো ব্যবসা-গোপনীয়তা নেই। বরং এগুলো প্রকাশ করলে সৎ ব্যবসায়ী, ভোক্তা এবং প্রশাসন সবার লাভ। যদি পরিদর্শনে দেখা যায় সরবরাহ স্বাভাবিক, সেটিও সরকারের দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ হবে। আর যদি সমস্যা পাওয়া যায়, তা দ্রুত জানালে গুজবের বদলে সংশোধনের পথ তৈরি হবে।

মূল্যবৃদ্ধির সময় এই তথ্যের প্রয়োজন আরও বেশি। কারণ ভোক্তার খরচ তাৎক্ষণিক বাড়ে, কিন্তু আমদানি, শোধন, প্যাকেটজাতকরণ ও বিতরণের তথ্য সাধারণত অদৃশ্য থাকে। সরকার যে ৫ টাকা বৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের চাওয়ার চেয়ে কম রেখেছে, সেটি ভোক্তা সুরক্ষার একটি যুক্তি হতে পারে। কিন্তু এর পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হলো কি না, তা আলাদা ফলাফল। নীতির ভালো উদ্দেশ্যকে ফলাফলের প্রমাণের বদলি করা যাবে না। মূল্য-সিদ্ধান্তের সঙ্গেই ফলাফল মাপার সময়সীমা ও প্রকাশের অঙ্গীকার থাকা উচিত।

বাজারের এই প্রশ্নে নাগরিকের জন্যও একটি পরিষ্কার পথ দরকার। নির্ধারিত মূল্যের বেশি নেওয়া বা পণ্য না দেওয়ার অভিযোগ কোথায়, কী তথ্যসহ এবং কত সময়ের মধ্যে করা যাবে—তা দৃশ্যমান না হলে নজরদারি কেবল দপ্তরের মধ্যে সীমিত থাকে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন একসঙ্গে একটি অভিযোগ নম্বর, পরিদর্শনের সময়সীমা এবং সাপ্তাহিক ফল প্রকাশ করতে পারে। এতে অভিযোগ বাড়লেই আতঙ্ক নয়; কোথায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটি দেখা যাবে।

এটি ভবিষ্যতের জন্যও একটি ন্যূনতম মানদণ্ড হতে পারে। চাল, ডাল, চিনি বা ভোজ্যতেল—যে নিত্যপণ্যের মূল্য সরকার বা বাজার-কমিটি সমন্বয় করে, তার সঙ্গে প্রাপ্যতা ও তদারকির একই প্রকাশ্য সূচক থাকলে নাগরিক আগেভাগেই বুঝবেন সিদ্ধান্তটি বাস্তবে কাজ করছে কি না।

এখন যে সাতটি তথ্য দরকার

প্রমাণের ভার এখন সরকারের

খুচরা বাজারের কয়েক দিনের অপ্রতুলতা দিয়ে অপরাধের রায় দেওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি-নির্ভরতা বাস্তব চাপ। মূল্য সমন্বয়ও কোনো কোনো সময়ে দরকার হতে পারে। কিন্তু সরকার নিজেই যখন বলে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে এবং সক্রিয় পর্যবেক্ষণ চলছে, তখন সেই কথার প্রমাণ দেখানোর দায় সরকারের। শুধু ব্যবসায়ীর বক্তব্য গ্রহণ করে মূল্য বাড়ানো এবং পরে তাক খালি থাকলে সেটিকে বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা বলা যথেষ্ট নয়।

এই ঘটনায় আমাদের সম্পাদকীয় দাবি সীমিত কিন্তু কঠোর। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও টিসিবি যৌথভাবে সাত দিনের একটি প্রকাশ্য সরবরাহ-ড্যাশবোর্ড দিক: মজুদ, ছাড়পত্র, ডেলিভারি, বাজার-পরিদর্শন, অভিযোগ এবং ব্যবস্থা। জেলায় জেলায় এক রকম ছবি নাও হতে পারে; তাই তথ্যও বিভাগভিত্তিক হওয়া দরকার। নির্ধারিত দামে পণ্য পাওয়া গেলে সরকারের দাবি শক্তিশালী হবে। না পাওয়া গেলে দ্রুত কারণ ও সংশোধন সামনে আসবে। এই স্বচ্ছতাই ভোক্তার কাছে সবচেয়ে কার্যকর বাজার-সুরক্ষা।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত: বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য ২০৪ টাকা নির্ধারণ, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  2. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস), বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: আন্তর্জাতিক মূল্য, মূল্য-সূত্র, টিসিবি সহায়তা এবং এলসি/সরবরাহ-পাইপলাইন পর্যবেক্ষণ, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  3. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ও বাণিজ্যসচিবের পর্যাপ্ত সরবরাহের বক্তব্য, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকার একাধিক বাজারে সরেজমিনে বোতলজাত তেলের অপ্রতুলতা ও খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  5. দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এক লিটারের বোতল অপ্রতুল থাকার স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬