NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

ব্যাংকিং ও আমানতকারী জবাবদিহি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানত ফেরতের সূচি: প্রথম দিনের ফল কেন প্রকাশ জরুরি

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানত ফেরতের সূচি শুরু হওয়ার কথা। আবেদনকারীর অঙ্ক জানা গেলেও, কতজন টাকা পেলেন ও কতজন অপেক্ষায় রইলেন—সে ফল প্রকাশই এখন আস্থার আসল পরীক্ষা।

জনস্বার্থ, আমানতকারী সুরক্ষা ও ব্যাংকিং জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যক্তিগত আমানতকারীর অর্থ ফেরত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড—দুটি প্রতিবেদনে ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের চার কার্যদিবসে ৭৪,২২১ জনের ৩,৯২৫ কোটি টাকা তোলার আবেদন করার একই হিসাব এসেছে। এটি বড় সংখ্যা, কিন্তু আরও জরুরি একটি পার্থক্য আছে: আবেদন করা আর অর্থ পাওয়া এক জিনিস নয়। দিনের শেষে কতজন পুরো অর্থ পেলেন, কতজন আংশিক পেলেন, কার আবেদন পিছোল এবং কেন—সেই ফল এখনো প্রকাশ্য নথিতে নেই।

তাই আজকের প্রশ্নটি ব্যাংকটি বাঁচবে কি না—এমন আগাম রায় নয়। প্রশ্নটি আরও সীমিত এবং যাচাইযোগ্য: যে সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যই আমানতকারীকে সুরক্ষা দেওয়া, তার প্রথম বাস্তব পরীক্ষার ফল কি বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকটি নিয়মিত প্রকাশ করবে? আগের ব্যাংক-রেজুলেশন-সংক্রান্ত আলোচনার এটি একটি স্পষ্ট ফলো-আপ। আইন ও স্কিমের ভাষা এখন কাউন্টারে, শাখায় এবং মানুষের হাতে কী ফল দিল, সেটিই দেখার সময়।

কী ঘটছে, আর কী ঘটেছে বলে বলা যাচ্ছে না

ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে লিখেছে, চার দিনে ১,৫০০ শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে ৭৪,২২১টি আবেদন জমা পড়ে; দাবিকৃত অঙ্ক ৩৯.২৫ বিলিয়ন টাকা বা ৩,৯২৫ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদনের ক্রমানুসারে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছেন: ১ সেপ্টেম্বরের আবেদন ৭ সেপ্টেম্বর, তারপরের দিনের আবেদন পরের দিন। টিবিএস ৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একই আবেদনসংখ্যা ও অঙ্ক জানিয়েছে এবং পরদিন অর্থ দেওয়া শুরুর কথা বলেছে।

এই দুই প্রতিবেদন ঘোষিত পরিকল্পনা ও আবেদন-তথ্যকে একে অন্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। কিন্তু তারা দিনের শেষের নিষ্পত্তি-তালিকা নয়। ফলে ‘আমানত ফেরত শুরু হয়েছে’ বলতে আমরা কেবল সূচি চালুর ঘোষণা বুঝতে পারি; সব আবেদনকারী নির্ধারিত টাকা পেয়েছেন—এমন দাবি করার মতো প্রকাশ্য ফল এখনো নেই। এই সীমাটি স্পষ্ট রাখা জরুরি, কারণ ব্যাংকিং সংকটে আশ্বাসের ভাষা ও লেনদেনের বাস্তব অভিজ্ঞতার ফারাকই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে।

সরকার ও নিয়ন্ত্রকের যুক্তি কোথায় শক্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের Financial Stability Report 2025 বলছে, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনের ভাষায়, দীর্ঘ নিয়ন্ত্রক সহায়তার পরেও আর্থিক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষাপটে ব্যাংক রেজুলেশন স্কিমের মাধ্যমে তাদের সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত করা হয়। ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা।

এখানে নীতিগত যুক্তিটি অযৌক্তিক নয়। পাঁচটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা আতঙ্ক, তারল্য চাপ ও পরিচালনাগত জটিলতা সামলানোর চেয়ে একীভূত কাঠামোয় তদারকি, সম্পদ-দায় এবং আমানত ফেরতের নিয়ম সাজানো সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কিমে সম্পদ ও দায় একীভূত করা, মূলধন কাঠামো, আমানত তোলার পদ্ধতি এবং পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার তালিকায় ৯ আগস্ট পর্যন্ত সংশোধিত Bank Resolution Scheme, 2025-ও প্রকাশিত আছে। অর্থাৎ এটি হঠাৎ মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়; একটি ঘোষিত রেজুলেশন কাঠামোর অংশ।

ব্যাংকের পক্ষে আরেকটি যুক্তিও প্রাসঙ্গিক। এক দিনে সব শাখায় বড় অঙ্কের নগদ বা স্থানান্তরের চাহিদা মেটাতে পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ও শাখাভিত্তিক অর্থের ব্যবস্থা লাগে। আবেদন নিয়ে তারিখভিত্তিক পরিশোধের প্রস্তুতি নেওয়া তাই স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা-পদ্ধতি হতে পারে। এই যুক্তির সঠিক পরীক্ষা ঘোষণা কত সুন্দর ছিল তা নয়; বরং আবেদনকারীর জন্য নিয়মটি সমানভাবে, সময়মতো এবং ব্যতিক্রম ছাড়া কাজ করল কি না।

সমস্যাটা কোথায়: ফলের বদলে কেবল চাহিদার হিসাব

৭৪,২২১টি আবেদন এবং ৩,৯২৫ কোটি টাকার চাহিদা জানানো একটি প্রয়োজনীয় শুরু। কিন্তু কেবল এই সংখ্যা দিয়ে দুই বিপরীত ব্যাখ্যাই দাঁড় করানো যায়। কেউ বলবেন, মোট আমানতকারীর তুলনায় আবেদন কম, তাই আস্থা আছে। আবার কেউ বলবেন, এত অল্প সময়ের আবেদনে এত বড় চাহিদাই চাপের ইঙ্গিত। কোনো সিদ্ধান্তই এখন প্রমাণিত নয়, কারণ প্রয়োজনীয় তুলনামূলক তথ্য প্রকাশিত হয়নি: কতজন আমানতকারী যোগ্য ছিলেন, কতজন আবেদন করতে চেয়েও পারেননি, গড় আবেদন কত, এবং কত আবেদন নির্ধারিত দিনে নিষ্পত্তি হলো।

এখানেই ‘ছোট অংশ’ কথাটিও সাবধানে দেখতে হয়। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদনকে মোট আমানতকারীর ছোট অংশ বলেছেন। সেটি ব্যাংকের অবস্থান, স্বাধীন পরিমাপ নয়। অংশের আকার জানতে শুধু আবেদনকারীর সংখ্যা যথেষ্ট নয়; আমানতের অঙ্ক, হিসাবের ধরন, শাখার অবস্থান ও কে কত দিনে সেবা পেয়েছেন, এসবও দরকার। ব্যাংকিং আস্থা কেবল কতজন লাইনে দাঁড়ালেন তা দিয়ে মাপা যায় না; প্রতিশ্রুত সেবাটি যার দরকার, তিনি পেলেন কি না তাতেও মাপা হয়।

প্রথম সপ্তাহেই যে ছয়টি তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব

এই তথ্য প্রকাশে কোনো গ্রাহকের গোপনীয়তা ভাঙার প্রয়োজন নেই। বরং সমন্বিত দৈনিক ছক গুজব কমাতে পারে। একজন আমানতকারী জানতে পারবেন তাঁর শাখায় প্রতিশ্রুত তারিখে কাজ হচ্ছে কি না। বাংলাদেশ ব্যাংক বুঝতে পারবে কোন এলাকায় নগদ বা প্রযুক্তিগত চাপ বেশি। সংসদীয় ও জনপর্যায়ের তদারকিও ‘সব ঠিক আছে’ বা ‘সব ভেঙে পড়েছে’—এই দুই স্লোগানের বদলে সংখ্যার ওপর দাঁড়াবে।

কীভাবে ফল যাচাই করা যাবে

একটি ছোট দৈনিক ছকই যথেষ্ট শুরু হতে পারে। প্রথম কলামে থাকবে ওই দিনের নির্ধারিত আবেদন, দ্বিতীয় কলামে পুরোপুরি নিষ্পত্তি হওয়া আবেদন ও টাকা, তৃতীয় কলামে আংশিক নিষ্পত্তি, আর চতুর্থ কলামে অপেক্ষমাণ আবেদন ও কারণের বিস্তৃত শ্রেণি। যেমন—শাখায় নগদ পৌঁছানো বাকি, পরিচয় বা হিসাব-তথ্য মিলছে না, গ্রাহক নিজে অনুপস্থিত, অথবা প্রযুক্তিগত স্থানান্তর মুলতবি। এতে ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ হবে না, কিন্তু একই সমস্যায় বহু মানুষ পড়ছেন কি না বোঝা যাবে।

আরেকটি জরুরি ভেদরেখা হলো ঘোষিত অর্থ ও নিষ্পত্তিকৃত অর্থের মধ্যে। ধরুন, কোনো দিন ১০০টি আবেদনের পরিশোধসূচি ছিল। তার মধ্যে ৮০টি পূর্ণ হয়েছে, ১০টি আংশিক এবং ১০টি পরের দিনে গেছে—এই তিনটি ফল এক বাক্যে ‘পরিশোধ শুরু’ বলে চাপা দেওয়া ঠিক নয়। শতাংশও তখন স্বচ্ছভাবে হিসাব করা যাবে: পূর্ণ নিষ্পত্তির হার হবে ৮০ ভাগ, অপেক্ষমাণ হার ১০ ভাগ। তবে শাখা বা হিসাবের ধরনভেদে প্রয়োজন আলাদা হতে পারে বলে এই হারকে ব্যাংকের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বা সব আমানতকারীর মনোভাবের প্রমাণ বলা যাবে না।

নিয়ন্ত্রক চাইলে সপ্তাহ শেষে দ্বিতীয় একটি নোট দিতে পারে: কত আবেদন পরিকল্পিত সময়ের মধ্যে শেষ হলো, গড় অপেক্ষার সময় কত, এবং আগের সপ্তাহের তুলনায় ফল ভালো না খারাপ। এই তিনটি সূচক থাকলে সাংবাদিক, সংসদ সদস্য, গবেষক ও আমানতকারী একই ভিত্তি থেকে প্রশ্ন করতে পারবেন। বিপরীতে, শুধু বিচ্ছিন্ন শাখার ছবি বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবি দিয়ে সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। সেগুলো অভিযোগের সূত্র হতে পারে, কিন্তু পরিশোধের ফলের প্রমাণ নয়।

এখানে ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক বলতে পারেন, খুব ঘন ঘন তথ্য দিলে উদ্বেগ বাড়তে পারে বা পরিচালনাগত কাজে বাধা আসতে পারে। সেটি বিবেচ্য যুক্তি। কিন্তু অনিশ্চয়তার সময়ে তথ্য না দেওয়ার খরচও আছে: একই শাখায় বারবার যাওয়া, গুজবের কারণে অপ্রয়োজনীয় ভিড়, এবং যাঁদের জরুরি অর্থ দরকার তাঁদের অন্ধ অপেক্ষা। তাই বাস্তবসম্মত মাঝপথ হলো ব্যক্তিগত হিসাব নয়, নির্দিষ্ট সময়ে এক পৃষ্ঠার সমন্বিত ফল প্রকাশ। তথ্যের শৃঙ্খলাই এখানে সেবা-শৃঙ্খলার সহায়ক হতে পারে।

আগের ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা: এবার কেন প্রকাশ্য সূচক জরুরি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের প্রতিবেদনই বলছে, একীভূত পাঁচ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ নিয়ন্ত্রক সহায়তার পরেও আর্থিক অবনতিতে পড়েছিল। এই ইতিহাসের কারণে আজকের পরীক্ষার মানদণ্ড সাধারণ নতুন ব্যাংকের প্রচারণার মতো হতে পারে না। রেজুলেশন ব্যবস্থার বিশেষ দাবি হলো ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে আমানতকারীকে সুরক্ষা দেওয়া। তাই ফল মাপার সূচকও বিশেষ হওয়া উচিত: সময়মতো অর্থপ্রদান, বকেয়া আবেদনের হার, অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং পরের সপ্তাহে আগের সপ্তাহের তুলনায় এই সূচকগুলো উন্নত হলো কি না।

এটি আগের বোর্ড বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে পূর্ববর্তী বোর্ডগুলোর ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার মূল্যায়ন আছে; তার বিচারিক দায় বা পৃথক অপরাধের সিদ্ধান্ত এই লেখার বিষয় নয়। বর্তমান সরকারের ও নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব অন্য জায়গায়: যে সমাধান তারা বেছে নিয়েছে, তার খরচ, সুরক্ষা ও ফল নাগরিকের কাছে বোঝার মতো করে দেখানো। নতুন কাঠামো অতীতের সমস্যা মুছে দিয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখন নেওয়ার সময়ও নয়।

কার লাভ, কার ঝুঁকি

সময়মতো অর্থ পেলে সবচেয়ে সরাসরি উপকার পাবেন যাঁদের চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসার চালান বা পারিবারিক ব্যয়ের জন্য আমানত ব্যবহার করা জরুরি। নির্ভরযোগ্য সূচি শাখাকর্মীদের ওপর চাপ ও অনিশ্চয়তাও কমাতে পারে। অন্যদিকে সময়সূচি অস্পষ্ট হলে বা এক শাখায় সেবা আর অন্য শাখায় অপেক্ষার ব্যবধান বাড়লে ছোট আমানতকারীর ঝুঁকি বেশি। তাঁদের কাছে বিকল্প ব্যাংকিং পথ, যাতায়াতের খরচ বা বারবার শাখায় যাওয়ার সময় কম থাকতে পারে।

রাষ্ট্রেরও স্বার্থ আছে ফল প্রকাশে। সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক সম্পর্কে আস্থা শুধু বক্তব্যে টেকে না; একই নিয়মে সবার সেবা পাওয়ার প্রমাণে টেকে। দৈনিক পরিশোধের সংক্ষিপ্ত ড্যাশবোর্ড প্রকাশ করলে ভালো ফল সরকারকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেবে, আর সমস্যা হলে দ্রুত সংশোধনের সুযোগ দেবে। তথ্য লুকিয়ে রাখলে অস্থায়ীভাবে চাপ কম মনে হতে পারে, কিন্তু অনিশ্চয়তার বাজারে সেটিই পরে বড় খরচ হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রকাশনার আরেকটি ব্যবহার আছে: পরের দফার নীতি ঠিক করা। যদি কোনো নির্দিষ্ট হিসাবের ধরন, অঞ্চল বা পরিশোধ-পদ্ধতিতে বেশি জট দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেখানে অতিরিক্ত কর্মী, নগদ ব্যবস্থাপনা বা বিকল্প স্থানান্তর-পথ দিতে পারবে। আবার ফল ধারাবাহিকভাবে ভালো হলে একই তথ্য দেখাবে যে ক্রমভিত্তিক পরিকল্পনা কাজ করছে। উভয় ক্ষেত্রেই তথ্য প্রকাশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে শাস্তি নয়; এটি সংশোধনকে দ্রুত করার যন্ত্র।

প্রকাশ্য অগ্রগতির সঙ্গে একটি সংশোধন-ব্যবস্থাও থাকা দরকার। পরে কোনো আবেদন-সংখ্যা বা অর্থের অঙ্ক বদলালে তারিখসহ সংশোধিত ছক দিতে হবে এবং কেন বদলাল তা সংক্ষেপে বলতে হবে। ব্যাংকিং তথ্য প্রাথমিক হতে পারে, কিন্তু নীরবে সংখ্যা বদলে গেলে আস্থা বাড়ে না। সংস্করণ-তারিখসহ সংশোধন প্রকাশ করলে প্রথম দিনের চাপ, পরের দিনের বাস্তবতা এবং চূড়ান্ত হিসাব আলাদা করে দেখা সম্ভব হবে।

শেষ কথা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানত ফেরতের সূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব পরীক্ষা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিতে একীভূতকরণের উদ্দেশ্য ছিল স্থিতিশীলতা ও আমানতকারী সুরক্ষা; সংবাদে এখন প্রথম দফার চাহিদার অঙ্কও জানা গেছে। পরের প্রয়োজনটি খুবই নির্দিষ্ট: ৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিনের পরিশোধ-ফল, অপেক্ষমাণ আবেদন ও অভিযোগের সমন্বিত হিসাব প্রকাশ। তাতে সফলতা প্রমাণ হলে সেটি সবার জন্য ভালো খবর হবে। আর কোনো ঘাটতি থাকলে সময়মতো তা দেখা ও ঠিক করার পথ খুলবে। আমানতকারীর আস্থা দাবি করার নয়—পরিমাপ করে দেখানোর বিষয়।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ ব্যাংক, Financial Stability Report 2025, ‘Establishment of Sammilito Islami Bank PLC’, ২০২৬
  2. বাংলাদেশ ব্যাংক, Circulars তালিকা: ‘Bank Resolution Scheme, 2025 (Amended up to 09 August, 2026)’, ৯ আগস্ট ২০২৬
  3. দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ‘Sammilito Islami Bank starts deposit repayment today’, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ‘Sammilito Islami Bank readies Tk5,000cr as withdrawal requests hits Tk4,000cr in 4 days’, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬