দশটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখবে জাতীয় সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা পিএসি। ১০ সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় বৈঠকের এই সিদ্ধান্তটি স্বাগতযোগ্য, কারণ সরকারি খরচের ভুল, অনিয়ম বা ব্যাখ্যাহীন সিদ্ধান্তের জবাব চাওয়ার জন্যই এই কমিটি। কিন্তু সিদ্ধান্তের সঙ্গে সবচেয়ে জরুরি চারটি তথ্য নেই: কোন দশ মন্ত্রণালয়, কোন অডিট আপত্তি, শুনানি কবে এবং সুপারিশ না মানলে কী হবে। এই চারটি উত্তর প্রকাশ না হলে নতুন ঘোষণা পুরোনো অস্বচ্ছতার ওপর আরেকটি স্তর মাত্র।
বাংলাদেশ সংসদের সরকারি কমিটি-বৈঠকের তালিকা ১০ সেপ্টেম্বর পিএসির দ্বিতীয় বৈঠকের সময় ও স্থান নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা এবং সারাবাংলার পৃথক প্রতিবেদনে একই সিদ্ধান্তের কথা এসেছে: দশ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত অডিট আপত্তি অগ্রাধিকার পাবে, বড় বরাদ্দের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের জন্য তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষার সম্ভাবনাও আলোচিত হয়েছে, এবং কমিটি মাসে অন্তত দুইবার বসতে চায়। প্রধান বিরোধী হুইপ মোহাম্মদ নাহিদ ইসলামও বৈঠকে ছিলেন বলে দুই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অর্থাৎ এটি গুজব বা দলীয় প্রচার নয়; সংসদীয় উদ্যোগের যাচাইযোগ্য খবর।
পিএসির কাজ প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, হিসাব খুলে দেখা
পিএসির সাংবিধানিক ও বিধিগত কাজের অর্থ খুব সরল। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৩৩ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, কমিটি সংসদের অনুমোদিত ব্যয়ের বরাদ্দ-হিসাব, সরকারের বার্ষিক অর্থ-হিসাব এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনিয়ম ও ঘাটতি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিকারমূলক সুপারিশ দিতে পারে। তাই পিএসি কোনো সাধারণ আলোচনা ফোরাম নয়। এটি সেই জায়গা, যেখানে কাগজে থাকা ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তব কাজ, অনুমোদনের সঙ্গে ফল, এবং অডিট পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দায়ী দপ্তরের জবাব মিলিয়ে দেখা সম্ভব।
এই ক্ষমতার কারণেই দশ মন্ত্রণালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তের ওজন আছে। বহু বছর ধরে অডিট আপত্তি জমে থাকলে অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন কথা বলা ঠিক হবে না; প্রতিটি আপত্তির জবাব, নথি ও প্রয়োজনে তদন্ত লাগে। কিন্তু আপত্তি নিষ্পত্তিহীন থাকাও নিরীহ ঘটনা নয়। সেটি বোঝায়, যে প্রশ্নে নিরীক্ষক ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন তার উত্তর, সংশোধন বা পুনরুদ্ধারের ফল জনসমক্ষে স্পষ্ট হয়নি। পিএসির দায়িত্ব হলো এই অমীমাংসিত জায়গাকে নির্দিষ্ট প্রশ্ন ও সময়সীমায় নামিয়ে আনা।
এখানেই প্রথম সীমাবদ্ধতা। প্রকাশিত সংবাদে দশ মন্ত্রণালয়ের নাম নেই। কোন বছরের অডিট, কোন ধরনের আপত্তি—ক্রয়, প্রকল্প, রাজস্ব, সম্পদ, হিসাবরক্ষণ নাকি অন্য বিষয়—সেটিও বলা হয়নি। কতটি আপত্তি, কত টাকার ঝুঁকি, কত দিন ধরে অমীমাংসিত এবং কোন দপ্তর আগে জবাব দিয়েছে, তারও কোনো প্রকাশ্য তালিকা পাওয়া যায়নি। আমরা সেই অনুপস্থিত তথ্য অনুমান করে কোনো মন্ত্রণালয়কে দোষী বলছি না। বরং এই না-জানাটিই এখন মূল জবাবদিহির প্রশ্ন।
এই পার্থক্যটি পরিষ্কার রাখা জরুরি। অডিট আপত্তি মানে অপরাধের চূড়ান্ত রায় নয়। নিরীক্ষক কোনো ব্যয়, পদ্ধতি বা হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুললে দপ্তর নথি দিয়ে তা ব্যাখ্যা করতে পারে; ভুল থাকলে সংশোধন, অর্থ ফেরত বা দায়িত্ব নির্ধারণের পথও থাকতে পারে। আবার জবাব সন্তোষজনক হলে আপত্তি নিষ্পত্তিও হতে পারে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার কোনো ধাপই যদি প্রকাশিত না হয়, মানুষ শুধু শিরোনাম শুনবেন—দশ মন্ত্রণালয়ের হিসাব দেখা হচ্ছে—কিন্তু বুঝবেন না প্রশ্নটি কতটা গুরুতর, জবাবটি কতটা শক্তিশালী, কিংবা শেষ পর্যন্ত কী বদলাল।
সুতরাং এই লেখার দাবি কোনো গোপন নথি অবিলম্বে ইন্টারনেটে তুলে দেওয়ার দাবি নয়। চলমান নিরীক্ষা বা আইনগত প্রক্রিয়ায় এমন কিছু থাকতে পারে যা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায় না। তবে প্রকাশ না করার ক্ষেত্রেও নিয়ম দরকার: কোন অংশ কেন সাময়িকভাবে গোপন, সিদ্ধান্তটি কবে পুনর্বিবেচনা হবে, এবং নাগরিক কী সংক্ষিপ্ত তথ্য এখনই জানতে পারবেন। পিএসি চাইলে এই সীমারেখা নিজেই নির্ধারণ করতে পারে। অস্বচ্ছতার পক্ষে একটি অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার না করে, তারা নির্দিষ্ট কারণ ও সময়সীমা জানালে ন্যায্য প্রক্রিয়া এবং জনস্বার্থ—দুটিই রক্ষা হবে।
সরকার ও কমিটির যুক্তি: কাজ শুরু করতে গোপনীয়তা নয়, অগ্রাধিকার দরকার
কমিটির পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হলো—অডিটের বিষয়বস্তু অনেক, তাই আগে উচ্চ-গুরুত্বের দপ্তর বেছে নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করা দরকার। দুই সংবাদ প্রতিবেদনে কমিটির লক্ষ্য হিসেবে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা এবং সংসদীয় তদারকি শক্তিশালী করার কথা এসেছে। বড় বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা নিয়ে আলোচনা এ যুক্তিকে আরও বাস্তব করে: জটিল হিসাব পরীক্ষা করতে দক্ষতা ও সময় লাগে।
এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু অগ্রাধিকার নির্ধারণ আর তথ্য লুকিয়ে রাখা এক কথা নয়। কোন মন্ত্রণালয় আগে দেখা হবে জানালে কোনো অভিযুক্তের অধিকার নষ্ট হয় না; বরং দপ্তরটি সময়মতো নথি ও লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পায়। আপত্তির পূর্ণ দলিল সংবেদনশীল হলে অন্তত বিষয়, নিরীক্ষার বছর, সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ বা ধরন, শুনানির তারিখ এবং পরবর্তী প্রকাশ-তারিখ জানানো যায়। তাতে কমিটি আগেভাগে রায় দেয় না, নাগরিকও জানতে পারেন তাঁদের করের টাকার কোন হিসাব পরীক্ষা হচ্ছে।
দপ্তরগুলোর ন্যায্য জবাবের জায়গাও এখানেই। পিএসি কোনো মন্ত্রণালয়কে অগ্রাধিকারে রাখল বলে ওই দপ্তরের সচিব, মন্ত্রী বা কোনো কর্মকর্তা দোষী হয়ে যান না। কিন্তু একটি লিখিত জবাব প্রকাশ হলে তাঁরা ব্যাখ্যা করতে পারবেন কোন ব্যয় নিয়ম মেনে হয়েছে, কোন পর্যবেক্ষণ ইতিমধ্যে সংশোধিত, কোথায় তথ্য অসম্পূর্ণ এবং কোন পদক্ষেপ চলছে। সরকারি প্রতিক্রিয়া না থাকলে জনপরিসরে কেবল অভিযোগের ভাষা ছড়ায়; নথিভিত্তিক জবাব থাকলে অভিযোগও পরীক্ষা করা যায়, সরকারের সঠিক ব্যাখ্যাও শোনা যায়। এই কারণেই পিএসির ট্র্যাকার দপ্তরগুলোর জন্যও ন্যায্যতার ব্যবস্থা।
সংসদীয় তদারকির সাফল্য মাপার পাঁচটি প্রকাশ্য চিহ্ন
পিএসি মাসে অন্তত দুই বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি পরীক্ষাযোগ্য অঙ্গীকার হওয়া উচিত। প্রতি মাস শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক পাতার নিবন্ধনে পাঁচটি তথ্য থাকা দরকার: বৈঠক হয়েছে কি না; কোন মন্ত্রণালয় ও কোন অডিট রিপোর্ট আলোচনায় এসেছে; কতটি প্রশ্নের লিখিত জবাব জমা পড়েছে; কোন সুপারিশের সময়সীমা শেষ হয়েছে; এবং কোনো অর্থ পুনরুদ্ধার, সংশোধনী ব্যবস্থা বা পরবর্তী তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না। এই সূচকগুলো ছাড়া বৈঠকের সংখ্যা কেবল উপস্থিতির হিসাব হয়ে যাবে।
- ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার পাওয়া দশ মন্ত্রণালয়ের নাম, সংশ্লিষ্ট অডিট বছর এবং আপত্তির বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হোক।
- প্রতিটি শুনানির আগে মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাব, পিএসির প্রশ্ন এবং অপ্রকাশযোগ্য অংশের কারণ জানিয়ে এজেন্ডা প্রকাশ করা হোক।
- প্রতিটি বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে সুপারিশ, দপ্তরের করণীয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সময়সীমার একটি উন্মুক্ত ট্র্যাকার চালু করা হোক।
- তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা হলে নির্বাচনের মানদণ্ড, কাজের পরিধি, ব্যয়, স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঘোষণা এবং পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক।
- মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এবং সংসদ সচিবালয় যৌথভাবে দেখাক—কোন আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে, কোনটি বাকি এবং কেন।
এনসিপির উপস্থিতিও এখন নথিভিত্তিক কাজের দায়
নাহিদ ইসলামের বৈঠকে উপস্থিতি বিরোধী অংশগ্রহণের একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করেছে। এর অর্থ এই নয় যে একটি বৈঠকে উপস্থিত থাকলেই কোনো দল সফল তদারকির প্রমাণ দিল। প্রমাণ হবে, যদি বিরোধী সদস্যরা নির্দিষ্ট অডিট প্রশ্ন, নথি-চাহিদা, জবাব না পাওয়ার ঘটনা এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের অবস্থা প্রকাশ্যে তোলেন। এনসিপির জন্যও মানদণ্ড একই: যে সভায় অংশ নিয়েছে, সেখানে কোন হিসাব চেয়েছে এবং তার উত্তরে কী পেয়েছে—সংক্ষিপ্তভাবে জনসমক্ষে জানানো।
এটি সরকারপক্ষকে রেহাই দেওয়ার প্রশ্ন নয়, বরং বিরোধী রাজনীতিকে ফলের পরীক্ষায় আনার প্রশ্ন। পিএসি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা দলীয় পরিচয়ের বাইরে সংসদের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের কাজের ফল জনসমক্ষে না এলে সরকার বলবে তদারকি চলছে, বিরোধী বলবে তথ্য চেয়েছে, আর নাগরিক কোনো পক্ষের কথাই যাচাই করতে পারবেন না। প্রকাশ্য ট্র্যাকার সেই সুবিধাজনক অন্ধকারটি ভাঙতে পারে।
পূর্বের অভিজ্ঞতা কেন নথি প্রকাশের পক্ষে
বাংলাদেশ সংসদের কমিটি-ব্যবস্থা বিষয়ক সরকারি ব্যাখ্যায় পিএসিকে সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধির অধীনে গঠিত আর্থিক তদারকি কমিটিগুলোর একটি হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মাসে অন্তত দুই বৈঠকের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক শুরু। কিন্তু কেবল সময় বাড়ালে কাজ শক্তিশালী হয় না। নথি, নির্দেশনা ও ফল সহজে পাওয়া না গেলে নাগরিক কিংবা সাংবাদিক কেউই বুঝতে পারবেন না, বৈঠকটি প্রকৃত পরীক্ষার জায়গা ছিল নাকি কেবল একটি রুটিন।
কমিটির কার্যকারিতা মাপার আরেকটি বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। প্রথম মাসে কয়েকটি জোরালো প্রশ্ন করা এবং পরে আর খোঁজ না নেওয়া তদারকি নয়। একই আপত্তি পরের বৈঠকে আবার উঠেছে কি না, মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুত নথি দিয়েছে কি না, এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের দায় কার—এসব রেকর্ড না রাখলে ফলো-আপ ভেঙে যায়। পিএসির সদস্য বদলালেও এই খোলা রেকর্ড প্রতিষ্ঠানকে স্মৃতি দেয়। ফলে কোনো সরকার বা কোনো বিরোধী দল পরে বলতে পারবে না যে বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি বা সিদ্ধান্ত কোথায় আটকে আছে তা অজানা।
সেই স্মৃতির একটি সহজ রূপ হতে পারে প্রতিটি অডিট আপত্তির আলাদা পরিচিতি নম্বর। ওই নম্বরের পাশে নিরীক্ষার বছর, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিষয়, জবাব পাওয়ার তারিখ এবং সর্বশেষ অবস্থা থাকলেই সাধারণ মানুষ পুরো হিসাবরক্ষণ বোঝার দায়ে পড়বেন না, তবু অগ্রগতি যাচাই করতে পারবেন। সাংবাদিক, গবেষক ও সংসদ সদস্যরাও একই নথি ধরে পরের প্রশ্ন করতে পারবেন। নতুন কোনো সরকার এলে বা কমিটির নেতৃত্ব বদলালে আগের প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমবে।
অডিটের ভাষা সাধারণ পাঠকের কাছে কঠিন হতে পারে, কিন্তু তার প্রভাব খুব বাস্তব। কোনো প্রকল্পের কাজে কম ফল, একই খাতে বারবার ব্যাখ্যাহীন ব্যয়, সময়মতো হিসাব না মেলা বা সম্পদের রেকর্ড দুর্বল হওয়া—এসবের বোঝা শেষ পর্যন্ত পরিষেবা কমে যাওয়া, নতুন করের চাপ, অথবা প্রয়োজনীয় কাজ পিছিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে মানুষের ওপর পড়ে। তাই পিএসির কাজকে কেবল সংসদ ভবনের ভেতরের বিষয় মনে করা ভুল। এই কমিটি কত দ্রুত, কত খোলাভাবে এবং কতটা কার্যকরভাবে প্রশ্নের উত্তর আদায় করে, তার সঙ্গে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও সামাজিক সুরক্ষার টাকার মান জড়িয়ে আছে।
সরকারের জন্যও এটি একটি সুযোগ। দশ মন্ত্রণালয়ের নাম ও সময়সূচি প্রকাশ করলে তারা বলার সুযোগ পাবে—দেখুন, তদারকি কাদের ওপর, কী বিষয়ে এবং কোন নিয়মে চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও নিজের জবাব, সংশোধনের উদ্যোগ ও ভিন্ন ব্যাখ্যা জনসমক্ষে রাখতে পারবে। তথ্য না দিলে সন্দেহ বাড়ে; তথ্য দিলে ভুল অভিযোগও যাচাই করে খণ্ডন করা যায়। সুতরাং প্রকাশ কেবল সমালোচকের অস্ত্র নয়, দায়িত্বশীল প্রশাসনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা।
শেষ কথা: এখন ঘোষণাকে ফলের হিসাব বানাতে হবে
পিএসি দশ মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তি অগ্রাধিকার দেবে—এটি ভালো খবর, কারণ সংসদীয় তদারকি নিষ্ক্রিয় থাকলে সরকারি হিসাবের প্রশ্ন বছর ধরে ঝুলে থাকে। কিন্তু ভালো খবরকে যথেষ্ট খবর ভাবার কারণ নেই। নাম ছাড়া অগ্রাধিকার, নথি ছাড়া শুনানি এবং ফল ছাড়া বৈঠক কোনো নাগরিককে জবাব দেয় না। পিএসিকে এখন নিজ সিদ্ধান্তের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করতে হবে, আর সরকারকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জবাব সময়মতো জমা দিতে বাধ্য করতে হবে।
পরের পরীক্ষাটি খুব সহজ। এক মাস পরে মানুষ কি দেখতে পাবেন দশটি মন্ত্রণালয়ের তালিকা, অডিট প্রশ্ন, বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং সংশোধনের অবস্থা? পাবেন না হলে এই উদ্যোগের ভাষা শক্তিশালী হলেও তার ফল দুর্বল থাকবে। পাবেন হলে পিএসি প্রমাণ করবে, সংসদের তদারকি কেবল বক্তৃতা নয়—জনগণের টাকার হিসাব চাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, পিএসির দ্বিতীয় বৈঠকের সরকারি সময়-স্থান তালিকা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, কার্যপ্রণালি বিধি, নিয়ম ২৩৩: পিএসির নিরীক্ষা-হিসাব পরীক্ষার দায়িত্ব
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, পিএসির দশ মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তি অগ্রাধিকারের প্রতিবেদন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- সারাবাংলা, পিএসির সিদ্ধান্ত, নিয়মিত বৈঠক ও উপস্থিত সদস্যদের স্বাধীন প্রতিবেদন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, কমিটি-ব্যবস্থা ও পিএসির সাংবিধানিক-কার্যপ্রণালি কাঠামোর সরকারি ব্যাখ্যা
