NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

সংসদ ও জবাবদিহি

সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী নেতৃত্ব নেই: তদারকির পরীক্ষাটি এখন প্রকাশ্য

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তৃতীয় অধিবেশনে নতুন ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠনের পরও মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কোনো কমিটির চেয়ারম্যান বিরোধী দল থেকে নয়। আইন তা বাধ্যতামূলক না করলেও, নির্বাহী তদারকির বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সরকারকে এখন মানদণ্ড ও কাজের প্রমাণ প্রকাশ করতে হবে।

জনস্বার্থ, আইনপ্রণয়ন ও সরকারি জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

তৃতীয় অধিবেশনে আরও ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠিত বা পুনর্গঠিত হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের ৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে ত্রয়োদশ সংসদে গঠিত কমিটির সংখ্যা ৩৬, যার ৩০টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত। একই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো: পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ছাড়া এখনো কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান বিরোধী দল থেকে হননি। প্রশ্নটি কোনো দলের চেয়ার পাওয়ার অধিকার নিয়ে নয়। প্রশ্নটি হলো, মন্ত্রণালয়কে তথ্য দিতে বলা, খরচ যাচাই করা এবং বাস্তবায়নের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যে সাংসদীয় ব্যবস্থা, সেটি কতটা দৃশ্যমানভাবে স্বাধীন থাকবে?

সংক্ষেপে

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নিজস্ব ব্যাখ্যায়, স্থায়ী কমিটি নির্বাহীকে তদারকির ‘কাজের হাত’। সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদের আওতায় তারা খসড়া আইন পরীক্ষা, আইন প্রয়োগ পর্যালোচনা এবং জনস্বার্থের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদন্ত করতে পারে। নথি ও সাক্ষী চাইতে পারে, কর্মকর্তার জবাব নিতে পারে, সুপারিশ করতে পারে। এই ক্ষমতাগুলো কাগজে থাকলেই যথেষ্ট নয়। কোন সদস্য প্রশ্ন করছেন, কোন তথ্য চাওয়া হলো, মন্ত্রণালয় কী উত্তর দিল এবং সুপারিশের কতটা কার্যকর হলো—এসব জানা না গেলে নাগরিকের পক্ষে তদারকিকে মাপা যায় না।

সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

সংসদের সরকারি ‘How Committee Works’ পাতায় বলা আছে, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই গঠন করা জরুরি। সংসদের ৭ সেপ্টেম্বরের নোটিশে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন চলমান থাকার কথাও আছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির প্রস্তাবের পর ১০টি কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন হয় বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে। খাদ্য, যুব ও ক্রীড়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, স্থানীয় সরকার, শ্রম, নৌপরিবহন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটির নেতৃত্বের নামও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে।

এখানে একটি সীমা স্পষ্ট রাখা দরকার। প্রকাশ্য সংবাদে ৩৬টি কমিটির হিসাব এসেছে; সংসদের ওয়েবসাইটে এই নতুন সব কমিটির পূর্ণ সদস্যতালিকা ও সিদ্ধান্ত এক জায়গায় সহজে পাওয়া যায়নি। তাই এই লেখায় কোনো সদস্যের দায়িত্ব, দলের হিস্যা বা কমিটির চূড়ান্ত সংখ্যা সংবাদসূত্রের বাইরে বাড়িয়ে বলা হয়নি। সংসদ সচিবালয়ের উচিত প্রস্তাব, ভোটের ফল, সদস্যতালিকা ও চেয়ারম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত একই পাতায় প্রকাশ করা। তাতে সংবাদপত্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং নাগরিক নিজেই নথি মিলিয়ে দেখতে পারবেন।

সরকারের যুক্তি কী?

সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি তিনটি। প্রথমত, বর্তমান বিধিতে বিরোধী দলের জন্য মন্ত্রণালয়-কমিটির চেয়ারম্যানের কোনো বাধ্যতামূলক কোটা নেই। দ্বিতীয়ত, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সংসদীয় বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল সাংবিধানিক সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলে সংসদে তাদের আসনের অনুপাতে ১০টি মন্ত্রণালয়-কমিটির নেতৃত্ব দিতে সরকার প্রস্তুত। তৃতীয়ত, তাঁর যুক্তি অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের যে সংস্কারের কথা বিরোধী দলও তোলে, সেটি বাস্তবায়নের আলোচনাতেই তাদের থাকা উচিত।

এই অবস্থানকে হালকা করে দেখার কারণ নেই। বিরোধী দল একটি সাংবিধানিক সংশোধন কমিটিতে যোগ না দিলে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ম বদলের রাজনৈতিক সমঝোতা কঠিন হয়। সরকার আরও বলতে পারে, সদস্যপদে বিরোধী প্রতিনিধিত্ব থাকলে প্রশ্ন তোলার পথ পুরোপুরি বন্ধ নয়। অতীতের সংসদেও পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ছাড়া বিরোধী চেয়ারম্যানের নজির সীমিত ছিল—প্রধান হুইপের এমন বক্তব্য টিবিএস প্রকাশ করেছে।

সমস্যাটা কোথায়?

সমস্যা তখনই হয়, যখন তদারকির একটি পদকে অন্য রাজনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণের শর্তের সঙ্গে বাঁধা হয়। একটি কমিটির চেয়ারম্যান কেবল সভা পরিচালনা করেন না। তিনি বৈঠকের গতি, এজেন্ডার অগ্রাধিকার, কোন তথ্য আবার চাইতে হবে এবং কোন সুপারিশ সংসদে তুলতে হবে—এসবের ওপর প্রভাব রাখেন। ফলে ‘আইনে বাধ্যতামূলক নয়’ বলা প্রশাসনিকভাবে ঠিক হলেও, কোনো শর্তের বিনিময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব জনমনে প্রশ্ন তোলে: তদারকি কি মন্ত্রণালয়ের কাজের বিচার, নাকি অন্য একটি রাজনৈতিক সমঝোতার ফল?

এটি বিরোধী নেতৃত্ব ছাড়া কমিটি অকার্যকর—এমন সিদ্ধান্তও নয়। সরকারদলীয় চেয়ারম্যানও কঠোর তদন্ত চাইতে পারেন, এবং বিরোধী সদস্যও কার্যকর প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থার জন্য কেবল সদিচ্ছার ওপর ভরসা যথেষ্ট নয়। নিয়মিত বৈঠক, উপস্থিতির তালিকা, মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাব, সুপারিশ এবং পরবর্তী অগ্রগতি প্রকাশিত হলে যে কোনো দলের চেয়ারম্যানকে একই মানদণ্ডে যাচাই করা যায়। সেই নথি না থাকলে নাগরিককে বিশ্বাস করতে বলা হয়, পরীক্ষা করতে নয়।

তথ্য কী বলছে?

সরকারি সংসদ-পৃষ্ঠায় কমিটির ক্ষমতা স্পষ্ট: তারা ব্যক্তিকে তলব করতে পারে, কাগজপত্র চাইতে পারে, মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে মৌখিক বা লিখিত উত্তর নিতে পারে এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা চাইতে পারে। অর্থাৎ এ ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু আইন পাসের আগে মতামত নেওয়া নয়; ব্যয়, সেবা এবং আইন প্রয়োগের ফলও দেখা। সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদও কমিটিকে খসড়া আইন দেখা, আইন বাস্তবায়ন পর্যালোচনা এবং মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন তদন্তের ক্ষমতা দিয়েছে। তাই চেয়ারম্যান বণ্টনের আলোচনাকে ছোট দলীয় দরকষাকষি বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

দ্য ডেইলি স্টারের হিসাব অনুসারে, নতুন সিদ্ধান্তের পর ৩৬টির মধ্যে ৩০টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি হয়েছে; বিরোধী দলের একজন কেবল পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান এবং কোনো মন্ত্রণালয়-কমিটির চেয়ারম্যান নন। প্রথম আলো ৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে লিখেছিল, কার্যপ্রণালীবিধিতে চেয়ারম্যান কোন দল থেকে হবেন তার নির্দিষ্ট অনুপাত নেই। একই প্রতিবেদনে জুলাই সনদের রাজনৈতিক প্রস্তাবের কথাও এসেছে, যেখানে পাবলিক অ্যাকাউন্টস, প্রিভিলেজেস, এস্টিমেটস ও পাবলিক আন্ডারটেকিংস কমিটির পাশাপাশি আসন-অনুপাত অনুযায়ী কিছু মন্ত্রণালয়-কমিটিতে বিরোধী নেতৃত্বের কথা ছিল। এটি আইন নয়; রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দাবি মাত্র। এই দুই সত্য পাশাপাশি রাখাই সঠিক বিশ্লেষণ।

আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা

এখনকার সংখ্যাকে আগের সংসদের সঙ্গে যান্ত্রিকভাবে তুলনা করা ঠিক হবে না। দলীয় বিন্যাস, আসনসংখ্যা এবং সাংবিধানিক পরিবেশ বদলেছে। তবু একটি প্রাসঙ্গিক তুলনা আছে: টিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধান হুইপ বলেছেন, গত প্রায় ৫৪–৫৫ বছরে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ছাড়া বিরোধী সাংসদকে চেয়ারম্যান করার চর্চা খুব সীমিত ছিল। সেটি অতীতের দুর্বলতাকে বৈধতা দেয় না; বরং পুরোনো রীতি বদলানোর সুযোগ তৈরি করে। নতুন সংসদের কাছ থেকে নাগরিকের প্রত্যাশা হওয়া উচিত পুরোনো সীমাবদ্ধতা পুনরাবৃত্তি নয়, ফল দেখানো।

কার লাভ, কার ক্ষতি?

সরকারদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমিটি দ্রুত গঠনের সুবিধা দেয়। এতে বিল, বাজেট, প্রকল্প ও মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কাজ দেখার প্রাতিষ্ঠানিক পথ তৈরি হয়। কিন্তু সেই গতি যদি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার সঙ্গে না আসে, ক্ষতি হয় সবার। নাগরিক জানেন না কোন কমিটি কতবার বসল। সাংবাদিক ও গবেষক জানেন না কোন সুপারিশে কোন মন্ত্রণালয় কী করল। বিরোধী দলও সহজে দেখাতে পারে না যে তাদের প্রশ্ন নথিভুক্ত হয়েছিল কি না। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সংসদের: নির্বাহীকে প্রশ্ন করার জায়গাটি তখন কেবল বক্তৃতার মঞ্চ বলে মনে হতে পারে।

সরকারের যুক্তি কতটা টেকে?

আইনি বাধ্যবাধকতা নেই—এ যুক্তি টেকে। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া স্থায়ী সংস্কার কঠিন—এটিও বাস্তব। কিন্তু এখান থেকে এমন সিদ্ধান্ত আসে না যে স্বচ্ছতার বিকল্প নেই। সরকার যদি মনে করে বিরোধী নেতৃত্বের প্রশ্নটি সাংবিধানিক পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত, তবে অন্তর্বর্তী সময়ে কমিটির জবাবদিহির অন্য সুরক্ষাগুলো আরও শক্ত করা তার দায়িত্ব। যেমন: চেয়ারম্যান নির্বাচনের লিখিত মানদণ্ড, সব সদস্যের দলীয় পরিচয়সহ পূর্ণ তালিকা, পূর্বঘোষিত বৈঠকসূচি, বৈঠকের সারসংক্ষেপ, মন্ত্রণালয়ের জবাব এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের ত্রৈমাসিক হিসাব।

এগুলো করতে নতুন সংবিধান লাগে না। সংসদ সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে একটি অনুসন্ধানযোগ্য ড্যাশবোর্ডই শুরু হতে পারে। সেখানে প্রতিটি কমিটির অধীন মন্ত্রণালয়, সভার তারিখ, উপস্থিতি, চাওয়া নথি, সিদ্ধান্ত, সুপারিশ ও অগ্রগতির অবস্থা থাকবে। কোনো গোপনীয় নথি থাকলে তার কারণও লেখা যাবে। এতে সরকারদলীয় চেয়ারম্যানের কাজ দৃশ্যমান হবে, বিরোধী সদস্যের প্রশ্নও হারাবে না, আর নাগরিক বুঝতে পারবেন কমিটি কাগজে নয়—কাজে আছে কি না।

কোন তথ্য প্রকাশ হলে পরীক্ষা করা যাবে?

প্রথমত, প্রতিটি কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যের নাম, দলীয় পরিচয়, কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং নিয়োগ বা পুনর্গঠনের তারিখ একটি একক সরকারি পাতায় থাকা দরকার। দ্বিতীয়ত, বৈঠকের এজেন্ডা অন্তত কয়েক দিন আগে প্রকাশ করা যায়। এতে যে নাগরিক, পেশাজীবী সংগঠন বা গবেষক কোনো বাস্তব সমস্যা তুলে ধরতে চান, তাঁরা জানবেন কোন কমিটিতে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। তৃতীয়ত, বৈঠকের পরে কতজন সদস্য ছিলেন, কী নথি চাওয়া হয়েছে এবং কী সুপারিশ হলো তার সংক্ষিপ্ত কার্যবিবরণী প্রকাশ করা সম্ভব। এটি গোপন কূটনৈতিক বা নিরাপত্তা তথ্য প্রকাশের দাবি নয়; এটি সংসদীয় কাজের ন্যূনতম দৃশ্যমানতা।

সবচেয়ে জরুরি হলো অনুসরণ। একটি কমিটি যদি কোনো হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনা, ব্যাংকের খেলাপি ঋণ, বন্যা প্রতিরক্ষা প্রকল্প বা খাদ্য মজুদের তথ্য চায়, পরের বৈঠকে মন্ত্রণালয় উত্তর দিয়েছে কি না তা দেখা উচিত। সুপারিশ মানা না হলে কারণ জানতে চাওয়া উচিত। সংসদের সরকারি ব্যাখ্যায় কমিটির মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে লিখিত ও মৌখিক জবাব নেওয়ার ক্ষমতা আছে। সেই ক্ষমতা প্রয়োগের রেকর্ড থাকলে চেয়ারম্যান কোন দল থেকে, তার বাইরে কাজের মানও মাপা যাবে। রেকর্ড না থাকলে বিতর্কটি সহজেই ব্যক্তি ও দলের পরিচয়ে আটকে যায়।

বিরোধী দলের দায়িত্বও আছে

এই মানদণ্ড শুধু সরকারের জন্য নয়। বিরোধী সদস্যরা কমিটিতে থাকলে তাঁদেরও উপস্থিতি, লিখিত প্রশ্ন, ভিন্নমত ও বিকল্প সুপারিশ প্রকাশযোগ্য হওয়া উচিত। কেবল চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে বিরোধ থাকলে তদারকির মূল কাজ পিছিয়ে যায়। টিবিএসের প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সাংবিধানিক সংশোধন কমিটিতে না যাওয়ার নীতিগত আপত্তির কথা আছে; সেই আপত্তি সংসদে লেখা আকারে রাখা এবং অন্যান্য কমিটির কাজেও তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন চালিয়ে যাওয়া—দুইটি একসঙ্গে সম্ভব। নাগরিকের স্বার্থে দরকার সংঘাতের ভাষার বাইরে যাচাইযোগ্য কাজের প্রতিযোগিতা।

আগামী কয়েক দিনের জবাবদিহি

চলতি অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা টিবিএসের ৩১ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাই সময়ের দাবি নির্দিষ্ট। অধিবেশন শেষের আগেই সংসদ সচিবালয় নতুন ও পুনর্গঠিত কমিটির অনুমোদিত তালিকা, দায়িত্ব বণ্টন ও প্রথম বৈঠকের তারিখ প্রকাশ করতে পারে। সরকার চাইলে একই সঙ্গে বলতে পারে, সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে মতৈক্য না হওয়া পর্যন্তও কমিটির নথি প্রকাশে কোনো রাজনৈতিক শর্ত থাকবে না। পরে বিরোধী নেতৃত্বের ব্যাপারে সমঝোতা হলে সেটিও প্রকাশ্য মানদণ্ডে হোক। এতে কোনো পক্ষের মর্যাদা কমবে না; বরং সংসদের প্রতি আস্থা বাড়বে।

বড় ছবিটা কী?

জবাবদিহি কেবল নির্বাচনের দিনের বিষয় নয়। বাজেটের টাকা, হাসপাতালের সরঞ্জাম, সড়ক প্রকল্প, ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য মজুদ বা পুলিশি ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই দৈনন্দিন প্রশ্ন দরকার। সংসদীয় কমিটি সেই প্রশ্নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। তাই সদস্য কোন দল থেকে এলেন, সেটি একমাত্র সূচক নয়; তবে ক্ষমতাসীন নির্বাহীকে কে, কীভাবে এবং কোন নথিতে প্রশ্ন করতে পারবেন, সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ সূচক। স্বাধীনতার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় খুলে দেওয়া তথ্য ও প্রতিযোগী প্রশ্নের সুযোগ থেকে।

উপসংহার

নতুন কমিটি গঠন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। সেটিকে অস্বীকার করার কারণ নেই। কিন্তু তৃতীয় অধিবেশনের শেষের দিকে আসল পরীক্ষাও শুরু হলো: কমিটিগুলো কি মন্ত্রণালয়ের কাছে নথি চাইবে, উত্তর প্রকাশ করবে এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের হিসাব দেবে? বিরোধী নেতৃত্বের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। তার মধ্যে সরকার অন্তত তিনটি কাজ এখনই করতে পারে—সব কমিটির পূর্ণ তালিকা প্রকাশ, চেয়ারম্যান বাছাইয়ের মানদণ্ড জানানো এবং প্রথম বৈঠকের আগে অনলাইনে কাজের ক্যালেন্ডার দেওয়া। সংসদ যে নির্বাহীকে কেবল সমর্থন নয়, তদারকিও করবে—এই বিশ্বাস ফিরতে সেখান থেকেই শুরু হওয়া দরকার।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, ‘How Committee Works’—কমিটির সাংবিধানিক ভিত্তি, ক্ষমতা ও তৃতীয় অধিবেশনে মন্ত্রণালয়-কমিটি গঠনের নিয়ম
  2. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ৭ সেপ্টেম্বরের পরবর্তী বৈঠক-নোটিশ
  3. দ্য ডেইলি স্টার, ‘10 more parliamentary committees formed, no chairmanships for opposition MPs’, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ‘Govt, opposition clash over parliamentary committee chairmanships’, ৩১ আগস্ট ২০২৬
  5. প্রথম আলো, ‘Opposition angered by denial of chair, walks out of parliament’, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  6. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ১৩তম সংসদের প্রথম ১০০ দিন নিয়ে নির্বাহী সারাংশ, জুলাই ২০২৬