৮ সেপ্টেম্বর সংসদে নতুন কমিটি গঠন ও পুরোনো দুটি কমিটি পুনর্গঠনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ একটি অস্বস্তিকর কিন্তু জরুরি কথা বলেছেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করা হুইপদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান করা আইনে নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু সংসদীয় চর্চার সঙ্গে তা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য কোনো ব্যক্তির যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করা নয়। প্রশ্ন হলো, যে কমিটির কাজ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, ব্যয় ও আইন প্রয়োগ পরীক্ষা করা, তার নেতৃত্বে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে কতটা প্রয়োজনীয় দূরত্ব থাকবে।
এই প্রশ্নটি নতুন কোনো দলীয় অভিযোগ থেকে ওঠেনি। সংসদের সভাপতিই প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনিকে ভবিষ্যতে কমিটি গঠনের সময় বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন। ইউএনবি, দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড আলাদাভাবে ঘটনাটি প্রকাশ করেছে। তিন প্রতিবেদনের মিলিত তথ্য হলো: কয়েকজন সরকারি হুইপ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন, আর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে।
কমিটি কেন শুধু আরেকটি পদ নয়
সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে সংসদীয় কমিটিকে শুধু আনুষ্ঠানিক সভার জন্য রাখা হয়নি। তারা খসড়া আইন দেখতে পারে, আইন প্রয়োগ পর্যালোচনা করতে পারে, জনস্বার্থের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ অনুসন্ধান করতে পারে এবং তথ্য ও উত্তর চাইতে পারে। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার বাইরে গিয়ে বাস্তবে কী হলো, কোন ব্যয় কেন বাড়ল, কোন প্রকল্প থেমে আছে বা কোন নাগরিকসেবা কাজ করছে না—এসব প্রশ্ন করার জন্যই এই কাঠামো।
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৬ নম্বর বিধি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির কাজের মধ্যে খসড়া আইন পরীক্ষা, আইন প্রয়োগ পর্যালোচনা এবং সংসদ পাঠালে অন্য বিষয় দেখা রেখেছে। পরের বিধি, ২৪৭, আরও নির্দিষ্ট: কোনো মন্ত্রী ওই কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। একই বিধিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সদস্য হতে পারেন বলেও বলা আছে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাহী বিভাগের উপস্থিতি কমিটিকে তথ্য পেতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু চেয়ারম্যানের ভূমিকা সভার এজেন্ডা, প্রশ্নের ধারাবাহিকতা এবং প্রতিবেদন তৈরির গতিকে প্রভাবিত করে।
হুইপ সাংবিধানিক অর্থে মন্ত্রী কি না, সেটি আলাদা আইনি প্রশ্ন। এই লেখার দাবি এমন নয় যে হুইপের চেয়ারম্যান হওয়া বিধি ২৪৭ লঙ্ঘন। স্পিকার নিজেও বলেছেন, এতে নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু তিনি যে ‘চর্চা’ ও ‘চেতনা’র কথা তুলেছেন, তার ভিত্তি বোঝা কঠিন নয়: দলীয় সংসদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এবং মন্ত্রণালয়কে কঠোরভাবে তদারক করা একই ব্যক্তির হাতে এলে স্বাধীন প্রশ্ন করার দৃশ্যমানতা দুর্বল হতে পারে। এটি অপরাধের অভিযোগ নয়; প্রতিষ্ঠান নকশার ঝুঁকি।
আজকের সিদ্ধান্তে কী দেখা গেল
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বস্ত্র ও পাট, এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে চারজন সরকারি হুইপের নাম এসেছে। একই দিনে সমাজকল্যাণ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, রেলপথ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত পাঁচটি কমিটি গঠিত হয়; পানি সম্পদ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত দুটি কমিটি পুনর্গঠিত হয়। প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে।
এখানে সতর্কতার আরেকটি কারণ আছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৪৫টি গঠিত হয়েছে; মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান পদে তখনও কোনো বিরোধী সদস্য নেই। বিরোধী সদস্য না থাকলেই একটি কমিটি নিষ্ক্রিয় বা পক্ষপাতদুষ্ট প্রমাণ হয় না। আবার সরকারি দলের একজন চেয়ারম্যান থাকলেই তদারকি অসম্ভব হয়ে যায় না। কিন্তু কমিটির নেতৃত্ব, সদস্য তালিকা, বৈঠকের উপস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের জবাব এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের তথ্য প্রকাশ না হলে নাগরিকের পক্ষে কোনটি কার্যকর হলো তা বোঝার উপায় থাকে না।
সরকারের পক্ষে যে কথাটি মানতে হবে
সরকার বা প্রধান হুইপের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে এই নিয়োগগুলোর বিস্তারিত নীতিগত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সংসদে প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হয়েছে এবং স্পিকারও বলেছেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রীর পদমর্যাদার ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার আইনি বাধা নেই। এটিই এখন সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাসঙ্গিক অবস্থান: নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে কমিটি গঠনের ক্ষমতা সংসদের আছে এবং সদস্য বা চেয়ারম্যান হওয়ার ক্ষেত্রে সব সীমা এক নয়।
এই অবস্থানকে হালকাভাবে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সক্রিয় সংসদ সদস্য কমিটিতে থাকলে মন্ত্রণালয়ের তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং সুপারিশ এগোনো সম্ভব। কিন্তু এখানেই সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। আইনগত সুযোগ থাকলেই কি সেটি তদারকির জন্য সর্বোত্তম পছন্দ, বিশেষ করে যখন স্পিকার নিজে ভিন্ন সংসদীয় চর্চার কথা মনে করিয়ে দেন? এর উত্তর বক্তৃতায় নয়, কাজের প্রমাণে দিতে হবে।
স্বাধীনতার পরীক্ষা হবে প্রকাশ্য নথিতে
এই বিতর্কের একটি সহজ, বাস্তবসম্মত সমাধান আছে। সংসদ সচিবালয় প্রতিটি কমিটির জন্য একই ধরনের একটি প্রকাশ্য পাতায় সদস্য, চেয়ারম্যানের বর্তমান সরকারি বা সংসদীয় দায়িত্ব, বৈঠকের তারিখ, উপস্থিতি, আলোচ্যসূচি, মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাব, সুপারিশ এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাস্তবায়ন অবস্থা দিতে পারে। গোপনীয়তার বৈধ সীমা থাকলে তা কারণসহ উল্লেখ করতে হবে। এতে কোনো সদস্যকে আগাম সন্দেহের আসামি করা হয় না; বরং তাঁর কাজের প্রমাণ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।
যেসব কমিটি সরাসরি বড় অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, পরিবেশ বা জনব্যয়ের মন্ত্রণালয় দেখে, সেখানে আরও দুটি তথ্য জরুরি। প্রথমত, কমিটির আলোচনায় চেয়ারম্যান বা সদস্যের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব বা স্বার্থ থাকলে তা কীভাবে সামলানো হলো। দ্বিতীয়ত, কমিটির সুপারিশের পর মন্ত্রণালয় কত দিনের মধ্যে কোন পদক্ষেপ নিল। ‘সুপারিশ করা হয়েছে’ কথাটি ফল নয়। সেতুর কাজে বিলম্ব কমল কি না, হাসপাতালের কেনাকাটায় জবাব এল কি না, দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিদর্শন বাড়ল কি না—এই ফলই তদারকির মাপ।
বিরোধী দলের প্রশ্নও এখানে প্রাসঙ্গিক, কিন্তু তা একমাত্র সমাধান নয়। বিরোধী চেয়ারম্যান থাকলে বিতর্ক ও বিকল্প ব্যাখ্যা প্রকাশের সুযোগ বাড়তে পারে। তবু সরকারি দলের চেয়ারম্যানও কার্যকর তদারকি করতে পারেন, যদি বৈঠকের নথি, সুপারিশ, ভোট বা ভিন্নমত এবং মন্ত্রণালয়ের অনুসরণযোগ্য জবাব প্রকাশিত হয়। একইভাবে বিরোধী সদস্যের উপস্থিতি শুধু প্রতীকী হলে নাগরিক লাভ নেই। নিয়মের সঙ্গে ফলের তথ্য যুক্ত না হলে দুই পক্ষের দাবিই যাচাইয়ের বাইরে থাকে।
কাগজের বিধি থেকে কাজের প্রমাণে
সংসদীয় কমিটির স্বাধীনতা কেবল চেয়ারম্যানের পরিচয়ে শেষ হয় না। একটি কমিটি সত্যিই স্বাধীনভাবে কাজ করছে কি না বোঝার জন্য দেখতে হয়, সে কতবার বৈঠক করল, কোন তথ্য চাইল, তথ্য না পেলে কী করল, কোন সুপারিশে সময়সীমা দিল এবং পরে সেই সময়সীমা মানা হলো কি না। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠকে শুধু দপ্তরের সাফল্যের উপস্থাপনা শুনলেই তদারকি সম্পন্ন হয় না। অনুমোদিত ব্যয়, সংশোধিত ব্যয়, বাস্তব অগ্রগতি, ক্রয়চুক্তির পরিবর্তন, সেবাগ্রহীতার অভিযোগ ও ঝুঁকির তালিকা আলাদা করে সামনে আনতে হয়।
এই মানদণ্ডে সরকারি দলের একজন চেয়ারম্যান সফল হতে পারেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অস্বস্তিকর তথ্য চাইতে পারেন, দেরির কারণ নথিভুক্ত করতে পারেন এবং অসম্পূর্ণ উত্তরে পরের বৈঠক ডাকতে পারেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের একজন চেয়ারম্যানও ব্যর্থ হতে পারেন, যদি তিনি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দেন কিন্তু নথি ও সময়সীমা না চান। তাই বিতর্কের সঠিক কেন্দ্র কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়। কেন্দ্র হলো এমন প্রক্রিয়া আছে কি না, যাতে একই প্রশ্ন পরের মাসে আবার তোলা যায় এবং আগের জবাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।
স্পিকারের সতর্কতার পর সংসদ চাইলে একটি স্বল্প কিন্তু শক্তিশালী স্বচ্ছতা-নিয়ম চালু করতে পারে। প্রতিটি কমিটির প্রথম সভার সাত দিনের মধ্যে সদস্যতালিকা, চেয়ারম্যানের অন্য সংসদীয় ও সরকারি দায়িত্ব, বার্ষিক কাজের অগ্রাধিকার এবং সম্ভাব্য স্বার্থ-সম্পর্কের ঘোষণা প্রকাশ করা যায়। প্রতিটি বৈঠকের পর সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত, কোন নথি চাওয়া হয়েছে এবং কার কাছে জবাবের সময়সীমা গেছে তা দেওয়া যায়। নির্দিষ্ট একটি সময় পরে একই পাতায় বলা যায়, মন্ত্রণালয় কী করল বা কেন করেনি। এই কাঠামোতে তথ্য গোপন করার যুক্তি থাকলে সেটিও নথিবদ্ধ থাকবে; ফলে গোপনীয়তা আর নির্বিচার নীরবতা এক জিনিস থাকবে না।
এ ধরনের প্রকাশ সংসদের জন্য বোঝা নয়, বরং সুরক্ষা। মন্ত্রণালয় কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে তার কৃতিত্ব ও প্রমাণ দেখা যাবে। কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত না হলে সদস্যরাও সময়মতো সংশোধনের সুযোগ পাবেন। সাংবাদিক, গবেষক ও নাগরিক সমাজ অনুমানের বদলে একই নথি থেকে প্রশ্ন করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কমিটির সদস্যদের কাজকে কেবল দলীয় আনুগত্য বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক দিয়ে বিচার করার প্রবণতা কমবে। প্রকাশ্য কার্যবিবরণী থাকলে ভালো কাজেরও প্রমাণ থাকে, দুর্বল কাজেরও হিসাব থাকে।
এখন প্রশ্ন হলো, মন্ত্রী বা হুইপের পদমর্যাদা নিয়ে সতর্কতা তোলার পর আগের গঠিত কমিটিগুলোর ক্ষেত্রে কী হবে? স্পিকারের বক্তব্য ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য অনুরোধ হিসেবে এসেছে, তাৎক্ষণিক বাতিলের নির্দেশ হিসেবে নয়। তাই পুনর্গঠন ছাড়া আস্থা বাড়ানোর পথও আছে। যে কমিটিতে ক্ষমতার নৈকট্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেখানে সদস্যদের লিখিত দায়িত্ব-বিবরণী, বৈঠকের পূর্ণ উপস্থিতি ও সুপারিশের অগ্রগতি আগে প্রকাশ করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে প্রভাবিত সদস্য নির্দিষ্ট আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন কি না, সেই প্রক্রিয়াও পরিষ্কার করা যায়। কোনো একটি পদ্ধতিই অপরিহার্য বলে এই লেখা দাবি করছে না; সিদ্ধান্তের যুক্তি ও ফল প্রকাশই আসল পরীক্ষা।
সরকারের জন্য এখানেও একটি ইতিবাচক সুযোগ আছে। নতুন সংসদে কমিটিগুলো দ্রুত পূর্ণ করা এবং তাদের নিয়মিত কাজ করানো নিজেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ। কিন্তু দ্রুততা তখনই বিশ্বাসযোগ্য হয়, যখন সঙ্গে যাচাইযোগ্যতা থাকে। ৪৫টি কমিটি গঠনের সংখ্যা অগ্রগতির একটি সূচক হতে পারে; কিন্তু সেটি নাগরিকের প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নয়। পরের সূচক হওয়া উচিত কতটি কমিটি বৈঠক করেছে, কতটি মন্ত্রণালয়ের কাছে সময়সীমাবদ্ধ সুপারিশ দিয়েছে, কতটির জবাব প্রকাশিত হয়েছে এবং কোন সমস্যায় বাস্তব পরিবর্তন এসেছে।
এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে জরুরি, কারণ সংসদীয় তদারকি আদালত বা তদন্ত সংস্থার বিকল্প নয়। কমিটি কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার জায়গা নয়; তার কাজ হলো নীতি ও প্রশাসনের দুর্বলতা চিহ্নিত করা, তথ্য প্রকাশে চাপ দেওয়া এবং সমাধানের পথ সুপারিশ করা। ফলে চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উত্তরও অপরাধের ভাষায় হওয়া উচিত নয়। উত্তর হওয়া উচিত: কোন প্রশ্ন উঠল, কে উত্তর দিল, কোন তথ্য পাওয়া গেল, কোন সুপারিশ হলো এবং জনগণ তার ফল কখন দেখবে।
পাঁচটি উত্তরের অপেক্ষা
- কোন মানদণ্ডে কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য বাছাই করা হলো, এবং সেই মানদণ্ড কি প্রকাশিত হবে?
- মন্ত্রী বা মন্ত্রীর পদমর্যাদার হুইপের চেয়ারম্যান হওয়ার ক্ষেত্রে স্বার্থ বা দায়িত্বের দূরত্ব কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে?
- প্রতিটি কমিটির বৈঠক, উপস্থিতি, আলোচ্যসূচি ও সিদ্ধান্ত কত দিনের মধ্যে নাগরিকের জন্য প্রকাশ করা হবে?
- মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া তথ্য ও কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের সময়সীমা কোথায় দেখা যাবে?
- যে কমিটিগুলো এখনও গঠিত হয়নি, সেগুলো কবে গঠিত হবে এবং নেতৃত্বে বহুমতের জায়গা কীভাবে নিশ্চিত হবে?
শেষ কথা
স্পিকারের সতর্কতাকে ব্যক্তিগত মতভেদ বা ছোট সংসদীয় ঘটনা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এটি তদারকির নকশা নিয়ে একটি প্রকাশ্য সংকেত। কমিটির চেয়ারম্যান আইন ভেঙেছেন—এমন কোনো দাবি এই লেখার নেই। কোনো হুইপ বা মন্ত্রীকে অসৎ বলা হচ্ছে না। দাবি আরও সীমিত এবং আরও জরুরি: মন্ত্রণালয়ের ওপর সংসদের নজরদারি বিশ্বাসযোগ্য করতে সিদ্ধান্তের নিয়ম, দায়িত্বের সম্ভাব্য সংঘাত, বৈঠকের নথি এবং সুপারিশের ফল নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। আইন যেখানে ন্যূনতম সীমা টানে, ভালো সংসদীয় চর্চা সেখানে আস্থার উচ্চতর মান ঠিক করে। সেই মান মেনে চলার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ হবে খোলা তথ্য ও কঠোর, দৃশ্যমান কাজ।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, ‘Rules of Procedure of Parliament’, বিধি ২৪৬–২৪৭; মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির কাজ এবং মন্ত্রী চেয়ারম্যান না হওয়ার বিধান
- বাংলাদেশের সংবিধান, ৭৬ অনুচ্ছেদ; স্থায়ী কমিটির আইন প্রয়োগ পর্যালোচনা, তথ্য চাওয়া ও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম অনুসন্ধানের ক্ষমতা
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, ‘All key persons from 13th parliament’; স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও হুইপদের বর্তমান সরকারি তালিকা
- ইউএনবি, ‘Speaker questions inclusion of state ministers, whips in standing committees’, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; স্পিকারের বক্তব্য, গঠিত কমিটি ও পদমর্যাদার তথ্য
- দ্য ডেইলি স্টার, ‘Speaker objects to ministers, whips chairing standing committees’, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; স্পিকারের বক্তব্য, চেয়ারম্যানদের নাম এবং কমিটির বর্তমান সংখ্যা
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ‘Speaker urges chief whip to avoid ministers, whips as standing committee chairs’, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; প্রস্তাবের অনুমোদন, পাঁচটি নতুন কমিটি ও সরকারি ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিক অংশ
