NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

সংসদ ও জবাবদিহি

৩৯ মন্ত্রণালয় কমিটিতে বিরোধী চেয়ারম্যান শূন্য: সংসদ কীভাবে সরকারকে জবাবদিহিতে রাখবে?

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩তম সংসদের ৫০টি স্থায়ী কমিটি পূর্ণ হলো, কিন্তু ৩৯টি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কমিটির একটিতেও বিরোধী চেয়ারম্যান নেই। বক্তৃতার বাইরে নির্বাহী ক্ষমতাকে যাচাই করার জায়গাটিই তাই দুর্বল রইল।

Editorial illustration about Bangladesh parliamentary committees, opposition scrutiny and executive accountability

NCP Diaspora Alliance Germany editorial-analysis artwork; not a photograph of a real event.

১৩তম জাতীয় সংসদের ৫০টি স্থায়ী কমিটি এখন পূর্ণ। কিন্তু এই পূর্ণতার ভেতরেই বড় ঘাটতি রয়ে গেছে: মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি কমিটির একটিতেও বিরোধী দলের কোনো চেয়ারম্যান নেই। সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে প্রস্তাব পাস করাতে পারে, সেটি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বাস্তবতা। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ব্যয়, প্রকল্প, সিদ্ধান্ত ও ব্যর্থতার নথি খুলে প্রশ্ন করার কমিটির নেতৃত্বও যদি প্রায় পুরোপুরি সরকারি বেঞ্চের হাতে থাকে, তাহলে সংসদের ভেতরের জবাবদিহি কাগজে থাকবে, কাজে নয়।

১০ সেপ্টেম্বর শেষ চারটি কমিটি গঠনের পর এই অবস্থাটি চূড়ান্ত হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার এবং বাংলাদেশ পোস্টের পৃথক প্রতিবেদনে একই মূল তথ্য এসেছে: প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, জনপ্রশাসন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানবিষয়ক চার কমিটিই বিএনপি সদস্যদের নেতৃত্বে গেছে। দুই প্রতিবেদনে বিরোধী চেয়ারম্যানের মোট সংখ্যা গণনায় পার্থক্য আছে—একটি কেবল পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির কথা বলেছে, অন্যটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিলস অ্যান্ড রেজল্যুশনস কমিটিকেও ধরেছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে দ্বিমত নেই: ৩৯টি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কমিটির একটিও বিরোধী চেয়ারম্যানের হাতে যায়নি।

এটি ৭ সেপ্টেম্বরের আগের কমিটি-গঠন বিশ্লেষণের স্পষ্ট আপডেট, পুনর্মুদ্রণ নয়। তখন সব কমিটি পূর্ণ হয়নি এবং পরের দফার সিদ্ধান্ত বদলের সম্ভাবনা ছিল। এখন শেষ চারটি সংবেদনশীল কমিটি গঠনের পর নেতৃত্বের বাস্তব বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। তাই আজকের প্রশ্ন কেবল বিরোধীরা কতটি পদ চেয়েছিল তা নয়; যে কাঠামো সরকার নিজে চূড়ান্ত করল, সেটি পরের অধিবেশনে মন্ত্রণালয়গুলোর ব্যয়, নিয়োগ, প্রকল্প ও নীতিগত ব্যর্থতার স্বাধীন পরীক্ষা চালাতে পারবে কি না।

সংক্ষেপে: সমস্যাটি চেয়ার নয়, পরীক্ষকের স্বাধীনতা

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নিজস্ব ব্যাখ্যায় স্থায়ী কমিটিগুলোই নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রধান উপায়। সংসদের ওয়েবসাইট বলে, ৫০টি কমিটি মন্ত্রণালয় ও নির্বাহী সংস্থার কাজ মূল্যায়ন করে এবং কার্যকর সুপারিশ দেয়। এই নীতিটি সহজ: যে দপ্তরের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করা হবে, তার রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে পরীক্ষকের সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হবে, কঠিন প্রশ্ন করার সম্ভাবনা তত কমে যায়। তাই কমিটির চেয়ারম্যানের পদ কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মান নয়; এটি তথ্য চাইতে, বৈঠক ডাকতে, অগ্রাধিকার ঠিক করতে এবং প্রতিবেদন এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব ক্ষমতা।

এবার সেই ক্ষমতার বণ্টন এমনভাবে হয়েছে যে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কোনো কমিটিতে বিরোধী নেতৃত্ব নেই। আরও উদ্বেগের বিষয়, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই বলেছেন নির্বাহীকে আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে হয়; নির্বাহীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি যদি কমিটির চেয়ারম্যান হন, তাহলে তিনি কার কাছে জবাব দেবেন? এটি কোনো দলীয় স্লোগান নয়। সংসদের সভাপতির বলা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর সরকারের কাছে থাকা দরকার।

কী ঘটেছে, কোন কমিটি কার হাতে গেছে

শেষ দিনে গঠিত চারটি কমিটির মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন সরকারি দলের হুইপ আশরাফ উদ্দিন; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ কমিটির চেয়ারম্যান আরেক হুইপ মিয়া নুরউদ্দিন আহমদ আপু; জনপ্রশাসন কমিটির চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ; আর পাবলিক আন্ডারটেকিংস কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। সংসদে প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই নামগুলো কেবল ব্যক্তির নাম নয়। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, জনপ্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মতো বড় ব্যয় ও নীতিগত ক্ষমতার ক্ষেত্রগুলোতে এখন কমিটির এজেন্ডা নির্ধারণের প্রথম দায়িত্ব সরকারি দলের হাতেই।

বাংলাদেশ পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০টির মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতে বিরোধী উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের চেয়ারম্যান হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে প্রাইভেট মেম্বার্স বিলস অ্যান্ড রেজল্যুশনস কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিরোধী জামায়াত সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর নাম এসেছে। এই দুই পদকে স্বাগত না জানানো অযৌক্তিক হবে। কিন্তু একটি বা দুটি ব্যতিক্রম ৩৯টি মন্ত্রণালয় কমিটিতে বিরোধী নেতৃত্ব শূন্য থাকার বাস্তবতা বদলায় না।

NCP-সহ বিরোধী বেঞ্চের দাবিটি কী ছিল

এটি হঠাৎ তোলা দাবি নয়। ২৬ আগস্ট ১১-দলীয় জোট কার্যকর সংসদীয় জবাবদিহির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান পদে বিরোধীদের অংশ চেয়েছিল। সভায় এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন—এ তথ্য দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড স্বাধীনভাবে নথিবদ্ধ করেছে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর কমিটি গঠনের সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধীদের দেওয়া সদস্য-তালিকার কিছু বণ্টন বদলানো হয়েছে; তিনি পরের অধিবেশনে সংশোধন চান।

এনসিপির আটজন বর্তমান সংসদ সদস্য আছে, যা সংসদের সরকারি সদস্যতালিকায় দেখা যায়। কিন্তু এনসিপির উপস্থিতি প্রমাণ করতে এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়; সংসদীয় কাজে তাদের প্রস্তাব, সংশোধনী, উপস্থিতি, কমিটিতে প্রশ্ন ও প্রতিবেদনের ফলও দেখা দরকার। এই লেখাটি সেই দলকে অযাচাইকৃত সাফল্যের কৃতিত্ব দিচ্ছে না। বরং তাদের এবং পুরো বিরোধী বেঞ্চের একটি ন্যায্য ও যাচাইযোগ্য দাবি—যে কমিটি নির্বাহীকে পরীক্ষা করবে, সেখানে স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব থাকতে হবে—চূড়ান্ত কমিটি কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে।

সরকারের যুক্তি: আগে সাংবিধানিক সংস্কার

সরকারের শক্তিশালী যুক্তিটিও স্পষ্ট করে বলা জরুরি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৩১ আগস্ট সংসদে বলেন, বিদ্যমান নিয়মে বিরোধীদের অনুপাত অনুযায়ী চেয়ারশিপ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধীরা অংশ নিলে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিতে তাদের আসন-অনুপাতে চেয়ারম্যান দেওয়া হবে। সরকারি চিফ হুইপও বলেছেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে বিরোধীদের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।

এই অবস্থানের একটি আইনি ভিত্তি আছে: বর্তমান বিধিতে অনুপাতভিত্তিক চেয়ারশিপ বাধ্যতামূলক নয়। সরকার এটিও বলতে পারে যে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধীদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই সনদের কাঠামোগত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন। কোনো সরকারকে এমন পদ ছাড়তে আইন জোর করতে না পারলে তার হাতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকে। কিন্তু এখানেই নীতিগত পরীক্ষাটি আরও কঠিন হয়। আইন বাধ্য না করলেও, জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি পূরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখানো সরকারের দায়িত্ব।

কেন শর্ত জুড়ে দেওয়া জবাবদিহিকে দুর্বল করে

কমিটির চেয়ারম্যান পদকে সাংবিধানিক সংস্কার কমিটিতে যোগ দেওয়ার বিনিময় হিসেবে উপস্থাপন করা ভুল রাজনৈতিক নকশা। কারণ দুই কাজের প্রকৃতি আলাদা। সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি, মতভেদ বা বিকল্প প্রস্তাব থাকতে পারে। কিন্তু বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের খরচ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লোকসান, জনপ্রশাসনের নিয়োগ বা প্রতিরক্ষা ক্রয়ের নথি পরীক্ষা করার অধিকার সেই মতভেদের কারণে স্থগিত হতে পারে না। একটিকে অন্যটির পুরস্কার বানালে নির্বাহী তদারকি সমঝোতার দরকষাকষিতে পরিণত হয়।

সরকার বলছে বিরোধীদের ২৬ শতাংশ সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। এটি শূন্যের চেয়ে ভালো, এবং সদস্যদের প্রশ্ন তোলা, নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া ও নথি চাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু চেয়ারম্যান না হলে বৈঠকের গতি, আলোচ্যসূচি ও ফলো-আপের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত থাকে। একটি কমিটি বছরে কটি বৈঠক ডাকবে, কোন প্রকল্পের নথি আগে চাইবে, কোন সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ সংসদে পাঠাবে—এসব বাস্তব সিদ্ধান্তে সভাপতির ভূমিকা বড়। সদস্যপদকে তাই নেতৃত্বের বিকল্প বলা যাবে না।

এই বিতর্ক মেটানোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ফল প্রকাশ। প্রতিটি কমিটির বৈঠকের সংখ্যা, মন্ত্রণালয়কে পাঠানো প্রশ্ন, চাওয়া নথি, অনুত্তরিত বিষয়, সুপারিশ এবং বাস্তবায়নের হার এক জায়গায় প্রকাশ হলে কে কতটা কার্যকর তদারকি করলেন তা দলীয় কথার ওপর নির্ভর করবে না। তখন সরকারও দেখাতে পারবে যে একক নেতৃত্ব সত্ত্বেও কমিটি নরম হয়নি; বিরোধীরাও দেখাতে পারবে তারা সদস্যপদকে কাজে লাগিয়েছে।

হুইপ ও মন্ত্রী-সমমান পদধারীদের প্রশ্ন

এখানে আরেকটি স্পষ্ট সমস্যা আছে। দ্য ডেইলি স্টারের হিসাব অনুযায়ী পাঁচজন সরকারি হুইপ পাঁচটি সংসদীয় সংস্থার চেয়ারম্যান হয়েছেন; প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টাও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র ও অর্থ কমিটির সদস্য হয়েছেন। সব ক্ষেত্রে আইন ভাঙা হয়েছে, এমন দাবি করার প্রমাণ নেই। কিন্তু স্পিকার যে নীতিগত সতর্কতা দিয়েছেন, তার জবাব দরকার: মন্ত্রী বা মন্ত্রী-সমমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি যখন তদারক কমিটির নেতৃত্বে থাকেন, তখন কমিটি কি সত্যিই নির্বাহী থেকে যথেষ্ট দূরে থাকে?

স্বাধীনতার মানে সরকারপক্ষের সদস্য কমিটিতে থাকতে পারবেন না—এমন নয়। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্যরাই স্বাভাবিকভাবে বেশি থাকবেন। প্রশ্ন হলো নেতৃত্ব, নথি-প্রকাশ এবং ভিন্নমত রক্ষার নিয়ম নিয়ে। একটি কমিটি যদি মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যয়ের ব্যাখ্যা চায়, নির্দিষ্ট সময়সীমায় উত্তর নেয়, সুপারিশ প্রকাশ করে এবং অসম্মতির নোট সংরক্ষণ করে, তাহলে সরকারি সদস্যরাও কার্যকর তদারক করতে পারেন। কিন্তু পুরো নেতৃত্ব একদিকে গেলে সেই ব্যবস্থা কাজ করছে কি না, তা প্রমাণের দায় আরও বেশি হয়।

আগের প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান ব্যবধান

৩১ আগস্টের বিতর্কে সরকার বলেছিল, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত ও সংবিধান সংশোধিত হলে বিরোধীদের অনুপাতে মন্ত্রণালয় কমিটির চেয়ারশিপ দেওয়া হবে। ১০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে, ৫০টি কমিটিও গঠিত হয়েছে; কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির সময়সীমা, খসড়া সংশোধনী, ভোটের পথ বা পুনর্গঠনের তারিখ জনগণ জানে না। ফলে ‘পরে দেওয়া হবে’ এখনো পরীক্ষাযোগ্য প্রতিশ্রুতি নয়। প্রতিশ্রুতি তখনই জনজবাবদিহির অংশ হয়, যখন তার লিখিত পদক্ষেপ, দায়িত্বশীল দপ্তর ও নির্দিষ্ট সময় থাকে।

বিরোধীদেরও নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তাঁরা সংস্কার কমিটিতে যোগ না দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করুন; কোন ধারা, কোন প্রক্রিয়া বা কোন প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আপত্তি, তা পরিষ্কার বলুন। আর যেখানে কমিটির সদস্যপদ পেয়েছেন, সেখানে বৈঠক, নথি-চাহিদা, অনুপস্থিতি ও ভিন্নমতের মাসিক সংক্ষিপ্ত হিসাব প্রকাশ করুন। এনসিপির সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য। শক্তিশালী দাবি শক্তিশালী নথি ও ধারাবাহিক সংসদীয় কাজ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হয়।

এখন কী করা দরকার

উপসংহার: পূর্ণ কমিটি মানেই পূর্ণ তদারকি নয়

৫০টি কমিটি গঠন করা প্রশাসনিকভাবে একটি সম্পন্ন কাজ। কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে সেটি কেবল শুরু। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কমিটির কোনো একটিতেও বিরোধী চেয়ারম্যান না থাকা, আবার একাধিক হুইপ ও নির্বাহী-ঘনিষ্ঠ পদধারীর নেতৃত্ব পাওয়া—এই কাঠামো সরকারের ওপর কঠিন তদারকির ক্ষমতা বাড়ায় না। এটি বিশেষ করে জ্বালানি, জনপ্রশাসন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ, যেখানে জনগণের পক্ষে নথি দেখা এমনিতেই কঠিন।

সরকারের কাছে এখন সুযোগ আছে কথার সঙ্গে কাঠামো মেলানোর। আইনে বাধ্য না হলেও অন্তত কয়েকটি মন্ত্রণালয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ বিরোধীদের দিয়ে, বৈঠক ও নথি উন্মুক্ত করে, এবং হুইপ-মন্ত্রী-সমমান নেতৃত্বের সীমা ঠিক করে তারা দেখাতে পারে যে জুলাই সনদের জবাবদিহির ভাষা কেবল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি নয়। বিরোধী বেঞ্চ ও এনসিপিকেও প্রমাণ করতে হবে যে তারা এই জায়গা পেলে তথ্যভিত্তিক, নিয়মিত ও জনমুখী তদারকি করবে। নাগরিকের প্রয়োজন কার চেয়ার হলো সেই খবর নয়; সেই চেয়ার থেকে কোন মন্ত্রণালয়কে কোন হিসাব দিতে বাধ্য করা হলো, সেটিই আসল খবর।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, সরকারি ওয়েবসাইট; ১৩তম সংসদের বর্তমান সদস্যতালিকায় এনসিপির আটজন এমপি এবং ৫০ স্থায়ী কমিটির নির্বাহী তদারকির ভূমিকার সরকারি ব্যাখ্যা, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দেখা
  2. দ্য ডেইলি স্টার, ‘All 50 Sangsad panels formed, opposition chairs one’, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬; কমিটি-গঠন, ৩৯ মন্ত্রণালয় কমিটিতে বিরোধী চেয়ারম্যান না থাকা, নাহিদ ইসলামের বক্তব্য, স্পিকারের সতর্কতা ও সরকারের জবাব
  3. বাংলাদেশ পোস্ট (ইউএনবি), ‘All 50 parliamentary committees formed’, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬; শেষ চার কমিটির চেয়ারম্যান, মোট ৫০টির কাঠামো ও বিরোধী-চেয়ার গণনার স্বাধীন প্রতিবেদন
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ‘Govt, opposition clash over parliamentary committee chairmanships’, ৩১ আগস্ট ২০২৬; ২৬ শতাংশ দাবি, সরকারি শর্ত, বিদ্যমান বিধির অবস্থান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির স্বাধীন প্রতিবেদন
  5. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ‘11-party alliance seeks key parliamentary committee chairmanships for opposition’, ২৬ আগস্ট ২০২৬; এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উপস্থিতিসহ জোটের যাচাইযোগ্য দাবি ও প্রেক্ষাপট