সহজ একটি উদাহরণ ধরা যাক। রাতে একজনকে তুলে নেওয়া হলো। পরিবারের অভিযোগ, কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে গেল। কমিশনের তখনই সিসিটিভি, হেফাজতের নথি ও গাড়ির রেকর্ড সংরক্ষণ করা, সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলা এবং সন্দেহভাজন আটকস্থান দেখা দরকার। কিন্তু প্রথম পদক্ষেপই যদি হয় অভিযুক্ত বাহিনীর নেতৃত্বের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া, তাহলে তদন্তের নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হাতে থাকে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের নিয়ন্ত্রণ থেকে যায় সেই কাঠামোর হাতেই, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ।
৩০ সেকেন্ডে খসড়াটি
২০২৬ সালের এপ্রিলে সংসদ অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের কাঠামো ফিরিয়ে আনে। এরপর ১৭ মে সরকার ৪২ ধারার নতুন খসড়া তৈরি করে। এতে কিছু নতুন ক্ষমতা আছে। কিন্তু টিআইবি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতি এবং The Business Standard-এ প্রকাশিত আইনগত বিশ্লেষণ একই সমস্যার দিকে আঙুল তোলে: কাগজে কমিশনকে শক্তিশালী দেখায়, অথচ সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে—যখন স্বাধীনতা সবচেয়ে জরুরি—তখনও তাকে সরকারি কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
মানবাধিকার কমিশন আসলে কী—পুলিশ, আদালত, নাকি স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান?
মানবাধিকার কমিশন পুলিশ স্টেশন নয়, ফৌজদারি আদালতও নয়। তার কাজ হলো দেখা—রাষ্ট্র কোনো মানুষের অধিকার সম্মান, সুরক্ষা বা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে কি না। ভয়মুক্তভাবে অভিযোগ নেওয়া, স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ, আটকস্থান পরিদর্শন, প্রাতিষ্ঠানিক দায় চিহ্নিত করা, প্রতিকার সুপারিশ করা এবং একই লঙ্ঘন যেন আবার না ঘটে সে জন্য ফল প্রকাশ করা—এগুলো কমিশনের দায়িত্ব। ব্যক্তির অপরাধ তদন্ত করবে পুলিশ, শাস্তি ঠিক করবে আদালত। তিন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুলিয়ে ফেললে কেউই নিজের কাজ ঠিকভাবে করতে পারে না।
খসড়ায় কিছু ভালো পরিবর্তনও আছে
- কমিশনের সভার লিখিত কার্যবিবরণী এবং তদন্ত কর্মকর্তার জবাবদিহি;
- বিদ্যমান আইনে স্বীকৃত মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ;
- জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা NPM বিভাগের এখতিয়ার বৃদ্ধি;
- শৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া রিপোর্ট অভিযোগকারীকে জানানো এবং কিছু স্বপ্রণোদিত অনুসন্ধানে সময়সীমার বাধা না রাখা।
এই উন্নতিগুলো স্বীকার করা দরকার। কিন্তু ভালো কার্যবিবরণী স্বার্থের সংঘাত দূর করে না। কমিশন যত নিখুঁত নথিই লিখুক, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়া যদি প্রমাণে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে ভুক্তভোগী পরিবার শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের পথেই আটকে যাবে।
১. অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছেই সত্য খোঁজার দায়
ধারা ২০ খসড়াটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। প্রকাশিত আইনগত পর্যালোচনা অনুযায়ী, কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে কমিশন সরাসরি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না করে সরকার বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধানের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ ২০০৯ সালের আইনের যে সীমাবদ্ধতা নতুন আইন দিয়ে দূর করার কথা, সেটিই আবার ফিরে আসছে।
সমস্যাটি তাত্ত্বিক নয়। গুম, নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু বা বেআইনি গুলির অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকে সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে: ডিউটি রোস্টার, বেতার বার্তা, গাড়ির চলাচল, অস্ত্রের হিসাব, সিসিটিভি, মোবাইল ডেটা, প্রবেশপত্র ও কমান্ডের নির্দেশনা। দেরিতে এগুলো মুছে বা বদলে যেতে পারে। তাই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি প্রমাণ সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করতে হবে। সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তা আদালতের তত্ত্বাবধানে রক্ষা করা যায়; অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের অনুমতির ওপর সত্যকে নির্ভরশীল করা একমাত্র পথ নয়।
২. নাম স্বাধীন, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের সুতো সরকারের হাতে
- ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ‘কমিশন কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীন নয়’—এই স্পষ্ট সুরক্ষাটি ছিল; নতুন খসড়ায় তা নেই।
- আঞ্চলিক কার্যালয় খুলতে সরকারি অনুমোদন লাগবে, ফলে ঢাকার বাইরের মানুষের প্রবেশাধিকার দুর্বল হতে পারে।
- প্রস্তাবিত বাছাই কমিটিতে স্পিকার, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব আছেন—এতে নির্বাহী ও সরকারদলীয় প্রভাবের ঝুঁকি তৈরি হয়।
- চাকরিরত সরকারি কর্মকর্তা ছুটি, লিয়েন বা প্রেষণে কমিশনার হতে পারবেন; মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি প্রেষণে আসতে পারে।
- বাজেট বরাদ্দ ও বিধি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিটি বিধানকে আলাদা করে দেখলে ‘প্রশাসনিক সুবিধা’ মনে হতে পারে। একসঙ্গে রাখলেই সমস্যাটি পরিষ্কার হয়: সরকারঘনিষ্ঠ কাঠামো নেতৃত্ব বাছাই করবে, সরকারি কর্মকর্তা কমিশনে আসবেন, কার্যালয়-অর্থ-বিধিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, আর সংবেদনশীল অভিযোগে কমিশন সরকারি প্রতিবেদন চাইবে। শুরুতেই ‘স্বাধীন’ শব্দটি লিখে দিলেও এই নির্ভরতার শৃঙ্খল বাস্তবে কমিশনের স্বাধীনতা দুর্বল করতে পারে।
৩. দেখতে কঠোর সব ক্ষমতাই সঠিক ক্ষমতা নয়
TBS-এর মূল বিশ্লেষণ আরেকটি ঝুঁকি দেখায়। ধারা ১৩-তে ‘ব্যক্তি’র বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক শুনানি এসেছে। ধারা ১৬(৫)-কে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং ১৭(৫)(খ)-কে ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে কমিশন একই সঙ্গে তদন্তকারী, কৌঁসুলি, আদালত ও অর্থ আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের মতো হয়ে যেতে পারে।
শুনতে ক্ষমতাশালী লাগলেও ফল উল্টো হতে পারে। ভুক্তভোগীকে আদালতের মতো ব্যয়বহুল লড়াইয়ে নামতে হবে, রাষ্ট্রের মানবাধিকার-দায় ও ব্যক্তির ফৌজদারি-দায় গুলিয়ে যাবে, আর কমিশনের সিদ্ধান্ত আটকে পড়বে প্রক্রিয়ার জটিলতায়। কমিশনের প্রথম দরকার প্রমাণে প্রবেশ, অভিযোগকারীকে সুরক্ষা, আটকস্থান পরিদর্শন, সময়মতো সরকারি জবাব আদায় এবং অমান্য করার তথ্য প্রকাশের ক্ষমতা। হাতকড়া কখনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার বিকল্প নয়।
৪. অন্য মামলা বিচারাধীন মানেই মানবাধিকার প্রশ্নটি বন্ধ নয়
ধারা ২৯-এ কোনো কার্যক্রম বিচারাধীন থাকলে কমিশনের পদক্ষেপে বাধা আছে। কিন্তু আদালত হয়তো দেখছে একজন ব্যক্তি অপরাধ করেছেন কি না; কমিশনের প্রশ্ন আলাদা—রাষ্ট্র নির্যাতন ঠেকিয়েছে কি না, প্রমাণ রক্ষা করেছে কি না, আটক ব্যক্তিকে সুরক্ষা দিয়েছে কি না বা প্রতিকার দিয়েছে কি না। বিচারাধীনতার বিস্তৃত বাধা থাকলে অন্য একটি মামলা করেই স্বাধীন নজরদারি থামানো যায়। আইনে পরস্পরবিরোধী আদেশ ঠেকানোর ব্যবস্থা থাকবে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও রাষ্ট্রের দায় নিয়ে অনুসন্ধান স্পষ্টভাবে চালু রাখতে হবে।
৫. ম্যান্ডেট ছোট হলে প্রতিরোধও ছোট হয়
Human Rights Watch-সমন্বিত যৌথ বিবৃতি বলছে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে থাকা কয়েকটি কাজ খসড়ায় বাদ বা সংকুচিত: মানবাধিকারকর্মীদের সুরক্ষা; নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার পর্যবেক্ষণ; নাগরিক সমাজের সঙ্গে নিয়মিত কাজ; আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে পরামর্শ; আইন পর্যালোচনা এবং মানবাধিকার শিক্ষা। ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পর শুধু ফাইল দেখা যথেষ্ট নয়। আগাম প্রতিরোধ, প্রকাশ্য প্রতিবেদন ও আইন যাচাইও কমিশনের মৌলিক কাজ।
খসড়ার পক্ষে কী যুক্তি আসতে পারে—এবং কেন তা যথেষ্ট নয়
- ‘অপরাধ তো পুলিশই তদন্ত করে।’ ঠিক; কিন্তু কমিশন ফৌজদারি মামলা প্রতিস্থাপন করে না। সে স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রের দায় এবং পুলিশের তদন্ত নিজেই বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা পরীক্ষা করে।
- ‘নিরাপত্তার তথ্য সবার জন্য খোলা যায় না।’ ঠিক; বিচারিক পরোয়ানা, নিরাপত্তা যাচাইকৃত তদন্তকারী ও গোপন প্রমাণ পদ্ধতিতে তথ্য রক্ষা করা যায়। অভিযুক্ত বাহিনীর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা একমাত্র সমাধান নয়।
- ‘মন্ত্রী-আমলারা প্রশাসন বোঝেন।’ তা সত্য হতে পারে; কিন্তু যাদের কাজ কমিশন তদন্ত করতে পারে, তাদের কাছ থেকে দৃশ্যমান দূরত্বও চাই। প্রকাশ্য ও বহুত্বপূর্ণ বাছাইয়ে দক্ষতা রাখা যায়, সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই।
- ‘গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের ক্ষমতা কমিশনকে কার্যকর করবে।’ ম্যান্ডেটের সঙ্গে মিললে তবেই। প্রথম দরকার প্রমাণে বাধ্যতামূলক প্রবেশ ও সুপারিশ বাস্তবায়ন; গ্রেপ্তার ও শাস্তি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ও আদালতের প্রধান কাজ।
জুলাইয়ের পর এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর হিসাব করেছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। প্রতিবেদনে তৎকালীন সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের সহিংস অংশের সম্পৃক্ততায় পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা এসেছে। এর শিক্ষা এই নয় যে একদল কর্মকর্তার জায়গায় আরেকদল বসিয়ে বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস করতে হবে। শিক্ষা হলো—কোনো সরকারই বন্ধ দরজার ভেতর নিজের তদন্ত নিজে করতে পারবে না।
৯ এপ্রিল ২০২৬ সংসদে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ রহিত করার সময় NCP সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আপত্তি জানান এবং পরে প্রশ্ন তোলেন—স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে কমিশন কীভাবে জুলাই-সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করবে। এই আপত্তি জুলাই থেকে উঠে আসা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে NCP-সহ সব দলের কঠিন পরীক্ষা হলো—নিজেদের মিত্র বা ভবিষ্যৎ সরকার তদন্তের মুখে পড়লেও একই স্বাধীন কমিশনের পক্ষে থাকা। কাকে তদন্ত করা হবে জানার আগেই যে নিয়ম মেনে নেওয়া যায়, সেটিই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।

পাসের আগে যে সাতটি সংশোধন জরুরি
- সব রাষ্ট্রীয় ও শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কমিশনের সরাসরি তদন্ত, নথি সংরক্ষণ, সাক্ষী সুরক্ষা এবং অনুমতি ছাড়া সন্দেহভাজন আটকস্থান পরিদর্শনের ক্ষমতা নিশ্চিত করা; প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা আদালতের তত্ত্বাবধানে রক্ষা করা।
- আইনে স্পষ্ট লেখা—কমিশন কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীন নয়; নিজস্ব বিধি, আঞ্চলিক কার্যালয়, নিয়োগ ও প্রশাসন পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে।
- প্রকাশ্য মনোনয়ন, যোগ্যতার মানদণ্ড, স্বার্থের সংঘাত ঘোষণা এবং সরকার-নিয়ন্ত্রিত নয়—এমন বহুমাত্রিক বাছাই কমিটি গঠন করা।
- নিজস্ব পেশাদার তদন্ত ও আইন সহায়তা দল তৈরি করা; সরকারি প্রেষণ সীমিত ও স্বচ্ছ রাখা।
- আদালতসদৃশ বাধ্যতামূলক শুনানির বদলে ভুক্তভোগীবান্ধব, অ-প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অভিযোগ প্রক্রিয়া; বিনা খরচে আইন সহায়তা ও প্রতিশোধ থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
- সরকারি জবাব ও সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা, সব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ, সংসদে বার্ষিক প্রতিবেদন এবং অমান্য হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার স্পষ্ট পথ রাখা।
- মানবাধিকারকর্মী, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী; আইন পর্যালোচনা, চুক্তি-পরামর্শ, নাগরিক শিক্ষা ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে কাজ—সবকিছুকে পূর্ণ ম্যান্ডেটে ফিরিয়ে আনা।
শেষ কথা: অভিযুক্তের প্রতিবেদনে স্বাধীন তদন্ত হয় না
মানবাধিকার কমিশনের শক্তি শান্ত সময়ে বিবৃতি দেওয়ায় নয়; ক্ষমতাবান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সত্যে পৌঁছাতে পারায়। যে কমিশন একজন সাধারণ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারবে, কিন্তু অভিযুক্ত বাহিনীর নথি স্বাধীনভাবে দেখতে পারবে না, তাকে শক্তিশালী বলা যায় না—তার ক্ষমতার নকশাই উল্টো। দ্রুত বিল পাস করাকে সাফল্য না বানিয়ে সরকারের এমন আইন করা উচিত, যা আজকের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সরকারকেও জবাবদিহির মধ্যে রাখবে।
সম্পাদকীয় নোট: এই বিশ্লেষণ ১৭ মে ২০২৬-এ প্রণীত খসড়া এবং ৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত আইনগত পর্যালোচনা ও বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে। চূড়ান্ত বিলে পরিবর্তন এলে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো নতুন করে যাচাই করা উচিত।
তথ্যসূত্র
- The Business Standard: খসড়ায় কমিশন কেন এখনও তদন্তক্ষমতা থেকে বঞ্চিত
- টিআইবি: ধারাভিত্তিক পর্যালোচনা ও ১৯ দফা সুপারিশ
- যৌথ বিবৃতি: মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতায় বিলটি পশ্চাদপসরণ
- OHCHR: প্যারিস নীতিমালা ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ছয় মানদণ্ড
- জাতিসংঘ: জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন
- The Daily Star: কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তি
