NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

বাজেট ও জবাবদিহি

নতুন পে-স্কেল অনুমোদন: বাড়তি ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব প্রকাশই এখন সরকারের বড় পরীক্ষা

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৩১ আগস্ট ২০২৬

সরকার ২০ গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে। কম আয়ের কর্মীদের অগ্রাধিকার ইতিবাচক; কিন্তু ধাপে বাস্তবায়নের অর্থ, অর্থায়ন ও প্রাপ্যতার হিসাব প্রকাশ না হলে সিদ্ধান্তটি যাচাই করা যাবে না।

সরকারি বেতন কাঠামো, বাজেটের হিসাব ও জনজবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

সংক্ষেপে

৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬’ অনুমোদন করেছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস মন্ত্রিপরিষদ সচিবের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে তিন ধাপে এবং বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এটি দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত। কম বেতনের কর্মীদের বেশি হারে বৃদ্ধির ঘোষণা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। তবু জনস্বার্থের আসল প্রশ্ন এখন শুধু ‘বেতন কত বাড়ল’ নয়। বাড়তি অর্থ কোন অর্থবছরে কত লাগবে, তার অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, কোন কর্মী কখন কত পাবেন, পেনশন ও ভাতার নিয়ম কী হবে—এসব নথি কি সময়মতো সবার জন্য প্রকাশ করা হবে?

সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

বাসসের ইংরেজি ও বাংলা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬’ অনুমোদিত হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড থাকছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। সরকারের হিসাবে, নিম্নতম গ্রেডে বৃদ্ধি ১৪২ শতাংশ এবং উচ্চতম গ্রেডে ১০০ শতাংশ।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিম্নতম ও উচ্চতম গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এখানে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে: এটি বেতন-কাঠামোর একটি অনুপাত; সমাজের সব মানুষের আয়বৈষম্য কমে যাওয়ার পরিমাপ নয়। তবু সরকারি চাকরির ভেতরে নিচের দিকের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট নীতিগত পছন্দ।

সরকারের যুক্তি কী?

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বাসস ও দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫ এবং সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্তটি হয়েছে। সরকারের বিবেচনায় ছিল আর্থিক সক্ষমতা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান। পূর্ণ কাঠামো একবারে কার্যকর না করে দুই অর্থবছরে ধাপে বাস্তবায়নের যুক্তিও দেওয়া হয়েছে আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সামলাতে।

এই যুক্তিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার কারণ নেই। বেতন অনেক বছর অপরিবর্তিত থাকলে প্রকৃত আয় কমে যেতে পারে, দক্ষ কর্মী ধরে রাখা কঠিন হয় এবং নিম্ন বেতনের কর্মীদের জীবনযাত্রার চাপ বাড়ে। ধাপে বাস্তবায়ন নগদ ব্যয়ের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণে সাহায্যও করতে পারে। সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকার ভাতা এবং সব গ্রেডে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে।

হিসাবটি কত বড়, আর কী জানা দরকার

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ব্রিফিংয়ে আনুমানিক অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংশ্লেষ প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বলা হয়েছে। একই ব্রিফিংয়ে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্য যোগ্য সুবিধাভোগীর কথা এসেছে। এগুলো সরকার-ঘোষিত পরিকল্পনার অঙ্ক; এগুলোকে চূড়ান্ত পরিশোধিত ব্যয় বা ব্যক্তি-পিছু সমান সুবিধা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ কর্মীর গ্রেড, ধাপ, ভাতা, পেনশন-শ্রেণি এবং বাস্তবায়নের সময় আলাদা।

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রকাশ-শূন্যতা। বাসসের প্রতিবেদনে সরকার নিজেই বলেছে, অর্থ বিভাগ পরে প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে; সেখানে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধার বিস্তারিত থাকবে। অর্থাৎ ৩১ আগস্টের ঘোষণার সঙ্গে পূর্ণ কার্যবিধি প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করা যায় না। প্রজ্ঞাপন যখন আসবে, তখনই কর্মচারী ও নাগরিকেরা ঘোষিত হার, ধাপ, কার্যকারিতার তারিখ এবং বাজেট-সংস্থানের মিল পরীক্ষা করতে পারবেন।

আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা

দ্য ডেইলি স্টারের হিসাবে সর্বশেষ জাতীয় বেতনস্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। তাই ২০২৬ সালের এই সিদ্ধান্তকে ১১ বছরের ব্যবধানের পর নতুন কাঠামো হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু ২০১৫ সালের নামমাত্র বেতন ও ২০২৬ সালের নামমাত্র বেতন পাশাপাশি রাখলেই কর্মচারীর প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বদলেছে, তার উত্তর মেলে না। সেই তুলনায় একই সময়ের মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় লাগবে। ঘোষণায় মূল্যস্ফীতির কথা আছে, কিন্তু গ্রেডভিত্তিক সেই হিসাব এখনো প্রকাশিত কর্মপত্রে দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের জুলাই ২০২৬ মিশন-সারাংশ বলছে, বাংলাদেশ তখনও রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য চাপে ছিল; মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আমদানি ও ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়ে চাপ আরও বাড়িয়েছে। এটি নতুন পে-স্কেলের বিরুদ্ধে কোনো রায় নয়। বরং বোঝায়, বেতন-সংশোধনের সঙ্গে রাজস্ব, অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা প্রকাশ করা কেন জরুরি।

সমস্যাটা কোথায়?

ঘোষিত অঙ্ক নিয়ে প্রথম সহজ পরীক্ষাটি হলো সময়ভিত্তিক হিসাব। ‘বার্ষিক’ অতিরিক্ত ব্যয় একটি মোট ধারণা দেয়, কিন্তু চলতি অর্থবছরে কত মাসের ব্যয় ধরা হবে এবং পরের অর্থবছরে পূর্ণ বছরের ব্যয় কত হবে, তা আলাদা না করলে বাজেটের চাপ বোঝা যায় না। একইভাবে মূল বেতন, বাড়িভাড়া বা অন্য ভাতা, পেনশন এবং প্রশাসনিক সফটওয়্যার বা বেতন-প্রক্রিয়াকরণের খরচ এক অঙ্কে মিশে গেলে কোন অংশে ব্যয় বাড়ছে তা অস্পষ্ট থাকে। অর্থ বিভাগের নথিতে তাই প্রতিটি উপাদান আলাদা দেখানো উচিত।

দ্বিতীয় পরীক্ষা হলো অর্থের উৎস। একটি খাতে নতুন ব্যয় রাখতে গেলে অতিরিক্ত রাজস্ব, অন্য খাতের সাশ্রয়, ঋণ, বা আগের বরাদ্দের পুনর্বিন্যাস—কোন পথ নেওয়া হচ্ছে তা বলা দরকার। কোনো পথই নিজে থেকে বেআইনি বা অগ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু পথটি গোপন থাকলে নাগরিক বুঝতে পারেন না, বাড়তি বেতন কি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা বা উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর চাপ ফেলছে, নাকি সরকার সত্যিই বাড়তি রাজস্ব বা দক্ষতার সাশ্রয় দিয়ে তা সামলাচ্ছে।

সমস্যা বেতন বাড়ানোতে নয়; সমস্যা দেখা দেবে যদি বড় একটি পুনরাবৃত্ত ব্যয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যাচাইযোগ্য অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন-তালিকা খোলা না হয়। ‘মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্কে’ সংস্থানের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু নাগরিকের বোঝার মতো একটি সারণিতে অন্তত চারটি বিষয় দরকার: ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮-এ আলাদা নগদ ব্যয়; রাজস্ব, সাশ্রয়, ঋণ বা অন্য কোন উৎস থেকে তা আসবে; প্রতিটি ধাপে কারা কত হারে পাবেন; এবং এই ব্যয় অন্য খাতের বরাদ্দে কী পরিবর্তন আনবে।

আরেকটি ঝুঁকি হলো প্রত্যাশার অস্পষ্টতা। ‘১ জুলাই থেকে কার্যকর’ কথাটি কর্মীর কাছে বকেয়া, বেতন-স্লিপ ও হাতে পাওয়া টাকার প্রশ্ন তোলে। আবার ‘তিন ধাপ’ কথাটি মোট বৃদ্ধির তিন সমান কিস্তি বোঝায় কি না, নাকি গ্রেড বা স্তরভেদে আলাদা—এটি প্রজ্ঞাপনেই স্পষ্ট হওয়া দরকার। অস্পষ্ট নিয়ম ভুল গণনা, বৈষম্য বা অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তথ্য প্রকাশ হলে কীভাবে বাস্তবায়ন মাপা যাবে

একটি ব্যবহারযোগ্য প্রকাশ-ব্যবস্থা জটিল হওয়ার দরকার নেই। প্রথম পাতায় থাকবে গ্রেডভিত্তিক নতুন মূল বেতন, কোন তারিখে কোন ধাপ, এবং পুরোনো থেকে নতুন বেতনে যাওয়ার উদাহরণ। দ্বিতীয় পাতায় থাকবে পেনশন ও ভাতার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজ এবং আবেদন বা আপিলের সময়সীমা। তৃতীয় পাতায় থাকবে মাসভিত্তিক বাস্তব ব্যয়, সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও বকেয়া পরিশোধের অগ্রগতি। ব্যক্তিগত বেতন-তথ্য প্রকাশের প্রশ্ন নেই; প্রকাশ্য হওয়া দরকার নিয়ম, সমষ্টিগত হিসাব এবং সেবার সময়সীমা।

এই প্রকাশনা কর্মচারীরও সুরক্ষা। কোনো দপ্তরে ভুল ধাপ প্রয়োগ হলে বা ভাতা না এলে কর্মী একই সরকারি নিয়মের সঙ্গে নিজের বেতন-স্লিপ মিলিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন। আবার সংসদীয় কমিটি, সাংবাদিক ও গবেষকরা বাস্তব ব্যয়কে অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারবেন। ভুল ধরা পড়লে তা প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক অস্ত্র না হয়ে সংশোধনের প্রশাসনিক পথ পাবে—যদি সরকার তথ্যের সংস্করণ, তারিখ এবং সংশোধনের কারণও প্রকাশ করে।

কার লাভ, কার ক্ষতি?

সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা সরাসরি সম্ভাব্য সুবিধাভোগী। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা কম আয়ের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতাও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার নতুন উপাদান। কিন্তু জনব্যয় কেবল সুবিধাভোগীর বিষয় নয়। করদাতা, সরকারি সেবার ব্যবহারকারী এবং অন্য সামাজিক খাতের মানুষও জানতে চাইবেন—এই ব্যয়ের বিনিময়ে সেবা-মান, কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতে কী পরিবর্তন আসবে।

সমতার আরেকটি দিকও আছে। একই গ্রেডের দুই কর্মী ভিন্ন দপ্তর, এলাকা বা নিয়োগ-তারিখের কারণে আলাদা নিয়মে পড়ছেন কি না, তা নির্ণয়ে সবার জন্য একই ব্যাখ্যা দরকার। পেনশনভোগীর ক্ষেত্রেও পুরোনো ও নতুন অবসরের তারিখ, ন্যূনতম পেনশন, পারিবারিক পেনশন এবং চিকিৎসা বা বিশেষ ভাতার শর্ত আলাদা হতে পারে। এগুলো প্রজ্ঞাপনে না থাকলে গুজব ও দালালনির্ভর তথ্য বাড়ে। সোজা ভাষার সরকারি প্রশ্নোত্তর, বেতন-হিসাবের নমুনা এবং অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট মাধ্যম এই ঝুঁকি কমাতে পারে।

তাই পে-স্কেলকে সরকারি কর্মচারীর বিপরীতে সাধারণ মানুষের বিতর্ক বানানো সঠিক নয়। ন্যায্য বেতন ও কার্যকর জনসেবা পরস্পরের বিরোধী হতে বাধ্য নয়। তবে বেতন বাড়লে উপস্থিতি, সময়মতো সেবা, অভিযোগ নিষ্পত্তি, পদ শূন্যতা পূরণ ও দপ্তরভিত্তিক ফলের সূচক কী হবে—সরকারের তা দেখানোর দায় বাড়ে। বেতন কেবল ব্যয় নয়, সেবার সক্ষমতায় বিনিয়োগ—এ দাবি তখনই শক্ত হবে যখন ফলও মাপা যাবে।

ফল মাপার মানে কোনো কর্মচারীকে ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহ করা নয়। বরং দপ্তরভিত্তিক সমষ্টিগত সূচক ব্যবহার করা যায়: আবেদন নিষ্পত্তির গড় সময়, অভিযোগের উত্তর, অনলাইন সেবার প্রাপ্যতা, নিয়োগ ও পদোন্নতির অপেক্ষার সময়, এবং জরুরি সেবায় উপস্থিতির হার। সব সূচক সব দপ্তরে প্রযোজ্য হবে না; তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অল্প কয়েকটি উপযুক্ত সূচক প্রকাশ করতে হবে। এতে নাগরিক বুঝবেন কোথায় অর্থের সঙ্গে সেবার উন্নতি হচ্ছে, আর কর্মীরাও জানবেন কোন কাঠামোগত বাধা সমাধান দরকার।

সর্বশেষ পরীক্ষা হবে সংশোধনের পথ। কোনো গ্রেড, পেনশন-শ্রেণি বা ভাতার নিয়মে ভুল ধরা পড়লে কোন দপ্তর কত দিনের মধ্যে তা ঠিক করবে, সেটিও প্রকাশ করা দরকার। সংশোধিত নথির সংস্করণ-তারিখ ও পরিবর্তনের কারণ খোলা থাকলে একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন কাগজ ঘুরে বেড়ানোর ঝুঁকি কমে।

সরকারের যুক্তি কতটা টেকে?

জীবনযাত্রার ব্যয় ও দীর্ঘ বিরতির যুক্তি শক্তিশালী। নিচের গ্রেডে বেশি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও ঘোষিত ন্যায্যতার লক্ষ্যটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর ধাপে বাস্তবায়ন মূল্যস্ফীতি ও বাজেটের ওপর আকস্মিক ধাক্কা কমাতে পারে। কিন্তু এই যুক্তিগুলোর পরীক্ষা এখন ফলাফলে। মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সত্যিই নিয়ন্ত্রিত হলো কি না, ব্যয় অনুমানের সঙ্গে বাস্তব ব্যয় মিলল কি না, এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মীরা প্রতিশ্রুত সময়ে সুবিধা পেলেন কি না—এসবের মাসিক ও ত্রৈমাসিক তথ্য ছাড়া ‘সুশৃঙ্খল বাস্তবায়ন’ প্রমাণ করা যাবে না।

বড় ছবিটা কী?

এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাষ্ট্রের দুটি দায় একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রথমটি কর্মচারীর প্রতি: পরিষ্কার নিয়ম, সময়মতো বেতন ও ভাতা, এবং ভুল হলে দ্রুত প্রতিকার। দ্বিতীয়টি জনগণের প্রতি: বড় ব্যয়ের পূর্ণ বাজেট-হিসাব ও দৃশ্যমান সেবা-ফল। কেবল মোট অঙ্ক বা শতাংশ দিয়ে কোনোটি পূরণ হয় না। পরিকল্পনা, প্রজ্ঞাপন, বাস্তব ব্যয় ও ফলাফলের মধ্যে একটি প্রকাশ্য সেতু দরকার।

উপসংহার: অনুমোদনের পর প্রয়োজন খোলা বাস্তবায়ন-নকশা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির এবং সরকারের জন্য বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। কম আয়ের গ্রেডে অগ্রাধিকার, পেনশনভোগীর কথা ভাবা এবং ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা ইতিবাচক দিক। কিন্তু সাফল্যের প্রমাণ হবে প্রজ্ঞাপনে ও পরের হিসাবগুলোতে।

সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর এখন আরেকটি ঘোষণা নয়। সেটি হবে এমন নথি, যেখানে কর্মচারী নিজের প্রাপ্য যাচাই করতে পারবেন এবং নাগরিক বুঝতে পারবেন—কত খরচে, কোন সময়ে, কোন সেবার বিনিময়ে রাষ্ট্র এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ব্রিফিং—‘নবম জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর’ (৩১ আগস্ট ২০২৬)
  2. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ‘জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন’ (৩১ আগস্ট ২০২৬)
  3. দ্য ডেইলি স্টার: ‘Govt approves National Pay Scale 2026’ (৩১ আগস্ট ২০২৬)
  4. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল: Bangladesh IMF staff visit—রাজস্ব, মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক চাপের প্রেক্ষাপট (১৬ জুলাই ২০২৬)