সংক্ষেপে
টিকা দেওয়ার পরও যদি রোগীর দৈনিক গড়, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু—তিনটিই আবার বাড়ে, তাহলে শুধু মোট কত ডোজ দেওয়া হলো বলে আশ্বস্ত হওয়া যায় না। ডিজিএইচএসের তথ্যের ভিত্তিতে ২ সেপ্টেম্বরের দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, জুলাইয়ের ৩১ হাজার ৩২৭ থেকে আগস্টে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গের নথিভুক্ত রোগী বেড়ে ৩২ হাজার ৯৩৪ হয়েছে। একই সময়ে ভর্তি ২৬ হাজার ৩৬০ থেকে ২৭ হাজার ৪৫৮ এবং মৃত্যু ১১৯ থেকে ১৩৬। এগুলো এক মাসের ওঠানামা মাত্র বলে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়, কারণ জরুরি টিকাদান কর্মসূচির পর জুন ও জুলাইয়ে তিন সূচকই কমছিল।
সরকারের প্রতিক্রিয়া থেমে নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও ১৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও ২৫ লাখ ডোজ কেনার উদ্যোগ আছে—১৮ আগস্টে এ তথ্য জানিয়েছে bdnews24.com। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, বাংলাদেশে নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল, হাসপাতাল প্রস্তুতি এবং টিকা সংগ্রহ জোরদারের কাজ চলছে। এগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কিন্তু আগস্টের উল্টো প্রবণতা দেখাচ্ছে, জাতীয় মোটের পাশে এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি অন্য: কোন জেলা, কোন বয়স এবং কোন ধরনের বসতিতে শিশুরা এখনো বাদ পড়ছে?
সংখ্যার মধ্যে সতর্কবার্তা
তুলনাটি সমান ৩১ দিনের বলে এখানে দৈনিক গড় দেখা বেশি সৎ। দ্য ডেইলি স্টারের সংকলিত ডিজিএইচএস তথ্যে জুলাইয়ে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ১০ জন রোগীর বিপরীতে আগস্টে তা ১ হাজার ৬২; ভর্তি ৮৫০ থেকে ৮৮৬; আর মৃত্যু ৩ দশমিক ৮৪ থেকে ৪ দশমিক ৩৯। অর্থাৎ জরুরি কর্মসূচির পরও সংক্রমণ ও চিকিৎসা-চাপ কমার ধারাটি আগস্টে ভেঙেছে। এটি প্রমাণ করে না যে টিকাদান ব্যর্থ, কিংবা সব বৃদ্ধির একটিই কারণ। বরং এটি প্রমাণ করে যে ফলাফলকে জাতীয় একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ রেখে দেওয়া নিরাপদ নয়।
১ সেপ্টেম্বর সকাল আটটা পর্যন্ত ডিজিএইচএসের হিসাবে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে সম্মিলিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৭৯। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ৯৯টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত এবং ৮৮০টি সন্দেহভাজন হিসেবে নথিভুক্ত। এই দুটি শ্রেণি এক নয়; তাই ৯৭৯ জনকে সবাই পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম-মৃত্যু বলা ভুল হবে। কিন্তু সন্দেহভাজন শিশুমৃত্যুর এই বড় বোঝাও জনস্বাস্থ্যের জরুরি সংকেত, এবং প্রতিটি মৃত্যুর কারণ, টিকা-অবস্থা ও চিকিৎসায় পৌঁছানোর সময় আলাদা করে পর্যালোচনা করার দাবি রাখে।
সরকার কী করেছে, আর কেন তা যথেষ্ট নয়
এ বছরের শুরুতে পরিস্থিতির ব্যাপ্তি ছোট ছিল না। ২৩ এপ্রিলের রোগ-প্রাদুর্ভাব বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থায় ৫৮ জেলায় হাম বাড়ার কথা জানিয়েছিল। প্রথম ধাপে ৫ এপ্রিল ১৮ অগ্রাধিকার জেলার ৩০ উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু হয়। সংস্থাটির মূল্যায়নে সেই সময়ে ঝুঁকি ছিল উচ্চ; কারণ বহু জেলায় সংক্রমণ, ঝুঁকিতে থাকা শিশু এবং নথিভুক্ত রোগপ্রতিরোধ-ঘাটতি ছিল।
মে মাসে কর্মসূচির শুরুতে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে পৌঁছানোর খবর ছিল। পরে প্রশাসনিক গণনায় লক্ষ্য ছাড়িয়ে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ টিকা দেওয়ার কথা আসে। কিন্তু ১৮ আগস্টের সমন্বয় সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব নিজেই বলেন, কিছু এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু বাদ পড়েছে; তাই হাতে থাকা ১৬ লাখ ডোজ দেওয়া হবে। এই স্বীকারোক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য-অতিক্রমের প্রশাসনিক হার এবং বাস্তবে প্রতিটি শিশুকে পৌঁছানো একই জিনিস নয়। একই শিশুর একাধিক নথি, জনসংখ্যা-অনুমানের ত্রুটি, চলমান পরিবার, শহুরে বস্তি বা দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে না পারা—কোন কারণে ফারাক, তা না জেনে কোনো একক ব্যাখ্যা ধরে নেওয়া যাবে না।
এখানেই সরকারের শক্তিশালী যুক্তিটিও মানতে হবে। প্রাদুর্ভাবের সময় দ্রুত গণটিকাদান অনেক ঝুঁকিপূর্ণ শিশুকে সুরক্ষা দেয়; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে বাদ পড়া শিশুদের কাছে পৌঁছানোর কার্যকর কৌশল বলে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রোগী শনাক্তকরণ, তথ্য-প্রতিবেদন, বিচ্ছিন্নকরণ এবং হাসপাতাল প্রস্তুতি জোরদারও চলছে। একটি প্রচারাভিযানের পরও কিছু সময় সংক্রমণ চলতে পারে, বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা নেওয়ার বয়সের নিচে বা আগের নিয়মিত টিকার বাইরে ছিল। তাই সরকারের কাজকে কেবল এক মাসের ফল দিয়ে ব্যর্থ বলা ঠিক নয়।
তবু জবাবদিহির ফাঁকটি কোথায়
ফাঁকটি ফলাফলের ভূগোলে। জাতীয় ড্যাশবোর্ডে মোট রোগী ও টিকার সংখ্যা থাকা দরকার, কিন্তু জেলা, উপজেলা, বয়স ও টিকা-অবস্থা অনুযায়ী একই সময়ে তিনটি তথ্য না থাকলে ব্যবস্থাপনার দুর্বল জায়গা ধরা যায় না। একটি জেলায় টিকার কাগুজে কভারেজ খুব বেশি দেখালেও যদি সেখানে রোগী বাড়ে, তাহলে প্রশ্ন হবে—নিবন্ধন দ্বিগুণ হয়েছে কি, লক্ষ্যসংখ্যা ভুল কি, ঠান্ডা-শৃঙ্খল বা পৌঁছানোর সমস্যা আছে কি, নাকি রোগ-নজরদারিই দেরিতে হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুমান দিয়ে নয়, একই ছকে প্রকাশিত তথ্য দিয়ে দিতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ২০২৪-২৫ সালে হাম-রুবেলা টিকার জাতীয় ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানের ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী সম্পূরক প্রচারাভিযান না হওয়া সংবেদনশীল শিশুর সংখ্যা বাড়িয়েছে। এই পটভূমির বড় অংশ বর্তমান সরকারের আগের সময়ের। তাই সব দায় এক সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সৎ বিশ্লেষণ হবে না। কিন্তু বর্তমান সরকারের দায়িত্ব এখানেই স্পষ্ট: পুরোনো ঘাটতির কোন অংশ কোথায় রয়ে গেছে, নতুন কর্মসূচিতে তা কতটা পূরণ হলো, এবং আগস্টের বৃদ্ধি ঠেকাতে পরের পদক্ষেপ কী—তার পরিমাপযোগ্য উত্তর দেওয়া।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যও একই দিকে যায়: তথ্য বিশ্লেষণ করে ভৌগোলিক, বয়সভিত্তিক বা সামাজিক-অর্থনৈতিক কভারেজ-ফাঁক চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান দরকার। এটি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্লোগান নয়; চলমান কর্মসূচিকে কার্যকর করার প্রযুক্তিগত শর্ত। কোনো উপশহর, চর, বস্তি, পাহাড়ি এলাকা বা সীমান্তবর্তী এলাকায় ঝুঁকি বেশি হলে সবার জন্য একই প্রচারপত্র যথেষ্ট নয়।
বয়সের প্রশ্নটিও আলাদা করে দেখতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এপ্রিলের মূল্যায়নে আক্রান্তদের বড় অংশ ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু; অনেক শিশু আবার নিয়মিত টিকার বয়সে পৌঁছানোর আগেই সংক্রমিত হচ্ছিল। তাদের জন্য ‘নিজে টিকা নাও’ বার্তা যথেষ্ট নয়। পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্য, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্রুত শনাক্তকরণ, জ্বর ও র্যাশের পরামর্শ, নিরাপদ অপেক্ষাকক্ষ এবং সময়মতো রেফারেল—সব মিলিয়েই ঝুঁকি কমে। তাই শুধু টিকা-বিতরণ বিভাগের ফল নয়, জেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বিত প্রস্তুতিও প্রকাশ্য মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত।
তথ্য প্রকাশের আরেকটি লাভ হলো ভুল হলে তা দ্রুত ধরা যায়। কোনো জেলায় লক্ষ্যশিশুর সংখ্যা কম ধরা পড়ে থাকলে প্রশাসনিক কভারেজ ১০০ শতাংশের বেশি দেখা সম্ভব, কিন্তু তাতে বোঝায় না যে সব পরিবারে সুরক্ষা পৌঁছেছে। আবার একই শিশুর তথ্য দুইবার ওঠা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া, বা বেসরকারি সেবার রিপোর্ট দেরিতে আসাও সংখ্যা বদলাতে পারে। এসব সম্ভাবনাকে দুর্নীতির প্রমাণ বলা যাবে না। কিন্তু পদ্ধতি, সংশোধনের তারিখ এবং স্থানীয় যাচাইয়ের ফল না জানালে জনগণও বুঝবে না কোন সংখ্যার ওপর আস্থা রাখবে।
বর্তমান নথিতে একটি ইতিবাচক ভিত্তিও আছে। ডিজিএইচএসের আলাদা হাম-প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উল্লেখ করা সাপ্তাহিক পরিস্থিতি-প্রতিবেদন দেখায়, তথ্য সংগ্রহের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। পরের ধাপটি হলো সেই তথ্যকে সিদ্ধান্তের সঙ্গে জোড়া। উদাহরণ হিসেবে, কোনো উপজেলায় রোগী বাড়লে সেখানে কত ঘণ্টার মধ্যে দল গেছে, কত পরিবার পরিদর্শন হয়েছে, কত সন্দেহভাজন নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এবং টিকা-ঘাটতি পূরণ হলো কি না—এ ধরনের সূচক জানানো যায়। এতে মাঠকর্মীর ওপর দোষ চাপানোর বদলে ব্যবস্থার কোথায় সহায়তা দরকার তা দৃশ্যমান হবে।
এখানে আন্তর্জাতিক মানটিও সহায়ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুই ডোজের টিকায় সব এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ সমজাতীয় কভারেজ বজায় রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবাস্থলে দ্রুত রোগ-নজরদারির পরামর্শ দেয়। বাংলাদেশের প্রশাসনিক লক্ষ্য ও বাস্তব কভারেজ সেই মানের সঙ্গে কীভাবে মেলে, তা একবার প্রকাশ করলেই সব জটিলতার সমাধান হবে না। কিন্তু তখন অন্তত সরকার, সংসদ, চিকিৎসক ও অভিভাবক একই প্রশ্নে একই মানদণ্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
ফল মাপার সময় আগের সরকারের ব্যর্থতা আর বর্তমান সরকারের প্রতিক্রিয়াকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। ২০২৪-২৫ সালের টিকা-ঘাটতি ও প্রচারাভিযানের বিরতি থেকে যে ঝুঁকি জমেছে, তার ফল এক মাসে মুছে যাওয়ার কথা নয়। বর্তমান দায়িত্ব হলো সেই উত্তরাধিকারকে অজুহাত না বানিয়ে একটি প্রকাশ্য পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় বদলানো। কোথায় পিছিয়ে আছে, কত দিনের মধ্যে পৌঁছাবে, কারা তদারক করবে এবং পরের মাসে কোন সূচক দিয়ে সাফল্য বিচার হবে—এই চারটি উত্তর থাকলেই সরকার তার পদক্ষেপের ন্যায্য মূল্যায়ন চাইতে পারবে।
কোন হিসাব প্রকাশ হলে আস্থা বাড়বে
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিএইচএস প্রতি সপ্তাহে একটি খোলা, ব্যক্তিগত পরিচয়বিহীন তালিকা প্রকাশ করতে পারে। সেখানে প্রতিটি জেলা ও উচ্চঝুঁকির উপজেলার জন্য থাকবে: আনুমানিক লক্ষ্যশিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া শিশু, অতিরিক্ত প্রচারাভিযানে পৌঁছানো শিশু, শূন্য-ডোজ বা বাদ পড়া শিশুর অনুমান, পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন রোগী, ভর্তি, মৃত্যু এবং নমুনা পরীক্ষার সময়। আলাদা করে জানাতে হবে, কোন তারিখের তথ্য পরে সংশোধিত হলো। এতে অসম্পূর্ণ তথ্য লুকানোর বদলে তার সীমাও বোঝা যাবে।
দ্বিতীয়ত, ১৬ লাখ অতিরিক্ত ডোজের জন্য আগে থেকেই ফলের মানদণ্ড দরকার: কোন এলাকার জন্য কত বরাদ্দ, কবে পৌঁছাবে, কত শিশুকে লক্ষ্য করা হচ্ছে এবং চার সপ্তাহ পরে সেখানে রোগী ও ভর্তি কী হলো। শুধু ‘টিকা দেওয়া হয়েছে’ বললে ব্যবস্থাপনা মাপা যায় না। তৃতীয়ত, প্রতিটি হাম-সম্পর্কিত শিশুমৃত্যুর গোপনীয়তা রক্ষা করে একটি দ্রুত পর্যালোচনার সারাংশ প্রকাশ করা উচিত—বয়স, টিকা-অবস্থা জানা ছিল কি না, প্রথম কোথায় চিকিৎসা নিয়েছে, রেফারেলে বিলম্ব হয়েছে কি না, এবং প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, বিচ্ছিন্নকরণ ও ভিটামিন এ ছিল কি না।
- ডিজিএইচএস: ১৪ দিনের মধ্যে জেলা ও উপজেলা-ভিত্তিক টিকা-ফাঁক এবং রোগীর ড্যাশবোর্ড প্রকাশ করুক।
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: ১৬ লাখ অতিরিক্ত ডোজের বরাদ্দ, সময়সূচি ও চার-সপ্তাহের ফল প্রকাশ করুক।
- ইপিআই ও স্থানীয় প্রশাসন: বস্তি, চর, সীমান্ত ও চলমান পরিবারের জন্য আলাদা পৌঁছানোর পরিকল্পনা জানাক।
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ: শিশু রোগীর জন্য বিচ্ছিন্নকরণ, রেফারেল ও প্রয়োজনীয় সরবরাহের সাপ্তাহিক সক্ষমতা জানাক।
- সংসদের স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত কমিটি: মাসে একবার প্রকাশ্য সূচক দিয়ে এই প্রতিক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করুক।
শেষ কথা
হাম প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা—এ নিয়ে বিতর্ক নেই। তাই জরুরি টিকা, দ্রুত সংগ্রহ ও অতিরিক্ত শিশুকে খুঁজে বের করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা উচিত। কিন্তু আগস্টের তথ্যটি বলে, কাজের পরিমাণ আর কাজের ফল এক জিনিস নয়। যে পরিবারটি জ্বর, র্যাশ বা শ্বাসকষ্টে শিশুকে হাসপাতালে নেয়, তার কাছে জাতীয় কভারেজের শতাংশের চেয়ে জরুরি হলো সময়মতো টিকা, রোগ শনাক্ত, নিরাপদ চিকিৎসা এবং সৎ তথ্য।
সরকার যদি সত্যিই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, তাহলে পরের পরীক্ষাটি সহজ ও কঠিন—একসঙ্গে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গার নাম, বাদ পড়া শিশুর আনুমানিক সংখ্যা, টিকার পৌঁছানো এবং ফল নিয়মিত, প্রকাশ্যভাবে ও সময়মতো প্রকাশ করতে হবে। সংখ্যার সাফল্য তখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে, যখন যে শিশু সংখ্যার বাইরে রয়ে গেছে, রাষ্ট্র তার কাছেও পৌঁছাতে পারবে।
তথ্যসূত্র
- ডিজিএইচএস: হাম প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ও বুলেটিন (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেখা হয়েছে)
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: Disease Outbreak News—Measles in Bangladesh (২৩ এপ্রিল ২০২৬)
- দ্য ডেইলি স্টার: আগস্টে হাম পরিস্থিতি আবার বেড়েছে (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ডিজিএইচএসের ১ সেপ্টেম্বরের মৃত্যু, রোগী ও ভর্তি তথ্য
- bdnews24.com: কভারেজ-ফাঁক চিহ্নিত হওয়ার পর ১৬ লাখ অতিরিক্ত শিশুকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত (১৮ আগস্ট ২০২৬)
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ: মে মাসে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি (১৯ মে ২০২৬)
