হাম-সম্পর্কিত সম্মিলিত মৃত্যু ১,০০৯-এ পৌঁছেছে। এটি আর কেবল পুরোনো টিকা-ঘাটতির গল্প নয়; এটি এখনকার প্রতিক্রিয়ার পরীক্ষাও। ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ডিজিএইচএসের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আমাদের ২ সেপ্টেম্বরের লেখায় মৃত্যু ছিল ৯৭৯। আট দিনে সংখ্যাটি আরও ৩০ বেড়েছে। জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান যে শুরু হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। কিন্তু টিকা দেওয়া হচ্ছে—এই বাক্যটি ১,০০৯টি মৃত্যুর পরে যথেষ্ট উত্তর নয়। কোথায় টিকা পৌঁছেছে, কোথায় পৌঁছায়নি, কোন বয়সের শিশু বাদ পড়ছে এবং কোন হাসপাতাল ভেঙে পড়ছে—এই হিসাব প্রকাশ করাই এখন সরকারের প্রথম দায়িত্ব।
সংখ্যাটি কী বলছে, কী বলছে না
সর্বশেষ দৈনিক তথ্যে ১,৬৮,৭৪৫টি সন্দেহভাজন রোগী, ১৯,৯৩৩টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ১,৪৮,৫০৫টি হাসপাতালে ভর্তির কথা আছে। একই তথ্যে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ১,৪২,৮৮৮। এগুলো বড় সংখ্যা, কিন্তু এগুলো থেকে সবকিছুর কারণ বের করা যায় না। সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগী এক নয়। মৃত্যু-তথ্যের মতো রোগী-তথ্যও পরীক্ষার সক্ষমতা, রিপোর্টিং এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবু একটি সিদ্ধান্ত পরিষ্কার। প্রতিদিন নতুন রোগী ও মৃত্যু যোগ হচ্ছে, এবং পরিবারগুলোকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপ, দূরের জেলা থেকে রেফার হওয়া শিশুর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসকদের দীর্ঘস্থায়ী চাপের কথা নথিবদ্ধ করেছে। জাতীয় মোটের পেছনে এই বাস্তবতা হারিয়ে গেলে নীতির সাফল্য মাপা যাবে না।
সরকারের প্রতিক্রিয়া আছে—তাই ফলও দেখাতে হবে
সরকার বসে ছিল—এমন দাবি প্রমাণে টেকে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি বলছে, বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও ও গ্যাভির সহায়তায় ১৮টি উচ্চঝুঁকির জেলার ৩০টি উপজেলায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১২ লাখের বেশি শিশুকে লক্ষ্য করে জরুরি হাম-রুবেলা কর্মসূচি শুরু করে। পরিকল্পনা ছিল ধাপে ধাপে আরও এলাকা ও সিটি করপোরেশনে সম্প্রসারণের।
ডব্লিউএইচও তখনই সতর্ক করেছিল, দ্রুত সম্প্রসারণ না হলে সংক্রমণ বাড়বে, স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ পড়বে এবং গুরুতর ফলের ঝুঁকি বাড়বে। সংস্থাটি উচ্চঝুঁকির এলাকায় ভিড়, সীমিত আইসোলেশন এবং রেফারেলের ঘাটতির কথাও বলেছিল। অর্থাৎ আজকের চাপ একেবারে অদেখা বিপদ ছিল না। জরুরি কর্মসূচির মূল্য প্রমাণ হয় তার পৌঁছানো ও ফল দিয়ে, উদ্বোধন দিয়ে নয়।
বর্তমান সরকার বলছে, আগের পরিকল্পনা-ব্যর্থতা ও টিকা-ঘাটতি তাকে পিছিয়ে দিয়েছে। অতীতের ব্যর্থতা অবশ্যই তদন্তের বিষয়। ২০২৪ সালের টিকাদান কার্যক্রমের ব্যাঘাত এবং কোভিডকালের ফাঁক শিশুদের সুরক্ষায় ঘাটতি জমিয়েছে—আন্তর্জাতিক সূত্র ও চিকিৎসকদের বর্ণনাতেও সেই পটভূমি আছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিটি দিন বর্তমান সরকারের দায়িত্বের দিন। উত্তরাধিকার ব্যাখ্যা হতে পারে, অব্যাহতি নয়।
জাতীয় গড় দিয়ে কোনো শিশুকে খুঁজে পাওয়া যায় না
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের অনুমান উদ্ধৃত করে বলেছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় হাম-টিকা পেয়েছে প্রায় ৮৬ শতাংশ শিশু; ২০২৪ সালে অনুমানটি ছিল ৯৩ শতাংশ। এটি নয় শতাংশ-পয়েন্টের পতন। এই জাতীয় অনুমান সতর্কবার্তা, কিন্তু সিদ্ধান্তের শেষ তথ্য নয়। কারণ ৮৬ শতাংশের গড়ের ভেতরে কোনো জেলায় কভারেজ ৯৫ শতাংশের কাছাকাছি, আর অন্য জেলায় বিপজ্জনকভাবে কম থাকতে পারে।
হাম ঠেকাতে উচ্চ কভারেজ দরকার। ডব্লিউএইচওর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংক্রমণ থামাতে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাসুরক্ষা প্রয়োজন। এই মানকে জেলা, উপজেলা, বয়স ও টিকার ডোজ অনুযায়ী না দেখালে কোথায় দ্রুত দল পাঠাতে হবে, কোথায় কোল্ড-চেইন মেরামত দরকার, বা কোথায় অভিভাবকদের কাছে তথ্য পৌঁছায়নি—তা বোঝা যায় না।
ডিজিএইচএসের হাম-প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভিত্তি। এখন সেটিকে সিদ্ধান্তের উপযোগী খোলা হিসাব বানাতে হবে। প্রতিদিনের জাতীয় সংখ্যা রাখার সঙ্গে প্রতি জেলার নতুন সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগী, মৃত্যুর পরীক্ষাগার-অবস্থা, বয়স, টিকা নেওয়ার অবস্থা, ভর্তি, শয্যা-চাপ এবং ৭ ও ২৮ দিনের ফল একই কাঠামোয় প্রকাশ করা সম্ভব। ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশের প্রয়োজন নেই।
হিসাবটি কেমন হওয়া উচিত
এখানে সরকারের জন্য পাঁচটি সরাসরি কাজ আছে। এগুলো নতুন কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এগুলো একটি জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়াকে যাচাইযোগ্য করার ন্যূনতম শর্ত।
- ডিজিএইচএস সাত দিনের মধ্যে প্রতিটি জেলার লক্ষ্য শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া শিশু, বাদ পড়া শিশু এবং কভারেজের হালনাগাদ সারণি প্রকাশ করুক।
- সন্দেহভাজন ও পরীক্ষাগারে নিশ্চিত মৃত্যু আলাদা রেখেই জেলা ও বয়সভিত্তিক মৃত্যুর নিয়মিত পর্যালোচনা প্রকাশ করুক।
- যে জেলায় ভর্তি ও রেফারেল চাপ বেশি, সেখানে শয্যা, অক্সিজেন, আইসোলেশন ও শিশুরোগ-সেবার সক্ষমতা কত—তা সাপ্তাহিকভাবে জানাক।
- প্রতিটি উচ্চঝুঁকির জেলায় কতটি বাড়ি-ভিত্তিক বা ভ্রাম্যমাণ টিকাদান সেশন হয়েছে এবং কত শিশু সেখানে টিকা পেয়েছে, তা দেখাক।
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ডব্লিউএইচও যৌথভাবে মাসিক ফল-পর্যালোচনা প্রকাশ করুক, যাতে টিকার কভারেজ বাড়ার সঙ্গে রোগী ও মৃত্যু কমছে কি না দেখা যায়।
সন্দেহভাজন মৃত্যু যাচাইয়ের ফাঁকও জবাবদিহির বিষয়
৯০৯টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর অর্থ এই নয় যে সব শিশুর মৃত্যুর কারণ পরীক্ষাগারে নির্ধারিত। এই অনিশ্চয়তা নিজেই একটি কাজের তালিকা তৈরি করে। কোন জেলায় নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষা দেরি হচ্ছে? কত মৃত্যুর ক্লিনিক্যাল পর্যালোচনা হয়েছে? নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা অন্য জটিলতা কীভাবে নথিবদ্ধ হচ্ছে? পরিবারকে দায়ী করে এই প্রশ্ন এড়ানো যাবে না। উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব নজরদারি ও চিকিৎসা ব্যবস্থার।
এখানে একটি ন্যায্য সীমাও মানতে হবে। এই দৈনিক সংখ্যা থেকে কোনো ব্যক্তি, হাসপাতাল বা কর্মকর্তার অপরাধ প্রমাণিত হয় না। আবার প্রমাণের সেই সীমা সরকারের জন্য নীরব থাকার লাইসেন্সও নয়। মৃত্যুর প্রতিটি পর্যালোচনা প্রকাশ করা না গেলেও সমষ্টিগত ফল, পরীক্ষার সময়, কভারেজ ও সক্ষমতার তথ্য প্রকাশ করা যায়।
কেন ১ সেপ্টেম্বরের সঙ্গে তুলনাটি জরুরি
১ সেপ্টেম্বরের ৯৭৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বরের ১,০০৯—দুই সংখ্যাই সন্দেহভাজন ও পরীক্ষাগারে নিশ্চিত মৃত্যুর সমষ্টি। তাই ৩০-এর বৃদ্ধি একই সংজ্ঞার মধ্যে করা সরল হিসাব। এটি কোনো মৃত্যুহার নয় এবং সংক্রমণের প্রকৃত হারও নয়। কিন্তু একই সংজ্ঞার দৈনিক হিসাব যখন আট দিনে বাড়ে, তখন প্রতিক্রিয়ার সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি সামনে আসে: সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের কাছে ব্যবস্থা কত দ্রুত পৌঁছাচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর জাতীয় মোটে নেই। ১,১৬৫টি নতুন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে কোন জেলায় কত, কত শিশুর বয়স ছয় মাসের নিচে, কতজনের এক ডোজও ছিল না, কতজনকে দেরিতে রেফার করা হয়েছে—এসব না জানলে একই ওষুধ সব জায়গায় প্রয়োগের মতো ভুল হবে। জনস্বাস্থ্যে সমতা মানে সবাইকে একই সংখ্যা বলা নয়; যার ঝুঁকি বেশি, তার কাছে আগে পৌঁছানো।
দৈনিক তথ্যের মানও প্রকাশ্য হওয়া উচিত। কোনো জেলা এক দিন রিপোর্ট না দিলে সেটি শূন্য রোগী নয়। নমুনা পরে এলে নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা পিছিয়ে পড়তে পারে। মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা সময় নেয়। তাই প্রতিটি সারণির সঙ্গে রিপোর্ট-সম্পূর্ণতার হার, পরীক্ষার নমুনা নেওয়া থেকে ফল পাওয়ার মধ্যম সময় এবং পরে সংশোধিত তথ্যের চিহ্ন থাকা দরকার। স্বচ্ছতা মানে শুধু বড় সংখ্যা প্রকাশ নয়; সংখ্যাটি কীভাবে তৈরি হলো, সেটিও দেখানো।
টিকার কভারেজকে ফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার
দ্বিতীয় ডোজের জাতীয় অনুমান ৯৩ শতাংশ থেকে ৮৬ শতাংশে নামা মানে নয় শতাংশ-পয়েন্টের ঘাটতি। শতাংশ-পয়েন্ট আর শতাংশ এক জিনিস নয়: ৯৩ থেকে ৮৬ সরাসরি নয় পয়েন্ট কমা। এই পার্থক্য ছোট শোনালেও হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় সুরক্ষার সীমার নিচে নামা দ্রুত বড় ফাঁক তৈরি করতে পারে। ডব্লিউএইচওর ৯৫ শতাংশের ব্যাখ্যা তাই কেবল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নয়; স্থানীয় পরিকল্পনার সতর্কসীমা।
কিন্তু কভারেজের শতাংশও একা যথেষ্ট নয়। একটি ডোজ দেওয়া হয়েছে কি না, সঠিক বয়সে দেওয়া হয়েছে কি না, দ্বিতীয় ডোজটি সময়মতো হয়েছে কি না, এবং দূরবর্তী বা ভাসমান জনগোষ্ঠীর শিশুরা নিবন্ধনে এসেছে কি না—ফল ভিন্ন হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এপ্রিলেই জানিয়েছিল, কর্মসূচির অগ্রাধিকার ছিল আগে টিকা না পাওয়া ও কম টিকা পাওয়া শিশু। সেই অগ্রাধিকারের বাস্তব ফল আলাদা করে জানানোই উচিত।
ছয় মাসের কম বয়সী শিশু নিয়মিত টিকার বয়সে না-ও থাকতে পারে। তাদের সুরক্ষা নির্ভর করে আশপাশের বড় শিশু ও মানুষের উচ্চ কভারেজের ওপর। তাই ‘অভিভাবক আসেননি’ বলে দায় সরিয়ে দেওয়া চলে না। সেশন কোথায় বসবে, বার্তা কোন ভাষায় যাবে, কর্মঘণ্টা কখন হবে এবং যাতায়াতের বাধা কীভাবে কমবে—এসব নকশার প্রশ্ন। সফল হলে তার প্রমাণও উপজেলা-ভিত্তিক সংখ্যায় দেখা যাবে।
হাসপাতালকে শেষ ভরসা বানিয়ে রাখা যাবে না
এপি-র মাঠ-রিপোর্টে ঢাকার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে জটিল রোগী ও কর্মীদের চাপের যে ছবি এসেছে, তা দৈনিক হাসপাতাল-ভর্তি সংখ্যার অর্থ বুঝতে সাহায্য করে। ১,৪৮,৫০৫ ভর্তি বড় সংখ্যা, কিন্তু তার মধ্যে কতজন একই দিনেই ভর্তি হয়েছে, কতজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়ে বাড়ি ফিরেছে, আর কতজন উচ্চতর কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে—এই প্রবাহ জানা না থাকলে শয্যা ও কর্মী কোথায় বাড়াতে হবে তা বোঝা যায় না।
হাসপাতালভিত্তিক প্রকাশ্য প্রতিবেদন কোনো রোগীর পরিচয় প্রকাশ করবে না। দরকার শুধু সক্ষমতার ছবি: নির্ধারিত শিশুশয্যা, ব্যবহৃত শয্যা, আইসোলেশন শয্যা, অক্সিজেনের প্রাপ্যতা, রেফারেলের সংখ্যা এবং মৃত্যুর ক্লিনিক্যাল পর্যালোচনার অগ্রগতি। সপ্তাহে একবার এই তথ্য দিলে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পরিবারগুলোও বুঝতে পারবে কোথায় সহায়তা দরকার।
রোগী বাড়লে শুধু রাজধানীতে শয্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। দূর থেকে আসা শিশুর জন্য দেরি নিজেই ঝুঁকি। উচ্চঝুঁকির জেলায় শিশু বিভাগ, দ্রুত রেফারেল, অ্যাম্বুলেন্স যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের ন্যূনতম মান আগে ঠিক করতে হবে। এগুলোতে কত টাকা খরচ হলো—সেটিও পরে প্রকাশ করতে হবে; তবে আজকের প্রথম কাজ হলো সেবার ঘাটতি কোথায়, তা নির্ভুলভাবে চেনা।
উত্তরাধিকার ব্যাখ্যা, কিন্তু বর্তমান দায়িত্ব নির্দিষ্ট
প্রাদুর্ভাবের কারণ একটিমাত্র প্রশাসনের এক দিনের সিদ্ধান্তে তৈরি হয়নি। কোভিডকালের বিঘ্ন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, টিকার ধারাবাহিকতায় ফাঁক এবং চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা—সবই পটভূমির অংশ। এই জটিলতাকে স্বীকার করাই সৎ বিশ্লেষণ। কিন্তু জটিলতার কারণে জবাবদিহির মান কমে না; বরং কার কাজ কোন স্তরে, তা আরও স্পষ্ট করতে হয়।
বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এখন যে প্রশ্নগুলো করা যায় সেগুলো সোজা: জরুরি কর্মসূচির লক্ষ্য শিশু কত, বাস্তবে কতজন পেয়েছে, কোন জেলায় ঘাটতি বেশি, কী কারণে ঘাটতি, এবং ঘাটতি পূরণের শেষ তারিখ কী? এসব প্রশ্নের উত্তর আগের সরকারকে দায়ী করার মধ্যে পাওয়া যাবে না। উত্তর মিলবে বর্তমান নথি, বর্তমান বাজেট, বর্তমান টিকা-সেশন এবং বর্তমান হাসপাতাল সক্ষমতায়।
একটি যৌথ স্বাধীন ফল-পর্যালোচনা এ কাজকে শক্তিশালী করতে পারে। ডিজিএইচএসের তথ্য, জেলা সিভিল সার্জনের যাচাই এবং ডব্লিউএইচও-ইউনিসেফের কারিগরি পর্যবেক্ষণ একসঙ্গে মাসে একবার প্রকাশ হলে সরকারও ভুল জায়গায় সম্পদ ঢালার ঝুঁকি কমাতে পারবে। এর মানে বিদেশি সংস্থার হাতে সিদ্ধান্ত তুলে দেওয়া নয়; বরং সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা নিশ্চিত করা।
১,০০৯-এর পরে পরীক্ষাটি আরও কঠিন
সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচিকে সমর্থন করা এবং তার ফলের হিসাব চাওয়া পরস্পরবিরোধী নয়। বরং দ্বিতীয়টি ছাড়া প্রথমটির বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। টিকা পৌঁছালে, বাদ পড়া শিশু খুঁজে পাওয়া গেলে এবং হাসপাতালের চাপ কমলে সরকারই সেই ফল দেখাতে পারবে।
১,০০৯ মৃত্যুর পরে বাংলাদেশের দরকার প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি নয়, প্রকাশ্য ফলাফল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিএইচএসকে আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা-ভিত্তিক কভারেজ, বাদ পড়া শিশু, নিশ্চিতকরণ ও হাসপাতাল-চাপের প্রথম পূর্ণ সারণি দিতে হবে। যে শিশু এখনও টিকার বাইরে, তার ঠিকানা খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের কাজ।
তথ্যসূত্র
- ডিজিএইচএস: হাম প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ও সরকারি বুলেটিন (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেখা হয়েছে)
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ডিজিএইচএসের ১০ সেপ্টেম্বরের মৃত্যু, রোগী, নিশ্চিতকরণ ও ভর্তি তথ্য
- অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস: বাংলাদেশে হাম প্রাদুর্ভাব, হাসপাতাল-চাপ, টিকাদান ও সরকারি প্রতিক্রিয়া (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: বাংলাদেশে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা (৫ এপ্রিল ২০২৬)
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: রোহিঙ্গা শিবিরে হাম-রুবেলা টিকাদানের অগ্রগতি ও জাতীয় কর্মসূচির প্রেক্ষাপট (১৯ মে ২০২৬)
