সরকারের ১ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিং বলছে, মালয়েশিয়া আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী। ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য খরচে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। বহু পরিবারের কাছে এটি স্বাভাবিকভাবেই আশার খবর। কিন্তু শ্রম অভিবাসনে আশার সঙ্গে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটিও দ্রুত আসে: বিজ্ঞপ্তি বা দালালের কথায় টাকা দেওয়া শুরু হয়ে যায়, অথচ চাকরি, নিয়োগদাতা এবং প্রকৃত খরচের যাচাইযোগ্য কাগজ থাকে না।
তাই মূল প্রশ্ন সুযোগটির বিরুদ্ধে নয়। প্রশ্ন হলো, সরকার এবার সুযোগটি কীভাবে চালাবে। অতীতে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া পথে বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়া, অতিরিক্ত নিয়োগ-খরচ এবং ঋণের বোঝা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ ছিল। নতুন সংখ্যাটি যত বড়, আগাম সুরক্ষার দায়ও তত বড়। প্রতিটি কর্মীর কাছে টাকা চাওয়ার আগেই খরচের ছক, যাচাইকৃত চাকরি এবং দ্রুত অভিযোগ-প্রতিকারের ব্যবস্থা প্রকাশ করা উচিত।
সরকার কী বলেছে, আর কী বলেনি
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর মালয়েশিয়া প্রায় দুই লাখ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ধাপে ধাপে কর্মী পাঠানোর কথা; আগে অনিবন্ধিত থাকা বাংলাদেশিদের নিবন্ধনের কাজও চলছে। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সির পাশাপাশি ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এটি সরকারি বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ সীমাও ঠিক করে দেয়। ‘আগ্রহ প্রকাশ’ এবং প্রত্যেক কর্মীর জন্য নিশ্চিত চাকরি—এক কথা নয়। পর্যালোচিত সরকারি ব্রিফিংয়ে প্রতিটি নিয়োগদাতার নাম, খাত, চাহিদাপত্র, মজুরি, আবাসন, কর্মস্থল, কর্মীর নিজের ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা বা এজেন্সিভিত্তিক বরাদ্দের তালিকা দেওয়া হয়নি। মালয়েশিয়ার ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে বাংলাদেশের এই বক্তব্যের খবর প্রকাশ করেছে; তার প্রতিবেদনেও তথ্যটি ঢাকার পক্ষের ভাষ্য হিসেবে এসেছে। ফলে এটিকে স্বাগত সম্ভাবনা হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগ-নিশ্চয়তা বলে শ্রমিককে টাকা দিতে বলা যায় না।
সরকারের শক্তিশালী যুক্তিটিও ন্যায্যভাবে রাখা দরকার। বৈধ পথে কর্মসংস্থান বাড়লে পরিবারের আয়, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং দুই দেশের শ্রমবাজার—তিনটিরই উপকার হতে পারে। শূন্য খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠাতে রাষ্ট্রীয় সংস্থা BOESL ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে; এটি কার্যকর হলে বেসরকারি দালালনির্ভরতার ঝুঁকি কমানোর একটি পরীক্ষাযোগ্য উদ্যোগ হতে পারে। তবে পরীক্ষাটি হবে নামের পাশে নয়, প্রকাশ্য ফলাফলে: কতজন গেলেন, কত খরচ হলো, নির্ধারিত কাজ ও বেতন মিলল কি না, এবং অভিযোগ এলে কত দিনে সমাধান হলো।
পুরোনো অভিজ্ঞতাই এবার সতর্কতার কারণ
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০২৬ সালের মে মাসে বলেছে, ২০২১ সালের বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সমঝোতায় কর্মী নিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রত্যাবাসনের কাঠামো ছিল এবং মালয়েশিয়ায় হওয়া কিছু ব্যয় নিয়োগদাতার বহনের কথা ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের দিকে এমন খবর বেরোয় যে বৈধ কর্মঅনুমতি নিয়ে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। আইএলও, আইওএম ও ইউএনওডিসি ২০২৪ সালে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের প্রয়োজন এবং স্বচ্ছ শ্রম-অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
এখানে অতীতের সব অসদাচরণের দায় বর্তমান কোনো এজেন্সি বা কর্মকর্তার ওপর চাপানো সঠিক হবে না। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই লেখায় অপরাধের অভিযোগও করা হচ্ছে না। কিন্তু একই পথের নকশাগত ঝুঁকি নথিবদ্ধ থাকলে নতুন বড় নিয়োগে প্রতিরোধের মান আরও উঁচু হওয়া উচিত। আইএলওর নীতি সহজ: চাকরি পেতে কর্মীকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নিয়োগ-ফি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বহন করতে হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের জন্য আইএলওর ২০২৫ সালের মূল্যায়নও বলেছে, ন্যায্য নিয়োগ প্রতিষ্ঠা কঠিন রয়ে গেছে এবং খরচের স্বচ্ছতা ও নিয়মের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
এই ইতিহাসের অর্থ শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করা নয়; বরং প্রতিটি ধাপ আগে থেকে যাচাইযোগ্য করা। অতীতে একদল এজেন্সির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল বলে এবার এজেন্সির সংখ্যা বাড়ালেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। ২৫টি অনুমোদিত ও ৩১২টি সহযোগী এজেন্সির ক্ষেত্রে কে কোন নিয়োগদাতার জন্য কতজন কর্মী নেবে, তার প্রকাশ্য ডিজিটাল তালিকা না থাকলে কর্মী ও পরিবার যাচাই করার সহজ উপায় পাবেন না। বেশি এজেন্সি প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে, আবার তদারকি দুর্বল হলে দায় এড়ানোর স্তরও বাড়াতে পারে।
টাকা নেওয়ার আগে সাতটি তথ্য প্রকাশ করা হোক
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), BOESL এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে এখন একটি বাস্তব জবাবদিহির পরীক্ষা। সরকারি ওয়েবসাইটে কর্মীর নিজের ভাষায়, খোঁজার মতো নম্বর দিয়ে নিচের তথ্য প্রকাশ করা কঠিন নয়।
- প্রতিটি মালয়েশীয় নিয়োগদাতার যাচাইকৃত নাম, খাত, কর্মস্থল, শূন্যপদ, মাসিক বেতন ও আবাসনের শর্ত;
- প্রতিটি অনুমোদিত ও সহযোগী এজেন্সির বরাদ্দ, লাইসেন্সের অবস্থা, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং কর্মীপ্রতি সর্বোচ্চ অনুমোদিত ব্যয়;
- কোন খরচ নিয়োগদাতা বহন করবেন, কোন খরচ কর্মীর হওয়ার কথা এবং কোনো টাকা নিলে ডিজিটাল রসিদ বাধ্যতামূলক কি না;
- শূন্য খরচের ১০ হাজার কর্মী বাছাইয়ের যোগ্যতা, লটারি বা মেধাভিত্তিক পদ্ধতি, তালিকা ও তদারকির নিয়ম;
- চাহিদাপত্র, ভিসা ও কর্মচুক্তি যাচাইয়ের অনলাইন ব্যবস্থা, যাতে কর্মী টাকা দেওয়ার আগে নিজেই মিলিয়ে দেখতে পারেন;
- বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় ২৪ ঘণ্টার অভিযোগকেন্দ্র, অভিযোগ নম্বর, সমাধানের সময়সীমা এবং মাসিক প্রকাশ্য ফলাফল;
- বিদেশে গিয়ে চাকরি বা বেতন না মিললে ফেরত আনা, খরচ ফেরত এবং দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত পথ।
এগুলো অতিরিক্ত শর্ত নয়; শ্রমিকের টাকা ও মর্যাদা রক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা। শুধু ‘নিয়োগ শুরু’ লেখা বিজ্ঞপ্তি এমন সুরক্ষা দেয় না। বিশেষ করে যে পরিবারটি জমি বিক্রি বা উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়, তার জন্য একটি ভুল প্রতিশ্রুতির মূল্য বহু বছরের আয়। সরকার যদি কর্মীপ্রতি ব্যয় শূন্য বা সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সেই ব্যয়ের প্রতিটি অংশ কোন পক্ষ দেবে তা আগেই প্রকাশ করা তারই দায়িত্ব।
ঘোষণার সাফল্য মাপা হবে কর্মীর ফলাফলে
দুই লাখের সংখ্যা রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সাফল্যের শিরোনাম হতে পারে। কিন্তু জনস্বার্থে সত্যিকার সাফল্যের মাপকাঠি আলাদা: কর্মী কি প্রতিশ্রুত কাজ পেলেন, প্রথম বেতন কি সময়মতো পেলেন, নিয়োগে নিজের কত টাকা খরচ করলেন, এবং বিপদে কার কাছে কার্যকর প্রতিকার পেলেন। এই চারটি সূচক ছাড়া শুধু কতজন বিমান ধরলেন তার হিসাব অসম্পূর্ণ।
প্রথম টাকা থেকে প্রথম বেতন: দায়ের শৃঙ্খল স্পষ্ট চাই
নিয়োগের নিরাপত্তা বিমানবন্দরে শুরু হয় না। এটি শুরু হয় গ্রামের একটি বিজ্ঞাপন, পরিচিত কারও ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট থেকে। সেখানেই কর্মীকে বোঝানো হয় কোন কাজ, কত বেতন এবং কত টাকা লাগবে। এরপর নিবন্ধন, মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, ভিসা, টিকিট ও যাত্রা। প্রতিটি ধাপে অন্য একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান টাকা নিতে পারে। তাই কর্মী যদি শেষ পর্যন্ত কাজ না পান, শুধু শেষ এজেন্সিকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান হয় না; কোথায় প্রতিশ্রুতি বদলাল, কে নথি যাচাই করল এবং কোন কর্তৃপক্ষ নজরদারি করল—সেই সম্পূর্ণ শৃঙ্খল প্রকাশ করতে হয়।
সরকারের ঘোষিত ব্যবস্থায় বহু এজেন্সি যুক্ত হওয়ার কথা। নীতিগতভাবে এতে পছন্দের পরিসর বাড়তে পারে। কিন্তু সহযোগী এজেন্সি কর্মীর কাছ থেকে কী নিতে পারবে, মূল এজেন্সির সঙ্গে তার চুক্তি কী এবং মালয়েশীয় নিয়োগদাতার কাছে শেষ দায় কার—তা গোপন থাকলে বিস্তৃত নেটওয়ার্কই কর্মীর জন্য বিভ্রান্তি হয়ে দাঁড়ায়। প্রত্যেক কর্মীকে একটি একক ট্র্যাকিং নম্বর দিলে তার আবেদন থেকে কর্মস্থলে যোগদান পর্যন্ত সব অনুমোদন, অর্থপ্রদান ও দায়িত্বশীল সংস্থা দেখা যাবে। এটি নতুন কোনো জটিল প্রযুক্তি নয়; সঠিক তথ্য প্রকাশের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
বিশেষভাবে শূন্য খরচের ১০ হাজার কর্মীর কর্মসূচিটি পরীক্ষার সুযোগ। এখানে নির্বাচনের তালিকা, কাজের ধরন, চুক্তির ভাষা, বিমানভাড়া কে দিচ্ছে এবং কর্মী সত্যিই কোনো মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দিয়েছেন কি না—এসব প্রকাশ করা হলে অন্য নিয়োগগুলোরও মানদণ্ড তৈরি হবে। বিপরীতে, তালিকা ও খরচ গোপন রেখে শুধু ‘ফ্রি’ শব্দ ব্যবহার করলে অভিযোগের সময় কে সুবিধা পেয়েছেন আর কে বাদ পড়েছেন তা যাচাই করা কঠিন হবে। শূন্য খরচ কেবল প্রস্থান-খরচ শূন্য নয়; পাসপোর্ট, নিবন্ধন, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, ভিসা, পরিবহন ও অনানুষ্ঠানিক দাবির প্রতিটি ধাপের হিসাবও সেখানে থাকতে হবে।
মালয়েশিয়ায় পৌঁছার পরের সুরক্ষাও একই রকম জরুরি। কর্মচুক্তিতে লেখা বেতন, কাজের ধরন ও কর্মঘণ্টা বাস্তবে মিলছে কি না—তা জানার জন্য প্রথম ৩০, ৯০ ও ১৮০ দিনে গোপনীয় কর্মী-জরিপ করা যায়। বাংলাদেশ হাইকমিশন ও BOESL যৌথভাবে ফল প্রকাশ করতে পারে: কতজন যোগ দিয়েছেন, কতজন চাকরি বদলেছেন, কতজন অভিযোগ করেছেন, কত অভিযোগ মিটেছে এবং কতজনকে দেশে ফিরতে হয়েছে। ব্যক্তির নাম প্রকাশের দরকার নেই। কিন্তু সমষ্টিগত ফল প্রকাশ না হলে রাষ্ট্রের পক্ষে ‘সাফল্য’ এবং শ্রমিকের পক্ষে ‘সমস্যা’—দুই দাবিই যাচাইহীন থেকে যায়।
এই প্রকাশনার জন্য দায়িত্ব ভাগ করাও জরুরি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নীতিমালা ও দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার নথি প্রকাশ করবে; বিএমইটি এজেন্সির লাইসেন্স, নিবন্ধন ও অভিযোগ তদারক করবে; BOESL তার নিজস্ব শূন্য খরচ কর্মসূচির নির্বাচন ও ব্যয় জানাবে; আর হাইকমিশন কর্মস্থলে পৌঁছার পরের অভিযোগ ও প্রতিকারের হিসাব দেবে। চার সংস্থার মধ্যে ফাইল ঘুরলে শ্রমিক হারেন। একটি যৌথ প্রকাশ্য পাতা থাকলে কোন প্রশ্নের উত্তর কার, তা শুরুতেই পরিষ্কার হবে।
সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রক্রিয়া শুরুর সরকারি প্রত্যাশা থাকলে আগের কয়েক সপ্তাহই নিয়ম, তথ্য ও সহায়তা-পথ ঠিক করার সময়। ভিসা এসে যাওয়ার পর বা প্রথম জটিলতা ঘটার পর নীতি ঘোষণা করলে ক্ষতি ঠেকানো যায় না। সরকারের উচিত একটি নির্দিষ্ট প্রকাশ-তারিখ ঘোষণা করা এবং সে তারিখে নথি না এলে কারণ জানানো। সেই ছোট শৃঙ্খলাই প্রমাণ করবে, নতুন সুযোগটি কেবল সংখ্যার ঘোষণা নয়; কর্মীর অধিকার রক্ষার পরিকল্পনাও।
এখানেই সরকারের জন্য ন্যায্য সুযোগও আছে। প্রকাশ্য শর্ত ও ফলাফলের ব্যবস্থা থাকলে অযথা গুজব, ভুয়া ভিসা এবং দালালের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব। কর্মী নিজের মুঠোফোনে নাম, ভিসা ও চুক্তি মিলিয়ে নিতে পারবেন; পরিবার জানবে কোনো অতিরিক্ত দাবি বৈধ নয়; আর কর্তৃপক্ষ দ্রুত বুঝতে পারবে কোন এজেন্সি বা নিয়োগদাতার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ জমছে। জবাবদিহি তাই কেবল শাস্তির ভাষা নয়—এটি আগাম প্রতিরোধেরও ব্যবস্থা।
আমাদের বিবেচনায়, সরকার এখনই একটি উন্মুক্ত মাসিক ড্যাশবোর্ড চালু করতে পারে। সেখানে নিবন্ধন, অনুমোদন, প্রস্থান, কর্মস্থলে যোগদান, অভিযোগ, সমাধান, খরচ ফেরত এবং লাইসেন্স স্থগিতের তথ্য এজেন্সি ও নিয়োগদাতাভিত্তিক থাকবে। ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রেখেও এই সমষ্টিগত হিসাব প্রকাশ সম্ভব। এতে সৎ এজেন্সি ও প্রকৃত নিয়োগদাতারও লাভ: তাদের সঙ্গে ভুয়া মধ্যস্বত্বভোগীকে এক কাতারে ফেলতে হবে না।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের আগে তাই সরকারের করণীয় নির্দিষ্ট: বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া ব্যবস্থার বর্তমান ভিত্তি, নিয়োগদাতা ও এজেন্সির তালিকা, কর্মচুক্তির ন্যূনতম শর্ত এবং শূন্য খরচ কর্মসূচির নিয়ম প্রকাশ করা। এরপর মাসে মাসে ফল জানাতে হবে। শ্রমিককে আরেকবার কাগজে বৈধ কিন্তু বাস্তবে কাজহীন বা ঋণগ্রস্ত অবস্থায় ফেললে কেবল নিয়োগদাতা নয়, নিয়োগ-পর্যবেক্ষণের পুরো ব্যবস্থাই জবাবদিহির প্রশ্নে পড়বে।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: মালয়েশিয়ার প্রায় দুই লাখ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ ও সরকারি ব্রিফিং—১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- Free Malaysia Today: বাংলাদেশি সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী ছয় মাসে দুই লাখ কর্মী নিয়োগের প্রতিবেদন—১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ILO: Malaysia-তে ন্যায্য ও কার্যকর নিয়োগ নিয়ে বিবৃতি—১১ মে ২০২৬
- ILO: বাংলাদেশে অভিবাসী কর্মী নিয়োগে অসদাচরণ ও ন্যায্য নিয়োগের সুপারিশ—২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- ILO: নিয়োগ-ফি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা ও কর্মীর ওপর ব্যয় না চাপানোর নীতি
- ক্যাবিনেট বিভাগ: বর্তমান মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের দায়িত্ব বণ্টন—হালনাগাদ ১৩ আগস্ট ২০২৬
