NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

শিক্ষা ও জবাবদিহি

সাক্ষরতার হার ৭৭.৯%, কিন্তু পড়া বুঝতে পারে ৫০.২% শিশু: লক্ষ্য বদলাবে কি?

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতা ৮৬–৯০ শতাংশে নেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু বিবিএস–ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫-এ ৭–১৪ বছর বয়সী মাত্র ৫০.২ শতাংশ শিশু মৌলিক পড়ার দক্ষতা দেখিয়েছে। দুই সূচক এক নয়; তাই লক্ষ্য, বাজেট ও ফলাফলও আলাদা করে প্রকাশ জরুরি।

বাংলাদেশে সাক্ষরতা, শিশুদের পড়া বোঝার দক্ষতা এবং শিক্ষা-জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

সরকার বলছে, সাত বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশে উঠেছে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে তা ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য আছে। একই সপ্তাহে বিবিএস ও ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫-এর ফল নতুন করে সামনে এসেছে: ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী মাত্র ৫০.২ শতাংশ শিশু মৌলিক পড়ার দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। সংখ্যাদুটি পাশাপাশি রাখলে প্রথম প্রশ্নটি সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার স্লোগান নয়। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র ঠিক কোন শেখার ফলকে তার শিক্ষা-লক্ষ্য বলে মাপছে?

৭৭.৯ শতাংশ এবং ৫০.২ শতাংশ একই জনসংখ্যা, একই পরীক্ষা বা একই সংজ্ঞার সংখ্যা নয়। প্রথমটি সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার সামগ্রিক সাক্ষরতার হার। দ্বিতীয়টি নির্দিষ্ট বয়সী শিশু একটি ছোট লেখা পড়তে এবং তার সরাসরি ও অনুমানভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে কি না, সেই পরীক্ষার ফল। তাই ৭৭.৯ থেকে ৫০.২ বিয়োগ করে ‘ঘাটতি’ বলা ভুল হবে। কিন্তু এই পার্থক্যই নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ: নাম লেখা বা অক্ষর চেনার বাইরে শিশুরা পড়ে বুঝতে পারছে কি না, তার পৃথক হিসাব না রাখলে উচ্চ সাক্ষরতার হার বাস্তব শিক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না।

সমীক্ষাটি আসলে কী মেপেছে

এমআইসিএস ২০২৫ পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, ইউনিসেফ ও অংশীদারদের সহযোগিতায়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৩,১৪৯টি ক্লাস্টার ও ৬২,৯৮০টি পরিবারের নমুনার কথা বলা হয়েছে; অনুমান দেওয়া হয়েছে জাতীয়, বিভাগ, জেলা এবং তিন সিটি করপোরেশন ডোমেইনে। ফলে এটি কোনো একটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা নয়। এটিও ঠিক যে এটি প্রতিটি শিশুর আলাদা পরীক্ষার ফল নয়; একটি প্রতিনিধিত্বশীল জরিপ থেকে জাতীয় চিত্র। এই সীমা মেনেই তথ্যটির ওজন বুঝতে হবে।

মৌলিক পড়ার দক্ষতার মানদণ্ডও বেশ নির্দিষ্ট। শিশুকে একটি গল্পের অন্তত ৯০ শতাংশ শব্দ ঠিকভাবে পড়তে হয় এবং পাঠ থেকে সরাসরি ও অনুমানভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। ইউনিসেফের উপস্থাপনায় দেখা যায়, ৭–১৪ বছর বয়সীদের ৬১.৬ শতাংশ গল্পের ৯০ শতাংশ শব্দ পড়তে পেরেছে, কিন্তু সব শর্ত পূরণ করেছে ৫০.২ শতাংশ। অর্থাৎ শব্দ উচ্চারণের সক্ষমতা ও পড়ে অর্থ বোঝার সক্ষমতা এক জিনিস নয়। শিক্ষানীতির ভাষায় এই ফারাকটি লুকিয়ে গেলে দুর্বলতার জায়গাটিও লুকিয়ে যায়।

২০১৯-এর একই সূচকে হার ছিল ৪৮.৮ শতাংশ। ছয় বছরে বৃদ্ধি ১.৪ শতাংশ পয়েন্ট। এটি অগ্রগতি, কিন্তু এমন গতি নয় যাকে দেখে নীতিনির্ধারকেরা নিশ্চিন্ত হতে পারেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির উপযুক্ত বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে হার ২৪.৪ শতাংশ। শ্রেণি বাড়ার সঙ্গে ফল বাড়ে, তবু পঞ্চম শ্রেণিতেও সবাই মানদণ্ডে পৌঁছায় না। তাই কেবল বিদ্যালয়ে ভর্তি, উপস্থিতি বা বই বিতরণের সংখ্যা দিয়ে শেখার গুণগত ফল ধরা যায় না।

সরকারের ব্যাখ্যাটি কেন গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে একটি বাস্তব দিক আছে। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাক্ষরতা শুধু নাম সই বা বর্ণমালা চেনায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; তা কর্মসংস্থান, জীবনদক্ষতা ও ডিজিটাল সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ চলছে, আর বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু, ঝরে পড়া কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে পৌঁছানো অগ্রাধিকার। এই কাজগুলো অপ্রয়োজনীয় নয়।

সরকারি উদ্যোগের ফলও একেবারে অদৃশ্য নয়। মন্ত্রী প্রথম ধাপে নিবন্ধিত ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের একটি কর্মসূচিতে উত্তীর্ণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার সংখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু এখানেই নীতির পরীক্ষা শুরু হয়। প্রকল্পের অংশগ্রহণ, সনদ বা কর্মসংস্থানের সূচক প্রাপ্তবয়স্ক ও ঝরে পড়া তরুণের জন্য উপযোগী হতে পারে; সেটি প্রাথমিক শ্রেণির শিশুর পাঠ-বোঝার সূচকের বিকল্প নয়। একাধিক কর্মসূচি চললে প্রতিটির লক্ষ্য-জনসংখ্যা, ব্যয়, শেখার প্রাক্‌-ও-পরবর্তী ফল এবং পরবর্তী অনুসরণ আলাদা করে দেখাতে হবে।

জাতীয় গড়ের নিচে যে অসমতা থাকে

৫০.২ শতাংশ একটি জাতীয় গড়। গড়ের আড়ালে বৈষম্য কমে যায় না। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে এমআইসিএসের তথ্য থেকে বলা হয়েছে, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের মধ্যে প্রায় প্রতি তিনজনে একজন মৌলিক পড়ার দক্ষতা দেখিয়েছে, আর সবচেয়ে সচ্ছল পঞ্চমাংশে হার ৬৭.৪ শতাংশ। শহরে হার ৫৫.৬ শতাংশ, গ্রামে ৪৮ শতাংশ। এই তুলনা কোনো পরিবারকে দায়ী করার জন্য নয়। বরং কোথায় শিক্ষক-সহায়তা, পুনরুদ্ধারমূলক পাঠ, বই, ভাষাভিত্তিক সহায়তা বা অভিভাবকের সঙ্গে কাজ আগে দরকার, তা নির্ধারণের জন্য।

এখানে আরেকটি সতর্কতা জরুরি। জরিপের ফারাক থেকে একা দারিদ্র্যই সব ফল ঘটিয়েছে বলা যাবে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংখ্যা, উপস্থিতি, ঘরের পাঠ-পরিবেশ, ভাষা, স্বাস্থ্য, দূরত্ব এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনাও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এত বড় ফারাক দেখা গেলে সরকার শুধু জাতীয় গড় দেখিয়ে দায় শেষ করতে পারে না। এমআইসিএস জেলা-স্তর পর্যন্ত অনুমান দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে। তাই দুর্বল এলাকার প্রকাশ্য শেখার পরিকল্পনা এবং তার অগ্রগতির তালিকা চাওয়া যুক্তিসঙ্গত।

২০৩১-এর লক্ষ্যকে যাচাইযোগ্য করার পাঁচ শর্ত

এগুলোর কোনোটিই নতুন কোনো পরীক্ষার চাপ তৈরি করার প্রস্তাব নয়। উদ্দেশ্য শিশু, শিক্ষক বা বিদ্যালয়কে প্রকাশ্যে লজ্জা দেওয়া নয়। একটি তুলনাযোগ্য নমুনা-ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং মাঠের সহায়ক তথ্য দিয়ে কোথায় সহায়তা দিতে হবে তা বোঝা। শিক্ষককে শুধু ফলের জন্য দায়ী করাও সমাধান নয়, যখন বড় শ্রেণি, উপকরণের ঘাটতি বা প্রশাসনিক কাজ পাঠের সময় কমায়। জবাবদিহির অর্থ তখনই ঠিক হয়, যখন কর্তৃত্বের সঙ্গে উপকরণ ও সহায়তার হিসাবও দেখা যায়।

পাঠের ফলকে প্রশাসনিক ফলে রূপ দেওয়ার পথ

একটি বাস্তবসম্মত পদ্ধতি হতে পারে তিন স্তরে কাজ করা। প্রথম স্তরে, প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিশুর নামসহ কোনো প্রকাশ্য র‌্যাঙ্কিং না করে ছোট পাঠ-পর্যবেক্ষণ থেকে বুঝতে হবে কারা গল্প পড়তে বা প্রশ্নের উত্তর দিতে আটকে যাচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে, উপজেলা ও জেলায় সেই সংকেত একত্র করে শিক্ষক-সহায়তা, অতিরিক্ত পাঠের সময় এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠাতে হবে। তৃতীয় স্তরে, বিভাগ ও মন্ত্রণালয়কে প্রকাশ করতে হবে কোথায় সহায়তা পাঠানো হলো এবং নির্ধারিত সময়ে শেখার ফল বদলাল কি না। এই ধারায় মূল্যায়ন শাস্তির যন্ত্র হয় না; সেটি সহায়তা বণ্টনের যন্ত্র হয়।

এর জন্য সব জেলায় একই ধরনের একদিনের পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। এমআইসিএসের মতো পর্যায়ক্রমিক, পদ্ধতি-স্পষ্ট জাতীয় জরিপ দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা দেখাবে। শিক্ষা দপ্তরের নিজস্ব ছোট মূল্যায়ন দেখাবে কোন শিক্ষক বা বিদ্যালয় অতিরিক্ত পাঠ-উপকরণ চায়। দুটি তথ্যের কাজ আলাদা, তাই একটিকে অন্যটির বিকল্প করা যাবে না। জাতীয় জরিপকে কেবল প্রকাশনা হিসেবে রেখে দিলে তার জবাবদিহির শক্তি নষ্ট হয়; আবার বিদ্যালয়ের ছোট পরীক্ষা দিয়ে জাতীয় গড় দাবি করলেও পরিসংখ্যানের ভুল হয়। উভয় স্তরের তথ্যকে স্পষ্ট সীমাসহ যুক্ত করাই সঠিক পথ।

সরকারের জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা কোনো অস্পষ্ট আশ্বাস নয়, বরং একটি প্রকাশ্য ফল-তালিকা। যেমন: কোন জেলায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠ-সহায়তা শুরু হলো, কত শিক্ষক কোন ধরনের প্রশিক্ষণ পেলেন, কত শিশু কত সপ্তাহ অতিরিক্ত সহায়তা পেল, এবং পরে একই বয়সোপযোগী কাজের ফল কী হলো। ফল সঙ্গে সঙ্গে বদলাবে—এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। বন্যা, অনুপস্থিতি, ভাষাগত বৈচিত্র্য, পুষ্টি বা পারিবারিক চাপের মতো বাধা থাকবে। কিন্তু কোন বাধা কোথায় ছিল এবং তার জন্য কী সংশোধন করা হলো, তা না বললে ‘কাজ চলছে’ কথাটির নাগরিক মূল্য থাকে না।

অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজের ভূমিকাও এখানে বাস্তব, তবে সেটি দায় সরিয়ে দেওয়ার ভাষা হওয়া উচিত নয়। ইউনিসেফের তথ্যপাতায় দেখা যায়, তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য তিন বা তার বেশি বই থাকা পরিবারের হার মাত্র ৭.৬ শতাংশ। এই তথ্য থেকে কোনো পরিবারের অনাগ্রহ প্রমাণ হয় না; বইয়ের দাম, ঘরের জায়গা, বিদ্যালয়-গ্রন্থাগার ও স্থানীয় সুযোগও প্রাসঙ্গিক। তাই সরকারের কাজ কেবল সচেতনতামূলক বক্তব্য নয়। বিদ্যালয়ে বয়সোপযোগী পাঠসামগ্রী, সহজে ধার নেওয়া বই, শিক্ষক-অভিভাবক সংযোগ এবং ভাষাভিত্তিক সহায়তা কোথায় বাড়ানো হলো, সেটিও ফলের অংশ হওয়া দরকার।

শিক্ষার এই প্রশ্নে বিরোধের চেয়ে সংজ্ঞার সততা বেশি জরুরি। সামগ্রিক সাক্ষরতার হার যদি সত্যিই বাড়ে, সেটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শিক্ষা-বিস্তারের অর্জনের অংশ। আবার মৌলিক পাঠ বা গণিতের ফল দুর্বল থাকলে সেটিও স্বীকার করা দরকার, কারণ একই শিশু পরে বিজ্ঞান, নাগরিক তথ্য, স্বাস্থ্যনির্দেশ বা চাকরির প্রশিক্ষণ বুঝতে এই ভিত্তির ওপর নির্ভর করবে। দুই ধরনের সূচক একসঙ্গে প্রকাশ করলে সরকারের জন্যও সুবিধা: কোথায় প্রবেশাধিকার বাড়ছে, কোথায় শেখার গুণমান আটকে আছে এবং কোন নীতিতে অর্থ দেওয়া যুক্তিযুক্ত—তা বেশি স্পষ্ট হয়।

যে প্রশ্নগুলোর প্রকাশ্য উত্তর দরকার

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর থাকলে সরকারের কাজও ন্যায্যভাবে বিচার করা যাবে। কোনো জেলা উন্নতি করলে সেটি প্রমাণসহ দেখা যাবে। কোথাও ফল না এলে কারণ ও সংশোধনও প্রকাশ পাবে। বিপরীতে, শুধু একটি বড় সামগ্রিক হার দিয়ে সব বয়স ও সব ধরনের শেখার সাফল্য দাবি করলে প্রকৃত দুর্বলতাই অনির্দিষ্ট থাকে। শিক্ষা খাতে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল হলো এমন অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট থাকা, যা শিশুদের বাস্তব শেখায় ধরা পড়ে না।

শেষ কথা

বাংলাদেশে সাক্ষরতার সম্প্রসারণের অর্জন অস্বীকার করার কারণ নেই। ৭৭.৯ শতাংশের সরকারি হিসাব এবং বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা মানুষকে দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগকে তাই এই লেখা খাটো করে না। কিন্তু এমআইসিএসের ৫০.২ শতাংশ পাঠ-দক্ষতা একই সঙ্গে অন্য একটি সতর্কবার্তা দেয়: শিক্ষার পরের ধাপটি শুধু স্কুলে থাকা নয়, পড়ে বুঝতে পারা। ২০৩১ সালের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য হবে তখনই, যখন সরকার সামগ্রিক সাক্ষরতা, শিশুর মৌলিক পাঠ ও গণিত, এবং সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা এলাকার ফল আলাদা করে প্রকাশ করবে। সেই প্রকাশে সংজ্ঞা, সময়সীমা, বরাদ্দ, সহায়তার ধরন এবং পরের মূল্যায়নের ফল একসঙ্গে থাকলে জনগণ অগ্রগতি ও ঘাটতি দুটোই বুঝতে পারবেন। লক্ষ্য যত পরিষ্কার, জবাবদিহির পথও তত খোলা।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফ, ‘Bangladesh Multiple Indicator Cluster Survey 2025: Final Report’, জুন ২০২৬; নমুনা, পদ্ধতি ও জাতীয়/জেলা-স্তরের অনুমানের মূল নথি
  2. ইউনিসেফ বাংলাদেশ, ‘Data on the situation of children in Bangladesh’, এমআইসিএস ২০২৫-এর ৭–১৪ বছর বয়সীদের ৫০.২% মৌলিক পড়া এবং ৩৯.২% মৌলিক গণিত দক্ষতার সংক্ষিপ্ত সরকারি-সহযোগী উপস্থাপন
  3. দ্য ডেইলি স্টার, ‘Half the children can’t read, comprehend’, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; সূচকের সংজ্ঞা, ২০১৯ তুলনা, বৈষম্য ও শিক্ষাবিদদের স্বাধীন বিশ্লেষণ
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড/বাসস, ‘Literacy rate rises to 77.9% in Bangladesh: Bobby Hajjaj’, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; সরকারের ২০৩১ লক্ষ্য, চলমান কার্যক্রম এবং মন্ত্রীর ব্যাখ্যা