সরকারি ক্রয়ে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন সব সময় ঘুষ বা অপরাধের অভিযোগ নয়। তারও আগে একটি সহজ প্রশ্ন থাকে: ক্ষমতার খুব কাছে থাকা কারও পরিবারের প্রতিষ্ঠান একই দপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের কাজ পেলে, জনতা কীভাবে নিশ্চিত হবে যে সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিল? স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ই-জিপি পাতায় এমন একটি চুক্তির নথি এখন প্রকাশ্যে আছে। সেখানে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে শিবগঞ্জ পৌরসভার সড়ককাজে মীর সিমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিংকে ২,৬৪,৯৮,৪৬৪ টাকার চুক্তি দেওয়া হয়েছে; একই পাতায় মীর সাকরুল আলম সিমান্তকে প্রতিষ্ঠানের ১০০ শতাংশ সুবিধাভোগী মালিক বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারি জীবনী পাতায় মীর শাহে আলমকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং মীর সাকরুল আলম সিমান্তকে তাঁর ছেলে বলা হয়েছে। তাই প্রশ্নটি কোনো গুজবের নয়; নথিতে দৃশ্যমান সম্পর্ক এবং নথিতে দৃশ্যমান সরকারি চুক্তির। এই তথ্য দিয়ে কারও প্রভাব খাটানো, অনিয়ম বা আইনভঙ্গ প্রমাণ হয় না। কিন্তু এমন সম্পর্ক থাকলে সাধারণ নিয়মের চেয়ে বেশি স্বচ্ছতা দেখানো সরকারের দায়িত্ব—যাতে সত্যিই প্রভাব না থাকলেও তা যাচাই করা যায়।
যে নথিটি প্রশ্নটাকে নির্দিষ্ট করে
ই-জিপির চুক্তি-পুরস্কার পাতায় টেন্ডার/প্রস্তাব আইডি ১২৪৭১৯১। সেখানে মন্ত্রণালয়/বিভাগ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সংস্থা হিসেবে এলজিইডি এবং ক্রয়কারী দপ্তর হিসেবে বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌরসভার পিআইইউ অফিস লেখা আছে। প্রকল্পটি ‘Important Urban Infrastructure Development Project (2nd Phase)’; প্যাকেজে দুটি আরসিসি সড়ক নির্মাণের কথা আছে। নথি বলছে, বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় ২৫ মার্চ, চুক্তি-পুরস্কার ১৯ এপ্রিল এবং চুক্তি সই ২৮ এপ্রিল ২০২৬। অর্থের উৎসও সরকারি উন্নয়ন বাজেট।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি ‘beneficial ownership’ বা প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানার ঘর। সেখানে মীর সাকরুল আলম সিমান্তের নাম, ‘Proprietor’ পদবী এবং ১০০ শতাংশ মালিকানা দেখা যায়। এই ঘরটি কেবল নামের বানান মিলিয়ে নেওয়ার জন্য নয়। সরকারি ক্রয়ে কে শেষ পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন, সেই প্রশ্নটিকে দৃশ্যমান করার জন্যই এমন তথ্য রাখা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি কাগজে আলাদা হলেও পারিবারিক সম্পর্কটি নথিভিত্তিকভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব।
এখানে হিসাবটিও পরিষ্কার রাখা দরকার। ২,৬৪,৯৮,৪৬৪ টাকা মানে প্রায় ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা; এটি ‘২৫ কোটি’ নয়। আর এই একটি পুরস্কার-নথি দিয়ে অন্য সব চুক্তির অঙ্ক প্রমাণ করা যায় না। ২ সেপ্টেম্বর দ্য ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি চুক্তি ও মোট অঙ্কের কথা এসেছে। সেই বিস্তৃত দাবিগুলোকে এই লেখায় প্রমাণিত সত্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। আমরা কেবল সেই একটি চুক্তির ওপর দাঁড়িয়েছি, যার তারিখ, ক্রয়কারী দপ্তর, মূল্য এবং সুবিধাভোগী মালিক ই-জিপির সরাসরি পাতায় দেখা যায়।
দায়িত্ব, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তের দূরত্ব
প্রতিমন্ত্রীর সরকারি জীবনী পাতায় তাঁর বর্তমান দপ্তরের নাম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। একই পাতায় তাঁর দুই ছেলের একজন হিসেবে মীর সাকরুল আলম সিমান্তের নাম আছে। অন্যদিকে চুক্তির ই-জিপি পাতায় কাজটি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এলজিইডির। তাই বিষয়টি এমন নয় যে পরিবারটির কোনো প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে বহু বছর আগে সাধারণ ব্যবসা করেছে। প্রশ্নটি একই মন্ত্রণালয়-পরিবারে নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রয়ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্য দূরত্ব নিয়ে।
এই দূরত্বের অর্থ প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি টেন্ডারে স্বাক্ষর করেন—এমন দাবি নয়। ই-জিপি পাতায় অনুমোদিত কর্মকর্তার নাম আলাদা, এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দপ্তর ও ধাপ থাকে। ঠিক এই কারণেই স্বচ্ছতার পরীক্ষা আরও নির্দিষ্ট হওয়া দরকার: সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পদধারী কি মূল্যায়ন, অনুমোদন, বদলি, বরাদ্দ, সুপারিশ বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন? তাঁর দপ্তর কি সেই সরে দাঁড়ানোর নথি, কোনো স্বার্থ-ঘোষণা এবং স্বাধীন তদারকির ফল প্রকাশ করেছে?
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৭(৩) লাভ বা মুনাফার উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিয়ে বিধান রেখেছে। তবে এই একটি ই-জিপি নথি ও প্রকাশ্য জীবনী পাতা দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সাংবিধানিক লঙ্ঘনের সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কে ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, কোন আইন বা বিধি কোন ঘটনার ওপর কীভাবে প্রযোজ্য, এবং কোনো লিখিত প্রত্যাহার কার্যকর ছিল কি না—এসব যাচাই করার দায়িত্ব উপযুক্ত আইনগত ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের। সম্পাদকীয়ের সীমিত দাবি হলো: এমন প্রশ্ন উঠলে উত্তরটি যেন অনুমান বা ব্যক্তিগত আশ্বাসে না থেকে নথিতে থাকে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য কেন গুরুত্ব পায়
দ্য ডেইলি স্টারকে মীর শাহে আলম বলেছেন, তাঁর ছেলে দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন টেন্ডারে অংশ নেয়নি এবং আগের কাজে অন্য ঠিকাদারকে হলফনামার মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বোর্ড সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজে টেন্ডার আহ্বান, অনুমোদন বা অর্থপ্রদানের কর্মকর্তা নন। এটি তাঁর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা। কোনো ন্যায্য বিশ্লেষণে এই বক্তব্য বাদ দেওয়া যায় না।
এই ব্যাখ্যা সত্য হলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হতে পারে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যের ব্যবসা থাকা নিজে থেকে নিষিদ্ধ অনিয়ম প্রমাণ করে না; আগের টেন্ডার, পৃথক ক্রয়কারী কর্মকর্তা এবং বাস্তব কাজ থেমে যাওয়ার ঝুঁকিও বিবেচ্য। কিন্তু যে সুরক্ষার ওপর সরকারের ভরসা, সেটির প্রমাণও তখন জনসমক্ষে থাকা দরকার। কোন তারিখে দায়িত্ব হস্তান্তর হয়েছে, নতুন ঠিকাদারের আইনগত পরিচয় কী, মূল চুক্তির পক্ষ পরিবর্তনের অনুমোদন কে দিয়েছে, কাজ ও অর্থ কোন প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পন্ন হয়েছে—এসবের উত্তর না থাকলে ‘হলফনামায় দায়িত্ব দেওয়া’ কথাটি যাচাইয়ের বদলে কেবল দাবি হয়ে থাকে।
প্রকাশিত ই-জিপি পাতায় চুক্তির পুরস্কারের তারিখ ১৯ এপ্রিল এবং চুক্তি সইয়ের তারিখ ২৮ এপ্রিল। পোর্টালটি এখনও মূল অর্থনৈতিক পরিচালকের নাম মীর সিমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী হিসেবে মীর সাকরুল আলম সিমান্তকেই দেখায়। এটি দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি এমন চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; ই-জিপি তথ্য পরবর্তী পরিবর্তন সব সময় একইভাবে দেখায় কি না, তাও আলাদা প্রশ্ন। তবে এখানেই নথি প্রকাশের প্রয়োজনটি স্পষ্ট হয়। সরকার যদি বলে কাজ বাস্তবে অন্য কেউ করেছে বা অর্থ পেয়েছে, সেই পরিবর্তনের অনুমোদন ও অর্থপ্রদানের রেকর্ড প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।
কী প্রমাণিত নয়, সেটিও স্পষ্ট থাকা চাই
এই নথিগুলো থেকে তিনটি কথা বলা যাবে না। প্রথমত, টেন্ডারটি প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে দেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ এখানে নেই। দ্বিতীয়ত, প্রতিযোগিতা, দরপত্র-মূল্যায়ন বা কাজের মানে অনিয়ম হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও এই একটি পাতা দেয় না। তৃতীয়ত, পরিবারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই প্রতিমন্ত্রী অপরাধ করেছেন—এ কথাও বলা যাবে না। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে আরও অভিযোগ আছে; সেগুলো আলাদা তদন্ত ও প্রাথমিক নথি ছাড়া এই সম্পাদকীয়ের ভিত্তি হতে পারে না।
কিন্তু অনিশ্চয়তার তালিকা থাকলেই প্রশ্নটি শেষ হয়ে যায় না। বরং তা নির্ধারণ করে দেয় কোন নথি প্রকাশ করা দরকার। জনস্বার্থে সংঘাতের মানে শুধু গোপন ঘুষের মামলা নয়। এমন পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে একজন সাধারণ প্রতিযোগী বা নাগরিক মনে করতে পারেন যে সিদ্ধান্তের মাঠটি সমান ছিল না। সেই ধারণা ভুল হলেও তা ভাঙার দায়িত্ব রাষ্ট্রের; কারণ সরকারি টাকা শুধু সঠিকভাবে খরচ হলেই যথেষ্ট নয়, ন্যায্যতা দৃশ্যমানও হতে হয়।
এখন সাতটি নথিভিত্তিক উত্তর দরকার
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এলজিইডি এবং শিবগঞ্জ পৌরসভার কাছে উত্তরগুলো একসঙ্গে চাওয়া যেতে পারে। এগুলো কাউকে আগাম দোষী করার প্রশ্ন নয়; বরং ভবিষ্যতের সব অনুরূপ ক্রয়ের জন্য একটি যাচাইযোগ্য মানদণ্ড।
- মীর সিমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক জানার পর প্রতিমন্ত্রী কোনো লিখিত স্বার্থ-ঘোষণা বা প্রত্যাহারপত্র দিয়েছেন কি না; দিলে তার তারিখ ও পূর্ণ কপি কী?
- টেন্ডার আইডি ১২৪৭১৯১-এ কারা দরপত্র জমা দিয়েছেন, কতটি দরপত্র সাড়া-যোগ্য হয়েছে এবং মূল্যায়ন কমিটির সদস্য কারা ছিলেন?
- ১৯ এপ্রিলের পুরস্কার ও ২৮ এপ্রিলের চুক্তির আগে বা পরে কোনো রাজনৈতিক দপ্তর থেকে সুপারিশ, দিকনির্দেশ বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না; হলে তা কোন নথিতে আছে?
- প্রতিমন্ত্রীর বর্ণিত দায়িত্ব হস্তান্তর বা হলফনামা থাকলে, তা কোন তারিখে, কার কাছে এবং কোন চুক্তিগত অনুমোদনে কার্যকর হয়েছে?
- কাজের বাস্তব ঠিকাদার, বিল গ্রহণকারী এবং ব্যাংক হিসাবে অর্থপ্রাপ্ত পক্ষ কে—এলজিইডির মাপজোক, বিল ও অর্থপ্রদানের রেকর্ড কী বলে?
- চুক্তি হস্তান্তর হয়ে থাকলে ই-জিপির মূল রেকর্ডে সুবিধাভোগী মালিকানার তথ্য কেন বা কীভাবে অপরিবর্তিত আছে; তথ্য হালনাগাদের বিধি কী?
- একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য সরকার কি আলাদা ঘোষণা, স্বাধীন মূল্যায়ন ও প্রকাশ বাধ্যতামূলক করবে?
এই সাতটি উত্তরের অনেকগুলোর জন্য নতুন আইন লাগবে না। ই-জিপি নম্বর, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, প্রত্যাহারপত্র, চুক্তি-পরিবর্তনের অনুমোদন এবং বিলের সারসংক্ষেপ একসঙ্গে প্রকাশ করা যায়। ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য প্রকাশের প্রয়োজন নেই; কে আইনগতভাবে অর্থ পেয়েছে, কত কাজ মাপা হয়েছে এবং কার স্বাক্ষরে অনুমোদন হয়েছে—এতটুকু নাগরিকের জানার অধিকার।
এটি এক ব্যক্তির নয়, ব্যবস্থার পরীক্ষাও
এই ঘটনাটি নিয়ে নথি প্রকাশের দাবি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে আলাদা করে শাস্তি দেওয়ার দাবি নয়। একই মানদণ্ড মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রকল্পপরিচালক, সচিব এবং ক্রয়-ক্ষমতাসম্পন্ন সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য দরকার। নিকটাত্মীয়ের ব্যবসা আছে কি না, থাকলে কোন দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করছে, পদধারী ব্যক্তি কোন সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং স্বাধীন কে তা পরীক্ষা করেছেন—এই চারটি তথ্য নিয়মিত প্রকাশ হলে গোপন প্রভাবের আশঙ্কা কমে।
এতে প্রতিযোগিতাও সুরক্ষিত হয়। ছোট ঠিকাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী বা প্রকৌশলী তখন জানবেন যে তাঁদের দরপত্র শুধু দর ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেখা হয়েছে। আবার সরকারের পক্ষেও সুবিধা আছে: কোনো পরিবার-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান সত্যিই সেরা দর ও কারিগরি সক্ষমতায় কাজ পেলে, প্রকাশ্য নথিই সেই সিদ্ধান্তকে রক্ষা করবে। তাই স্বচ্ছতা ব্যবসা করা নিষিদ্ধ করার পথ নয়; ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের মাঝখানে পরীক্ষা-যোগ্য দূরত্ব রাখার পথ।
এলজিইডির মতো বড় বাস্তবায়ন সংস্থার জন্য একটি সহজ অনলাইন রেজিস্টার তৈরি করা সম্ভব। সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা মন্ত্রণালয়ের পদধারীর ঘোষিত নিকটাত্মীয়-সম্পর্কিত দরপত্র আলাদা চিহ্নে দেখা যাবে; সঙ্গে থাকবে মূল্যায়ন কমিটি, প্রত্যাহারপত্র, অনুমোদন এবং চূড়ান্ত বিলের সারাংশ। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা বাণিজ্যিক গোপনীয়তার যুক্তিসঙ্গত সীমা রক্ষা করেও এই তথ্য দেওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা, পরে বিতর্ক হলে নথি খুঁজতে সাংবাদিক বা নাগরিককে অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
বিশ্বাসের পরীক্ষা এখন নথিতে
সরকারের জন্য সহজ প্রতিক্রিয়া হবে বলা যে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক হয়েছে এবং প্রতিমন্ত্রী নিজে সিদ্ধান্ত নেননি। সেই কথাও সত্য হতে পারে। কিন্তু একটি আধুনিক জবাবদিহির ব্যবস্থায় কেবল ‘বিশ্বাস করুন’ যথেষ্ট নয়, বিশেষত যখন সরকারি পোর্টালেই একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি উন্নয়নকাজ দেখা যায়। সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব হবে নথি খুলে দেওয়া এবং স্বতন্ত্রভাবে মিলিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি করা।
আমাদের বিবেচনায়, মীর শাহে আলমকে অপরাধী বলার মতো প্রমাণ এই মুহূর্তে প্রকাশ্য নথিতে নেই। আবার ‘আমি টেন্ডার দিইনি’ বলেও জনআস্থার প্রশ্ন শেষ হয় না। মন্ত্রণালয় যদি নিরপেক্ষতা দেখাতে চায়, তবে এই চুক্তি দিয়ে শুরু করে নিকটাত্মীয়-সম্পর্কিত সব ক্রয়ের জন্য এক মাসের মধ্যে স্বার্থ-ঘোষণা, প্রত্যাহার, মূল্যায়ন, চুক্তি-পরিবর্তন ও অর্থপ্রদানের সংক্ষিপ্ত প্রকাশ্য রেজিস্টার চালু করতে পারে। এতে সৎ কর্মকর্তাও সুরক্ষিত থাকবেন, আর প্রভাবের সন্দেহ থাকলে তার পরীক্ষাও সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ ই-জিপি — চুক্তি-পুরস্কার, টেন্ডার/প্রস্তাব আইডি 1247191 (প্রবেশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- স্থানীয় সরকার বিভাগ — মীর শাহে আলমের সরকারি জীবনী (হালনাগাদ: ২১ এপ্রিল ২০২৬; প্রবেশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- বাংলাদেশের সংবিধান — অনুচ্ছেদ ১৪৭, বাংলাদেশ আইন তথ্যভান্ডার (প্রবেশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- The Daily Star — ‘Shahe Alam’s family firms land at least Tk 71cr in govt contracts’, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
