NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

কৃষি ও জবাবদিহি

মজুদ আছে, মাঠে কেন নেই? সার বিতরণে ৬৪ জেলার খোলা হিসাব চাই

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকার বলছে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে ১৫.৮৪ লাখ টন বেশি থাকবে। কিন্তু কয়েক জেলায় কৃষকেরা নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার কথা বলছেন। এখন দরকার জেলা-ভিত্তিক মজুদ, বরাদ্দ ও বিক্রির যাচাইযোগ্য হিসাব।

বাংলাদেশে সারবরাদ্দ, জেলা পর্যায়ের বিতরণ ও কৃষকের কাছে প্রাপ্যতার প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

দেশে সার আছে কি নেই—এই প্রশ্নের দুটি উত্তর এখন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। সংসদে সরকারের বক্তব্য, আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমে চাহিদার চেয়ে ১৫.৮৪ লাখ টন বেশি সার প্রস্তুত থাকবে এবং ৬৪ জেলায় পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে একাধিক জেলায় কৃষকেরা বলছেন, অনুমোদিত ডিলারের কাছে তারা প্রয়োজনমতো সার বা সরকার-নির্ধারিত দামে পাচ্ছেন না। কৃষকের জন্য গুদামের জাতীয় হিসাব নয়, নিজের ইউনিয়নের দোকানে পাওয়া বস্তাটিই বাস্তব।

এখানে তড়িঘড়ি করে ‘দেশে সারসংকট’ কিংবা ‘সব ঠিক আছে’—দুটির কোনোটিই বলা দায়িত্বশীল হবে না। প্রথমটি প্রমাণের চেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে, দ্বিতীয়টি মাঠের অভিযোগকে অদৃশ্য করে। প্রমাণিত বিষয় হলো, সরকার পর্যাপ্ত সরবরাহ ও নতুন পর্যবেক্ষণ কাঠামোর কথা বলছে; নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের মাঠ-প্রতিবেদনে কয়েক জেলায় প্রাপ্যতা ও দামের সমস্যা উঠে এসেছে। এই ফাঁক মেটানোর সবচেয়ে সরল উপায় হলো যাচাইযোগ্য জেলা-ভিত্তিক তথ্য প্রকাশ।

সংসদে সরকারের হিসাব, এবং তার সীমা

৯ সেপ্টেম্বরের সংসদীয় আলোচনার বিষয়ে বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির সম্ভাব্য চাহিদা ৩৫.৮৭ লাখ টন। সরকারের প্রস্তুত সরবরাহের হিসাব ৫১.৭১ লাখ টন; ব্যবধান ১৫.৮৪ লাখ টন। একই আলোচনায় রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, ৬৪ জেলায় সার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ও বিতরণ তদারকির জন্য সেল করা হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবস্থান, কারণ সরকার কেবল মজুদের পরিমাণ নয়, বিতরণ-ব্যবস্থার দায়িত্বও স্বীকার করছে।

তবে সংখ্যাগুলো কী কী উপাদানে গঠিত, কোন তারিখের মজুদ, কোন পর্যায়ে থাকা চালান এবং জেলা বা ডিলার পর্যায়ে কতটা পৌঁছেছে—এসব ছাড়া একটি জাতীয় উদ্বৃত্তের সংখ্যা মাঠের প্রাপ্যতার উত্তর নয়। সরবরাহের মধ্যে উৎপাদন, আমদানি, কেন্দ্রীয় গুদাম, পথে থাকা চালান ও ডিলারের হাতে থাকা পণ্য এক অর্থে এক জিনিস নয়। একটি কৃষককে আজ সার কিনতে হলে শেষের দুই ধাপই জরুরি।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সংসদীয় বক্তব্যের ভিত্তিতে চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ ও অবশিষ্ট মজুদের কিছু পৃথক সংখ্যা জানিয়েছে। কিন্তু ওই হিসাবও একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রশাসনিক ছবি। এটিকে অক্টোবর–ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাসের সঙ্গে যোগ বা বিয়োগ করে নতুন কোনো ঘাটতির সংখ্যা বানানো ঠিক হবে না। সময়সীমা ও সংজ্ঞা আলাদা হলে তুলনাও আলাদা রাখতে হয়।

মাঠের অভিযোগ কী বলে, কী বলে না

৯ সেপ্টেম্বর দ্য ডেইলি স্টার অন্তত আট জেলার কৃষক ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র তুলে ধরেছে, তাতে কিছু কৃষক অনুমোদিত ডিলারের কাছে বিক্রি সীমিত করার বা সার না পাওয়ার কথা বলেছেন; অননুমোদিত বিক্রেতার কাছে বেশি দামে কিনতে হয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে। প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যাও আছে: অতিরিক্ত ব্যবহার ও মজুত করার প্রবণতা চাপ তৈরি করছে। ডিলারদের বক্তব্য আবার ভিন্ন—চাহিদার তুলনায় তাদের বরাদ্দ কম।

এই বক্তব্যগুলো কোনো নির্দিষ্ট ডিলার বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা, দাম, বিক্রির পরিমাণ ও দায় নির্ধারণের জন্য প্রশাসনিক রেকর্ড ও তদন্ত লাগে। কিন্তু বহু জেলায় একই ধরনের অভিযোগ সংবাদ-অনুসন্ধানে পাওয়া গেলে সেটি তদারকির জন্য যথেষ্ট সতর্কসংকেত। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসও জাতীয় পর্যায়ে মজুদ যথেষ্ট থাকার সরকারি দাবির পাশাপাশি কিছু এলাকায় অতিরিক্ত দাম, অনিয়ম ও বণ্টন-বাধার কথা জানিয়েছে; সেখানে কর্তৃপক্ষের অভিযান, জরিমানা ও গুদাম সিলের উল্লেখ আছে।

এখন প্রশ্ন হলো, কোন জেলায় সমস্যা কতখানি এবং তদারকির পরে কী বদলাল? অভিযোগের সংখ্যাই উত্তর নয়। একই জেলায় বরাদ্দের কত শতাংশ ডিলার তুলেছেন, কত বিক্রি হয়েছে, কত অভিযোগ এসেছে, কতটি যাচাই হয়েছে এবং কতটির প্রতিকার হয়েছে—এই ক্রম না জানলে অভিযানও কেবল খবর হয়ে থাকে, ফল হয় না।

কাগজে বরাদ্দ থেকে দোকানের বস্তা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সেপ্টেম্বরের নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দ এবং ২৫ আগস্ট থেকে অগ্রিম উত্তোলন-সংক্রান্ত নথির তালিকা আছে। অন্য সরকারি পাতায় সার ডিলার নিয়োগ, জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটি, এবং সার বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৬ বাস্তবায়নের তথ্যও তালিকাভুক্ত। অর্থাৎ নিয়ম ও প্রশাসনিক কাঠামো একেবারেই অনুপস্থিত নয়।

কিন্তু নাগরিক বা কৃষক সহজে যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন—আজ আমার উপজেলার বরাদ্দ কত, কোন ডিলার কত তুলেছেন, দোকানে কত আছে, নির্ধারিত দাম কত, কোথায় অভিযোগ করব—সেটি একই জায়গায়, নিয়মিত হালনাগাদ হয়ে দেখা যায় কি? প্রকাশ্য তথ্যের এই শেষ ধাপটিই দুর্বল হলে ভালো নীতিও অস্পষ্ট প্রশাসনিক দাবিতে পরিণত হয়।

একটি উদাহরণেই সমস্যাটি বোঝা যায়। বরাদ্দের আদেশে কোনো জেলায় একটি পরিমাণ লেখা থাকলে সেটি অধিকারভিত্তিক ফল নয়; সেটি পরিকল্পনা। পণ্য গুদাম থেকে ছাড়ল কি না, পরিবহন শেষে ডিলার পেলেন কি না, ডিলার দোকানে তুললেন কি না এবং কৃষক নির্ধারিত দামে কিনলেন কি না—প্রতিটি ধাপে তথ্য বদলায়। মাঝখানের একটি ধাপ থেমে গেলেও কেন্দ্রীয় রেকর্ডে মজুদ থাকতে পারে, কিন্তু মাঠে সংকটের অনুভূতি তৈরি হয়।

আবার উল্টো দিকটিও সত্য। কোনো বাজারে ভিড় বা একটি অভিযোগ দেখেই জাতীয় ঘাটতি বলা যায় না। স্থানীয় পরিবহন-বিলম্ব, মৌসুমি চাহিদা, ভুল বণ্টন বা অস্বাভাবিক কেনার চাপ সাময়িকভাবে দোকানে প্রাপ্যতা কমাতে পারে। এ কারণেই প্রকাশ্য ড্যাশবোর্ডে একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মজুদ ও উপজেলা-পর্যায়ের শেষ বিক্রির তথ্য থাকতে হবে। তথ্য পূর্ণ হলে স্থানীয় সমস্যাকে জাতীয় আতঙ্ক বানানোও কঠিন হবে।

সরকারি সেবা ব্যবস্থায় এ ধরনের প্রকাশনা নতুন কোনো অসাধ্য প্রযুক্তি নয়। একটি সারণিতে জেলা, সার-ধরন, গত সপ্তাহের উদ্বোধনী মজুদ, নতুন চালান, ডিলারে ছাড়, রিপোর্ট করা বিক্রি এবং সমাপ্তি মজুদ দেখালেই প্রথম স্তরের যাচাই সম্ভব। দ্বিতীয় সারণিতে অভিযোগ, পরিদর্শন, অনিয়মের ধরন এবং নিষ্পত্তি দিলেই নাগরিক বুঝবেন সেলগুলো কেবল গঠিত হয়েছে, নাকি কাজও করছে। ব্যক্তির নাম প্রকাশের প্রয়োজন না থাকলেও ফল প্রকাশ করা যায়।

সরকারের পক্ষে ন্যায্য যুক্তি আছে। সারের চাহিদা একরকম থাকে না; মৌসুম, আবহাওয়া, ফসলের ধরন, আগাম কেনা এবং পরিবহন-ব্যবস্থার কারণে এক অঞ্চলের চাপ অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় মজুদ দেখেই কোনো জেলার সরবরাহ ব্যর্থ বলা যায় না। কিন্তু এই যুক্তিই জেলা-ভিত্তিক প্রকাশনা জরুরি করে: কোথায় চাহিদা বেড়েছে, কোথায় বরাদ্দ বদলেছে এবং কারা কত দ্রুত ঘাটতি মিটিয়েছে, তার প্রমাণ তখন দেখা যাবে।

৬৪ সেলের কাজ দেখা যাবে কীভাবে

৬৪টি পর্যবেক্ষণ সেল গঠনের সরকারি ঘোষণা উপেক্ষা করার নয়। এটি সঠিকভাবে চালু হলে অভিযোগ, ডিলার-স্টক, পরিবহন, অবৈধ মজুত ও সীমান্তবর্তী সরবরাহ—সবকিছুর দ্রুত সমন্বয় হতে পারে। সরকার আরও বলেছে, নতুন ডিলার তখনও নিয়োগ হয়নি; আবেদন জমার সময়সীমা ১০ সেপ্টেম্বর। নতুন নিয়োগের আগে পুরোনো ব্যবস্থার দায় কোথায়, আর নিয়োগের পর নতুন ব্যবস্থার ফল কী—দুই হিসাব আলাদা করে দেখা দরকার।

সেলের অস্তিত্ব নিজে ফল নয়। তাদের জন্য প্রকাশ্য ন্যূনতম মানদণ্ড থাকা উচিত: অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই, দোকানভিত্তিক স্টক যাচাইয়ের সময়, অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থার ধরন, এবং কৃষককে প্রতিক্রিয়া জানানোর পদ্ধতি। মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন চাইলে এই তথ্য সাপ্তাহিকভাবে প্রকাশ করতে পারে। তাতে ভালো কাজ করা জেলার সাফল্যও দেখা যাবে, পিছিয়ে থাকা জেলাও চিহ্নিত হবে।

সেই প্রকাশনা শুরু হলে সরকারের কাছে ছয়টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যাবে। কোন জেলায় বরাদ্দের কত অংশ সময়মতো ডিলারের কাছে পৌঁছেছে? দোকানভিত্তিক বিক্রির তথ্য কে যাচাই করছে? নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রির অভিযোগ কত, এবং কয়টি প্রমাণিত? কোন এলাকায় নতুন চালান পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে? পর্যবেক্ষণ সেল কতটি অভিযোগে প্রতিকার দিয়েছে? আর নতুন ডিলার নিয়োগের পরে পুরোনো ও নতুন ব্যবস্থার ফল কীভাবে তুলনা করা হবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সংসদে একটি আশ্বাস দিয়ে শেষ হওয়ার নয়। কৃষি মন্ত্রণালয় তথ্যের মালিক, বিসিআইসি উৎপাদন-আমদানি-সংরক্ষণের বড় অংশে যুক্ত, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠের চাহিদা জানে এবং জেলা প্রশাসন তদারকিতে আছে। কাজেই যৌথ ড্যাশবোর্ডে কার তথ্য কোন সংস্থা দিচ্ছে, সেটিও লেখা দরকার। দায়িত্ব ছড়িয়ে থাকলে দায়ও যেন অদৃশ্য না হয়।

চারটি প্রকাশ্য হিসাব এখনই দরকার

কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের যৌথভাবে অন্তত চার ধরনের সাপ্তাহিক তথ্য প্রকাশ করা উচিত। প্রথমত, প্রতিটি সার ও প্রতিটি জেলার উদ্বোধনী মজুদ, নতুন বরাদ্দ এবং পথে থাকা চালান। দ্বিতীয়ত, ডিলারদের উত্তোলন, দোকানভিত্তিক বিক্রি ও অবশিষ্ট স্টক। তৃতীয়ত, নির্ধারিত মূল্য, পাওয়া অভিযোগ, যাচাইয়ের ফল এবং অতিরিক্ত দাম বা অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা। চতুর্থত, যে জেলায় বরাদ্দ বদলানো হয়েছে তার কারণ ও সিদ্ধান্তের তারিখ।

তথ্য ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক গোপনীয়তা ভেঙে নয়, সমষ্টিগত ও প্রয়োজনীয় বিবরণে প্রকাশ করা যায়। কিন্তু ডিলার, ইউনিয়ন ও উপজেলার পর্যায়ে কতটা সার পৌঁছেছে তার ন্যূনতম হিসাব না থাকলে কৃষকের কাছে অভিযোগ জানানোর পথও অন্ধকার থাকে। কেন্দ্রীয় উদ্বৃত্তের দাবি তখন যাচাই করা যায় না, আর মাঠের অভিযোগও নথিতে পরীক্ষা করা যায় না।

প্রকাশের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুম শেষে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন এই সমস্যার সমাধান করবে না। সার এমন পণ্য, যার প্রয়োজন বীজ বোনা, জমি প্রস্তুত বা শীর্ষ প্রয়োগের নির্দিষ্ট দিনের সঙ্গে বাঁধা। তিন সপ্তাহ পরে পাওয়া সংশোধিত তথ্য কৃষকের সেই সপ্তাহের ক্ষতি ফেরায় না। তাই অন্তত সাপ্তাহিক, চাপের মৌসুমে সম্ভব হলে দৈনিক হালনাগাদের নীতি দরকার।

এখানে অর্থের প্রশ্নও আছে। ভর্তুকি, উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন ও প্রশাসনিক তদারকিতে রাষ্ট্রের ব্যয় হয় এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে কৃষক সঠিক সময়ে সঠিক দামে উপকরণ পাবেন। বরাদ্দের পর কোন ধাপে পণ্য আটকে গেলে শুধু একজন কৃষকের অতিরিক্ত খরচ হয় না; ভর্তুকির জনস্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণেই খোলা তথ্যকে বাড়তি প্রচার নয়, বিতরণ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা দরকার।

এতে সৎ ডিলার ও মাঠকর্মীরও লাভ আছে। নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য হিসাব থাকলে একটি এলাকার বিচ্ছিন্ন গুজব বা বাজারের অনিয়ম পুরো ব্যবস্থার ওপর চাপানো যাবে না। আবার যে জায়গায় সত্যিই বিলম্ব বা অনিয়ম আছে, সেখানে দায়িত্বশীল সংস্থার কাছে দ্রুত প্রমাণ পৌঁছাবে। স্বচ্ছতা তাই কেবল সমালোচনার হাতিয়ার নয়; ন্যায্য কাজের সুরক্ষাও।

বিতরণই আসল পরীক্ষা

সারের প্রশ্নে সরকারের প্রথম দায়িত্ব জাতীয় সরবরাহ নিরাপদ রাখা। দ্বিতীয়, এবং সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, সেই সরবরাহকে সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সঠিক দামে পৌঁছানো। সংসদে দেওয়া হিসাব ও ৬৪ সেলের ঘোষণা দ্বিতীয় দায়িত্বের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি তৈরি করেছে। এখন সেই প্রতিশ্রুতির পরীক্ষাও প্রকাশ্য হওয়া উচিত।

আমাদের বিবেচনায়, ৩০ দিনের মধ্যে জেলা-ওয়ারি উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ড চালু করা এবং প্রতি সপ্তাহে ফল প্রকাশ করাই সবচেয়ে বাস্তব পদক্ষেপ। এতে সরকার প্রমাণ করতে পারবে যে জাতীয় মজুদের হিসাব মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে। না মিললে কোন স্থানে বণ্টন-ব্যবস্থা ভাঙছে, তা ধরা পড়বে এবং কৃষকও জানবেন কার কাছে জবাব চাইতে হবে। সারসংকটের বিতর্কের বদলে এভাবেই শুরু হতে পারে সার বিতরণের জবাবদিহি।

উৎস ও নথি

তথ্যসূত্র

  1. কৃষি মন্ত্রণালয়, ‘সারের মাসিক বরাদ্দ’; সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নন-ইউরিয়া সার বরাদ্দ ও অগ্রিম উত্তোলন-সংক্রান্ত সরকারি নথির তালিকা
  2. কৃষি মন্ত্রণালয়, ‘ভর্তুকি/অন্যান্য তথ্য’; সার ডিলার নিয়োগ, জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটি এবং সার বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৬ বাস্তবায়নের সরকারি তালিকা
  3. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ‘Fertilizer monitoring cells set up in 64 districts to ensure smooth supply’, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬; সংসদে রাষ্ট্রপক্ষের সরবরাহ-হিসাব, ৬৪ সেল ও ডিলার নিয়োগের অবস্থান
  4. দ্য ডেইলি স্টার, ‘Fertiliser still stuck in supply chain maze’, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; একাধিক জেলায় কৃষক, ডিলার ও কর্মকর্তার বক্তব্যে প্রাপ্যতা ও দামের স্বাধীন মাঠ-প্রতিবেদন
  5. দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ‘Supply chain strains despite enough fertiliser stocks’, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; জাতীয় মজুদ, স্থানীয় বণ্টন, অতিরিক্ত দাম ও নজরদারি নিয়ে স্বাধীন প্রতিবেদন
  6. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ‘Govt says fertiliser stocks adequate, opposition blames mismanagement’, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬; সংসদে সরকারের মজুদ-হিসাব ও বিরোধী বক্তব্যের স্বাধীন প্রতিবেদন