NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

জ্বালানি ও জনঅর্থ

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ: শর্ত ও ঝুঁকির খোলা হিসাব চাই

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১,০০৪.২৯ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে। সম্ভাব্য জ্বালানি-সুবিধার পাশাপাশি সুদ, পরিশোধ, BPC-ঝুঁকি ও বাস্তবায়নের প্রকাশ্য হিসাব কেন জরুরি।

জনঅর্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরকারি জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

সংক্ষেপে

৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ১,০০৪.২৯ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই করেছে। ইআরডির সংবাদবিজ্ঞপ্তির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন—বিপিসি—জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়ন করবে। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রিফাইনারির বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন থেকে ৪৫ লাখ টনে উঠবে—এটিই সরকারের কেন্দ্রীয় যুক্তি।

চুক্তি সই হওয়া একটি বাস্তব ঘটনা; বাড়তি সক্ষমতা এখনো বাস্তব ফল নয়। এ পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বলছে, এতে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে। সেই লক্ষ্য যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। কিন্তু প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক অর্থায়ন গ্রহণের সঙ্গে জনসাধারণের আরেকটি ন্যায্য প্রশ্নও যুক্ত হয়: সুদ ও পরিশোধের দায় কত, কার হিসাবে বসবে, বিপিসি তা সামলাতে পারবে কি না, এবং ২০৩০-এর পরিকল্পিত ফল আসা পর্যন্ত সরকার কীভাবে অগ্রগতি দেখাবে?

সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

ইআরডির সংবাদবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবির পক্ষে কান্ট্রি প্রোগ্রামসের মহাপরিচালক আনাসে আইসামি চুক্তিতে সই করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একই দিনের প্রতিবেদনও স্বাক্ষরকারী ও প্রকল্পের উদ্দেশ্য মিলিয়ে দিয়েছে। ফলে অর্থায়ন চুক্তি সইয়ের বিষয়টি সরকার ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম—দুই দিকেই সমর্থিত।

এখানে দায়িত্বের রেখাও পরিষ্কার হওয়া দরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বৈদেশিক অর্থায়নের সরকারি পক্ষ; জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ নীতিগত খাত-দায়িত্বে; বিপিসি বাস্তবায়নকারী সংস্থা; আর ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রকল্পের কার্যকর প্রতিষ্ঠান। তাই পরে ব্যয়, বিলম্ব, ক্রয় বা ঋণসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এক দপ্তরের সাধারণ বিবৃতিতে বিষয়টি শেষ হবে না। কোন দপ্তর কোন সূচক প্রকাশ করবে, সেটি শুরুতেই বলা দরকার।

সরকারের যুক্তি কী?

সরকারের শক্তিশালী যুক্তিটি দুর্বল নয়। ইআরডির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সক্ষমতা ৪৫ লাখ টনে উঠলে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির নির্ভরতা কমবে। TBS-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ চাহিদা মেটাতে পারার প্রত্যাশা রয়েছে।

আইএসডিবির ১ সেপ্টেম্বরের সরকারি ঘোষণাও দেখায় যে, তাদের চেয়ারম্যানের ঢাকা সফরে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বড় একটি জ্বালানি-অর্থায়ন চুক্তি আলোচ্য ছিল। চুক্তির পর ইআরডির বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী আইএসডিবিকে সদস্যদেশগুলোর জন্য কম খরচের অর্থায়নের সুযোগ খুঁজতে বলেছেন। অর্থাৎ সরকার নিজেও অর্থের দামের গুরুত্ব অস্বীকার করছে না। দীর্ঘদিনের রিফাইনারি সম্প্রসারণ অবশেষে অর্থায়ন পাওয়া—এটি নীতিগতভাবে অগ্রগতি হতে পারে, বিশেষত পরিশোধিত জ্বালানির আন্তর্জাতিক সরবরাহ ঝুঁকির সময়ে।

সমস্যাটা কোথায়? চুক্তি নয়, প্রকাশযোগ্য দায়ে

বিদেশি অর্থায়ন খারাপ বা ভালো—এমন এক কথার সিদ্ধান্ত এখানে প্রযোজ্য নয়। প্রশ্ন হলো এর দাম ও ঝুঁকি যথেষ্ট খোলাভাবে মাপা যাচ্ছে কি না। ২ জুলাই প্রকাশিত TBS-এর একটি প্রতিবেদন ইআরডির কার্যপত্রের বরাত দিয়ে বলেছিল, প্রস্তাবিত অর্থায়নের মোট মার্ক-আপ ছিল ৫.৪৪৬২৭ শতাংশ: ৫ জুলাইয়ের ছয় মাসের SOFR ৩.৮৪৬২৭ শতাংশের সঙ্গে ১.৬০ শতাংশ স্প্রেড ও ঝুঁকি প্রিমিয়াম। একই প্রতিবেদনে ২০ বছরের মেয়াদ, পাঁচ বছরের অবকাশ এবং বাকি ১৫ বছরে অর্ধবার্ষিক কিস্তির কথা বলা হয়।

এই সংখ্যাগুলোকে প্রকাশিত স্বাক্ষরিত চুক্তির বিকল্প বলা যাবে না। আমরা চুক্তিপত্র বা ইআরডির কার্যপত্রের মূল কপি হাতে পাইনি। তাই হার, গ্রান্ট এলিমেন্ট বা কিস্তির শর্তকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত চূড়ান্ত বিধান হিসেবে লেখা ঠিক হবে না। কিন্তু তথ্যটি জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ SOFR-ভিত্তিক অংশ পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যৎ ঋণসেবার ব্যয়ও বদলাতে পারে। সরকারি অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তা লুকানোর কারণ নেই; বরং নথি প্রকাশ করে তা বোঝানোর কারণ আছে।

তথ্য কী বলছে?

TBS-এর ২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩১,০০০.৫৭ কোটি টাকা; এর মধ্যে সরকার ১৮,৫৬৬.৭৪ কোটি টাকা এবং বিপিসি ১২,৪৩৩.৮৩ কোটি টাকা দেওয়ার কথা। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইআরডি সুপারিশ করেছিল—সরকার বিপিসি বা ইস্টার্ন রিফাইনারিকে অর্থ পুনঃঋণ দেওয়ার আগে বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হোক। এটি কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বরং ঋণগ্রহীতা রাষ্ট্র ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার দায় বহনের সক্ষমতা যাচাইয়ের স্বাভাবিক আর্থিক সতর্কতা।

সরকারি বিবৃতিতে ১৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টন সক্ষমতার কথা আছে। এটি তিন গুণ ক্ষমতার লক্ষ্য; কিন্তু এই একটি সূচক দিয়ে আর্থিক সাফল্য প্রমাণ হয় না। বাড়তি সক্ষমতা ব্যবহার কত হবে, অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ও সংরক্ষণ কেমন থাকবে, উৎপাদিত পণ্যের বাজার ও মূল্যনীতি কী হবে, এবং ব্যয়-সাশ্রয় ঋণসেবাকে ছাড়িয়ে যাবে কি না—এসব আলাদা হিসাব। ৪৫–৫০ শতাংশ চাহিদা মেটানোর অনুমানও পূর্ণ উৎপাদন, সরবরাহ ও চাহিদার নির্দিষ্ট পূর্বশর্তে দাঁড়িয়ে আছে; এটিকে আজকের অর্জন বলা যাবে না।

প্রকল্প শেষের সময় নিয়েও সতর্ক ভাষা দরকার। TBS-এর ৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন নভেম্বর ২০৩০-এর লক্ষ্য বলেছে। লক্ষ্যকে সময়সীমা হিসেবে ধরে নাগরিক তদারকি করা যায়, কিন্তু সেটি প্রতিশ্রুত ফল নয়। তাই প্রতিটি ত্রৈমাসিকে নকশা, দরপত্র, চুক্তি, নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন, পরীক্ষামূলক চালনা এবং ব্যয়ের অগ্রগতি আলাদা করে প্রকাশ করলে পরে কেউ কেবল শেষ মুহূর্তের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করতে হবে না।

আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা: বিলম্বের মূল্য

এই প্রকল্প নতুন ভাবনা নয়। TBS জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের পরিকল্পনা ২০১০ সাল থেকে বিবেচনায় ছিল এবং অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন জটিলতায় বহুবার পিছিয়েছে। এই ইতিহাস থেকে একটি সরল শিক্ষা আসে: কেবল চুক্তি সইকে শেষ সাফল্য ভাবলে আবারও সময় ও খরচের ঝুঁকি আড়াল হয়। অন্যদিকে, অতীতের প্রতিটি বিলম্ব বর্তমান সরকারের সৃষ্টি—এ কথাও প্রমাণ ছাড়া বলা যায় না। বর্তমান সরকারের জবাবদিহির জায়গা হলো এখনকার চুক্তি, এখনকার অর্থায়ন এবং এখন থেকে প্রকাশিত বাস্তবায়ন-ফল।

মূল্যায়নে সমতল ক্ষেত্র দরকার। একটি অর্থবছরের ব্যয়কে অন্য বছরের মোট ব্যয়ের সঙ্গে, বা পরিকল্পিত উৎপাদনকে বাস্তব বিক্রির সঙ্গে মিলিয়ে দাবি করা যাবে না। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলদাম, ডলার বিনিময়হার, যুদ্ধজনিত সরবরাহ বিঘ্ন এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা—সবই ফলকে প্রভাবিত করবে। তাই সফলতার মাপকাঠি আগে ঠিক করা উচিত: নির্ধারিত মাইলফলক, অনুমোদিত ব্যয়, বাস্তব ব্যয়, নির্মাণ অগ্রগতি, চালু হওয়ার তারিখ, সক্ষমতা ব্যবহার এবং ঋণসেবার পরিমাণ।

কার লাভ, কার ঝুঁকি?

পরিকল্পনা সফল হলে ভোক্তা, শিল্প ও রাষ্ট্র—তিন পক্ষই উপকৃত হতে পারে: পরিশোধিত পণ্য আমদানির নির্ভরতা কমতে পারে, সরবরাহের স্থিতি বাড়তে পারে এবং স্থানীয় পরিশোধন সক্ষমতা বড় হতে পারে। কিন্তু ঝুঁকিও রাষ্ট্রীয়। প্রকল্পের ব্যয় বাড়লে, কাজ দেরি হলে, কারখানা পরিকল্পিত মাত্রায় না চললে বা বিপিসির নগদ প্রবাহ দুর্বল হলে ঋণের চাপ শেষ পর্যন্ত সরকারি হিসাব, জ্বালানি মূল্য, ভর্তুকি বা অন্য জনব্যয়ের সিদ্ধান্তে এসে পড়তে পারে। কোন পথটি ঘটবে, আজ বলা সম্ভব নয়; তাই তথ্য প্রকাশই সুরক্ষা।

এখানে বিপিসির আর্থিক সক্ষমতার প্রশ্নটি বিশেষভাবে জনস্বার্থের। কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর ঋণ পুনঃঋণ দিলে সেটি কেবল প্রতিষ্ঠানের কাগুজে দায়ে আটকে থাকে না, প্রয়োজন হলে সরকারের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। সেই কারণে বিপিসির আর্থিক মূল্যায়নের সারাংশ, সরকারি গ্যারান্টি বা দায়ের ধরন, এবং ঋণসেবার সম্ভাব্য উৎস প্রকাশ করা উচিত। বাণিজ্যিক গোপনীয়তার সীমা থাকতে পারে, কিন্তু নাগরিকদের ঝুঁকি বোঝার মতো মূল সংখ্যা গোপন রাখার যুক্তি দুর্বল।

সরকারের যুক্তি কতটা টেকে?

সরকারের যুক্তি টেকে, যদি প্রকল্পটি সময়মতো, স্বচ্ছ ক্রয়ে এবং কার্যকর সক্ষমতা নিয়ে সম্পন্ন হয়। বড় সক্ষমতা ও কম আমদানি-নির্ভরতা বাস্তব নীতিগত সুবিধা। কিন্তু শুধু ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ বললে অর্থের মূল্য, মুদ্রা ঝুঁকি এবং বাস্তবায়নের শৃঙ্খলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না। সরকারও যখন কম খরচের অর্থায়নের প্রয়োজন স্বীকার করছে, তখন চুক্তির সংক্ষিপ্ত শর্তপত্র, পরিবর্তনশীল হারের ব্যাখ্যা এবং ব্যয় বাড়লে করণীয় প্রকাশ করাই তার যুক্তিকে শক্তিশালী করবে।

আন্তর্জাতিক অংশীদার থাকা জবাবদিহির বিকল্প নয়। আইএসডিবির অর্থায়ন প্রকল্পের বহিরাগত যাচাই বা আস্থার একটি সংকেত হতে পারে, কিন্তু বাস্তবায়ন, ক্রয়, ব্যয় ও ফলের দায় বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরই। আবার চুক্তিকে কেবল ব্যয়বহুল বলে বাতিল করাও দায়িত্বশীল বিশ্লেষণ নয়, কারণ বিকল্প অর্থায়নের শর্ত, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং প্রকল্প না করার মূল্যও তুলনা করতে হয়। সেই তুলনার উপাদান জনসমক্ষে না থাকলে বিতর্কটি স্লোগানে নেমে আসে।

এখন কোন হিসাব প্রকাশ করা দরকার?

কেন প্রকল্প ড্যাশবোর্ড দরকার?

ড্যাশবোর্ডকে প্রচারপত্র হতে দেওয়া যাবে না। এতে একই তারিখে অনুমোদিত ব্যয় ও প্রকৃত ব্যয়, পরিকল্পিত ও বাস্তব অগ্রগতি, এবং মূল সময়সীমা ও সংশোধিত সময়সীমা পাশাপাশি থাকতে হবে। কোনো দরপত্র বাতিল হলে বা নতুন সময় লাগলে শুধু ‘প্রক্রিয়াধীন’ লেখা যথেষ্ট নয়; কারণ, নতুন দায়িত্ব, সিদ্ধান্তের তারিখ ও প্রভাবও বলা দরকার। এই পদ্ধতি প্রকল্প পরিচালকের জন্য বাড়তি শাস্তি নয়—আগাম সমস্যার সংকেত ধরার উপায়।

ঋণের ক্ষেত্রেও একটি সহজ বার্ষিক সারণি নাগরিক আলোচনাকে অনেক পরিষ্কার করবে: চলতি বছরে কত অর্থ ছাড় হলো, কত স্থানীয় অর্থ ব্যয় হলো, রেফারেন্স হার বদলালে পরের বছরের অনুমিত ঋণসেবা কত, এবং সেই অনুমান কোন বিনিময়হার ও তেলদামের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অনুমান ভুল হতে পারে; কিন্তু অনুমানের ভিত্তি গোপন থাকলে ভুলটি বোঝা যায় না। পরে বাস্তব অঙ্কের সঙ্গে সেই অনুমান মিলিয়ে দেখলেই ব্যবস্থাপনার মান নিয়ে সৎ আলোচনা সম্ভব হবে।

বড় ছবিটা কী?

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই ধরনের সময় চলে: আজকের সরবরাহ-ঝুঁকি এবং দশকজোড়া অবকাঠামো সিদ্ধান্ত। ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ দ্বিতীয় ধরনের সিদ্ধান্ত। এর মূল্য তাই কেবল ফিতা কাটা বা চুক্তি স্বাক্ষরে নয়; পরবর্তী চার বছর ও ঋণ পরিশোধের বহু বছরজুড়ে মাপা হবে। জনসাধারণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী তথ্য হলো এমন তথ্য, যা আগে ও পরে একইভাবে তুলনা করা যায়।

স্বচ্ছতার অর্থ প্রতিটি কারিগরি কাগজ একসঙ্গে ছড়িয়ে দেওয়া নয়। সহজ ভাষায় নিয়মিত নোটই যথেষ্ট শুরু: এই ত্রৈমাসিকে কী হওয়ার কথা ছিল, কী হয়েছে, কত খরচ হয়েছে, কী ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, কে দায়িত্বে, এবং পরের হালনাগাদ কবে। এতে ভালো অগ্রগতি হলে সরকার তার কৃতিত্ব প্রমাণ করতে পারবে; ব্যর্থতা বা বিলম্ব হলে সংশোধনের সুযোগও আগেই তৈরি হবে।

উপসংহার

ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য ১,০০৪.২৯ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘটনা। পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানি-নির্ভরতা কমানোর সরকারি লক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু একটি বড় ঋণকে জনস্বার্থে ভালো সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে তার প্রকাশ্য শর্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ বাস্তবায়ন এবং মাপা ফল। সরকার যদি সুদ-পরিশোধ, বিপিসির দায়, ক্রয়, সময়সীমা ও বাস্তব সক্ষমতার হিসাব নিয়মিত খোলে, তাহলে এই অর্থায়ন শুধু আশা নয়—যাচাইযোগ্য উন্নয়ন সিদ্ধান্ত হতে পারে।

তথ্যসূত্র

  1. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংবাদবিজ্ঞপ্তির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য ১,০০৪.২৯ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
  2. ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক: বাংলাদেশ সফর ও জ্বালানি-অর্থায়ন চুক্তির সরকারি ঘোষণা (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
  3. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: চুক্তি সই, প্রকল্পের সক্ষমতা ও ২০৩০ সালের লক্ষ্য (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ইআরডির কার্যপত্রের বরাতে অর্থায়নের হার, মেয়াদ ও বিপিসির সক্ষমতা-পরীক্ষার তথ্য (২ জুলাই ২০২৬)
  5. ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক: নির্বাহী পর্ষদের বাংলাদেশে ১.০০৪ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন অনুমোদনের সরকারি নোট (জুন ২০২৬)