NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

পরিবেশ ও জবাবদিহি

৫৪ শিল্পে শোধনাগার নেই: নদী রক্ষার পরিকল্পনা এবার ফলের প্রমাণ দিক

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৩০ আগস্ট ২০২৬

সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার তীরের ১৯৬ শিল্পের ৫৪টিতে এখনো বর্জ্য শোধনাগার নেই। পরিকল্পনার চেয়ে প্রকাশ্য বাস্তবায়ন-হিসাব কেন জরুরি।

জনস্বার্থ, নদী সুরক্ষা ও জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার তীরে তরলবর্জ্য উৎপাদনকারী ১৯৬টি শিল্পের মধ্যে ৫৪টিতে এখনো ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট—ইটিপি, অর্থাৎ তরলবর্জ্য শোধনাগার—নেই। ৩০ আগস্ট সংসদে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর লিখিত উত্তরের বরাত দিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এই তথ্য জানিয়েছে। সংখ্যাটি শুধু একটি পরিবেশ-পরিসংখ্যান নয়। দুই নদীর পাশে শিল্প নিয়ন্ত্রণের যে কাঠামো আছে, সেখানে অন্তত প্রায় ২৭.৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মৌলিক শোধনব্যবস্থা অনুপস্থিত থাকার স্বীকারোক্তি।

সরকার একই সঙ্গে বলছে, অভিযান চলছে; ২৭টি শিল্পের ইউটিলিটি-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বন্ধ করা হয়েছে; প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আরোপের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা আদায় হয়েছে; ৪৬টি শিল্পে ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ পরিকল্পনা চলছে; ৩৪টিতে ইটিপি চালু আছে কি না দেখতে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এগুলোকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। বরং এই তথ্যগুলোই বলে দেয় যে সরকার সমস্যা দেখছে এবং কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ব্যবস্থাগুলো কি নদীতে বর্জ্য পড়া থামানোর যাচাইযোগ্য ফল দিচ্ছে?

সংসদের সংখ্যাটি কী বলছে—এবং কী বলছে না

সংবাদ-প্রতিবেদনটি মন্ত্রীর লিখিত উত্তরকে উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেই সীমা স্পষ্ট রাখা জরুরি। আমরা স্বাধীনভাবে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম, অবস্থান, খাত বা প্রতিটির ছাড়পত্রের অবস্থা যাচাই করতে পারিনি; তাই কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দূষণকারী বা আইনভঙ্গকারী বলা যাচ্ছে না। কিন্তু মন্ত্রীর দেওয়া সমষ্টিগত হিসাব থেকে একটি ন্যায্য প্রশ্ন ওঠে: ইটিপি প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠানের তালিকা সরকারের কাছে থাকলে, বাকি ৫৪টির জন্য কার্যকর সময়সীমা ও প্রতিটি পদক্ষেপের তথ্য কোথায়?

১৯৬টির মধ্যে ১৪২টিতে ইটিপি স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। হিসাবটি পাশাপাশি রাখি: ৫৪ ভাগ ১৯৬ করলে হয় প্রায় ২৭.৬ শতাংশ। এটি নদীতে ঠিক কত দূষণ যাচ্ছে তার মাপ নয়; ইটিপি না থাকা মাত্রেই কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের নির্গমন বা পানির দূষণমাত্রা নির্ধারিত হয় না। আবার ইটিপি বসানো মানেই সেটি নিয়মিত ও কার্যকরভাবে চলছে—এ কথাও বলা যায় না। এ কারণেই শোধনাগার স্থাপনের সংখ্যা, কার্যকর পরিচালনার প্রমাণ এবং নদীর পানির পরীক্ষার ফল—তিনটি আলাদা তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা দরকার।

ক্ষতিপূরণের হিসাবেও একই শিক্ষা আছে। মন্ত্রী প্রায় ৩ কোটি টাকা আরোপ এবং প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা আদায়ের কথা বলেছেন। গোল করা এই দুই অঙ্কের ভিত্তিতে আদায়ের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এটি ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; আরোপের তারিখ, আপিল, কিস্তি, স্থগিতাদেশ বা আদায়ের আইনি অবস্থা জানা ছাড়া তা বলা দায়িত্বশীল হবে না। তবে বাকি অর্থ কোন অবস্থায় আছে, কতটি মামলা বা আদেশ ঝুলে আছে, এবং অনাদায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী—এই তথ্য প্রকাশ করা পরিবেশ অধিদপ্তরের ন্যূনতম জবাবদিহি।

সরকারের ব্যাখ্যায় কাজের একটি রূপরেখা আছে

সরকারের পক্ষে শক্তিশালী বক্তব্যটি হলো: বিষয়টি নিছক কাগজে নেই। ১৩ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ব্রিফিংয়ে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগে ২২৪টি বর্জ্য-নিঃসরণের উৎস চিহ্নিত করার কথা বলা হয়। সেখানে উৎসভিত্তিক তালিকা, শিল্পে কার্যকর ইটিপি নিশ্চিত করা, অননুমোদিত ড্রেন বন্ধ করা, খাল-ড্রেন থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা আছে। আজকের সংসদীয় উত্তরে শীতলক্ষ্যাকেও নিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা, অনলাইন মনিটরিং কেন্দ্র ও নদীর স্বাস্থ্য-সমীক্ষার পরিকল্পনার কথা এসেছে।

এই বহুসংস্থা পদ্ধতির প্রয়োজন আছে। শিল্পবর্জ্য ছাড়াও নর্দমা, ড্রেন, দখল, নৌপথ, নগর ব্যবস্থাপনা ও ভূমি ব্যবহারের প্রশ্নে পরিবেশ মন্ত্রণালয় একা ফল দিতে পারে না। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজউক ও সিটি করপোরেশনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সমন্বয় তাই দুর্বলতার অজুহাত নয়; বরং কে কোন উৎস বন্ধ করবে, কোন কাজের শেষ তারিখ কী, তা দৃশ্যমান করার কারণ।

সরকারের ঘোষিত ব্যবস্থা সফল হতে পারে—বিশেষত যদি ক্যামেরা ও অনলাইন কেন্দ্র শুধু কেনাকাটা বা উদ্বোধনের তালিকা না হয়ে নিয়মিত তদারকির প্রমাণ হয়। ৩৪টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে মানে ৩৪টি শিল্পকে অব্যাহতভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার তথ্য এখনো নেই। ৪৬টি শিল্পে শূন্য তরলবর্জ্য পরিকল্পনা ‘চলছে’—এ কথাও শেষ ফল নয়। কোন শিল্পে কোন পর্যায়ে কাজ, কী মানদণ্ডে শূন্য নির্গমন ধরা হবে, এবং ব্যত্যয় হলে কে ব্যবস্থা নেবে—প্রকাশিত ড্যাশবোর্ড ছাড়া নাগরিক তা যাচাই করতে পারবেন না।

নথি আছে, কিন্তু জনতার দেখার জানালা কোথায়

মন্ত্রী নিজেই নদীর সামগ্রিক অবস্থা নির্ধারণে স্বাস্থ্য-সমীক্ষা এবং পানিদূষণের মাত্রা নিয়মিত দেখতে অনলাইন মনিটরিং কেন্দ্রের উদ্যোগের কথা বলেছেন। উদ্যোগ দুটি বাস্তবায়িত হলে জনতার জন্য তার ফলও খোলা থাকা দরকার। আজকের সংসদীয় সংখ্যা, পরের মাসের পরিদর্শন এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য-সমীক্ষা আলাদা আলাদা ঘোষণায় সীমিত থাকলে সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন না—একই স্থানে সময়ের সঙ্গে পানি ভালো হলো, না খারাপ হলো। খোলা তথ্যের উদ্দেশ্য কেবল গবেষকের সুবিধা নয়; নীতির ফল মাপা।

তাই প্রকাশ্য তালিকায় অন্তত পাঁচটি স্তর থাকা উচিত: শিল্পটির নাম ও অবস্থান; ইটিপি দরকার কি না এবং তার বর্তমান অবস্থা; সর্বশেষ পরিদর্শনের তারিখ ও পরীক্ষার সারাংশ; নোটিশ, জরিমানা, বন্ধ বা পুনরায় চালুর আইনি অবস্থা; এবং সংশ্লিষ্ট নদী-পয়েন্টের সাম্প্রতিক পানির ফল। বাণিজ্যিক গোপনীয়তার আড়ালে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ফল লুকোনোর যুক্তি নেই। কারখানার উৎপাদন-রহস্য আলাদা; জননদীতে কী যাচ্ছে, তা আলাদা জনস্বার্থ।

তালিকাটি একবার প্রকাশ করে থেমে গেলেও চলবে না। ইটিপি বসানো, চালানো এবং পরীক্ষার ফল তিনটি ভিন্ন ঘটনা; প্রতিটির তারিখ বদলায়। একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘স্থাপিত’ লেখা থাকলেও বিদ্যুৎ, রাসায়নিক, অপারেটর, যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ বা বাইপাস লাইনের কারণে বাস্তব পরিচালনায় ঘাটতি থাকতে পারে। আবার কোনো শিল্প নোটিশ পাওয়ার পর সত্যিই সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারে। এই দুই সম্ভাবনাকেই ন্যায্যভাবে ধরতে হলে স্থির সনদের বদলে সময়-চিহ্নিত, পরিদর্শনভিত্তিক তথ্য লাগবে।

এখানে সংসদেরও একটি কাজ আছে। মন্ত্রী যখন সমষ্টিগত অঙ্ক দেন, প্রশ্নকারী সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটি পরের অধিবেশনে একই অঙ্কের হালনাগাদ, প্রতিশ্রুত সময়সীমা এবং নদীর পরীক্ষার ফল চাইতে পারেন। তাতে প্রশাসনের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ নয়, স্বাভাবিক সাংবিধানিক নজরদারিই কাজ করবে। যে তথ্য মন্ত্রণালয় নিজে সংসদে দিতে পারে, তা নাগরিকের বোঝার মতো ভাষায় নিয়মিত প্রকাশ করাও সম্ভব।

এখানে একটি সতর্কতাও জরুরি। অনলাইন তালিকা প্রকাশ মানে প্রমাণ ছাড়া কোনো মালিক বা শ্রমিককে দোষী বানানো নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে নোটিশ, শুনানি, আপিল এবং চূড়ান্ত আদেশের অবস্থা আলাদা দেখাতে হবে। ভুল তথ্য সংশোধনের স্পষ্ট পথও থাকতে হবে। এভাবেই প্রকাশনা ন্যায্যতা নষ্ট না করে প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।

ক্যামেরা, ক্ষতিপূরণ ও শূন্য নির্গমন—তিনটিরই ফল মাপা চাই

প্রথম পরীক্ষা শোধনাগার। শুধু আছে বা নেই নয়, ইটিপি কত সময় চলেছে, তার প্রাসঙ্গিক পরীক্ষা কী বলছে এবং অনুমোদিত সীমা অতিক্রম হলে কী হয়েছে—সেটি মাসিকভাবে প্রকাশ করা দরকার। দ্বিতীয় পরীক্ষা প্রয়োগ। ২৭টি শিল্প বন্ধের দাবি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কতটি পুনরায় চালু হয়েছে, কী শর্তে হয়েছে, আর শর্ত ভাঙলে কী ঘটেছে—সেই ধারাবাহিকতা ছাড়া বন্ধের খবর একদিনের ঘটনা হয়ে যায়।

তৃতীয় পরীক্ষা অর্থ আদায়। ক্ষতিপূরণ পরিবেশ পুনরুদ্ধারের বিকল্প নয়; তবু আরোপিত অর্থ আদায় না হলে আইন প্রয়োগের বার্তা দুর্বল হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের উচিত আরোপিত অঙ্ক, আদায়, অনাদায়, আপিল এবং পরবর্তী আদায়ের পদক্ষেপ নিয়ে মাসিক হিসাব দেওয়া। প্রায় ৩ কোটি ও ১ কোটি ৩২ লাখের মধ্যকার ব্যবধানের ব্যাখ্যা প্রকাশ করলে সরকার নিজেই দেখাতে পারবে—এটি কেবল অপরিশোধিত পাওনা, নাকি বাস্তব প্রয়োগের সমস্যা।

চতুর্থ পরীক্ষা নদী। শূন্য তরলবর্জ্য পরিকল্পনা বা ক্যামেরার সাফল্য শেষ পর্যন্ত নদীর পানিতে প্রতিফলিত হওয়ার কথা। একই পয়েন্টে একই ধরনের পরিমাপ, পরীক্ষার তারিখ, পরীক্ষাগারের পরিচয় এবং মানদণ্ড একসঙ্গে দিলে তুলনা করা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ওয়াসার তথ্য ভিন্ন হলে তা চাপা না দিয়ে পদ্ধতির পার্থক্য ব্যাখ্যা করা উচিত।

এই প্রকাশনা পরিবেশ রক্ষার বিরোধী শিল্পনীতি নয়। নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোরও স্বার্থ আছে যে, যারা শোধনব্যবস্থার খরচ এড়িয়ে যায় তাদের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা না হোক। সবার জন্য একই নিয়মের দৃশ্যমান প্রয়োগ হলে বিনিয়োগকারী, শ্রমিক ও আশপাশের বাসিন্দা—তিন পক্ষই জানবে কোন মানদণ্ডে কাজ চলছে। ফলে প্রশাসনিক প্রয়োগ কেবল শাস্তি নয়; নিয়ম মানার ন্যায্য বাজার-শর্তও তৈরি করে।

নাগরিকের জন্যও তথ্যটি ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। নদীর কাছের বাসিন্দা, জেলে, নৌযাত্রী বা কারখানার শ্রমিকের পক্ষে দীর্ঘ পিডিএফ খুঁজে মাপজোক বোঝা সব সময় সম্ভব নয়। জেলা ও ওয়ার্ডভিত্তিক সহজ মানচিত্রে নির্গমন-উৎস, পরিদর্শনের ফল এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পথ দিলে স্থানীয় তথ্য দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছাতে পারে। অভিযোগকে প্রমাণের বিকল্প বলা হচ্ছে না; বরং পরিদর্শনের অগ্রাধিকার নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ সংকেত হিসেবে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

তথ্য প্রকাশের ভাষাও গুরুত্বপূর্ণ। একই প্রতিবেদনে ‘অভিযোগ’, ‘নোটিশ’, ‘পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য’, ‘চূড়ান্ত আদেশ’ ও ‘আদায়’ আলাদা করে দেখাতে হবে। তবেই জনস্বার্থের তথ্য ন্যায্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকবে এবং কোনো অনিশ্চিত তথ্যকে রায় হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হবে না।

একই কারণে নদীকে কেবল নগর-সৌন্দর্যের প্রকল্প বানানো যাবে না। পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা পাড়ের দৃশ্যমান পরিবর্তন তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু উৎসে তরলবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ না হলে পানি ও বাস্তুতন্ত্রের ঝুঁকি থাকে। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ১৩ আগস্টের ব্রিফিংও উৎস চিহ্নিত করা, ইটিপি চালু রাখা এবং অননুমোদিত ড্রেন বন্ধ করাকে গুরুত্ব দিয়েছে। সেই অগ্রাধিকার ধরে রাখা মানে দৃশ্যমান কাজের সঙ্গে অদৃশ্য বর্জ্যপ্রবাহের তথ্যও প্রকাশ করা।

এখন যে পাঁচটি উত্তর দরকার

শেষ কথা: প্রতিশ্রুতির পর নদীর কাছে প্রমাণ দিতে হবে

বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যাকে রক্ষা করার কাজে নতুন সমন্বয়, বন্ধের আদেশ, ক্যামেরা ও শূন্য নির্গমন পরিকল্পনা—সবই কাজে লাগতে পারে। ৩০ আগস্টের সংসদীয় তথ্যের সবচেয়ে জরুরি দিক হলো, এটি সমস্যাকে আবার দৃশ্যমান করেছে। বর্তমান সরকারের পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মন্ত্রণালয় এখন বলতে পারে যে সে অস্বীকার করেনি, ব্যবস্থা শুরু করেছে। কিন্তু নাগরিকের দাবি আরও নির্দিষ্ট: ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পরে কোথায়, কত দিনে, কতটা ফল হলো?

আমাদের বিবেচনায়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ৩০ দিনের মধ্যে নদীতীরবর্তী শিল্প-অনুবর্তিতা তালিকা, জরিমানা-আদায়ের হিসাব এবং একই পয়েন্টের সাম্প্রতিক পানির পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে। এরপর মাসিক হালনাগাদ ও ছয় মাসের স্বাধীন পর্যালোচনা দরকার। পরিকল্পনা নদীকে পরিষ্কার করে না; প্রমাণিত প্রয়োগ করে। সেই প্রমাণ জনগণের সামনে রাখাই এখন সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ: দিনের কার্যসূচি, ৩০ আগস্ট ২০২৬—ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
  2. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ‘54 of 196 industries along Buriganga, Shitalakkhya still without ETPs: Minister Mintoo’—৩০ আগস্ট ২০২৬
  3. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়: বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের দূষণ বন্ধে সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ—১৩ আগস্ট ২০২৬
  4. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিগণের তালিকা—হালনাগাদ ২৭ আগস্ট ২০২৬