NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

অবকাঠামো জবাবদিহি

ভোলার সড়ক-সংযোগের সিদ্ধান্ত হলো—এবার সম্ভাব্যতার পূর্ণ হিসাব প্রকাশের পরীক্ষা

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ২৪ আগস্ট ২০২৬

ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে সরকার একটি রুট বেছে নিয়ে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। চূড়ান্ত ব্যয় বা অনুমোদনের আগে রুট, জমি, পরিবেশ ও বিকল্পের নথি প্রকাশ করাই হবে এই সিদ্ধান্তের প্রথম জবাবদিহি।

জনস্বার্থ, নথি ও জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

ভোলার সঙ্গে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সংযোগ মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবার প্রশ্ন। ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকে সরকার বরিশাল–রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। সিদ্ধান্তটি স্বাগত জানানোর মতো, কারণ নদীবেষ্টিত ভোলার দীর্ঘ নৌপথ-নির্ভরতা বাস্তব। কিন্তু এখনই একে সম্পূর্ণ প্রকল্প বা নিশ্চিত অর্থনৈতিক লাভ বলা যাবে না।

এখানেই প্রথম জবাবদিহির প্রশ্ন: চূড়ান্ত ব্যয়, নকশা, জমির প্রয়োজন, নদী ও পরিবেশের ঝুঁকি, বিকল্প রুট এবং লাভের হিসাব প্রকাশ না করে যেন ‘দ্রুত’ শব্দটি শুধু দ্রুত ব্যয়ের পথ না হয়ে ওঠে। সরকারের নিজের ঘোষণাই বলছে, এই যাচাই এখনও বাকি। তাই নথি প্রকাশের সময়টি প্রকল্প শেষ হওয়ার পর নয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই।

২২ আগস্টের সিদ্ধান্তটি আসলে কী

বাসসের পিএমও-ভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরাসরি যোগাযোগের তিনটি প্রস্তাব থেকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। ওই রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করা, নতুন সড়ক তৈরি এবং তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে স্পষ্ট আছে—প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা দ্রুত যাচাই হবে। দ্য ডেইলি স্টারও পিএমও বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে একই সিদ্ধান্ত ও এই পরবর্তী যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে।

অর্থাৎ বর্তমান আইনি ও নীতিগত অবস্থানটি চূড়ান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের অনুমোদন বা নির্মাণ-চুক্তি নয়; এটি রুট নির্বাচন এবং আরও মূল্যায়নের নির্দেশ। এই সীমাটি গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণের মোট ব্যয়, অর্থের উৎস, জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র, সময়সীমা কিংবা টোল-ব্যবস্থা সম্পর্কে ২২ আগস্টের ঘোষণায় নিশ্চিত তথ্য নেই। সেসব তথ্য না থাকলে সেগুলো সম্পর্কে অনুমানকে খবর বা অভিযোগের ভাষায় বলা ঠিক হবে না।

পুরোনো সংখ্যার শিক্ষা, নতুন প্রকল্পের দাম নয়

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে থাকা একটি পৃথক বরিশাল–ভোলা সড়ক-সেতু ধারণার সম্ভাব্যতা তথ্যে ১০.৮৬৭ কিলোমিটার সেতু, ৫.৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ৫০৭.৫ একর জমি এবং ১৭,৪৬৬.৩২ কোটি টাকার আনুমানিক ব্যয়ের কথা আছে। সেখানে ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১.২৭ এবং অনুমিত পরিশোধ-বছর ২০৫৬ বলা হয়েছে।

এই সংখ্যাগুলোকে আজকের নির্বাচিত রুটের বাজেট বলা যাবে না। সেতু কর্তৃপক্ষের পাতাটি তেঁতুলিয়া ও কালাবাদোর নদীর ওপর দুই সেতুর একটি পূর্ববর্তী ধারণা বর্ণনা করে; ২২ আগস্টের সিদ্ধান্তে তিনটি ছোট সেতুসহ ভিন্নভাবে বর্ণিত রুটের কথা আছে। তবে পুরোনো নথি একটি সতর্কতা দেয়: নদীবহুল এলাকায় সড়ক-সংযোগের অর্থনীতি শুধু পথের দৈর্ঘ্য নয়—সেতু, নদীশাসন, জমি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়ের হিসাবও। নতুন মূল্যায়নে এই পার্থক্যগুলো কোথায়, তা প্রকাশ না করলে জনগণ পুরোনো ও নতুন ধারণা গুলিয়ে ফেলবে।

সরকারের যুক্তিটি ন্যায্যভাবে দেখা দরকার

সরকারের অবস্থান হলো, নির্বাচিত রুটটি দূরত্ব, সময় ও ব্যয়সাশ্রয়ের সুবিধা দিতে পারে; সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্ক ভৌগোলিক বাধা কমিয়ে বাণিজ্য ও যাতায়াতের সুযোগ বাড়াবে। এই লক্ষ্যকে হালকা করে দেখার কারণ নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে; বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং সওজের প্রধান প্রকৌশলীও উপস্থিত ছিলেন। ফলে পরের ধাপের নথি, পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার প্রাতিষ্ঠানিক দায়ও শনাক্ত করা যায়।

লক্ষ্যটি ন্যায্য হলেও সেটিই অর্থনৈতিক প্রমাণ নয়। ‘সময় ও খরচ কমবে’ একটি প্রত্যাশা—বাসসের ভাষায়ও তা সংশ্লিষ্টদের আশা। নতুন সমীক্ষায় কত যাত্রী ও পণ্য চলবে, নৌপথের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে, বর্ষা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি কত, এবং ভোলার মানুষের কোন অংশ জমি হারাতে বা সুবিধা পেতে পারেন—এসবের পরিমাপ দরকার।

প্রকাশ্য নথিতেই দ্রুততার প্রমাণ হবে

সংযোগের প্রতিশ্রুতিকে যাচাইযোগ্য করতে হবে

ভোলাকে বিচ্ছিন্ন রাখার পক্ষে যুক্তি নেই। আবার বড় অবকাঠামোকে কেবল মানচিত্রের একটি রেখা হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। ২২ আগস্টের সিদ্ধান্তের ভালো দিক হলো, সরকার রুট বেছে নিয়েও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন স্বীকার করেছে। সেই স্বীকৃতিকে কার্যকর করতে হলে সওজ, সেতু বিভাগ ও পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই পূর্ণ মূল্যায়ন প্রকাশ করতে হবে। তখনই বোঝা যাবে এটি দীর্ঘমেয়াদি জনসেবা, না কি শুধু নতুন ঘোষণার পুনরাবৃত্তি।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (পিএমও-ভিত্তিক): ‘সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, মহাসড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’—২২ আগস্ট ২০২৬
  2. বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ: ‘তেতুলিয়া ও কালাবাদোর নদীর উপর দিয়ে বরিশাল ভোলা সড়কে ভোলা সেতু নির্মাণ’—পূর্ববর্তী পৃথক ধারণার ব্যয়, দৈর্ঘ্য, জমি ও অর্থনৈতিক সূচক
  3. দ্য ডেইলি স্টার: ‘PM approves highway plan to connect Bhola directly to rest of country’—২২ আগস্ট ২০২৬
  4. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ: ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিগণ’—১৩ আগস্ট ২০২৬-এ হালনাগাদ বর্তমান সরকার ও দায়িত্ব তালিকা