সংক্ষেপে
ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে একটি সংশোধনী বিল উঠেছে। সরকার নিজেই বলছে, এখন পর্যন্ত ওই ধারার পূর্ণ শর্ত মেনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। এটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির তথ্য। কিন্তু এখানেই জনস্বার্থের প্রশ্ন শেষ হয় না। একটি নতুন ব্যাংক-আইনে এমন বিধান কেন যুক্ত হলো, কোন ঝুঁকি দেখে তা প্রয়োজন মনে করা হয়েছিল, পরে কোন তথ্য বা আপত্তিতে সরকার মত বদলাল—এসবের নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা ছাড়া শুধু ধারা বাদ দিলেই আস্থার হিসাব সম্পূর্ণ হয় না।
এই লেখার আইনি অবস্থা পরিষ্কার রাখা জরুরি। ১৮(ক) ধারা বাতিলের প্রস্তাবটি ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সেটি এখনও পাস হওয়া আইন বা গেজেট নয়। ফলে আজকের বাস্তবতা হলো—সরকার একটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে; কার্যকর বাতিল হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। একইভাবে, বিতর্কিত ধারা থাকা মানেই কোনো ব্যক্তি সুবিধা নিয়েছেন বা কোনো অপরাধ ঘটেছে, এমন প্রমাণও এই তথ্যগুলো দেয় না।
কোন আইনে কী বদলানোর কথা
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নথিতে ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর সরকারি গেজেটের তারিখ ১০ এপ্রিল। আইনটির উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কাঠামো তৈরি করা, যেগুলোর মূলধন, তারল্য, সক্ষমতা বা ধারাবাহিক কার্যক্রমে গুরুতর ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তাই এটি সাধারণ করপোরেট আইন নয়; এর প্রতিটি বিধানের সঙ্গে আমানতকারীর অর্থ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি এবং প্রয়োজনে জনঅর্থের ঝুঁকি যুক্ত থাকে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সংসদ-প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮(ক) ধারায় রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে কোনো ব্যাংকের শেয়ারধারী ছিলেন এমন ব্যক্তি সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় আবার নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারতেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এমন সুযোগ দিতে পারত। দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে এই বিধানকে ঘিরে উদ্বেগের কথা এসেছে: সংকটে যাওয়া ব্যাংকের আগের বা বিতর্কিত মালিকপক্ষের ফিরে আসার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হতে পারে।
‘সম্ভাব্য পথ’ আর ‘ফিরে আসা ঘটেছে’ এক কথা নয়। আমরা প্রথমটিই লিখছি। উপলব্ধ সরকারি বক্তব্যে কোনো আবেদন না হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে এখনো কারও ফেরত নেওয়া, কারও বিশেষ সুবিধা পাওয়া বা রাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে—এমন কথা বলার ভিত্তি নেই। নীতিগত সমালোচনার সঠিক জায়গাটি হলো বিধানের নকশা এবং সেই নকশা সম্পর্কে সময়মতো, পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যার অভাব।
সরকারের যুক্তি এবং তার শক্তি
সরকারের বর্তমান যুক্তিটি সরাসরি। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণের বিবৃতিতে বলেছেন, আইন কার্যকর হওয়ার পর পূর্ণ শর্তে কোনো আবেদন পড়েনি; তাই ধারাটি বাদ দেওয়া উপযুক্ত। সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিলটি দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশসহ স্থায়ী কমিটিতে গেছে। অর্থাৎ নির্বাহী সিদ্ধান্তে চুপচাপ পরিবর্তন না করে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংশোধনের পথ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক উদ্ধার বা রেজুলেশনের ক্ষেত্রে সব আগের শেয়ারধারীকে চিরতরে অযোগ্য ধরে নেওয়াও সব পরিস্থিতিতে বিচক্ষণ নীতি নাও হতে পারে। কোনো কাঠামোয় বিনিয়োগ, নতুন মূলধন, সক্ষম ব্যবস্থাপনা এবং কড়া তদারকির সুযোগ রাখা হতে পারে। সরকার হয়তো এমন নমনীয়তার কথা ভেবেছিল। কিন্তু ব্যাংক যখন রেজুলেশনে যায়, তখন আগের মালিকানার সঙ্গে দায়, ব্যর্থতা ও স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও অবধারিত। তাই এমন সুযোগ থাকলে যোগ্যতার মানদণ্ড, সম্পর্কিত পক্ষের সংজ্ঞা, ন্যূনতম নতুন মূলধন, স্বাধীন মূল্যায়ন এবং আপিলের সীমা আগে থেকেই স্পষ্ট হওয়া দরকার।
এখানেই ঘাটতি: সংশোধনের আগে স্বচ্ছতার পরীক্ষা
সরকার এখন ধারা বাদ দিতে চায়—এটি নীতিসংশোধন। কিন্তু আইনটি গত এপ্রিলে গেজেট হওয়ার পর থেকে সেপ্টেম্বরের সংশোধনী পর্যন্ত যে সময় গেছে, তার একটি নাগরিক-বান্ধব হিসাব প্রয়োজন। কোন মন্ত্রণালয় বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ধারাটির ভাষা প্রস্তাব করেছিল? আইন তৈরির সময় কী লিখিত নীতিগত যুক্তি ছিল? সংসদীয় আলোচনা বা কমিটি-পর্যায়ে কোন মতামত উঠেছিল? ব্যাংক খাত, আমানতকারী বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ে কোনো প্রভাব-মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি? এসব প্রশ্নের উত্তর না থাকলে ভবিষ্যতের আরেকটি জরুরি আইনেও একই ধরনের অস্পষ্টতা ফিরতে পারে।
এখানে ‘কেউ আবেদন করেনি’ কথাটিরও প্রকাশযোগ্য ব্যাখ্যা আছে। বিবৃতিটি আশ্বস্ত করে যে ধারাটি ব্যবহার হয়নি। কিন্তু জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সংক্ষিপ্ত, তারিখ-সহ শূন্য-আবেদন নিশ্চয়তা প্রকাশ করতে পারে: আইন কার্যকর হওয়ার পর কোন কোন রেজুলেশনাধীন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১৮(ক) প্রযোজ্য হতে পারত, কোন সময়সীমায় আবেদন নেওয়ার সুযোগ ছিল, এবং নিবন্ধিত কোনো আগ্রহপত্র বা প্রাথমিক যোগাযোগও ছিল কি না। শূন্য মানে শূন্য—এটি নথিতে দেখানো হলে সন্দেহের জায়গা কমে।
দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, ধারাটি আগের মালিক বা পরিচালকদের জন্য রাষ্ট্র বা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তার নির্দিষ্ট অংশ আগে পরিশোধ করে এবং বাকি অংশ পরে দেওয়ার পথ রাখতে পারত। এই নির্দিষ্ট আর্থিক শর্ত আমরা প্রকাশিত গেজেটের পাঠ থেকে স্বাধীনভাবে পুনরুদ্ধার করতে পারিনি; তাই সেটিকে আইনের চূড়ান্ত ভাষা হিসেবে নয়, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন হিসেবেই দেখা উচিত। তবে এমন প্রতিবেদনই কেন দ্রুত সরকারিভাবে ধারা-অনুচ্ছেদ মিলিয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন করেছিল, সেটি বোঝা যায়। আইনের কঠিন ভাষা যত অস্পষ্ট থাকে, ভুল ব্যাখ্যা ও আস্থাহানি তত বাড়ে।
কার স্বার্থ, কার ঝুঁকি
ব্যাংক রেজুলেশন কেবল ব্যাংকের মালিকানা নিয়ে বিতর্ক নয়। দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখার ব্যর্থতা আমানতকারীর অপেক্ষা, ঋণগ্রহীতার অনিশ্চয়তা, আর্থিক ব্যবস্থার আস্থা এবং শেষ পর্যন্ত সরকারি সম্পদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। পাঁচটি সংকটগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ১৮(ক) ধারা বিশেষ মনোযোগ পেয়েছিল বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানায়। সেই প্রেক্ষাপটেই পুরোনো নিয়ন্ত্রণে ফেরার যেকোনো নকশা নিয়ে জনগণের উচ্চতর সতর্কতা স্বাভাবিক।
তবে দায়বদ্ধতার ভাষা নির্ভুল হওয়া দরকার। পূর্ববর্তী মালিক, পরিচালক বা শেয়ারধারী—এই পরিচয় একা কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না। আবার নতুন বিনিয়োগকারীও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনস্বার্থ রক্ষা করেন না। নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে দেখতে হয়: সিদ্ধান্তে কার ক্ষমতা ছিল, ক্ষতির কারণ কী, নতুন অর্থ কোথা থেকে আসছে, মূল্যায়ন কে করেছে, সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন আছে কি না, এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ঠেকাবে। এই তথ্যগুলো ছাড়া ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ মালিকের স্লোগান ব্যাংক সুরক্ষা দেয় না।
আইন পাসের পরও নিয়ন্ত্রকের কাজ চলেছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ্য সার্কুলার তালিকা দেখায়, ব্যাংক রেজুলেশন আইন শুধু কাগজে থাকা কোনো বিধান নয়। ৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই আইনের অধীনে অস্থায়ী প্রশাসনবিষয়ক বিধিমালার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে; একই দিনে অর্থ কোম্পানির ক্ষেত্রে আইনের বিধান প্রযোজ্য করার আদেশও তালিকাভুক্ত হয়েছে। ৯ আগস্ট চারটি অর্থ কোম্পানিকে রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়া-সংক্রান্ত আরেকটি সার্কুলার আছে। এই ধারাবাহিকতা বোঝায়, আইনের ভাষা ও রেজুলেশন-সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
এই কারণেই ১৮(ক) নিয়ে ব্যাখ্যার মানদণ্ড আরও উঁচু হওয়া উচিত। একটি বিধান যে কোনো আবেদন ছাড়াই বাতিলের পথে গেছে, তা ভালো খবর হতে পারে। কিন্তু রেজুলেশন কাঠামো অন্য বিধি, প্রশাসক, ব্যাংক বা অর্থ কোম্পানির ক্ষেত্রে চলমান থাকলে নাগরিকের জানতে হবে—পুরোনো মালিকানা, সম্পদ হস্তান্তর, ক্ষতি বহন এবং আমানতকারী-সুরক্ষার কোন নিয়ম এখন কার্যকর। সংশোধনীতে একটি ধারা বাদ পড়লেও বাকি কাঠামোর স্বচ্ছতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না।
কমিটির কাজ কেবল সম্মতি দেওয়া নয়
দুই কার্যদিবসের সময়সীমা দ্রুততা আনতে পারে, কিন্তু দ্রুততা যেন যাচাইকে সরিয়ে না দেয়। সংসদীয় কমিটি চাইলে সংশোধনী বিলের সঙ্গে মূল ধারার বাংলা পাঠ, উদ্দেশ্য ও কারণের পূর্ণ বিবৃতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত মতামত এবং আইন মন্ত্রণালয়ের খসড়া-নোট একসঙ্গে প্রকাশের সুপারিশ করতে পারে। এতে বিতর্কের সমাধান সংবাদশিরোনামে নয়, নথিতে হবে। সংসদে আইন সংশোধনের সবচেয়ে মূল্যবান ফল কেবল ভোটে জেতা নয়; পরের আইনটি আরও স্পষ্ট হওয়ার পথ তৈরি করা।
এখানে একটি সরল পরীক্ষাও রাখা যায়। সংশোধনী পাসের পরে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যদি একটি এক-পৃষ্ঠার প্রকাশ্য নোটে বলে দেয়—কোন ধারা বাদ গেল, কেন গেল, কতটি সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানে তা প্রযোজ্য ছিল, কোনো আবেদন ছিল কি না, এবং কোন বিকল্প সুরক্ষা কার্যকর থাকবে—তবে নাগরিকেরা পরের মাসেই প্রতিশ্রুতিটি মিলিয়ে দেখতে পারবেন। এই ধরনের মাপা প্রতিশ্রুতি প্রশাসনের ওপর অযৌক্তিক চাপ নয়; বরং ব্যাংক খাতের আস্থা রক্ষার ন্যূনতম শর্ত।
স্থায়ী কমিটির সামনে সাতটি নথিভিত্তিক প্রশ্ন
- ১৮(ক) ধারা আইনটিতে যুক্ত হওয়ার লিখিত নীতিগত কারণ, খসড়া ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত কি প্রকাশ করা হবে?
- ধারাটি আইন কার্যকর থাকার সময়ে কোন কোন রেজুলেশনাধীন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হতে পারত?
- বাংলাদেশ ব্যাংক কি শূন্য-আবেদন এবং শূন্য-প্রাথমিক যোগাযোগের তারিখ-সহ প্রত্যয়ন প্রকাশ করবে?
- কোন প্রমাণ বা নীতিগত পুনর্মূল্যায়নে সরকার নিশ্চিত হলো যে ধারা বাতিল জরুরি?
- স্থায়ী কমিটি কি সংশোধনী বিলের ওপর জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, আমানতকারী প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত নেবে?
- ভবিষ্যতে রেজুলেশনাধীন ব্যাংকে মালিকানা বা সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সম্পর্কিত পক্ষ, উপযুক্ততা ও স্বাধীন মূল্যায়নের বাধ্যতামূলক মানদণ্ড কী হবে?
- সংশোধনী পাস হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কি রেজুলেশন সিদ্ধান্ত, পুনরুদ্ধার অর্থ এবং আমানতকারী-সুরক্ষার ফল নিয়ে নিয়মিত সমষ্টিগত তথ্য প্রকাশ করবে?
সংশোধন সফল হবে কখন
এই সংশোধনী পাস হলে একটি বিতর্কিত বিধান আইনের বাইরে যাবে—এটুকু ফল বাস্তব এবং তা ছোট নয়। কিন্তু সফলতার বড় মানদণ্ড হবে আরও তিনটি কাজ। প্রথমত, সংসদকে বিলের চূড়ান্ত পাঠ ও কমিটির সুপারিশ সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে, ১৮(ক) কখনো ব্যবহৃত হয়নি এবং চলমান রেজুলেশনগুলোতে আমানতকারী-সুরক্ষা ও আর্থিক দায়ের অবস্থা কী। তৃতীয়ত, সরকারকে আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় এমন ব্যাখ্যামূলক নথি বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে পরে একটি ধারা সরাতে গিয়ে মানুষকে অনুমাননির্ভর থাকতে না হয়।
প্রকাশের পদ্ধতিটিও গুরুত্বপূর্ণ। কেবল দীর্ঘ গেজেটের পিডিএফ অনলাইনে দিলেই সাধারণ আমানতকারী সব বুঝতে পারবেন না। গেজেট অবশ্যই মূল উৎস, কিন্তু তার সঙ্গে বাংলা ভাষায় ধারা-ভিত্তিক সারসংক্ষেপ, কোন প্রতিষ্ঠান বা লেনদেনে কী প্রযোজ্য তার সীমানা, এবং অভিযোগ বা তথ্য জানাতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে—এসবও থাকা দরকার। কোন তথ্য মাসে, ত্রৈমাসিকে বা সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ হবে, সেটিও আগে বলা উচিত। এতে আইনকে সহজ করে ভুল বলা হয় না; বরং আইনটি কার স্বার্থ রক্ষা করছে, তা যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়।
এখানে একটি সীমাও স্বীকার করা দরকার। প্রকাশ্য সূত্রে আমরা সংশোধনী বিলের স্বাক্ষরিত পূর্ণ পাঠ পাইনি; পেয়েছি বিল উপস্থাপনের সরকারি সংবাদ এবং কয়েকটি স্বাধীন প্রতিবেদন। তাই সংশোধনীতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিকল্প মালিকানা-বিধান থাকবে কি না, এমন অনুমান এই লেখায় করা হয়নি। কমিটির রিপোর্ট ও চূড়ান্ত বিল প্রকাশিত হলে এই প্রশ্নগুলো নথি মিলিয়ে আবার দেখা দরকার হবে। আজকের দাবি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুমান নয়—আজকের সংশোধন-কারণের প্রমাণ ও আজকের সুরক্ষার তথ্য প্রকাশ।
নীতির ভুল ধরতে পারা দুর্বলতা নয়; তা সংশোধন না করা দুর্বলতা। তাই ১৮(ক) ধারা বাদ দেওয়ার উদ্যোগকে কেবল রাজনৈতিক জয় বা পরাজয়ের ভাষায় দেখার প্রয়োজন নেই। এটি রাষ্ট্রের জন্য একটি বাস্তব পরীক্ষা: জনঅর্থ ও ব্যাংক-আস্থাকে স্পর্শ করা আইনে ভুলের দরজা বন্ধ করার পাশাপাশি, সেই দরজা কীভাবে খুলেছিল তারও পূর্ণ হিসাব কি দেওয়া হবে? আমাদের বিবেচনায়, সংশোধনীটির সবচেয়ে জরুরি সম্পূরক হলো এই প্রকাশ্য উত্তর।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ ব্যাংক: ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর সরকারি গেজেট (১০ এপ্রিল ২০২৬)
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে উপস্থাপিত (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- দ্য ডেইলি স্টার: দুর্বল ব্যাংকের আগের মালিকদের ফেরার বিধান বাতিলে বিল (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ১৮(ক) ধারা বাতিলের প্রস্তাব ও সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর প্রতিবেদন (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ: ১৩তম সংসদের বর্তমান অধিবেশনের পরিপত্র তালিকা (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দেখা)
