NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

ব্যাংকিং ও জবাবদিহি

ব্যাংক নিয়োগে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, কিন্তু ফলের হিসাব কি প্রকাশ হবে?

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের এন্ট্রি-পদে বিজ্ঞাপন, লিখিত–মৌখিক পরীক্ষা ও সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে। নিয়মটি কার্যকর হচ্ছে কি না বুঝতে এখন দরকার ব্যাংকভিত্তিক প্রকাশ্য ফলের হিসাব।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে স্বচ্ছ নিয়োগ ও জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

ব্যাংকে চাকরি পাওয়া শুধু একজন প্রার্থীর কর্মসংস্থানের বিষয় নয়। ব্যাংক কর্মীরাই আমানতকারীর তথ্য দেখেন, ঋণের কাগজ যাচাই করেন, শাখার নগদ ব্যবস্থাপনায় কাজ করেন এবং পরে অনেকেই ব্যবস্থাপনায় ওঠেন। তাই নিয়োগের দরজা বন্ধ, পক্ষপাতদুষ্ট বা নথিহীন হলে ক্ষতিটি শুধু বাদ পড়া প্রার্থীর নয়; শেষ পর্যন্ত আমানতকারী ও পুরো ব্যাংক ব্যবস্থার ঝুঁকি বাড়ে। এই জায়গায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭ সেপ্টেম্বরের নতুন নির্দেশটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন হলো, কাগজে যে স্বচ্ছতার শর্ত লেখা হলো, তার বাস্তব ফল নাগরিক কীভাবে যাচাই করবেন?

ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এর সার্কুলার নং ১৮ দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নয় এমন এন্ট্রি-পদে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞাপন ব্যাংকের ওয়েবসাইট, চাকরির সাইট এবং অন্তত দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে দিতে হবে। ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণার্থী, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি সহকারী কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা ও ক্যাশ কর্মকর্তা বা সমপর্যায়ের পদ এ তালিকায় আছে। লিখিত বা নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষাও হবে, এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই নিয়োগ দিতে হবে।

সরকার ও নিয়ন্ত্রকের যুক্তি কী

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের যুক্তি শক্তিশালী এবং সরাসরি। সার্কুলারে ব্যাংক খাতের সুশাসন ও স্থিতিশীলতা এবং আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষার কথা বলা হয়েছে। তাই প্রতিটি ব্যাংককে বোর্ড-অনুমোদিত, যুগোপযোগী ও সমন্বিত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতি করতে বা হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। সেখানে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণের বাইরে প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, বদলি, আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত, তথ্য-প্রকাশকারীর সুরক্ষা, অভিযোগ নিষ্পত্তি, শাস্তি ও আপিলের নিয়মও থাকতে হবে। মোট ১৮টি ক্ষেত্রের কথা সার্কুলারে নির্দিষ্ট আছে।

সরকারি বার্তা ও স্বাধীন সংবাদ প্রতিবেদনের মধ্যে মূল শর্তগুলো মেলে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নির্দেশটি ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনেও এন্ট্রি-পদে পরীক্ষা, জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন এবং শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা একইভাবে এসেছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি গুজব বা দলীয় বক্তব্য নয়; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত বিধিনির্দেশ।

নতুন নিয়মে কী কী বদলাতে বলা হয়েছে

দুটি সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক, নতুন বা হালনাগাদ মানবসম্পদ নীতিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে। দুই, সার্কুলার জারির আগে নিয়োগ পাওয়া কর্মী-কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত সনদও একই সময়ের মধ্যে যাচাই করতে হবে। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বশেষ শিক্ষাগত সনদ যোগদানের এক বছরের মধ্যে যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। চাকরির সময়ে পদোন্নতি বা আর্থিক–অনার্থিক সুবিধার জন্য নতুন সনদ জমা দিলেও তা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করে ব্যক্তিগত নথিতে রাখতে হবে।

জাল বা ভুয়া সনদ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ রয়েছে। উচ্চতর বা অভিজ্ঞ পদের বাইরে থেকে নিয়োগেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি এবং অন্তত মৌখিক পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। এগুলো কেবল একটি চাকরির বিজ্ঞাপনের নিয়ম নয়; বোর্ড, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রকের মধ্যে দায়িত্বের শৃঙ্খল তৈরির চেষ্টা।

সমস্যাটা কোথায়

নিয়মটি যতটা জরুরি, তার ফল প্রকাশের ব্যবস্থা ততটাই জরুরি। সার্কুলারের প্রকাশিত পাঠে প্রতিটি ব্যাংককে কেন্দ্রীয়ভাবে একই ছকে জনসমক্ষে অগ্রগতির তথ্য দেওয়ার কোনো আলাদা বাধ্যবাধকতা দেখা যায় না। সেখানে বলা হয়েছে কী করতে হবে, কিন্তু নাগরিক, প্রার্থী বা আমানতকারী কোথায় গিয়ে দেখবেন কোন ব্যাংক কবে বিজ্ঞাপন দিল, কতজন আবেদন করল, পরীক্ষা হলো কি না, কতটি পদ পূরণ হলো, কত সনদ যাচাই শেষ হলো বা জাল সনদ ধরা পড়লে কী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো—তার একটি অভিন্ন প্রকাশ্য তালিকা নির্ধারণ করা হয়নি।

এর অর্থ এই নয় যে কোনো ব্যাংক নিয়ম ভাঙছে, কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করবে না। এমন দাবি করার মতো প্রকাশ্য ফল এখনো নেই। বরং এই অনুপস্থিতিটিই যাচাইয়ের প্রশ্ন তৈরি করে। একটি ব্যাংক বোর্ডে নীতি অনুমোদন করলেই সেটি মাঠপর্যায়ে সমানভাবে কার্যকর হয়েছে বলা যায় না। আবার শুধু একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলেই প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু হয়েছে প্রমাণ হয় না। বিজ্ঞাপনের সময়, পদের সংখ্যা, পরীক্ষার পদ্ধতি, নম্বর-তালিকার নিরীক্ষাযোগ্যতা এবং চূড়ান্ত নিয়োগের মিল—সবই দরকার।

এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্যও একটি ব্যবহারিক সুবিধা আছে। ব্যাংকগুলো যদি একই ছকে তথ্য দেয়, তদারকির ঝুঁকি-ভিত্তিক অগ্রাধিকার ঠিক করা সহজ হবে। যে ব্যাংকে বিজ্ঞাপন ও পরীক্ষার তথ্য নিয়মিত আছে, সনদ যাচাইয়ের হার এগোচ্ছে এবং বোর্ডের নীতি সময়মতো অনুমোদিত, সেখানে পরিদর্শনের প্রশ্ন এক রকম হবে। যে ব্যাংকে তথ্য অসম্পূর্ণ, একই পদে অস্বাভাবিক ঘন ঘন নিয়োগ হচ্ছে, বা সময়সীমা পেরিয়েও যাচাই শেষ হচ্ছে না, সেখানে আরও গভীর ব্যাখ্যা ও পরিদর্শন দরকার হতে পারে। এটি কোনো ব্যাংককে আগাম দোষী বলা নয়; সীমিত তদারকি-সম্পদকে নথির ভিত্তিতে ব্যবহার করা।

বোর্ডের ভূমিকাও এখানে শুধু স্বাক্ষর দেওয়ার নয়। বোর্ড নীতি অনুমোদন করবে, কিন্তু পরিচালনা তা মানছে কি না তার প্রমাণও চাইবে। একটি ভালো বোর্ড-রিপোর্টে অন্তত তিনটি প্রশ্নের উত্তর থাকা উচিত: কোন পদে কত নিয়োগ হলো, নির্ধারিত প্রতিযোগিতামূলক ধাপগুলো সম্পন্ন হলো কি না, এবং কোনো ব্যতিক্রম ঘটলে তার আইনসম্মত কারণ ও অনুমোদন কোথায়। এ তথ্য প্রথমে বোর্ডকে, পরে সমষ্টিগত আকারে জনগণকে দিলে ব্যবস্থাপনার ওপর জবাবদিহি বাড়ে এবং সৎ ব্যাংকেরও কাজের প্রমাণ থাকে।

তথ্য কী বলছে

পরিমাপযোগ্য অঙ্গীকার এখানে চারটি। প্রথমত, অভিজ্ঞতা-না-লাগা এন্ট্রি-পদে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন। দ্বিতীয়ত, লিখিত বা নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা। তৃতীয়ত, বর্তমান কর্মীদের সনদ যাচাই ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে। চতুর্থত, একই সময়ের মধ্যে বোর্ড-অনুমোদিত মানবসম্পদ নীতি। এই চারটি শর্তের প্রতিটিই হ্যাঁ–না বা সংখ্যায় প্রকাশ করা সম্ভব। ফলে তদারকির জন্য নতুন জটিল সূচক আবিষ্কারের দরকার নেই।

তবে একই সময়সীমা মানেই সব ব্যাংকের কাজ সমান নয়। কর্মীর সংখ্যা, পুরোনো নথির মান, সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের সাড়া এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই শতকরা অগ্রগতি প্রকাশের সঙ্গে মোট কর্মীসংখ্যা, যাচাইয়ের জন্য পাঠানো সনদ, নিশ্চিত হওয়া সনদ, অসম্পূর্ণ নথি এবং নেওয়া ব্যবস্থার সংখ্যা আলাদা করে দেখাতে হবে। তাহলেই ছোট ব্যাংকের ৯০ শতাংশ আর বড় ব্যাংকের ৯০ শতাংশ একইভাবে না পড়ার ভুল কমবে।

সংখ্যা প্রকাশের একটি সতর্কতা আছে। যাচাই-শেষের হারকে শুধু শতাংশে দিলে চলবে না; সেটি কোন তারিখ পর্যন্ত, কতটি সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং কতটি উত্তরের অপেক্ষায় আছে তাও বলতে হবে। নইলে ‘শতভাগ সম্পন্ন’ কথাটি অসম্পূর্ণ নথি বাদ দিয়ে বলা হয়েছে কি না বোঝা যাবে না। একইভাবে শাস্তির সংখ্যা শূন্য হলে তার অর্থ নিয়মভঙ্গ শূন্য, নাকি যাচাইই হয়নি—তা আলাদা করে জানাতে হবে। জবাবদিহির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এমন সংজ্ঞা, যা ভিন্ন ব্যাংকেও একইভাবে মাপা যায়।

আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা কেন সতর্কতার দাবি করে

নতুন সার্কুলারটি অতীতের সব নিয়োগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ ঘোষণা করেনি। পুরোনো কর্মীদের সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যাংকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি প্রমাণিত হয় না। তাই আগের নিয়োগ নিয়ে বড় সংখ্যা, নাম বা দায়ের দাবি করতে হলে আলাদা নিরীক্ষা প্রতিবেদন, তদন্তের নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের জবাব লাগবে। এই লেখায় এমন কোনো অযাচাইকৃত অতীত অভিযোগকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।

সঠিক তুলনাটি অন্য জায়গায়: আগে নিয়োগ ও সনদ যাচাইয়ের ফল কীভাবে প্রকাশ হতো, আর এবার ঘোষিত মানদণ্ড পূরণে ব্যাংকগুলো কীভাবে রিপোর্ট দেবে। ৩১ মার্চ ২০২৭-এর আগে চূড়ান্ত সাফল্য বা ব্যর্থতার রায় দেওয়া যাবে না। কিন্তু সময়সীমা আসার আগেই ভিত্তিমাপ প্রকাশ করা সম্ভব—কতজন কর্মী, কত সনদ, কতটি এন্ট্রি-পদ, কোন মাসে কোন ব্যাংকের বিজ্ঞাপন ও পরীক্ষা। সেই ভিত্তিমাপ ছাড়া শেষ দিনের কোনো সাফল্যের দাবি স্বাধীনভাবে মেলানো কঠিন হবে।

কার লাভ, কার ক্ষতি

খোলা বিজ্ঞাপন ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা প্রার্থীর সুযোগ বাড়ায়। সনদ যাচাই সৎ কর্মীকে সুরক্ষা দেয় এবং জাল সনদের সুবিধা নেওয়া কঠিন করে। সুস্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত ও তথ্য-প্রকাশকারীর নীতি ভেতরের অনিয়ম জানার পথ খুলতে পারে। আমানতকারীর লাভ পরোক্ষ হলেও বাস্তব: নিয়োগ, মূল্যায়ন ও শৃঙ্খলার নথি ঠিক থাকলে বোর্ড ও ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত যাচাই করা সহজ হয়।

কিন্তু সব তথ্য অযথা ব্যক্তিগতভাবে প্রকাশ করা ঠিক নয়। প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ উত্তরপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র বা সনদের কপি প্রকাশ্য করার প্রয়োজন নেই। প্রকাশযোগ্য তথ্য হবে সমষ্টিগত এবং প্রক্রিয়াভিত্তিক: বিজ্ঞাপনের লিংক, পদের সংখ্যা, পরীক্ষার্থী ও নিয়োগের সংখ্যা, সনদ যাচাইয়ের অগ্রগতি, এবং নিয়মভঙ্গ প্রমাণিত হলে ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রেখে গৃহীত ব্যবস্থার ধরন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জনস্বার্থের মধ্যে এই সীমারেখাই বিশ্বাসযোগ্য সমাধান।

সরকারের যুক্তি কতটা টেকে

নিয়মের দিক থেকে যুক্তিটি টেকে। বিজ্ঞাপন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বোর্ডের অনুমোদন, সনদ যাচাই এবং স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে চাইলে নিয়োগের সবচেয়ে দুর্বল কয়েকটি জায়গায় ন্যূনতম সুরক্ষা তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি নিয়মিত তদারকি করে, ব্যাংকগুলোও নথি রাখে এবং ভুয়া সনদে ব্যবস্থা নেয়, তবে এটি আস্থা ফেরানোর বাস্তব পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে ‘নির্দেশ জারি’ আর ‘নির্দেশ মানা’ এক জিনিস নয়। সার্কুলারটি নিজেই বলছে, বাস্তবায়নের জন্য বোর্ড-অনুমোদিত নীতি দরকার। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রকও কাজটি অসম্পূর্ণ বলে স্বীকার করছে। সেই অসম্পূর্ণ অংশের সেরা জবাব হবে শাস্তির সংখ্যা দিয়ে প্রচার নয়, প্রথমে নির্ভরযোগ্য অগ্রগতি-তথ্য। কোনো ব্যাংক পিছিয়ে থাকলে কারণ, সংশোধন-পরিকল্পনা ও নতুন সময়সীমাও জানাতে হবে।

বড় ছবিটা কী

ব্যাংক সুশাসন শুধু খেলাপি ঋণ বা মূলধন ঘাটতির আলোচনায় সীমিত নয়। সিদ্ধান্ত নেন মানুষ, আর সেই মানুষ বাছাই, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির নিয়ম দুর্বল হলে অন্য নিয়ন্ত্রণও দুর্বল হতে পারে। মানবসম্পদ নীতি তাই প্রশাসনিক কাগজমাত্র নয়; ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ। এই কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশের ভাষায় সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীর স্বার্থ একসঙ্গে এসেছে।

উপসংহার: এখন পাঁচটি ফল প্রকাশ করা দরকার

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭ সেপ্টেম্বরের সার্কুলার একটি প্রয়োজনীয় শুরু। এটি কোনো ব্যাংক বা ব্যক্তিকে অপরাধী বলে না; বরং ন্যায্য নিয়োগের ন্যূনতম মান ঠিক করে। এখন সেই মানকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে ফলের প্রকাশ দিয়ে। ৩১ মার্চ ২০২৭-এর অপেক্ষায় নীরব থাকা নয়—মাস বা ত্রৈমাসিকভিত্তিতে সমষ্টিগত অগ্রগতি প্রকাশ করলেই প্রার্থী, আমানতকারী, গবেষক ও নিয়ন্ত্রক একই তথ্য থেকে প্রশ্ন করতে পারবেন। ব্যাংক খাতে আস্থা ঘোষণায় আসে না; আসে এমন নথিতে, যা সবাই দেখে মিলিয়ে নিতে পারে।

তথ্যসূত্র

  1. বাংলাদেশ ব্যাংক, BRPD-1 Circular No. 18, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; নিয়োগ, সনদ যাচাই ও মানবসম্পদ নীতির বাধ্যবাধকতার মূল সার্কুলার
  2. বাংলাদেশ ব্যাংক, Circulars/Circular Letters; ৭ সেপ্টেম্বরের BRPD-1 Circular No. 18-এর সরকারি তালিকা
  3. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, ‘ব্যাংক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের’, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; সার্কুলারের সরকারি ব্যাখ্যা ও শর্তগুলোর সংবাদভিত্তিক সারাংশ
  4. প্রথম আলো ইংরেজি, ‘No hiring in private banks without exams, certificate verification made mandatory’, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বিজ্ঞাপন, পরীক্ষা ও সনদ যাচাইয়ের স্বাধীন প্রতিবেদন
  5. বাংলাদেশ ব্যাংক, Governor; বর্তমান গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে দায়িত্বে আছেন—প্রতিষ্ঠানগত প্রেক্ষিত