NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

স্থানীয় অবকাঠামো ও জবাবদিহি

বাইশকুড়া সেতু ছয় বছরেও অর্ধেক: বাতিল-দরপত্রের তারিখ ও হিসাব প্রকাশ চাই

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বাইশকুড়া বাজার সেতুর নির্ধারিত শেষ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর। LGED-এর নথিতে ২০২৪-এ কাজ ৫৫ শতাংশ, আর ২০২৬-এও স্থানীয় প্রকৌশলী একই অগ্রগতির কথা বলেছেন। এখন প্রতিশ্রুত বাতিল ও নতুন দরপত্রের তারিখ, ব্যয় ও দায়ের খোলা হিসাব দরকার।

জনস্বার্থ, স্থানীয় অবকাঠামো ও সরকারি জবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বাইশকুড়া বাজারের একটি ৩৭ মিটার সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৮ ডিসেম্বর ২০২২। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বরের সরেজমিন প্রতিবেদনে স্থানীয় LGED প্রকৌশলী বলেছেন, কাজ এখনো ৫৫ শতাংশে। সরকারি প্রকল্প-তালিকাতেও ২৮ জুন ২০২৪-এর হালনাগাদে ভৌত অগ্রগতি ছিল একই ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ অন্তত প্রকাশ্য দুই সময়বিন্দুতে একই সংখ্যা দেখা যাচ্ছে, মাঝের উন্নতির কোনো নথিবদ্ধ প্রমাণ জনসাধারণের সামনে নেই।

এটি শুধু একটি অসমাপ্ত কাঠামোর গল্প নয়। সেতুটি না হওয়ায় পাঁচটি গ্রামের আনুমানিক পাঁচ হাজার মানুষ, চারটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জরুরি যাতায়াতের মানুষকে বিকল্প পথ বা অস্থায়ী পারাপারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে। স্থানীয়দের দুর্ভোগের প্রতিটি বক্তব্যকে আমরা পরিমাপযোগ্য সরকারি তথ্য বলে উপস্থাপন করছি না। কিন্তু প্রকল্পের নিজস্ব নথি যে নির্ধারিত সময়ের বহু পরে কাজকে অর্ধেকের একটু বেশি দেখিয়েছে, সেটি সরকারি জবাবদিহির যথেষ্ট প্রশ্ন।

সরকারি নথির সময়রেখা কী বলে

LGED-এর প্রকল্প-তালিকায় সেতুটির প্যাকেজ নম্বর CBU-100/Purto-211 এবং সড়ক আইডি ৫৭৯৫৮৪০৭০। নথিতে এটি বাইশকুড়া বাজার RCC সেতু নামে আছে। একই নথি অনুযায়ী চুক্তির তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২০, কাজ শুরুর তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ এবং সমাপ্তির লক্ষ্য ১৮ ডিসেম্বর ২০২২। ঠিকাদার হিসেবে TN-ASI (JV)-এর নাম এসেছে। সরকারি রেকর্ডে সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৭ মিটার, অনুমানিত ব্যয় ৪৭৫.৫৫ লাখ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ৩৬১.৬২ লাখ টাকা।

এখানে দুটি অঙ্ক আলাদা করে পড়া জরুরি। ৪৭৫.৫৫ লাখ টাকা প্রকল্প-তালিকায় অনুমানিত পরিমাণ, আর ৩৬১.৬২ লাখ টাকা চুক্তিমূল্য; দুটি যোগ করে বা একটিকে অন্যটির সমান ধরে নেওয়া যাবে না। একই সর্বদেশীয় তালিকায় ২৮ জুন ২০২৪ পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি এবং ১৯২.৬৭ লাখ টাকার আর্থিক অঙ্ক দেখা যায়। কিন্তু ওই পাতার আর্থিক-শতাংশ ঘরে শূন্য আছে। তাই সরকারি প্রকাশনায় ঠিক কত অর্থ পরিশোধ হয়েছে, কত কাজের বিপরীতে হয়েছে এবং তথ্যক্ষেত্রটি কেন এমন দেখাচ্ছে—এসবের পরিষ্কার ব্যাখ্যা দরকার।

প্রকাশ্য নথির সীমাও আছে। ২০২৪-এর পরের কোনো হালনাগাদ ওই LGED পাতায় পাওয়া যায়নি। ফলে আমরা বলছি না যে দুই বছরে একেবারেই কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়নি। আমরা বলছি, নাগরিককে সেই পদক্ষেপ যাচাই করার মতো তারিখযুক্ত সরকারি রেকর্ড দেওয়া হয়নি। ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম যে ৫৫ শতাংশ অগ্রগতির কথা বলেছেন, তা পুরোনো সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি বলেছেন, আগের কার্যাদেশ বাতিল করে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের পর নতুন দরপত্র ডাকা হবে।

কোন দায় পুরোনো, কোন দায় এখনকার

সেতুর চুক্তি ও নির্ধারিত শেষতারিখ দুটিই আগের প্রশাসনের সময়ের। ২০২০ সালে কাজ শুরু এবং ২০২২ সালে তা শেষ না হওয়াকে বর্তমান সরকারের তৈরি সমস্যা বলা সঠিক হবে না। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে স্থানীয় মানুষ ও প্রকল্প কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর কাজ থেমে যায় এবং ঠিকাদারকে পাওয়া যায়নি। ওই বিবরণটি প্রতিবেদনের উৎসের বক্তব্য; এটি কোনো আদালত বা তদন্তে প্রমাণিত দায়নির্ধারণ নয়।

তবে দায়ের এই ইতিহাস বর্তমান দায়িত্ব মুছে দেয় না। একটি অসমাপ্ত সরকারি সেতু উদ্ধার করতে হলে LGED-কে চুক্তির অবস্থা, কাজের গ্রহণযোগ্য অংশ, ত্রুটিপূর্ণ অংশ থাকলে তার প্রকৌশল মূল্যায়ন, পরিশোধিত বিল, বকেয়া দাবি এবং পুনর্দরপত্রের নকশা আলাদা করে ঠিক করতে হয়। কাজ থেমেছে—এই একটি বাক্য দিয়ে নাগরিকের হিসাব শেষ হয় না। বর্তমান কর্তৃপক্ষের কাজ হলো, কোন সিদ্ধান্ত তাদের হাতে, কোন অনুমোদন বাকি এবং কোন তারিখে পরের ধাপ হবে, তা প্রকাশ করা।

বাতিল ও নতুন দরপত্রের সরকারি যুক্তি

সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী বক্তব্যটি যুক্তিসঙ্গত। কাজ মাঝপথে থেমে গেলে পুরোনো ঠিকাদারকে সরিয়ে নতুন করে কাজ দেওয়ার আগে নিরাপত্তা, নকশা, ব্যয়, অসমাপ্ত অংশ এবং আইনগত দায় যাচাই প্রয়োজন। ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে উপজেলা প্রকৌশলী বলেছেন, LGED-এর ঢাকা কার্যালয়ের পরামর্শকেরা স্থানটি দেখে গেছেন; অনুমোদন মিললে আগের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন দরপত্র ডাকা হবে। দ্রুত কিন্তু ভুল প্রক্রিয়ায় নতুন চুক্তি করলে একই প্রকল্পে আরও বিরোধ বা ব্যয় বাড়তে পারে।

কিন্তু এই যুক্তিই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার লাইসেন্স হতে পারে না। অনুমোদনের জন্য কোন দপ্তরে কোন ফাইল আছে, সাইট পরিদর্শনের তারিখ কী, পুরোনো কাজ মাপার প্রতিবেদন শেষ হয়েছে কি না, এবং কোন মাসে দরপত্র হবে—এসব প্রশ্নের কোনো প্রকাশ্য সময়রেখা প্রতিবেদনে বা LGED-এর অনলাইন প্রকল্পতালিকায় নেই। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে বলে নতুন ব্যয় বাড়তে পারে—স্থানীয় প্রকৌশলীর এই সতর্কতাও বাস্তব। তাই নতুন অঙ্ক অনুমোদনের আগে পুরোনো চুক্তিমূল্য, কাজের পরিমাণ ও বাকি কাজের স্বাধীন হিসাব প্রকাশ করা আরও জরুরি।

৫৫ শতাংশের পরের হিসাব

হিসাবটি পাশাপাশি রাখি। নির্ধারিত শেষ ২০২২ সালের ডিসেম্বর। সরকারি তথ্যের সর্বশেষ দৃশ্যমান হালনাগাদ ২০২৪ সালের জুনে ৫৫ শতাংশ। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঠপর্যায়ের সরকারি বক্তব্যেও ৫৫ শতাংশ। এই মিল নিজে দুর্নীতি, অবহেলা বা অর্থ অপচয়ের প্রমাণ নয়। সেতুতে ৫৫ শতাংশ কাজ থাকার পরও কোন অংশ ব্যবহারযোগ্য, কোন অংশ রক্ষা করতে ব্যয় লাগবে, বা কত বিল বৈধভাবে দেওয়া হয়েছে—তা এই তিন উৎসে জানা যায় না।

কিন্তু ৫৫ শতাংশ থেকে কাজ পুনরারম্ভের জন্য যে ন্যূনতম তথ্য দরকার, তার অনেকটাই অনুপস্থিত। শুধু ‘নতুন দরপত্র’ বললে বোঝা যায় না পুরোনো ঠিকাদারের কাজ গ্রহণ করা হবে, ত্রুটি থাকলে মেরামত হবে, না কি ভেঙে নতুন করে কিছু করতে হবে। বোঝা যায় না ১৯২.৬৭ লাখ টাকার আর্থিক অঙ্কটি কোন কোন বিলের, এবং আর্থিক-শতাংশে শূন্য দেখানোটি ডেটা-ত্রুটি না অন্য কোনো শ্রেণিবিভাগ। একটি প্রকল্পের ডিজিটাল তালিকাই যদি এমন প্রশ্ন রেখে যায়, তবে সেই তালিকা জবাবদিহির হাতিয়ার না হয়ে কেবল খণ্ডিত তথ্যভান্ডার হয়ে থাকে।

নথির বয়সও একটি সতর্ক সংকেত

LGED-এর অনলাইন তালিকায় ‘Date of Progress Update’ হিসেবে ২৮ জুন ২০২৪ লেখা আছে। এই তারিখটি নিজেই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ড্যাশবোর্ডে তথ্য পুরোনো থাকা মানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ হয়নি, এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না। মাঠের প্রকৌশলী, বিভাগীয় কার্যালয় বা ফাইলে পরের কোনো পদক্ষেপ থাকতে পারে। কিন্তু অনলাইন রেকর্ড যখন প্রকল্পের নাম, টাকার অঙ্ক, ঠিকাদার ও অগ্রগতির সরকারি জানালা হিসেবে রাখা হয়, তখন বছরের পর বছর তা হালনাগাদ না থাকা নাগরিক তদারকির বাধা।

এখানে একটি সহজ মানদণ্ড করা যায়। প্রতিটি আটকে থাকা প্রকল্পের পাতায় শেষ মাঠপরিদর্শনের তারিখ, সাম্প্রতিক ভৌত অগ্রগতি, পরিশোধিত অর্থ, চুক্তির আইনি অবস্থা এবং পরের সিদ্ধান্তের তারিখ দেখা যাবে। কোনো তথ্য গোপনীয় হলে তার কারণও লেখা থাকবে। এই পাঁচটি ঘর পূরণ করতে বড় নতুন সফটওয়্যার লাগে না; লাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপকের নিয়মিত প্রত্যয়ন। এতে নতুন সরকারও বুঝতে পারে কোন পুরোনো কাজ উদ্ধারযোগ্য, কোনটিতে বিরোধ মেটাতে হবে এবং কোনটিতে নতুন অনুমোদন লাগবে।

পুনর্দরপত্রের আগে যে পরীক্ষাগুলো দরকার

নতুন দরপত্রকে শুধু কাজ শুরু করার অনুষ্ঠান বানালে চলবে না। প্রথমে সম্পন্ন কাজের যৌথ মাপজোকের প্রকাশ্য সারাংশ দরকার। পাইল, গার্ডার, স্ল্যাব, অ্যাপ্রোচ সড়ক বা অন্য কোনো অংশ কতটুকু আছে, কোনটি প্রকৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য, এবং কোন কাজ নতুন প্যাকেজে নিতে হবে—এসব না জানলে নতুন দরও তুলনাযোগ্য হবে না। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে স্থানীয় প্রকৌশলী গার্ডার, স্ল্যাব, পাইল ক্যাপ ও অ্যাপ্রোচ সড়ক অসমাপ্ত বলেছেন। সেটি বর্তমান মাঠপর্যায়ের একটি উপযোগী শুরু; এখন প্রয়োজন তার প্রকৌশলী-স্বাক্ষরিত পরিমাপ ও সংক্ষিপ্ত প্রকাশ।

দ্বিতীয়ত, দায়িত্বের প্রশ্নটি চুক্তির ভাষায় স্পষ্ট হওয়া চাই। পুরোনো ঠিকাদারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সময় বাড়ানোর আবেদন ছিল কি না, কাজ কেন স্থগিত হলো এবং কোনো জামানত বা গ্যারান্টি কার্যকর করার সুযোগ আছে কি না—এগুলো সংশ্লিষ্ট আইন ও চুক্তি অনুসারে প্রশাসন নির্ধারণ করবে। এই লেখার কাছে সেই চুক্তিপত্র বা সিদ্ধান্ত নেই; তাই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ করা যাচ্ছে না। কিন্তু নাগরিকদের জানানোর মতো একটি নথি LGED অবশ্যই প্রকাশ করতে পারে: পুরোনো চুক্তি এখন কোন আইনি অবস্থায় এবং নতুন কাজের জন্য কোন ঝুঁকি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

তৃতীয়ত, নতুন ব্যয়ের ব্যাখ্যা আগে আসা দরকার। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে—এটি বাস্তব বাজার-পরিস্থিতি হতে পারে। তবু সংশোধিত ব্যয়কে কেবল মূল্যস্ফীতির একটি বাক্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তুলনা অসম্পূর্ণ থাকে। পুরোনো চুক্তিতে যে কাজের মূল্য ছিল, তার কত অংশ ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে; নতুন প্যাকেজে কত কাজ থাকবে; এবং নকশা, ভূমি, নিরাপত্তা বা সংযোগসড়কে নতুন কোনো পরিবর্তন আছে কি না—এই হিসাব প্রকাশিত হলে মানুষ বুঝতে পারবে নতুন টাকা পুরোনো কাজের পুনরাবৃত্তি নয়।

ফলাফল দিয়ে প্রতিশ্রুতিকে মাপতে হবে

এই প্রকল্পে একটি বাস্তবসম্মত ফল-সূচক থাকা উচিত। প্রথম মাসে চুক্তির অবস্থার সিদ্ধান্ত; পরের নির্দিষ্ট মাসে দরপত্র; কার্যাদেশের পর সাইটে কাজ শুরু; তারপর প্রতি তিন মাসে ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি। প্রতিটি ধাপে ছবি নয়, মাপজোক ও বিলের সারাংশ দরকার। এমন সূচক প্রকাশ হলে স্থানীয় মানুষ, সংবাদমাধ্যম ও সংসদীয় বা প্রশাসনিক তদারকিরা পরে বলতে পারবে প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে কি না। আবার বিলম্ব হলে কারণ, সংশোধিত সময় এবং দায়ী সিদ্ধান্তের স্তরও ধরা পড়বে।

প্রকল্প-উদ্ধারের এই পদ্ধতিতে সরকারেরও লাভ আছে। পুরোনো কাজের দায় নিজের ঘাড়ে না নিয়েও সরকার দেখাতে পারে যে তারা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অচল প্রকল্পকে নিয়মমাফিক সমাধান করছে। তার জন্য রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে ভালো প্রমাণ হলো অনলাইনে হালনাগাদ রেকর্ড, খোলা প্রতিযোগিতার দরপত্র, এবং নির্দিষ্ট দিনে শেষ হওয়া সেতু। সেই প্রমাণ না আসা পর্যন্ত বাইশকুড়ার মানুষকে আবারও ‘শিগগির’ বলা হবে; প্রমাণ এলে তারা নিজেরাই সময় ও ফল মিলিয়ে দেখতে পারবেন।

এখন LGED কী প্রকাশ করতে পারে

এই তথ্য প্রকাশের অর্থ ঠিকাদারকে আগাম দোষী বলা নয়। বরং প্রশাসন, ঠিকাদার এবং স্থানীয় মানুষ—সবার জন্যই যাচাইযোগ্য সীমারেখা তৈরি করা। পুরোনো চুক্তিতে কোনো বিরোধ বা দাবি থাকলে তা আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া চলার মধ্যেও এলাকা বিচ্ছিন্ন রাখার প্রয়োজন নেই; কর্তৃপক্ষকে বলতে হবে বিকল্প কাজ, সাময়িক নিরাপদ পারাপার বা নতুন প্যাকেজের কোন পথ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় প্রকল্পের মূল্য জাতীয় বড় প্রকল্পের তুলনায় কম হতে পারে, কিন্তু নাগরিকের দৈনন্দিন ক্ষতি ছোট নয়। বিদ্যালয়ে যাওয়া, অসুস্থ মানুষকে নেওয়া, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া বা বর্ষায় চলাচল—একটি সেতুর কাজ আটকে থাকলে এই প্রতিটি সিদ্ধান্তের ব্যয় বাড়ে। কাজেই উদ্ধার-পরিকল্পনার মাপকাঠি শুধু কত টাকা ফেরত পাওয়া গেল নয়; কবে নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য সংযোগ ফিরল, সেটিও।

শেষ কথা

বাইশকুড়া বাজার সেতুর অতীত চুক্তি বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। কিন্তু ২০২২-এর সময়সীমা পেরিয়ে, ২০২৪-এর সরকারি তালিকা ও ২০২৬-এর প্রকৌশলী-বিবৃতিতে একই ৫৫ শতাংশে আটকে থাকার পর সমাধানের দায় এখনকারই। বাতিল-অনুমোদনের অপেক্ষা, নতুন দরপত্রের প্রতিশ্রুতি এবং ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা—এসব বাস্তব কথা। বাস্তব জবাবদিহি হবে তখনই, যখন LGED একটি তারিখযুক্ত উদ্ধার-পরিকল্পনা, সঠিক আর্থিক হিসাব এবং সেতু চালুর নতুন লক্ষ্য প্রকাশ করবে। মানুষকে আরেকটি অনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়, যাচাই করা যায় এমন অগ্রগতির রেকর্ড দিতে হবে।

তথ্যসূত্র

  1. স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED): পিরোজপুরের CBU-100 প্রকল্পতালিকায় বাইশকুড়া বাজার RCC সেতুর প্যাকেজ, ঠিকাদার, চুক্তি/শুরুর তারিখ, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ সমাপ্তি ও ৫৫ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি—২৮ জুন ২০২৪ হালনাগাদ
  2. LGED-এর সর্বদেশীয় প্রকল্প-তালিকা: প্যাকেজ CBU-100/Purto-211-এর ৩৭ মিটার সেতু, ৪৭৫.৫৫ লাখ টাকা অনুমান, ৩৬১.৬২ লাখ টাকা চুক্তিমূল্য, ১৯২.৬৭ লাখ টাকা আর্থিক অঙ্ক ও ৫৫ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি—২৮ জুন ২০২৪ হালনাগাদ
  3. দ্য ডেইলি স্টার: মঠবাড়িয়ায় অসমাপ্ত সেতুর বর্তমান অবস্থা, স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি এবং উপ-প্রকৌশলীর বাতিল ও পুনর্দরপত্রের বক্তব্য—৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬