NCP Diaspora Alliance GermanyNCP Diaspora Alliance Germanyমূল ওয়েবসাইট →

জ্বালানি ও জবাবদিহি

অদানি থেকে সরবরাহ কমল: তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ-পরিকল্পনার হিসাব প্রকাশ জরুরি

সম্পাদকীয় ডেস্ক · ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ সেপ্টেম্বর সকালে অদানি সংযোগ থেকে আমদানি ৮২৮–৯২৪ মেগাওয়াটে নেমেছে বলে পাওয়ার গ্রিডের তথ্য দেখাচ্ছে। কারণ নিয়ে কোম্পানির ব্যাখ্যা আলাদা বিষয়; এখন দরকার সরকারের স্বল্পমেয়াদি বিকল্প পরিকল্পনার খোলা হিসাব।

বিদ্যুৎ গ্রিড, আমদানি-নির্ভরতা ও জনজবাবদিহির প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র

NCP Diaspora Alliance Germany-এর সম্পাদনা–বিশ্লেষণ চিত্র; এটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।

আপডেট: নতুন সরবরাহ-ঝুঁকির আলাদা পরীক্ষা

২ সেপ্টেম্বর সকাল আটটায় ভারতের অদানি সংযোগ থেকে বাংলাদেশে আমদানি ছিল ৮২৮ মেগাওয়াট। সকাল ৯টায় ৯২৮, ১০টায় ৯২৩ এবং ১১টায় ৯২৪ মেগাওয়াট। এই চারটি অঙ্ক কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ঘণ্টাভিত্তিক প্রকাশিত হিসাব। একই দিনে কোম্পানিটি বলেছে, কয়লা বহনকারী রেলের জট ও লোডিং-সীমাবদ্ধতায় তারা দিনের কম-চাহিদার সময়ে সরবরাহ কমিয়েছে। কোম্পানির কারণ ব্যাখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি; তাই এটিকে অদানি পাওয়ারের বক্তব্য হিসেবেই রাখতে হবে। কিন্তু সরকারি গ্রিডে আমদানির কমে যাওয়াটি দৃশ্যমান তথ্য।

এটি ২৩ আগস্টের এলএনজি-সরবরাহ বিঘ্ন নিয়ে এই সাইটের আগের বিশ্লেষণের পরের, কিন্তু আলাদা একটি আপডেট। সেবার প্রশ্ন ছিল টার্মিনাল-নির্ভর গ্যাসের স্থিতিস্থাপকতা। এবার প্রশ্ন আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ আমদানির: একটি বড় উৎস সাময়িকভাবে কমে গেলে সরকার কত দ্রুত ঘাটতি সামলাবে, কোন বিকল্পে যাবে এবং নাগরিককে কী তথ্য দেবে? আজকের ঘটনা থেকে কারও অপরাধ প্রমাণ হয় না। তবে ঝুঁকি প্রকাশের মুহূর্তে রাষ্ট্রের প্রস্তুতির পরীক্ষা শুরু হয়।

গ্রিডের অঙ্ক কী বলে—আর কী বলে না

পাওয়ার গ্রিডের চাহিদা-সরবরাহ পাতায় ২ সেপ্টেম্বর সকাল আটটায় সাবস্টেশন-প্রান্তের চাহিদা ১৩ হাজার ৪৬৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১২ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট, ব্যবধান ৬১১ মেগাওয়াট। সকাল ৯টায় ব্যবধান ৩৬৩, ১০টায় ৩৩৮ এবং ১১টায় ১ হাজার ১৪২ মেগাওয়াট। এসব সংখ্যা দেখায় যে প্রতিটি ঘণ্টায় চাহিদা ও সরবরাহ পুরোপুরি মেলেনি। কিন্তু এই ব্যবধানের সবটুকু অদানি সরবরাহ কমার ফল—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। গ্যাস, অন্য কেন্দ্রের প্রাপ্যতা, সঞ্চালন, আবহাওয়া, চাহিদার ওঠানামা এবং পরিচালনাগত সিদ্ধান্তও একই সময়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবু দুটি সরকারি পাতাকে পাশাপাশি রাখলে একটি ব্যবহারযোগ্য সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। উৎপাদন-উৎসের পাতায় অদানি অংশটি সকাল আটটার ৮২৮ থেকে ১১টার ৯২৪ মেগাওয়াটে সীমিত ছিল। অন্য পাতায় একই চার ঘণ্টায় মোট সরবরাহ চাহিদার নিচে ছিল। এই দুই তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে বলা যায়, কারণ দুটিই একই ব্যবস্থার অংশ; কিন্তু কারণ-ফল নির্ধারণের জন্য দরকার লোড ডিসপ্যাচের অপারেশন নোট, কোন কেন্দ্র কতটা কমেছে, কোন বিকল্প চালু হয়েছে এবং কোথায় কী পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ হয়েছে—এমন নথি। প্রকাশ্য তথ্য এখনো সেই পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না।

সরকারের শক্তিশালী যুক্তি আছে, কিন্তু সেটি আজকের উত্তর নয়

সরকারের বক্তব্য একেবারে অনুপস্থিত নয়। ২ সেপ্টেম্বর সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বহু বছর কম অনুসন্ধান ও আমদানি-নির্ভরতার কারণে জ্বালানি সংকট হয়েছে এবং তা থেকে বেরোতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৫০ কূপের কর্মসূচিতে ৩০টি কূপে ড্রিলিং বা ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রতিদিন গ্যাস যোগ হয়েছে। আরও সাতটি চলমান কূপ থেকে ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুটের আশা, নতুন রিগ কেনার উদ্যোগ, নতুন ভূকম্প জরিপ এবং অফশোর দরপত্রের কথাও তিনি বলেছেন।

এগুলো বাস্তব সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার দাবি করে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্য করা মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ। সরকার মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ডিসেম্বর ২০২৮ নাগাদ গ্যাস দেওয়ার আশা করছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। কিন্তু ২০২৮-এর অবকাঠামো আজকের সকাল বা আগামী সপ্তাহের ঘাটতি মেটায় না। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রশংসা করা যায়, তবু তাৎক্ষণিক সরবরাহ-ব্যবস্থার বিকল্প পরিকল্পনাও প্রকাশ করতে হবে। দুটি দায়িত্ব পরস্পরের বিকল্প নয়।

এখানে একটি ন্যায্য সীমাও আছে। প্রতিটি জ্বালানি ক্রয়, মজুত বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সরাসরি প্রকাশ করলে বাণিজ্যিক দরকষাকষি বা নিরাপত্তার সমস্যা হতে পারে। কিন্তু জনগণকে অন্ধকারে না রেখে ঝুঁকির স্তর, সম্ভাব্য ঘাটতির পরিসর, অগ্রাধিকারভিত্তিক সুরক্ষিত সেবা, বিকল্প উৎসের সক্ষমতা এবং ব্যয়-নীতির সারাংশ প্রকাশ করা সম্ভব। রেল-সমস্যা সত্য হলে সেটিও বাংলাদেশের কোনো একক দপ্তরের তৈরি ঘটনা নয়। সেই কারণেই প্রশ্নটি দোষারোপের নয়, নির্ভরতার ঝুঁকি আগেভাগে পরিমাপ করার।

আজকের ঘটনাটিকে কীভাবে দেখা উচিত

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, অদানি পাওয়ার তাদের জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বলেছে যে রেল-জট ও লোডিং-সীমাবদ্ধতায় কয়লা আসা কমেছে এবং সন্ধ্যার চাহিদার জন্য উৎপাদন সংরক্ষণে দিনের সরবরাহ কমানো হয়েছে। প্রতিবেদনে সকাল আটটার ৮২৮ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১ হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াটের পূর্বাভাসের কথাও আছে। এই পূর্বাভাসটি সরকারি গ্রিড পাতায় দেখা যায় না; তাই আমরা সেটিকে কোম্পানির প্রতিবেদিত পরিকল্পনা বা সংবাদমাধ্যমের তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করি, যাচাইকৃত সরকারি মানদণ্ড হিসেবে নয়।

এই সতর্কতাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যুৎ সংকটে অঙ্ককে সহজে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো যায়। একদিকে কোম্পানির বিবৃতি দিয়ে চুক্তি বা নীতির সব দায় নির্ধারণ করা চলে না। অন্যদিকে ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে’ বলা মাত্রই গ্রিড-ঝুঁকি শেষ হয় না। একটি ভালো সরকারি প্রতিক্রিয়ায় তিনটি স্তর থাকবে: এখন কত সরবরাহ আছে; আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কোন উৎস কতটা পূরণ করবে; এবং দীর্ঘমেয়াদে একই ধরনের বিঘ্ন কমাতে কোন বিনিয়োগ ও চুক্তিগত সুরক্ষা নেওয়া হবে।

সরকারি গ্রিড-ডেটার বড় গুণ হলো তা ঘণ্টাভিত্তিক প্রকাশিত হচ্ছে। এতে নাগরিক, কারখানা, হাসপাতাল, কৃষি সেচের ব্যবহারকারী এবং স্থানীয় প্রশাসন অন্তত ব্যবস্থার চাপ দেখতে পারেন। কিন্তু বিচ্ছিন্ন অঙ্ককে অর্থপূর্ণ করতে হলে একই ড্যাশবোর্ডে আরও কয়েকটি তথ্য দরকার: কোথায় নিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ কমানো হয়েছে, শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকের ওপর আলাদা প্রভাব কী, কোন কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ বা জ্বালানি-স্বল্পতায় কমেছে, এবং কতটা আমদানি বিকল্প উৎস থেকে পাওয়া গেছে। তখন গুজব নয়, তথ্য দিয়ে ঝুঁকি বোঝা যাবে।

কার লাভ, কার ঝুঁকি

সরবরাহ কমলে সবচেয়ে আগে সময়ের ক্ষতি বোঝেন ছোট ব্যবসায়ী, পরীক্ষার্থী, রোগীর পরিবার, সেচনির্ভর কৃষক এবং বিদ্যুৎ-নির্ভর ক্ষুদ্র কারখানা। একই মেগাওয়াট ঘাটতি সব এলাকায় সমানভাবে লাগে না। কোনো এলাকায় কয়েক দফা সংক্ষিপ্ত বিরতি হতে পারে, অন্য এলাকায় টানা সমস্যা হতে পারে; আবার হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক নয়, নিরাপত্তারও। তাই শুধু জাতীয় ‘লোডশেড’ সংখ্যা বললে ন্যায্য বণ্টনের প্রশ্ন আড়াল থাকে। সরকারকে অন্তত অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সেবাভিত্তিক সুরক্ষা-নীতিটি স্পষ্ট করা দরকার।

অদানি সংযোগের সরবরাহ কমা মানেই যে বাংলাদেশে মোট উৎপাদন অনুপাতে একই পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা আজকের ডেটা থেকে বলা যায় না। গ্রিড অপারেটর অন্য উৎস বাড়াতে বা চাহিদা ব্যবস্থাপনায় যেতে পারে। আবার বিকল্প হিসেবে বেশি তরল জ্বালানি ব্যবহার হলে ব্যয় বাড়তে পারে; কিন্তু ২ সেপ্টেম্বরের জন্য এমন কোনো সরকারি ব্যয়-হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। এই অজানা জায়গাটিই জবাবদিহির জায়গা: নাগরিককে আতঙ্কিত করা নয়, বরং সিদ্ধান্তের খরচ, সীমা এবং অগ্রাধিকার জানানো।

এখন কোন তথ্য প্রকাশ করা দরকার

পুনরুদ্ধারের মানদণ্ড আগে থেকেই ঠিক থাকা দরকার

বিদ্যুৎ-সরবরাহের প্রতিটি বিঘ্নে প্রথমে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে: কত মেগাওয়াট কমল? তার পরের প্রশ্নটি আরও কঠিন: আগের অবস্থায় ফেরা বলতে কী বোঝাবে? শুধু কোনো একটি ঘণ্টায় আমদানি বেড়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়। পুনরুদ্ধারের অর্থ হতে পারে নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রতিশ্রুত সরবরাহ পাওয়া, সন্ধ্যার চাহিদায় গ্রিডের ব্যবধান গ্রহণযোগ্য স্তরে নামা, জরুরি সেবা সুরক্ষিত থাকা এবং বিকল্প ব্যবস্থার বাড়তি খরচ প্রকাশ হওয়া। এই মানদণ্ড আগে থেকে থাকলে সরকার, কোম্পানি এবং নাগরিক একই ফলাফল যাচাই করতে পারেন।

এখানে চুক্তির সব গোপন ধারা প্রকাশের দাবি করা হচ্ছে না। কিন্তু বিদ্যুৎ ক্রয়কারী সংস্থা কি সরবরাহের কমে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক নোটিশ পেয়েছে, কত সময়ের মধ্যে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা জানিয়েছে, এবং জরুরি যোগাযোগের দায়িত্ব কার—এসব প্রশাসনিক তথ্য সাধারণত প্রকাশযোগ্য। কোম্পানির বিবৃতি জনসংযোগের জন্য হতে পারে; সরকারের দরকার তার নিজের সত্য-যাচাইয়ের ভাষা। সেই ভাষা সংক্ষিপ্ত হলেও চলবে, যদি তাতে সময়, পরিমাণ, বিকল্প এবং পরবর্তী হালনাগাদের প্রতিশ্রুতি থাকে।

একই কারণে দৈনিক সর্বোচ্চ চাহিদার পাশাপাশি সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার ঝুঁকিকে আলাদা দেখা দরকার। ২ সেপ্টেম্বর সকাল আটটা থেকে ১১টার ডেটা দিনের সীমিত একটি অংশ। রাতের সর্বোচ্চ চাহিদা, অঞ্চলভিত্তিক বিচ্ছিন্নতা অথবা শিল্পে সরবরাহ—এসব সম্পর্কে ওই চারটি সংখ্যা থেকে সিদ্ধান্ত টানা যাবে না। দায়িত্বশীল প্রকাশনা তাই শুধু পছন্দসই একটি ঘণ্টা বেছে নেবে না। পাওয়ার গ্রিডের পুরো দিনের তথ্য স্থির হলে বিপিডিবির উচিত সংক্ষিপ্ত সমন্বিত নোটে তা ব্যাখ্যা করা: কোন অংশে ঘাটতি ছিল, কীভাবে সামলানো হয়েছে, এবং স্বাভাবিক দিন থেকে পার্থক্য কত।

স্বল্পমেয়াদি বিকল্পেরও বণ্টনগত মূল্য আছে। ডিজেল বা ফার্নেস অয়েলভিত্তিক উৎপাদন বাড়ালে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু খরচ ও নির্গমন বাড়ার ঝুঁকি থাকে। আমদানি বাড়ালে সীমান্ত সংযোগ, প্রতিবেশী বাজার ও চুক্তির সক্ষমতা লাগে। চাহিদা ব্যবস্থাপনায় গেলে কাকে, কখন এবং কতটা কম দেওয়া হবে—সেটি ন্যায্যতার প্রশ্ন। এই নীতিগত পছন্দগুলোর কোনটি ২ সেপ্টেম্বর ব্যবহার হয়েছে, সেই পূর্ণ তথ্য আমরা পাইনি। তাই নিবন্ধটি কোনো নির্দিষ্ট বিকল্প চাপিয়ে দিচ্ছে না; সিদ্ধান্তের কারণ ও ফল প্রকাশের ন্যূনতম মান চাইছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি কাজে লাগবে। ১৫০ কূপ কর্মসূচি, নতুন রিগ, জরিপ এবং এলএনজি টার্মিনালের জন্য বছরে কত বাস্তব অগ্রগতি হলো, কত অর্থ খরচ হলো এবং নির্ধারিত সময় বদলালে কেন বদলাল—এগুলো এক জায়গায় প্রকাশিত হলে আজকের মতো বিঘ্নকে বৃহত্তর নীতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাবে। এতে বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যাকে নিজের তৈরি সমস্যা বলে মেনে নিতে বাধ্য হয় না। কিন্তু যে সমাধানের দায়িত্ব সে নিয়েছে, তার ফল মাপার দায় এড়াতেও পারে না।

সবশেষে তথ্যের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। ঘণ্টাভিত্তিক ডেটা পরে সংশোধিত হতে পারে; সেক্ষেত্রে পুরোনো অঙ্ক মুছে না দিয়ে সংশোধনের সময় ও কারণ দেখানো উচিত। এতে কোনো সাংবাদিক, গবেষক বা বিদ্যুৎ-গ্রাহক বুঝতে পারবেন কোন তথ্যটি সিদ্ধান্তের সময় পাওয়া গিয়েছিল এবং পরে কোনটি বদলেছে। একইভাবে পূর্বাভাস, বাস্তব সরবরাহ ও লোডশেডকে এক সারিতে রাখলে সরকারি আশ্বাস কতটা মিলল সেটিও দেখা যাবে। এই ধরনের ছোট কিন্তু নিয়মিত প্রকাশ ব্যবস্থা ব্যর্থতার বিজ্ঞাপন নয়; বরং আগাম সতর্কতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং জনগণের আস্থার ভিত্তি।

এখানে দায়িত্ব ভাগ করাও পরিষ্কার থাকা দরকার। পাওয়ার গ্রিড অপারেটরের কাজ তাৎক্ষণিক ডেটা দেখানো; বিপিডিবির কাজ উৎপাদন ও ক্রয়ের সমন্বয় ব্যাখ্যা করা; আর পাওয়ার ডিভিশনের কাজ নীতি, ব্যয় ও অগ্রাধিকারের জবাব দেওয়া। তিন সংস্থা একই তথ্যকে তিনভাবে প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি বাড়ে। একটি যৌথ দৈনিক নোট এই ফাঁক কমাতে পারে এবং সংসদীয় তদারকির জন্যও একটি নির্দিষ্ট নথি তৈরি করবে। এমন নোটে পরবর্তী হালনাগাদের নির্দিষ্ট সময়, দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর এবং সংশোধনের পথও থাকা উচিত।

শেষ কথা: স্বাভাবিকতার দাবি নয়, যাচাইযোগ্য প্রস্তুতি

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, নতুন অবকাঠামো করা এবং আমদানি-নির্ভরতা কমানো দরকার—এই বিষয়ে সরকারের যুক্তি শক্তিশালী। একই সঙ্গে আজকের গ্রিড-তথ্য মনে করিয়ে দেয়, ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমানের সরবরাহ-ঝুঁকি মুছে ফেলা যায় না। অদানি পাওয়ারের কারণ ব্যাখ্যা সত্য কি না, তা যাচাই হবে নিজস্ব প্রমাণে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব এখনই স্পষ্ট: কী ঘটেছে, জনগণকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে, কোন বিকল্প চালু আছে এবং পরের বিঘ্নে কী বদলাবে—তার সংক্ষিপ্ত, সময়মতো এবং পরিমাপযোগ্য হিসাব দিতে হবে।

তথ্যসূত্র

  1. পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি: ঘণ্টাভিত্তিক উৎসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি—২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সরকারি গ্রিড ডেটা)
  2. পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি: ঘণ্টাভিত্তিক চাহিদা, সরবরাহ ও লোডশেড—২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সরকারি গ্রিড ডেটা)
  3. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি-সংকট মোকাবিলার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার বক্তব্য (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
  4. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: অদানি পাওয়ারের কয়লা পরিবহন-ব্যাখ্যা ও কম সরবরাহের প্রতিবেদন (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)